শিরোনাম

আবারও সুনামগঞ্জের নদী-হাওরে বাড়ছে পানি

সুনামগঞ্জ সংবাদদাতা
আবারও সুনামগঞ্জের নদী-হাওরে বাড়ছে পানি
সুনামগঞ্জে বৃষ্টি ও উজানের ঢলে বাড়ছে নদীর পানি।

অতি বৃষ্টিতে আবারও বাড়তে শুরু করেছে সুনামগঞ্জের নদ-নদী ও হাওরের পানি। এর ফলে বিপাকে পড়েছেন ওই এলাকার কৃষকরা। অবশিষ্ট বোরো ধান কাটা, মাড়াই ও শুকানো নিয়ে তাদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে ।

আবহাওয়া অধিদপ্তর ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) পূর্বাভাস বলছে, আগামী কয়েক দিনও ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। উজানে ভারতের চেরাপুঞ্জিতেও বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় পাহাড়ি ঢল নেমে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

পাউবো সূত্রে জানা গেছে, সুনামগঞ্জে গত তিন দিনে ২৪২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এ সময়ে সুরমা নদীর পানি বেড়েছে ১৩ সেন্টিমিটার। শুক্রবার সকাল ৯টায় নদীর পানি বিপৎসীমার ১ দশমিক ৭২ মিটার নিচে ছিল। প্রাক বর্ষা মৌসুমে সুরমা নদীর বিপৎসীমা ৬ দশমিক ৫ মিটার।

সুনামগঞ্জ পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, সুনামগঞ্জ ও উজানে চেরাপুঞ্জিতে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। এতে নদী ও হাওরের পানি আরও বাড়তে পারে। কৃষকদের ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা আছে। তবে আপাতত বড় ধরনের বন্যার ঝুঁকি নেই।

হাওরের কৃষকরা জানান, বৈশাখের শুরু থেকেই বৃষ্টির কারণে ধান ঘরে তুলতে ভোগান্তিতে পড়েছেন তারা। মাঝেমধ্যে এক দুই দিন রোদ মিললেও আবার বৃষ্টি শুরু হওয়ায় ধান শুকানো যাচ্ছে না।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সুনামগঞ্জের ১৩৭টি ছোট-বড় হাওরে এবার বোরো আবাদ হয়েছে ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল প্রায় ১৪ লাখ টন ধান। এ পর্যন্ত জেলায় গড়ে ৮৭ দশমিক ৪০ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে। এর মধ্যে হাওরাঞ্চলে কাটা হয়েছে ১ লাখ ৪৮ হাজার ২৩১ হেক্টর। সেই হিসাবে এখনো প্রায় ১৩ শতাংশ ধান কাটার বাকি রয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, এখনো চূড়ান্ত ক্ষয়ক্ষতির হিসাব নির্ধারণ করা হয়নি। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।

/এসআর/