শিরোনাম

শরীয়তপুরে স্বামীকে হত্যার পর মরদেহ ছয় টুকরা করার অভিযোগ

শরীয়তপুর সংবাদদাতা
শরীয়তপুরে স্বামীকে হত্যার পর মরদেহ ছয় টুকরা করার অভিযোগ
মরদেহের খণ্ডিত অংশের বস্তা।

শরীয়তপুরের সদর উপজেলায় পারিবারিক কলহের জেরে স্বামীকে হত্যার পর মরদেহ ছয় টুকরা করার অভিযোগ উঠেছে এক নারীর বিরুদ্ধে। মরদেহের অংশগুলো পদ্মা নদীসহ বিভিন্ন স্থানে ফেলে দিয়ে আরেক বাসার ফ্রিজে মাংস রাখতে গিয়ে স্থানীয়দের সন্দেহে ধরা পড়েন তিনি।

আটক হওয়া নারীর নাম আসমা আক্তার। তিনি শরীয়তপুর সদর উপজেলার দক্ষিণ মাহমুদপুর ৭ নং ওয়ার্ড এলাকার জিয়া সরদারের স্ত্রী। আট বছর আগে মালেয়াশিয়া প্রবাসী জিয়া সরদারের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন পিরোজপুরের আসমা আক্তার।

বিয়ের পর তাকে শরীয়তপুর শহরের উত্তর পালং সাবনুর মার্কেট এলাকায় ভাড়া বাসায় রাখেন জিয়া। গত বছর তিনি দেশে ফিরলে চন্দ্রপুর বাজারের গ্রামীণ ব্যাংকের পিছনের এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করেন দুইজনে।

পালং মডেল থানার ওসি শাহ আলম বৃলেন, সম্প্রতি স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহের সৃষ্টি হয়। তার জের ধরে মঙ্গলবার রাতে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে স্বামী জিয়া সরদারকে মাথায় রড দিয়ে আঘাত করে হত্যা করেন আসমা আক্তার। এরপর মরদেহটি লুকিয়ে রাখতে ছুরির সাহায্য দেহটি ছয় টুকরো করে হাড়-মাংস আলাদা করেন তিনি। পরে ড্রামে ও ফ্রিজে ভরে রাখেন তিন দিন।

ওসি আরও বলেন, শুক্রবার রাতে অটোরিকশা ভাড়া করে ড্রাম থেকে মরদেহের একটি অংশ মুলফৎগঞ্জ এলাকায় পদ্মা নদীর তীরে সাদা প্লাস্টিকে মোড়ানো একটি ব্যাগ করে ফেলে দেন আসমা। এরপর বাকি অংশ বস্তায় ভরে ফেলে আসেন শরীয়তপুর পৌরসভার আটং এলাকার বৃক্ষতলা এলাকায়। পরবর্তীতে তিনি দেহের মাংসগুলো শহরের উত্তর পালংয়ের শাবনুর মার্কেট এলাকায় পুরাতন ভাড়া বাসার এক ভাড়াটিয়ার ফ্রিজে রাখতে যান তিনি। তখন তীব্র গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের সন্দেহ তৈরি হয়। এক পর্যায়ে জরুরি সেবা ৯৯৯ এর মাধ্যমে বিষয়টি পুলিশকে জানায় স্থানীয়রা।

তিনি আরও বলেন, আমরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি অকপটে সব কথা স্বীকার করেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বৃক্ষতলা এলাকার একটি পুকুর থেকে মাথাসহ হাড় উদ্ধার করি। এ ঘটনা তদন্ত করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

/এসআর/