ফসল তলিয়ে যাওয়ার দৃশ্য সইতে না পেরে কৃষকের মৃত্যু
কিশোরগঞ্জ সংবাদদাতা

ফসল তলিয়ে যাওয়ার দৃশ্য সইতে না পেরে কৃষকের মৃত্যু
কিশোরগঞ্জ সংবাদদাতা
প্রকাশ : ০৩ মে ২০২৬, ২০: ২০

কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে আক্তার হোসেন (৬০) নামের এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
চোখের সামনে নিজের কষ্টের ফলানো পাকা ফসল পানিতে তলিয়ে যেতে দেখে সইতে না পেরে কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে আক্তার হোসেন (৬০) নামের এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।
গতকাল শনিবার (২ মে) বিকালে অষ্টগ্রাম উপজেলার দেওঘর ইউনিয়নের আলীনগর কালনি হাওরে এ ঘটনা ঘটে।
আজ রবিবার (৩ মে) সকালে দেওঘর ইউনিয়ন পরিষদের নারী সদস্য মোছা. নাছিমা আক্তার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নিহত আক্তার হোসেন আলীনগর পশ্চিমপাড়া গ্রামের মৃত দুধা মিয়ার ছেলে।
স্বজনদের বরাতে জানা যায়, এ মৌসুমে তিনি ৩ একর জমিতে বোরো ধান আবাদ করেছিলেন। টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে হাওরের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ায় তার জমির ধান পানিতে ডুবে গেছে। কিছু ধান কাটা হলেও পরিবহন সংকটের কারণে তা বাড়িতে আনতে পারেননি তিনি। শনিবার বিকালে জমিতে গিয়ে ধান তলিয়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখে তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন।
নিহত কৃষকের ভাতিজা তৌহিদ জানান, তার চাচা প্রায় দেড় লাখ টাকা ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করেছিলেন। জমির ধান নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। শনিবার বিকাল সাড়ে ৪ টার দিকে জমিতে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে সন্ধ্যার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আরিফুর রহমান বলেন, ‘আক্তার ভাই অনেক আশা নিয়ে এই তিন বিঘা জমি চাষ করেছিলেন। দেনা পরিশোধ এবং পুরো বছরের ভরণপোষণের একমাত্র ভরসা ছিল এই ধান। চোখের সামনে সব শেষ হয়ে যাওয়া দেখে তিনি আর নিজেকে সামলাতে পারলেন না।’
হাওরের কৃষকরা জানিয়েছেন, গত কয়েকদিন টানা অতিবৃষ্টির ফলে হাওরের আকস্মিক পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় মাইলের পর মাইল বোরো ধানের জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। আক্তার হোসেনের মতো অনেক কৃষকই এখন সর্বস্ব হারানোর শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন। আকস্মিক এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে এবং আক্তার হোসেনের পরিবারকে জরুরি আর্থিক সহায়তা দিতে প্রশাসনের নিকট জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
দেওঘর ইউনিয়ন পরিষদের নারী সদস্য মোছা. নাছিমা আক্তার বলেন, ‘পাকা ধানের জমি পানিতে তলিয়ে যেতে দেখে আক্তার হোসেন অসুস্থ হয়ে পড়েন। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’
অষ্টগ্রাম উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা অভিজিৎ সরকার বলেন, ‘আমরা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের পরিচয় নিশ্চিত হয়েছি এবং ক্ষতির পরিমাণ সরেজমিনে দেখতে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে পাঠিয়েছি। এছাড়া দুর্যোগকালীন বিশেষ অনুদান প্রদানের বিষয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার সাথে কথা হয়েছে। আমরা সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি।’
জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার নতুন করে আরও ২ হাজার হেক্টর বোরো ধানের জমি তলিয়ে গেছে। এ নিয়ে মোট ক্ষতিগ্রস্ত জমির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৪৫ হেক্টর। সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ইটনা ও অষ্টগ্রাম উপজেলার হাওরাঞ্চলে।

চোখের সামনে নিজের কষ্টের ফলানো পাকা ফসল পানিতে তলিয়ে যেতে দেখে সইতে না পেরে কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে আক্তার হোসেন (৬০) নামের এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।
গতকাল শনিবার (২ মে) বিকালে অষ্টগ্রাম উপজেলার দেওঘর ইউনিয়নের আলীনগর কালনি হাওরে এ ঘটনা ঘটে।
আজ রবিবার (৩ মে) সকালে দেওঘর ইউনিয়ন পরিষদের নারী সদস্য মোছা. নাছিমা আক্তার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নিহত আক্তার হোসেন আলীনগর পশ্চিমপাড়া গ্রামের মৃত দুধা মিয়ার ছেলে।
স্বজনদের বরাতে জানা যায়, এ মৌসুমে তিনি ৩ একর জমিতে বোরো ধান আবাদ করেছিলেন। টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে হাওরের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ায় তার জমির ধান পানিতে ডুবে গেছে। কিছু ধান কাটা হলেও পরিবহন সংকটের কারণে তা বাড়িতে আনতে পারেননি তিনি। শনিবার বিকালে জমিতে গিয়ে ধান তলিয়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখে তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন।
নিহত কৃষকের ভাতিজা তৌহিদ জানান, তার চাচা প্রায় দেড় লাখ টাকা ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করেছিলেন। জমির ধান নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। শনিবার বিকাল সাড়ে ৪ টার দিকে জমিতে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে সন্ধ্যার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আরিফুর রহমান বলেন, ‘আক্তার ভাই অনেক আশা নিয়ে এই তিন বিঘা জমি চাষ করেছিলেন। দেনা পরিশোধ এবং পুরো বছরের ভরণপোষণের একমাত্র ভরসা ছিল এই ধান। চোখের সামনে সব শেষ হয়ে যাওয়া দেখে তিনি আর নিজেকে সামলাতে পারলেন না।’
হাওরের কৃষকরা জানিয়েছেন, গত কয়েকদিন টানা অতিবৃষ্টির ফলে হাওরের আকস্মিক পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় মাইলের পর মাইল বোরো ধানের জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। আক্তার হোসেনের মতো অনেক কৃষকই এখন সর্বস্ব হারানোর শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন। আকস্মিক এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে এবং আক্তার হোসেনের পরিবারকে জরুরি আর্থিক সহায়তা দিতে প্রশাসনের নিকট জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
দেওঘর ইউনিয়ন পরিষদের নারী সদস্য মোছা. নাছিমা আক্তার বলেন, ‘পাকা ধানের জমি পানিতে তলিয়ে যেতে দেখে আক্তার হোসেন অসুস্থ হয়ে পড়েন। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’
অষ্টগ্রাম উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা অভিজিৎ সরকার বলেন, ‘আমরা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের পরিচয় নিশ্চিত হয়েছি এবং ক্ষতির পরিমাণ সরেজমিনে দেখতে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে পাঠিয়েছি। এছাড়া দুর্যোগকালীন বিশেষ অনুদান প্রদানের বিষয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার সাথে কথা হয়েছে। আমরা সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি।’
জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার নতুন করে আরও ২ হাজার হেক্টর বোরো ধানের জমি তলিয়ে গেছে। এ নিয়ে মোট ক্ষতিগ্রস্ত জমির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৪৫ হেক্টর। সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ইটনা ও অষ্টগ্রাম উপজেলার হাওরাঞ্চলে।

ফসল তলিয়ে যাওয়ার দৃশ্য সইতে না পেরে কৃষকের মৃত্যু
কিশোরগঞ্জ সংবাদদাতা
প্রকাশ : ০৩ মে ২০২৬, ২০: ২০

কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে আক্তার হোসেন (৬০) নামের এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
চোখের সামনে নিজের কষ্টের ফলানো পাকা ফসল পানিতে তলিয়ে যেতে দেখে সইতে না পেরে কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে আক্তার হোসেন (৬০) নামের এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।
গতকাল শনিবার (২ মে) বিকালে অষ্টগ্রাম উপজেলার দেওঘর ইউনিয়নের আলীনগর কালনি হাওরে এ ঘটনা ঘটে।
আজ রবিবার (৩ মে) সকালে দেওঘর ইউনিয়ন পরিষদের নারী সদস্য মোছা. নাছিমা আক্তার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নিহত আক্তার হোসেন আলীনগর পশ্চিমপাড়া গ্রামের মৃত দুধা মিয়ার ছেলে।
স্বজনদের বরাতে জানা যায়, এ মৌসুমে তিনি ৩ একর জমিতে বোরো ধান আবাদ করেছিলেন। টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে হাওরের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ায় তার জমির ধান পানিতে ডুবে গেছে। কিছু ধান কাটা হলেও পরিবহন সংকটের কারণে তা বাড়িতে আনতে পারেননি তিনি। শনিবার বিকালে জমিতে গিয়ে ধান তলিয়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখে তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন।
নিহত কৃষকের ভাতিজা তৌহিদ জানান, তার চাচা প্রায় দেড় লাখ টাকা ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করেছিলেন। জমির ধান নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। শনিবার বিকাল সাড়ে ৪ টার দিকে জমিতে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে সন্ধ্যার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আরিফুর রহমান বলেন, ‘আক্তার ভাই অনেক আশা নিয়ে এই তিন বিঘা জমি চাষ করেছিলেন। দেনা পরিশোধ এবং পুরো বছরের ভরণপোষণের একমাত্র ভরসা ছিল এই ধান। চোখের সামনে সব শেষ হয়ে যাওয়া দেখে তিনি আর নিজেকে সামলাতে পারলেন না।’
হাওরের কৃষকরা জানিয়েছেন, গত কয়েকদিন টানা অতিবৃষ্টির ফলে হাওরের আকস্মিক পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় মাইলের পর মাইল বোরো ধানের জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। আক্তার হোসেনের মতো অনেক কৃষকই এখন সর্বস্ব হারানোর শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন। আকস্মিক এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে এবং আক্তার হোসেনের পরিবারকে জরুরি আর্থিক সহায়তা দিতে প্রশাসনের নিকট জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
দেওঘর ইউনিয়ন পরিষদের নারী সদস্য মোছা. নাছিমা আক্তার বলেন, ‘পাকা ধানের জমি পানিতে তলিয়ে যেতে দেখে আক্তার হোসেন অসুস্থ হয়ে পড়েন। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’
অষ্টগ্রাম উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা অভিজিৎ সরকার বলেন, ‘আমরা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের পরিচয় নিশ্চিত হয়েছি এবং ক্ষতির পরিমাণ সরেজমিনে দেখতে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে পাঠিয়েছি। এছাড়া দুর্যোগকালীন বিশেষ অনুদান প্রদানের বিষয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার সাথে কথা হয়েছে। আমরা সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি।’
জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার নতুন করে আরও ২ হাজার হেক্টর বোরো ধানের জমি তলিয়ে গেছে। এ নিয়ে মোট ক্ষতিগ্রস্ত জমির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৪৫ হেক্টর। সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ইটনা ও অষ্টগ্রাম উপজেলার হাওরাঞ্চলে।
/এমআর/




