শিরোনাম

দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন

ইরানে হামলার জন্য ইরাকে সামরিক ঘাঁটি বানিয়েছিলো ইসরায়েল

সিটিজেন ডেস্ক
ইরানে হামলার জন্য ইরাকে সামরিক ঘাঁটি বানিয়েছিলো ইসরায়েল
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পরিচালনার লক্ষ্যে ইরাকের মরুভূমিতে ইসরায়েল একটি গোপন সামরিক ঘাঁটি গড়ে তুলেছিল বলে দাবি করেছে প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে শনিবার (৯ মে) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার ঠিক আগেই যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ জ্ঞাতসারে এ ঘাঁটিটি নির্মাণ করা হয়েছিল। মূলত ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর রসদ সরবরাহের কেন্দ্র হিসেবে এটি ব্যবহৃত হয়ে আসছে, যেখানে ইসরায়েলের বিশেষ বাহিনী অবস্থান করত।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, সংঘাতের শুরুর দিকে এ ঘাঁটির অবস্থান প্রায় শনাক্ত করে ফেলেছিল ইরাকি সেনারা। তবে নিজেদের গোপনীয়তা বজায় রাখতে সেই সময় অগ্রসরমান ইরাকি বাহিনীর ওপর বিমান হামলা চালিয়েছিল ইসরায়েলি বাহিনী। বিশেষ এ ঘাঁটিতে ভূপাতিত হওয়া ইসরায়েলি পাইলটদের উদ্ধারে দক্ষ অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দলও মোতায়েন রাখা হয়েছিল, যদিও শেষ পর্যন্ত তাদের কোনো উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়ার প্রয়োজন পড়েনি।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ইসফাহানের কাছে একটি মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পর ইসরায়েলি পক্ষ থেকে উদ্ধারের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে মার্কিন বাহিনী আলাদাভাবে অভিযান চালিয়ে তাদের দুই ক্রু সদস্যকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। এ ঘটনার পরও ইসরায়েলি বাহিনী নির্দিষ্ট স্থানে বিমান হামলা চালিয়েছিল যাতে অভিযানটির সফলতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়। চলতি বছরের মার্চ মাসের শুরুতে এ গোপন ঘাঁটির অস্তিত্ব প্রায় জনসমক্ষে চলে আসার উপক্রম হয়েছিল। ইরাকের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে জানানো হয়, স্থানীয় এক মেষপালক ওই অঞ্চলে হেলিকপ্টারের চলাচলসহ সন্দেহজনক সামরিক তৎপরতা প্রত্যক্ষ করেন। এর প্রেক্ষিতে ইরাকি সৈন্যরা সেখানে তদন্ত করতে গেলে ইসরায়েল বিমান হামলা চালিয়ে তাদের ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে বাধা প্রদান করে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী অবশ্য এ প্রতিবেদনের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

ইরাকের জয়েন্ট অপারেশনস কমান্ডের ডেপুটি কমান্ডার কায়েস আল-মুহাম্মাদাওয়ি এ অভিযানকে বেপরোয়া আখ্যা দিয়ে বলেছিলেন, কোনো প্রকার সমন্বয় বা অনুমোদন ছাড়াই এ হামলা চালানো হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকে আঞ্চলিক উত্তেজনা তীব্রভাবে বৃদ্ধি পায়। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন মিত্রদের ওপর প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে এবং গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৮ই এপ্রিল একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত আলোচনা স্থায়ী কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়। পরবর্তীতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা ছাড়াই এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধির ঘোষণা দেন।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

/এমএকে/