শিরোনাম

ইসরায়েলের প্রধান বিমানবন্দর যেনো মার্কিন সামরিক ঘাঁটি

সিটিজেন ডেস্ক
ইসরায়েলের প্রধান বিমানবন্দর যেনো মার্কিন সামরিক ঘাঁটি
ইসরায়েলের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দর। ছবি: রয়টার্স

ইসরায়েলের প্রধান আন্তর্জাতিক প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত তেল আবিবের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দর এখন কার্যত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে রূপ নিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের প্রধান শমুয়েল জাকায়।

তার অভিযোগ, বিমানবন্দরে অতিরিক্ত সামরিক তৎপরতার কারণে স্বাভাবিক বেসামরিক ফ্লাইট পরিচালনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে যাত্রীসেবা, পর্যটন খাত এবং দেশীয় এয়ারলাইন্সগুলোর ওপর।

ইসরায়েলি দৈনিক ইয়েদিওথ আহরোনোথ-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি পরিবহনমন্ত্রী মিরি রেগেভ ও মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মোশে বেন জাকেনের সঙ্গে এক বৈঠকে জাকায় এই উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন।

সেখানে তিনি জানান, বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে সামরিক ব্যবহারের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় বিদেশি বিমান সংস্থাগুলো ইসরায়েলে তাদের ফ্লাইট পুনরায় চালু করতে অনাগ্রহ দেখাচ্ছে। ফলে গ্রীষ্মকালীন ভ্রমণ মৌসুম সামনে রেখে টিকিটের দামও দ্রুত বাড়ছে।

জাকায়ের ভাষায়, একটি আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমানবন্দরকে সামরিক কার্যক্রমের কেন্দ্রে পরিণত করা হলে বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রমে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। একই সঙ্গে এটি ইসরায়েলি বিমান সংস্থাগুলোর আর্থিক স্থিতিশীলতার জন্যও বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়ায়।

তিনি আরও বলেন, সামরিক তৎপরতার কারণে বেসামরিক বিমান চলাচল কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, কিংবা সাধারণ যাত্রীদের ওপর এর কী ধরনের অর্থনৈতিক প্রভাব পড়ছে— সে বিষয়ে ইসরায়েলি সামরিক কর্তৃপক্ষ পুরোপুরি সচেতন নয়।

জাকায়ের দাবি, বর্তমানে বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে বেসামরিক কার্যক্রম অনেকটাই সীমিত হয়ে পড়েছে। তার মতে, এই পরিস্থিতি শুধু বিমান সংস্থাগুলোর জন্য নয়, বরং পুরো দেশের সাধারণ নাগরিকদের জন্যও ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এ অবস্থায় তিনি বিমানবন্দর থেকে মার্কিন সামরিক বিমানগুলোকে অন্য কোনো সামরিক ঘাঁটিতে সরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তার মতে, আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, নইলে ইসরায়েলের পর্যটন ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ আরও বড় সংকটে পড়তে পারে।

/এমআর/