শিরোনাম

চীন থেকে ফিরেই তাইওয়ানকে সতর্কবার্তা ট্রাম্পের

সিটিজেন ডেস্ক
চীন থেকে ফিরেই তাইওয়ানকে সতর্কবার্তা ট্রাম্পের
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: এপি

চীন সফর শেষে দেশে ফিরেই তাইওয়ানকে সতর্কবার্তা দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমনকি গত বছরের শেষের দিকে তাইপের কাছে ১ হাজার ১০০ কোটি ডলারের যে অস্ত্র বিক্রির ঘোষণা দিয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন, তা-ও পুনর্বিবেচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

গত বুধবার ৩ দিনের সরকারি সফরে বেইজিং গিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সফর শেষ করে শুক্রবার (১৫ মে) ওয়াশিংটন ফিরে মার্কিন টেলিভিশন চ্যানেল ফক্স নিউজকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন তিনি। সাক্ষাৎকারে সাম্প্রতিক চীন সফর এবং তাইওয়ানের স্বাধীনতার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল ট্রাম্পকে।

জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি চাই না কেউ স্বাধীন হয়ে যাক। আমরা যুদ্ধ চাই না এবং বর্তমান (তাইওয়ান ইস্যুতে) পরিস্থিতি যেমন আছে– তেমনই যদি থাকে, তাহলে আমার মনে হয় চীনের কাছে এটি বড় কোনো সমস্যা হবে না।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ‘কিন্তু আমরা কখনই চাই না যে কেউ বলুক– চলো আমরা স্বাধীনতা সংগ্রাম শুরু করি, কারণ যুক্তরাষ্ট্র আমাদের সমর্থন করছে। এটা কাম্য নয়।’

১৯৪৯ সালে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিষ্ঠাতা ও সাধারণ সম্পাদক মাও সে তুংয়ের নেতৃত্বাধীন বাহিনীর কাছে পরাজিত হয়ে তৎকালীন চীনের প্রধানমন্ত্রী চিয়াং কাই-শেক ও তার অনুগতরা বেইজিং ছেড়ে তাইওয়ান পালিয়ে যান। তখন থেকেই চীন তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের ‘অবিচ্ছেদ্য অংশ’ হিসেবে দাবি করে আসছে।

তবে চীনের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে নিজেদের স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে দাবি করে আসছে তাইওয়ান। যদিও বিশ্বের অধিকাংশ দেশ তাইওয়ানকে স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। এমনকি তাইওয়ানের স্বাধিকারের প্রশ্নে যে দেশটি সবসময় সোচ্চার থাকে, তাইওয়ানের কাছে নিয়মিত সমরাস্ত্র বিক্রি করে, সেই যুক্তরাষ্ট্রও তাইওয়ানকে স্বীকৃতি দেয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রির জন্য পৃথক একটি আইন আছে। সেই আইন মেনেই স্বায়ত্তশাসিত এই দ্বীপ ভূখণ্ডকে অস্ত্র সরবারহ করে ওয়াশিংটন। দেশটি বরাবরই বলে আসছে তারা এক-চীন নীতিতে বিশ্বাসী। চীনের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষতি না করে যতদূর সম্ভব তাইওয়ানকে সমর্থন দেয় যুক্তরাষ্ট্র।

এদিকে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাইওয়ান ও চীনের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে। চীন ঘন ঘন তাইওয়ানের জলসীমার কাছে সামুদ্রিক মহড়ার আয়োজন করছে। তাইওয়ানের জল ও আকাশসীমায় চীনা যুদ্ধজাহাজ এবং সামরিক বিমানের অনুপ্রবেশের ঘটনাও ঘটেছে কয়েক বার।

ক্রমবর্ধমান এই উত্তেজনার জেরে যদি চীন-তাইওয়ান যুদ্ধ বেঁধে যায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের সমর্থনে সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম পাঠাবে কিনা এমন প্রশ্ন করে ফক্স নিউজ।

জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘যদি সত্যিই এমন হয়, তাহলে আমাদের সেনাবাহিনীকে ১৫ হাজার ২৮৯ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে সেই যুদ্ধে অংশ নিতে হবে। এর কোনো মানে হয় না। আমি এটা চাই না। আমি চাই তাইওয়ান শান্ত হোক, চীনও শান্ত হোক।’

যদিও তাদের মধ্যে কোনো যুদ্ধ বাঁধবে না বলে মনে করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় না তাদের মধ্যে কোনো যুদ্ধ বাঁধবে। শি’র (চীনের প্রেসিডেন্ট) সঙ্গে আমার এ ব্যাপারে কথা হয়েছে। তিনি যুদ্ধে জড়াতে চান না।’

গত বছরের শেষ দিকে তাইওয়ানের কাছে ১১০০ কোটি ডলার মূল্যের রকেট লাঞ্চার, বিভিন্ন পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রসহ বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র বিক্রির ঘোষণা দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সদর দপ্তর পেন্টাগন। সে সময় এর নিন্দা জানান চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।

ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এই চুক্তি পুনর্বিবেচনা করবেন বলে জানান। তিনি বলেন, ‘বেইজিং সফরে চুক্তিটির ব্যাপারে শি’র সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। আমি চুক্তির ব্যাপারটি পুনর্বিবেচনা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

এ ব্যাপারে তাইওয়ানের শাসকদের সঙ্গে আলাপ করবেন বলেও জানান ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘আমি এ ব্যাপারটি নিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলতে চাই, যারা এখন তাইওয়ান চালাচ্ছেন।’

সূত্র: বিবিসি

/জেএইচ/