শিরোনাম

কখন গোসল করা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী

সিটিজেন ডেস্ক
কখন গোসল করা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী
প্রতীকী ছবি।

গোসলের উপযুক্ত সময় নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই। কেউ দিনের শুরুতেই গোসল করতে স্বচ্ছন্দ্যবোধ করেন, আবার কেউ মনে করেন রাতের গোসল শরীর ও মনের জন্য বেশি উপকারী। সকালে গোসলের পক্ষের মানুষদের মতে, ঘুমঘুম ভাব দূর করে শরীরকে চাঙা করতে এটি বেশ কার্যকর। বিশেষ করে হালকা গরম পানিতে কয়েক মিনিটের গোসল শরীরে এনে দেয় সতেজ অনুভূতি ও কাজের উদ্যম।

অন্যদিকে, রাতের গোসলের সমর্থকরা বলেন, সারাদিনের ক্লান্তি ও ধকল কাটিয়ে আরামদায়ক ঘুম নিশ্চিত করতে রাতে গোসলের বিকল্প নেই।

দিনভর শরীরে জমে থাকা ঘাম, ধুলাবালি ও ত্বকের অতিরিক্ত তেল পরিষ্কার করতে গোসল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। রাতে গোসল না করলে এসব ময়লা বিছানার চাদর ও বালিশে লেগে থাকতে পারে। এর ফলে ত্বকে জীবাণু সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়ে।

গবেষণায় দেখা গেছে, ত্বকের প্রতি বর্গসেন্টিমিটারে হাজার হাজার থেকে লাখো ব্যাকটেরিয়া বাস করতে পারে। যেগুলো ঘামগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত তেল গ্রহণ করে টিকে থাকে। স্ট্যাফিলোকক্কাসের মতো কিছু ব্যাকটেরিয়া আবার ঘামের দুর্গন্ধের জন্য দায়ী। যা সালফারযুক্ত যৌগ তৈরি করে। তাই অনেকে রাতে গোসলকে স্বাস্থ্যকর অভ্যাস বলে মনে করেন।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, বিষয়টি এতটা সরল নয়।

যুক্তরাজ্যের লেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজিস্ট প্রিমরোজ ফ্রিস্টোন জানান, রাতে পরিষ্কার হয়ে ঘুমালেও মানুষ ঘুমের মধ্যে ঘাম ঝরায়। এমনকি ঠান্ডা আবহাওয়াতেও একজন মানুষ রাতে প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ মিলিলিটার পর্যন্ত ঘামতে পারেন। একই সঙ্গে শরীর থেকে অসংখ্য মৃতকোষ ঝরে পড়ে, যা মাইট ও জীবাণুর জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করে। ফলে সকালে ঘুম থেকে ওঠার পরও শরীরে দুর্গন্ধ তৈরি হতে পারে। এ ছাড়া বিছানার চাদর ও বালিশে জমে থাকা ঘাম ও মৃতকোষ ছত্রাকের জন্ম দিতে পারে। বিশেষ করে অ্যাজমা বা দীর্ঘমেয়াদি ফুসফুসজনিত সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিদের জন্য এটি ক্ষতিকর হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু রাতে গোসল করাই যথেষ্ট নয়; নিয়মিত বিছানার চাদর ও বালিশের কভার পরিষ্কার করাও সমান জরুরি।

বিভিন্ন গবেষণার তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ঘুমানোর এক থেকে দুই ঘণ্টা আগে উষ্ণ পানিতে ১০ মিনিট গোসল করলে দ্রুত ঘুম আসে। কারণ, শরীরের জৈবঘড়ি বা সারকাডিয়ান রিদম ঘুমের আগে শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা কমিয়ে দেয়। উষ্ণ পানির গোসল সেই প্রক্রিয়াকে আরো কার্যকর করে তোলে।

অন্যদিকে, সকালের গোসলের সমর্থকেরা মনে করেন, রাতভর শরীরে জমে থাকা ঘাম ও জীবাণু ধুয়ে ফেলে দিন শুরু করলে নিজেকে আরও পরিচ্ছন্ন ও সতেজ লাগে। তাই গোসলের সেরা সময় আসলে নির্ভর করে ব্যক্তির জীবনযাপন, অভ্যাস ও শারীরিক প্রয়োজনের ওপর।

/এসবি/