শিরোনাম

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে ‘বাস্তবতা বিবেচনার’ আহ্বান জামায়াত আমিরের

সিটিজেন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে ‘বাস্তবতা বিবেচনার’ আহ্বান জামায়াত আমিরের
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তিকে বাস্তবতার নিরিখে মূল্যায়নের আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান।

শনিবার (৯ মে) দুপুরে জাপান সফর শেষে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘এইটাই একমাত্র চুক্তি না, এইরকম আরো বহু চুক্তি আছে। আমরা বাস্তবতার আলোকে দেখার পক্ষে।’

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে, গত ৯ ফেব্রুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করে। চুক্তিটি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনসহ বিভিন্ন মহলে সমালোচনা রয়েছে। সমালোচকদের দাবি, এতে বাংলাদেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

চুক্তির আওতায় বাংলাদেশকে ১৩১টি শর্ত মানতে হবে বলে জানা গেছে। যদিও এটি এখনও কার্যকর হয়নি, তবুও এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বোয়িং বিমানসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানির বিষয়ে পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার।

চুক্তি স্বাক্ষরের সময় অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান দাবি করেছিলেন, এ বিষয়ে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী উভয়ের সম্মতি ছিল। তবে জামায়াতে ইসলামী শুরু থেকেই বলে আসছে, চুক্তি নিয়ে তাদের সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি।

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শফিকুর রহমান বলেন, তিনি বাস্তব পরিস্থিতি যাচাই করেই বক্তব্য দিতে চান। এ প্রসঙ্গে তিনি জানান, দেশে ফিরেই পাইকারি ও খুচরা বাজার পরিদর্শনের পরিকল্পনা করেছেন।

তিনি বলেন, ‘যেখান থেকে পণ্য আসে, প্রয়োজনে সেই উৎপাদনস্থলেও যাব। উৎপাদন পর্যায়ে দাম কত, পাইকারি বাজারে এসে কত হচ্ছে এবং খুচরা পর্যায়ে কী দামে বিক্রি হচ্ছে—এই তিনটি ধাপ যাচাই করার পর আমরা আমাদের অবস্থান তুলে ধরব। এ বিষয়ে আমরা নীরব থাকব না।’

জাপান সফর শেষে ব্যাংকক হয়ে ঢাকায় ফেরেন জামায়াত আমির। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ, ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের আমির মো. সেলিম উদ্দিন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের নেতা আতাউর রহমান সরকার।

সফর প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান জানান, গত ২ মে তিনি তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল নিয়ে জাপানের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন। প্রতিনিধি দলে আরও ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এবং আমিরের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান।

জাপান সফরের সময় তারা ইসলামিক মিশন জাপান আয়োজিত কেন্দ্রীয় সদস্য সম্মেলন ও শিক্ষা শিবির-২০২৬–এ অংশ নেন। এছাড়া টোকিওর কামিনাকাযাতো এলাকায় আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেন। পরদিন নাগোয়া শহরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের একটি অনুষ্ঠানেও অংশগ্রহণ করেন তিনি।

৭ মে তিনি জাপানের নিপ্পন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ইওহেই সাসাকাওয়া এবং টোকিও মেট্রোপলিটন গভর্নমেন্টের ভাইস গভর্নর মাৎসুমোতো আকিকোর সঙ্গে বৈঠক করেন। একই দিনে তিনি জাপানের পার্লামেন্ট ভবনও পরিদর্শন করেন।

পরবর্তীতে ৮ মে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা জাইকার দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের মহাপরিচালক ইয়ামাদা তেতসুয়ার সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। সফরের শেষ দিনে জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাইস মিনিস্টার শিমাদা তোমোকির সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন জামায়াত আমির।

শফিকুর রহমান বলেন, তার আট দিনের সফরে সরকারি ও বেসরকারি উভয় পর্যায়ের বিভিন্ন কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত ছিল।

দেশে ফেরার আগে শনিবার সকালে ব্যাংককে চিকিৎসাধীন জুলাই আন্দোলনে আহত ব্যক্তিদের দেখতে হাসপাতালে যান তিনি। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আহতদের অনেকের পরিবার এখনও গভীর মানসিক আঘাতের মধ্যে রয়েছে।

সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আহতদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের পূর্ণ দায়িত্ব সরকারকে নিতে হবে। যাদের এখনও উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন, তাদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে। ব্যাংককে চিকিৎসাধীন তিনজনের অবস্থা এখনও সংকটাপন্ন। প্রয়োজন হলে তাদের সিঙ্গাপুরে নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা উচিত।’

/এমআর/