শিরোনাম

এক স্লাইস পিজ্জা লুকিয়ে থাকা ইতিহাস

সিটিজেন ডেস্ক
এক স্লাইস পিজ্জা লুকিয়ে থাকা ইতিহাস
ছবি : সংগৃহীত

পিজ্জা নামটি শুনলেই জিভে জল আসে না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। পিজ্জা কেবল একটি ইতালীয় খাবার নয়, বরং বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষের প্রতিদিনের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে থাকা এক অনন্য খাদ্যসংস্কৃতি। তবে এই জনপ্রিয়তার পেছনে রয়েছে কয়েক শতাব্দী প্রাচীন এক ইতিহাস।

ইতিহাসবিদদের তথ্যমতে, পিজ্জার আদি রূপ দেখা যায় প্রাচীন মিশর, গ্রিস এবং রোমান সভ্যতায়। তখন এটি ছিল কেবলই ভেষজ ও মসলা দিয়ে সাজানো এক ধরণের চ্যাপ্টা রুটি। যা সৈনিক ও কৃষকদের সহজলভ্য খাদ্য হিসেবে প্রচলিত ছিল। তবে আধুনিক পিজ্জার জন্মস্থান হিসেবে স্বীকৃত ইতালির নেপলস শহর।

১৮৮৯ সালে পিজ্জার ইতিহাসে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য মোড় আসে। ইতালির রানী মার্গারিটার সম্মানে শেফ রাফায়েল এসপোসিটো তৈরি করেন একটি বিশেষ ধরণের পিজ্জা। টমেটো, মোজারেলা পনির এবং তুলসী পাতার ব্যবহারে তৈরি এই পিজ্জাটি ইতালীয় পতাকার লাল, সাদা ও সবুজ রঙের প্রতিফলন ঘটায়। রানীর নামানুসারে এটি আজও ‘পিজ্জা মার্গারিটা’ হিসেবে বিশ্বখ্যাত।

উনিশ শতকের শেষভাগে ইতালীয় অভিবাসীদের হাত ধরে আমেরিকায় পৌঁছায় পিজ্জা। তবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষে ঘরে ফেরা আমেরিকান সৈন্যরা ইতালিতে পিজ্জার স্বাদ পাওয়ার পর এর চাহিদা বিশ্বব্যাপী আকাশচুম্বী করে তোলেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জন্ম নেয় নিউইয়র্কের থিন-ক্রাস্ট কিংবা শিকাগোর বিখ্যাত ডিপ-ডিশ পিজ্জা।

একবিংশ শতাব্দীতে এসে পিজ্জা উপভোগের ধরনে এসেছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। অনলাইন ডেলিভারি এবং মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে এখন সেকেন্ডের মধ্যেই পছন্দের পিজ্জা গ্রাহকের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাচ্ছে। পাশাপাশি ‘চিকি চিকেন’-এর মতো নতুন সব ফিউশন স্বাদে পিজ্জাকে আরও বৈচিত্র্যময় করে তুলছেন শেফরা।

অর্থনীতিবিদদের মতে, বর্তমান বাজারে পিজ্জা কেবল একটি আইটেম নয়, বরং এটি একটি লাভজনক ব্যবসায়িক মডেল। ডাইন-ইন হোক বা টেকঅ্যাওয়ে, দ্রুত পরিবেশনযোগ্য এই খাবারটি রেস্তোরাঁগুলোর বিক্রি বৃদ্ধিতে প্রধান ভূমিকা রাখছে।

/এসবি/