মরুভূমিতে নিজে নিজে হাঁটে যে পাথর
সিটিজেন ডেস্ক

মরুভূমিতে নিজে নিজে হাঁটে যে পাথর
সিটিজেন ডেস্ক
প্রকাশ : ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ২০: ৪০

ডেথ ভ্যালির রেসট্র্যাক প্লায়ায় একটি “মুভিং রক”-এর পেছনে স্পষ্ট সরে যাওয়ার দাগ দেখা যাচ্ছে। ছবিঃ ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিস
প্রকৃতি কখনও কখনও এমন সব দৃশ্য দেখায়, যা শুনলে গল্প মনে হয়, কিন্তু বাস্তবে তা সত্যি। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় ডেথ ভ্যালি ন্যাশনাল পার্কের রেসট্র্যাক প্লায়া নামের শুকনো হ্রদভূমিতে এমন কিছু পাথর দেখা যায়, যেগুলো যেন নিজেরাই মাটির ওপর দিয়ে হেঁটে যায়। তাদের পেছনে পড়ে থাকে লম্বা দাগ, যেন কেউ টেনে নিয়ে গেছে। অথচ আশপাশে থাকে না মানুষের পায়ের ছাপ, না কোনো যন্ত্রের চিহ্ন।
বছরের পর বছর এই দৃশ্য বিজ্ঞানী, পর্যটক ও রহস্যপ্রেমীদের কৌতূহলের কেন্দ্র ছিল। হ্রদভূমির বিস্তীর্ণ সমতলে ছড়িয়ে থাকা শত শত পাথরের মধ্যে কিছু পাথরের ওজন ৩২০ কেজি পর্যন্ত হতে পারে। আবার কোনো কোনো পাথরের টেনে যাওয়া দাগ শত শত মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়। সবচেয়ে অদ্ভুত বিষয় হলো, এসব পাথর দীর্ঘ সময় একেবারেই স্থির পড়ে থাকতে পারে, তারপর হঠাৎ কোনো এক সময়ে সরে যায়।
অনেক দিন ধরে প্রশ্ন ছিল, পাথরগুলো আসলে নড়ে কীভাবে? একসময় কেউ বলেছে ভূতুড়ে শক্তি, কেউ বলেছে চৌম্বক প্রভাব, আবার কেউ মনে করেছে প্রবল বাতাসই একমাত্র কারণ। কিন্তু গবেষকেরা পরে দেখেছেন, রহস্যের পেছনে আছে প্রকৃতির খুবই বিরল এক সমন্বয়। প্রথমে বৃষ্টির পানিতে হ্রদভূমির মাটি ভিজে পিচ্ছিল হয়ে ওঠে। ঠান্ডা রাতে সেখানে পাতলা বরফ জমে। পরে দিনের আলো আর হালকা বাতাসে সেই বরফের চাদর ভেঙে বড় পাতের মতো সরে যেতে থাকে এবং সেই বরফের চাপেই পাথরগুলো ধীরে ধীরে সামনে এগোয়।
গবেষকদের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, এই চলাচল খুব দ্রুত নয়, এত ধীরে ঘটে যে খালি চোখে ধরা পড়া কঠিন। কিছু ক্ষেত্রে কয়েক সেকেন্ড থেকে ১৬ মিনিট পর্যন্ত পাথর চলতে দেখা গেছে, আর একসঙ্গে দূরে দূরে থাকা একাধিক পাথরও একই সময়ে নড়েছে। অর্থাৎ, রহস্যটা অলৌকিক নয়, কিন্তু বাস্তব ব্যাখ্যাটাও কম বিস্ময়কর নয়।
মরুভূমির বুকের ওপর নিঃশব্দে সরে যাওয়া এই পাথরগুলো তাই আজও মানুষের কল্পনাকে নাড়া দেয়। কারণ, বিজ্ঞানের ব্যাখ্যা মিললেও দৃশ্যটা এখনো অবিশ্বাস্য, একটা পাথর, যে নিজেই নিজের পথ এঁকে এগিয়ে যায়।
তথ্যসূত্রঃ ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিস

প্রকৃতি কখনও কখনও এমন সব দৃশ্য দেখায়, যা শুনলে গল্প মনে হয়, কিন্তু বাস্তবে তা সত্যি। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় ডেথ ভ্যালি ন্যাশনাল পার্কের রেসট্র্যাক প্লায়া নামের শুকনো হ্রদভূমিতে এমন কিছু পাথর দেখা যায়, যেগুলো যেন নিজেরাই মাটির ওপর দিয়ে হেঁটে যায়। তাদের পেছনে পড়ে থাকে লম্বা দাগ, যেন কেউ টেনে নিয়ে গেছে। অথচ আশপাশে থাকে না মানুষের পায়ের ছাপ, না কোনো যন্ত্রের চিহ্ন।
বছরের পর বছর এই দৃশ্য বিজ্ঞানী, পর্যটক ও রহস্যপ্রেমীদের কৌতূহলের কেন্দ্র ছিল। হ্রদভূমির বিস্তীর্ণ সমতলে ছড়িয়ে থাকা শত শত পাথরের মধ্যে কিছু পাথরের ওজন ৩২০ কেজি পর্যন্ত হতে পারে। আবার কোনো কোনো পাথরের টেনে যাওয়া দাগ শত শত মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়। সবচেয়ে অদ্ভুত বিষয় হলো, এসব পাথর দীর্ঘ সময় একেবারেই স্থির পড়ে থাকতে পারে, তারপর হঠাৎ কোনো এক সময়ে সরে যায়।
অনেক দিন ধরে প্রশ্ন ছিল, পাথরগুলো আসলে নড়ে কীভাবে? একসময় কেউ বলেছে ভূতুড়ে শক্তি, কেউ বলেছে চৌম্বক প্রভাব, আবার কেউ মনে করেছে প্রবল বাতাসই একমাত্র কারণ। কিন্তু গবেষকেরা পরে দেখেছেন, রহস্যের পেছনে আছে প্রকৃতির খুবই বিরল এক সমন্বয়। প্রথমে বৃষ্টির পানিতে হ্রদভূমির মাটি ভিজে পিচ্ছিল হয়ে ওঠে। ঠান্ডা রাতে সেখানে পাতলা বরফ জমে। পরে দিনের আলো আর হালকা বাতাসে সেই বরফের চাদর ভেঙে বড় পাতের মতো সরে যেতে থাকে এবং সেই বরফের চাপেই পাথরগুলো ধীরে ধীরে সামনে এগোয়।
গবেষকদের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, এই চলাচল খুব দ্রুত নয়, এত ধীরে ঘটে যে খালি চোখে ধরা পড়া কঠিন। কিছু ক্ষেত্রে কয়েক সেকেন্ড থেকে ১৬ মিনিট পর্যন্ত পাথর চলতে দেখা গেছে, আর একসঙ্গে দূরে দূরে থাকা একাধিক পাথরও একই সময়ে নড়েছে। অর্থাৎ, রহস্যটা অলৌকিক নয়, কিন্তু বাস্তব ব্যাখ্যাটাও কম বিস্ময়কর নয়।
মরুভূমির বুকের ওপর নিঃশব্দে সরে যাওয়া এই পাথরগুলো তাই আজও মানুষের কল্পনাকে নাড়া দেয়। কারণ, বিজ্ঞানের ব্যাখ্যা মিললেও দৃশ্যটা এখনো অবিশ্বাস্য, একটা পাথর, যে নিজেই নিজের পথ এঁকে এগিয়ে যায়।
তথ্যসূত্রঃ ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিস

মরুভূমিতে নিজে নিজে হাঁটে যে পাথর
সিটিজেন ডেস্ক
প্রকাশ : ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ২০: ৪০

ডেথ ভ্যালির রেসট্র্যাক প্লায়ায় একটি “মুভিং রক”-এর পেছনে স্পষ্ট সরে যাওয়ার দাগ দেখা যাচ্ছে। ছবিঃ ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিস
প্রকৃতি কখনও কখনও এমন সব দৃশ্য দেখায়, যা শুনলে গল্প মনে হয়, কিন্তু বাস্তবে তা সত্যি। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় ডেথ ভ্যালি ন্যাশনাল পার্কের রেসট্র্যাক প্লায়া নামের শুকনো হ্রদভূমিতে এমন কিছু পাথর দেখা যায়, যেগুলো যেন নিজেরাই মাটির ওপর দিয়ে হেঁটে যায়। তাদের পেছনে পড়ে থাকে লম্বা দাগ, যেন কেউ টেনে নিয়ে গেছে। অথচ আশপাশে থাকে না মানুষের পায়ের ছাপ, না কোনো যন্ত্রের চিহ্ন।
বছরের পর বছর এই দৃশ্য বিজ্ঞানী, পর্যটক ও রহস্যপ্রেমীদের কৌতূহলের কেন্দ্র ছিল। হ্রদভূমির বিস্তীর্ণ সমতলে ছড়িয়ে থাকা শত শত পাথরের মধ্যে কিছু পাথরের ওজন ৩২০ কেজি পর্যন্ত হতে পারে। আবার কোনো কোনো পাথরের টেনে যাওয়া দাগ শত শত মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়। সবচেয়ে অদ্ভুত বিষয় হলো, এসব পাথর দীর্ঘ সময় একেবারেই স্থির পড়ে থাকতে পারে, তারপর হঠাৎ কোনো এক সময়ে সরে যায়।
অনেক দিন ধরে প্রশ্ন ছিল, পাথরগুলো আসলে নড়ে কীভাবে? একসময় কেউ বলেছে ভূতুড়ে শক্তি, কেউ বলেছে চৌম্বক প্রভাব, আবার কেউ মনে করেছে প্রবল বাতাসই একমাত্র কারণ। কিন্তু গবেষকেরা পরে দেখেছেন, রহস্যের পেছনে আছে প্রকৃতির খুবই বিরল এক সমন্বয়। প্রথমে বৃষ্টির পানিতে হ্রদভূমির মাটি ভিজে পিচ্ছিল হয়ে ওঠে। ঠান্ডা রাতে সেখানে পাতলা বরফ জমে। পরে দিনের আলো আর হালকা বাতাসে সেই বরফের চাদর ভেঙে বড় পাতের মতো সরে যেতে থাকে এবং সেই বরফের চাপেই পাথরগুলো ধীরে ধীরে সামনে এগোয়।
গবেষকদের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, এই চলাচল খুব দ্রুত নয়, এত ধীরে ঘটে যে খালি চোখে ধরা পড়া কঠিন। কিছু ক্ষেত্রে কয়েক সেকেন্ড থেকে ১৬ মিনিট পর্যন্ত পাথর চলতে দেখা গেছে, আর একসঙ্গে দূরে দূরে থাকা একাধিক পাথরও একই সময়ে নড়েছে। অর্থাৎ, রহস্যটা অলৌকিক নয়, কিন্তু বাস্তব ব্যাখ্যাটাও কম বিস্ময়কর নয়।
মরুভূমির বুকের ওপর নিঃশব্দে সরে যাওয়া এই পাথরগুলো তাই আজও মানুষের কল্পনাকে নাড়া দেয়। কারণ, বিজ্ঞানের ব্যাখ্যা মিললেও দৃশ্যটা এখনো অবিশ্বাস্য, একটা পাথর, যে নিজেই নিজের পথ এঁকে এগিয়ে যায়।
তথ্যসূত্রঃ ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিস
/এমআর/




