শিরোনাম

মাঝরাতে কুকুরের ডাক কি অমঙ্গল

সিটিজেন ডেস্ক
মাঝরাতে কুকুরের ডাক কি অমঙ্গল
প্রতীকী ছবি

গভীর রাতে নিস্তব্ধতা ভেঙে হঠাৎ যখন কুকুরের একটানা ডাক বা ‘কান্নার’মতো আওয়াজে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে চারপাশ, তখন সাধারণ মানুষের মনে দানা বাঁধে নানা রহস্য আর আতঙ্ক। লোকজ বিশ্বাসে একে কোনো অশুভ সংকেত বা মৃত্যুর পূর্বাভাস মনে করা হলেও, বিষয়টির পেছনে রয়েছে বিজ্ঞানসম্মত কারণ এবং ধর্মীয় দর্শনের সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা।

প্রাণিবিজ্ঞানীদের মতে, কুকুর একটি অত্যন্ত সামাজিক ও সংবেদনশীল প্রাণী। তাদের ডাকার পেছনে মূলত কয়েকটি প্রাকৃতিক কারণ থাকে:

পারস্পরিক যোগাযোগ:

রাতের নিস্তব্ধতায় শব্দ অনেক দূর পর্যন্ত পৌঁছায়। কুকুররা দীর্ঘ সুরে ডাকার মাধ্যমে তাদের দলের অন্য সদস্যদের সাথে যোগাযোগ করে এবং নিজেদের অবস্থান জানায়।

সীমানা রক্ষা:

কুকুর অত্যন্ত এলাকা সচেতন। রাতে তাদের সীমানায় অপরিচিত মানুষ বা অন্য কোনো প্রাণীর আনাগোনা টের পেলে তারা সতর্ক সংকেত হিসেবে চিৎকার শুরু করে।

তীক্ষ্ণ শ্রবণশক্তি:

মানুষের কান যে উচ্চ কম্পাঙ্কের শব্দ শুনতে পায় না, কুকুর তা অনায়াসেই শুনতে পায়। অনেক দূরে চলা কোনো গাড়ির শব্দ বা ক্ষুদ্র প্রাণীর চলাচলেও তারা প্রতিক্রিয়া দেখায়।

একাকীত্ব ও আতঙ্ক:

দলছুট বা পোষা কুকুর অনেক সময় একাকীত্ব অনুভব করলে বা ভয় পেলে কান্নার সুরে আওয়াজ করে। তখন সে মালিক বা সঙ্গীর সান্নিধ্য চায়।

ইসলামের দৃষ্টিতে কুকুরের ডাক

ইসলামি শরিয়তে রাতের বেলা কুকুরের ডাক শুনলে বিশেষ আমলের কথা বলা হয়েছে। হাদিস শরিফে বিষয়টিকে আধ্যাত্মিক সচেতনতার সাথে যুক্ত করা হয়েছে।

হজরত জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: ‘যখন তোমরা রাতে কুকুরের ডাক এবং গাধার চিৎকার শুনবে, তখন তোমরা আল্লাহর কাছে শয়তান থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করবে (আউযুবিল্লাহ পড়বে)। কারণ তারা এমন কিছু দেখতে পায়, যা তোমরা দেখতে পাও না।’ (আবু দাউদ: ৫১০৩)

ইসলামি স্কলারদের মতে, কুকুর অনেক সময় শয়তান বা অশুভ শক্তির উপস্থিতি টের পেয়ে বিচলিত হয়ে ওঠে। তাই এমন পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত না হয়ে মহান আল্লাহর জিকির করা এবং তার কাছে নিরাপত্তা চাওয়াই মুমিনের কাজ।

আমাদের সমাজে প্রচলিত আছে যে, কুকুর কাঁদলে কেউ মারা যায় বা বড় কোনো বিপদ আসে। তবে বিজ্ঞান বা ইসলাম—কোনোটিই এই ধারণাকে সমর্থন করে না।

ইসলামি আকীদা অনুযায়ী, হায়াত ও মউত সম্পূর্ণ আল্লাহর হাতে। কোনো প্রাণীর ডাকের ওপর মানুষের ভাগ্য নির্ভর করে না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রাতের বেলা কুকুরের ডাক শুনে অহেতুক আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। এটি যেমন তাদের প্রাকৃতিক স্বভাবের অংশ, তেমনি আধ্যাত্মিক দিক থেকে এটি আমাদের আল্লাহকে স্মরণের কথা মনে করিয়ে দেয়। তাই এমন পরিস্থিতিতে স্বাভাবিক থাকাই উত্তম।

/এসবি/