দেশের ৮ জেলায় আগাম ঈদ উদযাপন

দেশের ৮ জেলায় আগাম ঈদ উদযাপন
সিটিজেন ডেস্ক

মাসব্যাপী সিয়াম সাধনার পর সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশে শুক্রবার (২০ মার্চ) পবিত্র ঈদুল ফিতর। সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে এবারও বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি এলাকার মানুষ আজ আগাম ঈদ উদযাপন করছে।
প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য অনুযায়ী– জামালপুর, কুড়িগ্রাম, দিনাজপুর, চাঁদপুর, বগুড়া, ঝিনাইদহ চট্টগ্রাম ও সাতক্ষীরা জেলার বেশ কয়েকটি উপজেলায় আগাম ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।
জামালপুরের ৩ উপজেলায় ঈদের জামাত
জামালপুরের তিন উপজেলায় ঈদুল ফিতরে জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলার সরিষাবাড়ী উপজেলার ১৪টি গ্রাম, ইসলামপুরের ৫টি গ্রাম এবং মাদারগঞ্জের ১টি গ্রামে এই উৎসব পালন করা হয়।
শুক্রবার (২০ মার্চ) সকাল সাড়ে ৮টায় সরিষাবাড়ী পৌরসভার বলারদিয়ার মধ্যপাড়া মাস্টারবাড়ি জামে মসজিদ মাঠে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন বলারদিয়া জামে মসজিদের খতিব আজিম উদ্দিন মাস্টার।
জামাতে অংশ নেওয়া মো. আপন আলী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে চাঁদ দেখা যাওয়ায় আমরা আজ ঈদের নামাজ আদায় করেছি।
মসজিদের খতিব আজিম উদ্দিন মাস্টার বলেন, বিগত ২০ বছর ধরে আমাদের এই মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে আলাদা জামাত হওয়ায় এখন মুসল্লি কিছুটা কমেছে।
কুড়িগ্রামের ৭ গ্রামে ঈদের নামাজ আদায়
কুড়িগ্রামের পাঁচ উপজেলার ৭ গ্রামে ঈদুল ফিতরের আগাম নামাজ আদায় করেছেন সহস্রাধিক মুসল্লি। শুক্রবার (২০ মার্চ) সকাল ৯টায় ফুলবাড়ী উপজেলার সদর ইউনিয়নের কুটির চন্দ্রখানা জেলে পাড়া আহলে হাদিস জামে মসজিদের উঠানে অনুষ্ঠিত হয় ঈদের জামাত।
মসজিদের ইমাম আমিনুল ইসলাম বলেন, আমরা ফুলবাড়ীতে ইমাম আবু হানিফার (রহ.) মতাদর্শ অনুযায়ী সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে আজ ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেছি।

ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পাইকডাঙা, চিলমারী উপজেলার ডাটিয়ারচর এবং রৌমারী উপজেলার গয়টাপাড়া ও চর রাজিবপুর উপজেলার করাতি পাড়ায় ঈদুর ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।
পাইকের ছড়া গ্রামের কিশোর আবু বকর উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে জানায়, সবার সঙ্গে ঈদের নামাজ আদায় করে খুব ভালো লাগছে।
চিলমারী উপজেলার অষ্টমির চর ইউনিয়নের ডাটিয়ার চর এলাকার জানে আলম বলেন, আমরা প্রতি বছর ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার নামাজ সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে পালন করছি।
দিনাজপুরও ২০ গ্রামে ঈদ
দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার দুইটি ইউনিয়নের ২০ গ্রামের মুসল্লিরা আগাম ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেছেন। শুক্রবার (২০ মার্চ) সকালে অনুষ্ঠিত এই জামাতে পুরুষদের পাশাপাশি নারী মুসল্লিরাও অংশ নেন।
সকাল সাড়ে ৮টায় জোতবানি ইউনিয়নের খয়েরবাড়ি-মির্জাপুর এলাকায় মেহেদী হাসান সুমনের বাড়ির আঙিনায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন দোলোয়ার হোসেন।
একই সময়ে বিনাইল ইউনিয়নের আয়ড়া মাদ্রাসা মাঠে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ইমামতি করেন আল আমিন।
খয়েরবাড়ি জামাতের ইমাম মো. দোলোয়ার হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, সৌদি আরবের সঙ্গে আমাদের সময়ের পার্থক্য মাত্র ৩ ঘণ্টা। এই ব্যবধানে দিনের পরিবর্তন হয় না। তাই আমরা তাদের সঙ্গে মিল রেখে ঈদের নামাজ আদায় করেছি।
২০১৩ সাল থেকে নিয়মিতভাবে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে নামাজ আদায় করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
চাঁদপুরে অর্ধশতাধিক গ্রামে ঈদ
প্রতি বছরের মতো এবারও সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে চাঁদপুরের অর্ধশতাধিক গ্রামে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হচ্ছে। শুক্রবার (২০ মার্চ) সকালে জেলার বিভিন্ন স্থানে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। জামাতে বিপুলসংখ্যক মুসল্লি অংশ নেন।
এর মধ্যে চাঁদপুর সদর উপজেলার সাদ্রা দরবার শরীফ মাঠে সকাল ৯টায় ঈদুল ফিতরের প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হয়। জামাতে ইমামতি করেন দরবার শরীফের পীরজাদা আল্লামা জাকারিয়া চৌধুরী আল মাদানী।
একই দিন সকাল সাড়ে ৯টায় সাদ্রা হামিদিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসা মাঠে আরেকটি ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন দরবার শরীফের পীরজাদা আরিফ চৌধুরী।
চাঁদপুরের যেসব গ্রামে আগাম ঈদ উদযাপন করা হচ্ছে, সেগুলো হলো- হাজীগঞ্জ উপজেলার সাদ্রা, সমেশপুর, অলিপুর, বলাখাল, মনিহার, প্রতাপুর, বাসারা; ফরিদগঞ্জ উপজেলার লক্ষ্মীপুর, কামতা, গল্লাক, ভুলাচোঁ, সোনাচোঁ, উভারামপুর, উটতলি, মুন্সিরহাট, কাইতাড়া, মূলপাড়া, বদরপুর, আইটপাড়া, সুরঙ্গচাইল, বালিথুবা, পাইকপাড়া, নূরপুর, সাচনমেঘ, শোল্লা, হাঁসা, গোবিন্দপুর, মতলব উপজেলার দশানী, মোহনপুর, পাঁচানী এবং কচুয়া।
হাজীগঞ্জের সাদ্রা দরবার শরীফের পীর মুফতি জাকারিয়া চৌধুরী আল মাদানি বলেন, ১৯২৮ সাল থেকে আমরা দরবার শরীফের প্রতিষ্ঠাতা পীর মাওলানা ইসহাক (র.) এর নিয়ম অনুযায়ী, প্রথম চাঁদ দেখার ভিত্তিতে রোজা ও ঈদ পালন করে আসছি।
বগুড়ায় ৩ উপজেলায় ঈদ উদযাপন
জেলার গাবতলী, ধুনট ও সোনাতলা উপজেলার পৃথক তিনটি স্থানে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। জামাতে নারী ও শিশুসহ অন্তত দেড় শতাধিক মুসল্লি অংশ নেন।
শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টায় গাবতলী রেল স্টেশন সংলগ্ন রেলওয়ে জামে মসজিদে ঈদের আগাম জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন লালমনিরহাটের পাটগ্রাম আজোয়ারপাড়া জামে মসজিদের খতিব মাওলানা লাইলাতুল কদর।
এর আগে ধুনট উপজেলার হাশুখালী গ্রামে এবং সোনাতলার কালাইহাটা গ্রামে সকাল সাড়ে ৭টায় ঈদের নামাজ আদায় করেন স্থানীয় কয়েক বাড়ির মুসল্লিরা।
আগাম ঈদ উদ্যাপন প্রসঙ্গে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম আজোয়ারপাড়া জামে মসজিদের খতিব মাওলানা লাইলাতুল কদর জানান, পৃথিবীর কোথাও চাঁদ দেখা গেলে রোজা রাখা এবং ঈদ করা নিয়ম। তাই তারা অনেক আগে থেকেই বিশ্বের অন্য দেশের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ পালন করে আসছেন।
সৌদির সঙ্গে মিল রেখে ঝিনাইদহে ঈদ উদযাপন
সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলায় ঈদুল ফিতরের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলা শহরের ফুটবল মাঠ এলাকায় অনুষ্ঠিত ঈদের নামাজে ইমামতি করেন মাওলানা হাবিবুল্লাহ। এতে উপজেলার দখলপুর, নারায়নকান্দি, বৈঠাপাড়া, বোয়ালিয়া, চটকাবাড়ীয়া, পারফলসী, পায়রাডাঙ্গা, শৈলকুপার আসাননগর এলাকা থেকে আগত শতাধিক মুসল্লি অংশ নেন।
মুসল্লিরা জানান, সৌদি আরবের সঙ্গে মিলে রেখে তারা ২০০৫ সাল থেকে ঈদ জামাতের আয়োজন করে আসছেন।
চট্টগ্রামের অর্ধশতাধিক গ্রামে ঈদের জামাত
দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, বাঁশখালী, চন্দনাইশ, বোয়ালখালী, আনোয়ারা ও পটিয়াসহ বিভিন্ন উপজেলার অন্তত ৫০টির বেশি গ্রামে লক্ষাধিক মানুষ আজ ঈদ উদযাপন করছেন।
পটিয়ার মির্জাখীল দরবার শরীফের মুহাম্মদ জালালুল হাই বলেন, আমরা হানাফি মাজহাবের অনুসারী। আরব বিশ্বের চাঁদ দেখার তথ্য নিশ্চিত হয়ে বৈজ্ঞানিকভাবে চাঁদের অবস্থান বিবেচনায় আজ ঈদের নামাজ আদায় করেছি। এটি আমাদের দীর্ঘদিনের ধর্মীয় অনুশাসন।
জানা গেছে, প্রায় আড়াই শ বছর আগে সাতকানিয়া উপজেলার মির্জাখীল গ্রামের হযরত মাওলানা মোখলেছুর রহমান জাহাঙ্গীরী (রহ.) হানাফি মাজহাব অনুযায়ী পৃথিবীর যে কোনো স্থানে চাঁদ দেখা গেলে তা অনুসরণ করার ফতোয়া দেন। সেই ধারাবাহিকতায় দরবারের অনুসারীরা সৌদি আরবের চাঁদ দেখার ঘোষণাকে ভিত্তি করে রোজা, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা পালন করে আসছেন।
সাতক্ষীরার ২০ গ্রামে ঈদুল ফিতর উদযাপন
সাতক্ষীরার ২০ গ্রামে পবিত্র ঈদুল ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। কলারোয়া উপজেলার গোয়ালচত্বর গ্রামের বাসিন্দা আলি হোসেন বলেন, সকাল ৮টায় ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে একসঙ্গে নামাজ আদায় করেছি।

খুলনার পাইকগাছা উপজেলা থেকে আসা জিএম হাসান মাহবুব বলেন, আগে থেকেই জেনেছি, শাওয়াল মাসের চাঁদ উঠেছে। সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন করাকে আমরা যুক্তিসঙ্গত মনে করি। তাই এখানে সমবেত হয়েছি।

মাসব্যাপী সিয়াম সাধনার পর সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশে শুক্রবার (২০ মার্চ) পবিত্র ঈদুল ফিতর। সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে এবারও বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি এলাকার মানুষ আজ আগাম ঈদ উদযাপন করছে।
প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য অনুযায়ী– জামালপুর, কুড়িগ্রাম, দিনাজপুর, চাঁদপুর, বগুড়া, ঝিনাইদহ চট্টগ্রাম ও সাতক্ষীরা জেলার বেশ কয়েকটি উপজেলায় আগাম ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।
জামালপুরের ৩ উপজেলায় ঈদের জামাত
জামালপুরের তিন উপজেলায় ঈদুল ফিতরে জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলার সরিষাবাড়ী উপজেলার ১৪টি গ্রাম, ইসলামপুরের ৫টি গ্রাম এবং মাদারগঞ্জের ১টি গ্রামে এই উৎসব পালন করা হয়।
শুক্রবার (২০ মার্চ) সকাল সাড়ে ৮টায় সরিষাবাড়ী পৌরসভার বলারদিয়ার মধ্যপাড়া মাস্টারবাড়ি জামে মসজিদ মাঠে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন বলারদিয়া জামে মসজিদের খতিব আজিম উদ্দিন মাস্টার।
জামাতে অংশ নেওয়া মো. আপন আলী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে চাঁদ দেখা যাওয়ায় আমরা আজ ঈদের নামাজ আদায় করেছি।
মসজিদের খতিব আজিম উদ্দিন মাস্টার বলেন, বিগত ২০ বছর ধরে আমাদের এই মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে আলাদা জামাত হওয়ায় এখন মুসল্লি কিছুটা কমেছে।
কুড়িগ্রামের ৭ গ্রামে ঈদের নামাজ আদায়
কুড়িগ্রামের পাঁচ উপজেলার ৭ গ্রামে ঈদুল ফিতরের আগাম নামাজ আদায় করেছেন সহস্রাধিক মুসল্লি। শুক্রবার (২০ মার্চ) সকাল ৯টায় ফুলবাড়ী উপজেলার সদর ইউনিয়নের কুটির চন্দ্রখানা জেলে পাড়া আহলে হাদিস জামে মসজিদের উঠানে অনুষ্ঠিত হয় ঈদের জামাত।
মসজিদের ইমাম আমিনুল ইসলাম বলেন, আমরা ফুলবাড়ীতে ইমাম আবু হানিফার (রহ.) মতাদর্শ অনুযায়ী সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে আজ ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেছি।

ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পাইকডাঙা, চিলমারী উপজেলার ডাটিয়ারচর এবং রৌমারী উপজেলার গয়টাপাড়া ও চর রাজিবপুর উপজেলার করাতি পাড়ায় ঈদুর ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।
পাইকের ছড়া গ্রামের কিশোর আবু বকর উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে জানায়, সবার সঙ্গে ঈদের নামাজ আদায় করে খুব ভালো লাগছে।
চিলমারী উপজেলার অষ্টমির চর ইউনিয়নের ডাটিয়ার চর এলাকার জানে আলম বলেন, আমরা প্রতি বছর ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার নামাজ সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে পালন করছি।
দিনাজপুরও ২০ গ্রামে ঈদ
দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার দুইটি ইউনিয়নের ২০ গ্রামের মুসল্লিরা আগাম ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেছেন। শুক্রবার (২০ মার্চ) সকালে অনুষ্ঠিত এই জামাতে পুরুষদের পাশাপাশি নারী মুসল্লিরাও অংশ নেন।
সকাল সাড়ে ৮টায় জোতবানি ইউনিয়নের খয়েরবাড়ি-মির্জাপুর এলাকায় মেহেদী হাসান সুমনের বাড়ির আঙিনায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন দোলোয়ার হোসেন।
একই সময়ে বিনাইল ইউনিয়নের আয়ড়া মাদ্রাসা মাঠে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ইমামতি করেন আল আমিন।
খয়েরবাড়ি জামাতের ইমাম মো. দোলোয়ার হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, সৌদি আরবের সঙ্গে আমাদের সময়ের পার্থক্য মাত্র ৩ ঘণ্টা। এই ব্যবধানে দিনের পরিবর্তন হয় না। তাই আমরা তাদের সঙ্গে মিল রেখে ঈদের নামাজ আদায় করেছি।
২০১৩ সাল থেকে নিয়মিতভাবে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে নামাজ আদায় করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
চাঁদপুরে অর্ধশতাধিক গ্রামে ঈদ
প্রতি বছরের মতো এবারও সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে চাঁদপুরের অর্ধশতাধিক গ্রামে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হচ্ছে। শুক্রবার (২০ মার্চ) সকালে জেলার বিভিন্ন স্থানে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। জামাতে বিপুলসংখ্যক মুসল্লি অংশ নেন।
এর মধ্যে চাঁদপুর সদর উপজেলার সাদ্রা দরবার শরীফ মাঠে সকাল ৯টায় ঈদুল ফিতরের প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হয়। জামাতে ইমামতি করেন দরবার শরীফের পীরজাদা আল্লামা জাকারিয়া চৌধুরী আল মাদানী।
একই দিন সকাল সাড়ে ৯টায় সাদ্রা হামিদিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসা মাঠে আরেকটি ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন দরবার শরীফের পীরজাদা আরিফ চৌধুরী।
চাঁদপুরের যেসব গ্রামে আগাম ঈদ উদযাপন করা হচ্ছে, সেগুলো হলো- হাজীগঞ্জ উপজেলার সাদ্রা, সমেশপুর, অলিপুর, বলাখাল, মনিহার, প্রতাপুর, বাসারা; ফরিদগঞ্জ উপজেলার লক্ষ্মীপুর, কামতা, গল্লাক, ভুলাচোঁ, সোনাচোঁ, উভারামপুর, উটতলি, মুন্সিরহাট, কাইতাড়া, মূলপাড়া, বদরপুর, আইটপাড়া, সুরঙ্গচাইল, বালিথুবা, পাইকপাড়া, নূরপুর, সাচনমেঘ, শোল্লা, হাঁসা, গোবিন্দপুর, মতলব উপজেলার দশানী, মোহনপুর, পাঁচানী এবং কচুয়া।
হাজীগঞ্জের সাদ্রা দরবার শরীফের পীর মুফতি জাকারিয়া চৌধুরী আল মাদানি বলেন, ১৯২৮ সাল থেকে আমরা দরবার শরীফের প্রতিষ্ঠাতা পীর মাওলানা ইসহাক (র.) এর নিয়ম অনুযায়ী, প্রথম চাঁদ দেখার ভিত্তিতে রোজা ও ঈদ পালন করে আসছি।
বগুড়ায় ৩ উপজেলায় ঈদ উদযাপন
জেলার গাবতলী, ধুনট ও সোনাতলা উপজেলার পৃথক তিনটি স্থানে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। জামাতে নারী ও শিশুসহ অন্তত দেড় শতাধিক মুসল্লি অংশ নেন।
শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টায় গাবতলী রেল স্টেশন সংলগ্ন রেলওয়ে জামে মসজিদে ঈদের আগাম জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন লালমনিরহাটের পাটগ্রাম আজোয়ারপাড়া জামে মসজিদের খতিব মাওলানা লাইলাতুল কদর।
এর আগে ধুনট উপজেলার হাশুখালী গ্রামে এবং সোনাতলার কালাইহাটা গ্রামে সকাল সাড়ে ৭টায় ঈদের নামাজ আদায় করেন স্থানীয় কয়েক বাড়ির মুসল্লিরা।
আগাম ঈদ উদ্যাপন প্রসঙ্গে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম আজোয়ারপাড়া জামে মসজিদের খতিব মাওলানা লাইলাতুল কদর জানান, পৃথিবীর কোথাও চাঁদ দেখা গেলে রোজা রাখা এবং ঈদ করা নিয়ম। তাই তারা অনেক আগে থেকেই বিশ্বের অন্য দেশের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ পালন করে আসছেন।
সৌদির সঙ্গে মিল রেখে ঝিনাইদহে ঈদ উদযাপন
সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলায় ঈদুল ফিতরের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলা শহরের ফুটবল মাঠ এলাকায় অনুষ্ঠিত ঈদের নামাজে ইমামতি করেন মাওলানা হাবিবুল্লাহ। এতে উপজেলার দখলপুর, নারায়নকান্দি, বৈঠাপাড়া, বোয়ালিয়া, চটকাবাড়ীয়া, পারফলসী, পায়রাডাঙ্গা, শৈলকুপার আসাননগর এলাকা থেকে আগত শতাধিক মুসল্লি অংশ নেন।
মুসল্লিরা জানান, সৌদি আরবের সঙ্গে মিলে রেখে তারা ২০০৫ সাল থেকে ঈদ জামাতের আয়োজন করে আসছেন।
চট্টগ্রামের অর্ধশতাধিক গ্রামে ঈদের জামাত
দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, বাঁশখালী, চন্দনাইশ, বোয়ালখালী, আনোয়ারা ও পটিয়াসহ বিভিন্ন উপজেলার অন্তত ৫০টির বেশি গ্রামে লক্ষাধিক মানুষ আজ ঈদ উদযাপন করছেন।
পটিয়ার মির্জাখীল দরবার শরীফের মুহাম্মদ জালালুল হাই বলেন, আমরা হানাফি মাজহাবের অনুসারী। আরব বিশ্বের চাঁদ দেখার তথ্য নিশ্চিত হয়ে বৈজ্ঞানিকভাবে চাঁদের অবস্থান বিবেচনায় আজ ঈদের নামাজ আদায় করেছি। এটি আমাদের দীর্ঘদিনের ধর্মীয় অনুশাসন।
জানা গেছে, প্রায় আড়াই শ বছর আগে সাতকানিয়া উপজেলার মির্জাখীল গ্রামের হযরত মাওলানা মোখলেছুর রহমান জাহাঙ্গীরী (রহ.) হানাফি মাজহাব অনুযায়ী পৃথিবীর যে কোনো স্থানে চাঁদ দেখা গেলে তা অনুসরণ করার ফতোয়া দেন। সেই ধারাবাহিকতায় দরবারের অনুসারীরা সৌদি আরবের চাঁদ দেখার ঘোষণাকে ভিত্তি করে রোজা, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা পালন করে আসছেন।
সাতক্ষীরার ২০ গ্রামে ঈদুল ফিতর উদযাপন
সাতক্ষীরার ২০ গ্রামে পবিত্র ঈদুল ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। কলারোয়া উপজেলার গোয়ালচত্বর গ্রামের বাসিন্দা আলি হোসেন বলেন, সকাল ৮টায় ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে একসঙ্গে নামাজ আদায় করেছি।

খুলনার পাইকগাছা উপজেলা থেকে আসা জিএম হাসান মাহবুব বলেন, আগে থেকেই জেনেছি, শাওয়াল মাসের চাঁদ উঠেছে। সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন করাকে আমরা যুক্তিসঙ্গত মনে করি। তাই এখানে সমবেত হয়েছি।

দেশের ৮ জেলায় আগাম ঈদ উদযাপন
সিটিজেন ডেস্ক

মাসব্যাপী সিয়াম সাধনার পর সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশে শুক্রবার (২০ মার্চ) পবিত্র ঈদুল ফিতর। সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে এবারও বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি এলাকার মানুষ আজ আগাম ঈদ উদযাপন করছে।
প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য অনুযায়ী– জামালপুর, কুড়িগ্রাম, দিনাজপুর, চাঁদপুর, বগুড়া, ঝিনাইদহ চট্টগ্রাম ও সাতক্ষীরা জেলার বেশ কয়েকটি উপজেলায় আগাম ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।
জামালপুরের ৩ উপজেলায় ঈদের জামাত
জামালপুরের তিন উপজেলায় ঈদুল ফিতরে জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলার সরিষাবাড়ী উপজেলার ১৪টি গ্রাম, ইসলামপুরের ৫টি গ্রাম এবং মাদারগঞ্জের ১টি গ্রামে এই উৎসব পালন করা হয়।
শুক্রবার (২০ মার্চ) সকাল সাড়ে ৮টায় সরিষাবাড়ী পৌরসভার বলারদিয়ার মধ্যপাড়া মাস্টারবাড়ি জামে মসজিদ মাঠে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন বলারদিয়া জামে মসজিদের খতিব আজিম উদ্দিন মাস্টার।
জামাতে অংশ নেওয়া মো. আপন আলী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে চাঁদ দেখা যাওয়ায় আমরা আজ ঈদের নামাজ আদায় করেছি।
মসজিদের খতিব আজিম উদ্দিন মাস্টার বলেন, বিগত ২০ বছর ধরে আমাদের এই মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে আলাদা জামাত হওয়ায় এখন মুসল্লি কিছুটা কমেছে।
কুড়িগ্রামের ৭ গ্রামে ঈদের নামাজ আদায়
কুড়িগ্রামের পাঁচ উপজেলার ৭ গ্রামে ঈদুল ফিতরের আগাম নামাজ আদায় করেছেন সহস্রাধিক মুসল্লি। শুক্রবার (২০ মার্চ) সকাল ৯টায় ফুলবাড়ী উপজেলার সদর ইউনিয়নের কুটির চন্দ্রখানা জেলে পাড়া আহলে হাদিস জামে মসজিদের উঠানে অনুষ্ঠিত হয় ঈদের জামাত।
মসজিদের ইমাম আমিনুল ইসলাম বলেন, আমরা ফুলবাড়ীতে ইমাম আবু হানিফার (রহ.) মতাদর্শ অনুযায়ী সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে আজ ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেছি।

ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পাইকডাঙা, চিলমারী উপজেলার ডাটিয়ারচর এবং রৌমারী উপজেলার গয়টাপাড়া ও চর রাজিবপুর উপজেলার করাতি পাড়ায় ঈদুর ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।
পাইকের ছড়া গ্রামের কিশোর আবু বকর উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে জানায়, সবার সঙ্গে ঈদের নামাজ আদায় করে খুব ভালো লাগছে।
চিলমারী উপজেলার অষ্টমির চর ইউনিয়নের ডাটিয়ার চর এলাকার জানে আলম বলেন, আমরা প্রতি বছর ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার নামাজ সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে পালন করছি।
দিনাজপুরও ২০ গ্রামে ঈদ
দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার দুইটি ইউনিয়নের ২০ গ্রামের মুসল্লিরা আগাম ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেছেন। শুক্রবার (২০ মার্চ) সকালে অনুষ্ঠিত এই জামাতে পুরুষদের পাশাপাশি নারী মুসল্লিরাও অংশ নেন।
সকাল সাড়ে ৮টায় জোতবানি ইউনিয়নের খয়েরবাড়ি-মির্জাপুর এলাকায় মেহেদী হাসান সুমনের বাড়ির আঙিনায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন দোলোয়ার হোসেন।
একই সময়ে বিনাইল ইউনিয়নের আয়ড়া মাদ্রাসা মাঠে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ইমামতি করেন আল আমিন।
খয়েরবাড়ি জামাতের ইমাম মো. দোলোয়ার হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, সৌদি আরবের সঙ্গে আমাদের সময়ের পার্থক্য মাত্র ৩ ঘণ্টা। এই ব্যবধানে দিনের পরিবর্তন হয় না। তাই আমরা তাদের সঙ্গে মিল রেখে ঈদের নামাজ আদায় করেছি।
২০১৩ সাল থেকে নিয়মিতভাবে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে নামাজ আদায় করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
চাঁদপুরে অর্ধশতাধিক গ্রামে ঈদ
প্রতি বছরের মতো এবারও সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে চাঁদপুরের অর্ধশতাধিক গ্রামে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হচ্ছে। শুক্রবার (২০ মার্চ) সকালে জেলার বিভিন্ন স্থানে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। জামাতে বিপুলসংখ্যক মুসল্লি অংশ নেন।
এর মধ্যে চাঁদপুর সদর উপজেলার সাদ্রা দরবার শরীফ মাঠে সকাল ৯টায় ঈদুল ফিতরের প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হয়। জামাতে ইমামতি করেন দরবার শরীফের পীরজাদা আল্লামা জাকারিয়া চৌধুরী আল মাদানী।
একই দিন সকাল সাড়ে ৯টায় সাদ্রা হামিদিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসা মাঠে আরেকটি ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন দরবার শরীফের পীরজাদা আরিফ চৌধুরী।
চাঁদপুরের যেসব গ্রামে আগাম ঈদ উদযাপন করা হচ্ছে, সেগুলো হলো- হাজীগঞ্জ উপজেলার সাদ্রা, সমেশপুর, অলিপুর, বলাখাল, মনিহার, প্রতাপুর, বাসারা; ফরিদগঞ্জ উপজেলার লক্ষ্মীপুর, কামতা, গল্লাক, ভুলাচোঁ, সোনাচোঁ, উভারামপুর, উটতলি, মুন্সিরহাট, কাইতাড়া, মূলপাড়া, বদরপুর, আইটপাড়া, সুরঙ্গচাইল, বালিথুবা, পাইকপাড়া, নূরপুর, সাচনমেঘ, শোল্লা, হাঁসা, গোবিন্দপুর, মতলব উপজেলার দশানী, মোহনপুর, পাঁচানী এবং কচুয়া।
হাজীগঞ্জের সাদ্রা দরবার শরীফের পীর মুফতি জাকারিয়া চৌধুরী আল মাদানি বলেন, ১৯২৮ সাল থেকে আমরা দরবার শরীফের প্রতিষ্ঠাতা পীর মাওলানা ইসহাক (র.) এর নিয়ম অনুযায়ী, প্রথম চাঁদ দেখার ভিত্তিতে রোজা ও ঈদ পালন করে আসছি।
বগুড়ায় ৩ উপজেলায় ঈদ উদযাপন
জেলার গাবতলী, ধুনট ও সোনাতলা উপজেলার পৃথক তিনটি স্থানে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। জামাতে নারী ও শিশুসহ অন্তত দেড় শতাধিক মুসল্লি অংশ নেন।
শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টায় গাবতলী রেল স্টেশন সংলগ্ন রেলওয়ে জামে মসজিদে ঈদের আগাম জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন লালমনিরহাটের পাটগ্রাম আজোয়ারপাড়া জামে মসজিদের খতিব মাওলানা লাইলাতুল কদর।
এর আগে ধুনট উপজেলার হাশুখালী গ্রামে এবং সোনাতলার কালাইহাটা গ্রামে সকাল সাড়ে ৭টায় ঈদের নামাজ আদায় করেন স্থানীয় কয়েক বাড়ির মুসল্লিরা।
আগাম ঈদ উদ্যাপন প্রসঙ্গে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম আজোয়ারপাড়া জামে মসজিদের খতিব মাওলানা লাইলাতুল কদর জানান, পৃথিবীর কোথাও চাঁদ দেখা গেলে রোজা রাখা এবং ঈদ করা নিয়ম। তাই তারা অনেক আগে থেকেই বিশ্বের অন্য দেশের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ পালন করে আসছেন।
সৌদির সঙ্গে মিল রেখে ঝিনাইদহে ঈদ উদযাপন
সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলায় ঈদুল ফিতরের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলা শহরের ফুটবল মাঠ এলাকায় অনুষ্ঠিত ঈদের নামাজে ইমামতি করেন মাওলানা হাবিবুল্লাহ। এতে উপজেলার দখলপুর, নারায়নকান্দি, বৈঠাপাড়া, বোয়ালিয়া, চটকাবাড়ীয়া, পারফলসী, পায়রাডাঙ্গা, শৈলকুপার আসাননগর এলাকা থেকে আগত শতাধিক মুসল্লি অংশ নেন।
মুসল্লিরা জানান, সৌদি আরবের সঙ্গে মিলে রেখে তারা ২০০৫ সাল থেকে ঈদ জামাতের আয়োজন করে আসছেন।
চট্টগ্রামের অর্ধশতাধিক গ্রামে ঈদের জামাত
দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, বাঁশখালী, চন্দনাইশ, বোয়ালখালী, আনোয়ারা ও পটিয়াসহ বিভিন্ন উপজেলার অন্তত ৫০টির বেশি গ্রামে লক্ষাধিক মানুষ আজ ঈদ উদযাপন করছেন।
পটিয়ার মির্জাখীল দরবার শরীফের মুহাম্মদ জালালুল হাই বলেন, আমরা হানাফি মাজহাবের অনুসারী। আরব বিশ্বের চাঁদ দেখার তথ্য নিশ্চিত হয়ে বৈজ্ঞানিকভাবে চাঁদের অবস্থান বিবেচনায় আজ ঈদের নামাজ আদায় করেছি। এটি আমাদের দীর্ঘদিনের ধর্মীয় অনুশাসন।
জানা গেছে, প্রায় আড়াই শ বছর আগে সাতকানিয়া উপজেলার মির্জাখীল গ্রামের হযরত মাওলানা মোখলেছুর রহমান জাহাঙ্গীরী (রহ.) হানাফি মাজহাব অনুযায়ী পৃথিবীর যে কোনো স্থানে চাঁদ দেখা গেলে তা অনুসরণ করার ফতোয়া দেন। সেই ধারাবাহিকতায় দরবারের অনুসারীরা সৌদি আরবের চাঁদ দেখার ঘোষণাকে ভিত্তি করে রোজা, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা পালন করে আসছেন।
সাতক্ষীরার ২০ গ্রামে ঈদুল ফিতর উদযাপন
সাতক্ষীরার ২০ গ্রামে পবিত্র ঈদুল ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। কলারোয়া উপজেলার গোয়ালচত্বর গ্রামের বাসিন্দা আলি হোসেন বলেন, সকাল ৮টায় ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে একসঙ্গে নামাজ আদায় করেছি।

খুলনার পাইকগাছা উপজেলা থেকে আসা জিএম হাসান মাহবুব বলেন, আগে থেকেই জেনেছি, শাওয়াল মাসের চাঁদ উঠেছে। সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন করাকে আমরা যুক্তিসঙ্গত মনে করি। তাই এখানে সমবেত হয়েছি।




