শিরোনাম

কুমিল্লায় আটকের পর বিক্ষোভের মুখে বিএনপি নেতাকে ছেড়ে দিল পুলিশ

কুমিল্লা সংবাদদাতা
কুমিল্লায় আটকের পর বিক্ষোভের মুখে বিএনপি নেতাকে ছেড়ে দিল পুলিশ
কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানা থেকে বের হয়ে আসার পর বিএনপি নেতা রেজাউল কাইয়ুমকে (আকাশি শার্ট) জড়িয়ে ধরেন নেতাকর্মীরা। ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল কাইয়ুমকে অবশেষে নেতাকর্মীদের বিক্ষোভের মুখে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। রবিবার (৩ মে) দিবাগত রাত ১২টার পর থানা থেকে বের হয়ে আসেন তিনি।

রবিবার দুপুরে শাসনগাছা এলাকা থেকে রেজাউল কাইয়ুমকে আটক করে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। এই খবর ছড়িয়ে পড়াার সঙ্গে সঙ্গে বিক্ষোভ শুরু করে তার সমর্থক ও পরিবহন শ্রমিকেরা। তারা তার মুক্তির দাবিতে কোতোয়ালি থানা ঘেরাও করে রাখেন। একপর্যায়ে শাসনগাছা বাস টার্মিনাল থেকে সব ধরনের যানবাহন চলাল বন্ধ করে দেন শ্রমিক নেতারা। আকস্মিক ধর্মঘটের কারণে ঢাকা, সিলেট, চাঁদপুরসহ বিভিন্ন রুটের যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েন। তবে চার ঘণ্টা পর পুনরায় যানবাহন চলাচল শুরু হয়।

কুমিল্লা কোতয়ালি মডেল থানা থেকে বের হওয়ার পর বিএনপি নেতা রেজাউল কাইয়ুম বলেন, ‘'আমাকে নিয়ে বড় ধরনের ষড়যন্ত্র হয়েছিল। এসব অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। আমার জন্য দীর্ঘ সময ধরে নেতাকর্মীসহ এলাকাবাসী অনেক কষ্ট করেছেন।'

রেজাউল কাইয়ুমকে আটকের প্রতিবাদে বিএনপি ও এর অঙ্গ এবং সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা থানা ঘেরাও করেন। পরে এর সঙ্গে যুক্ত হয় পরিবহনশ্রমিকেরা। একই সময় শাসনগাছা বাস টার্মিনাল অবরোধ করেন পরিবহন শ্রমিকেরা। ফলে চার ঘণ্টা সব ধরনের বাস চলাচল বন্ধ থাকে। রাত ১২টা পর্যন্ত নেতা-কর্মীরা থানার সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন।

আদর্শ সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম রাত সাড়ে ১২টার দিকে একটি গণমাধ্যমকে বলেন, তাদের সভাপতিকে রাজনৈতিকভাবে হয়নানি ও সম্মানহানির উদ্দেশ্যে একটি মহল গুজব ছড়িয়ে দীর্ঘ সময ধরে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের নামে হেনস্তা করেছে। প্রায় ১২ ঘণ্টা পর তিনি থানা থেকে বের হয়ে আসেন। এ ঘটনায় সত্যের জয় হয়েছে।

রেজাউল কাইয়ুমকে ছেড়ে দেওয়ার ব্যাপারে রবিবার দিবাগত রাতে চেষ্টা করেও পুলিশের কোনো কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। এর আগে অবশ্য কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার বলেছিলেন, রেজাউল কাইয়ুমকে থানায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

এদিকে ঘটনার পেছনে শাসনগাছা বাস টার্মিনালের ইজারা সংক্রান্ত বিরোধ এবং রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের বিষয়টি সামনে এসেছে। একটি সূত্র জানায়, টার্মিনালের ইজারা নিয়ে কুমিল্লার একটি আসনের সংসদ সদস্যের সঙ্গে রেজাউল কাইয়ুমের বিরোধ তৈরি হয়।

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের একটি সূত্র দাবি করেছে, বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে শাসনগাছা বাস টার্মিনালে যানবাহন থেকে চাঁদা আদায় নিয়ে রেজাউল কাইয়ুম ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল। একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে বিষয়টি সরকারের উচ্চপর্যায়ে জানানো হয়। এই প্রেক্ষাপটে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তাকে আটক করা হয়েছিল বলে পুলিশের ওই সূত্র দাবি করেছে।

/বিবি/