শিরোনাম

বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের সামনে অসহায় আর্জেন্টিনা

সিজেডএন স্পোর্টস ডেস্ক
সিজেডএন স্পোর্টস ডেস্ক
বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের সামনে অসহায় আর্জেন্টিনা
লামিনে ইয়ামালের নেওয়া শট সেভ করেন এমিলিয়ানো মার্তিনেজ

নিউইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফুটবলপ্রেমীদের চরম রোমাঞ্চ উপহার দিয়ে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপ শিরোপা উঁচিয়ে ধরেছে স্পেন। অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো শ্বাসরুদ্ধকর ফাইনালে বদলি ফুটবলার ফেরান তোরেসের জয়সূচক গোলে নতুন ইতিহাস গড়ল লা রোজারা। ২০১০ সালের পর এটি স্প্যানিশদের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়।

ম্যাচের শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ ও আক্রমণে স্পষ্ট প্রাধান্য দেখায় স্পেন। পঞ্চম মিনিটেই লামিনে ইয়ামালের জোরালো শট লিসান্দ্রো মার্তিনেজ ও গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ যৌথভাবে প্রতিহত না করলে এগিয়ে যেতে পারত স্প্যানিশরা। বিপরীতে, স্পেনের ক্ষুরধার প্রেসিংয়ের সামনে আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগ ছিল কার্যত দিশেহারা। লিওনেল মেসি, নিকো গঞ্জালেজ ও হুলিয়ান আলভারেজকে প্রথম ২৩ মিনিটে বলের স্পর্শই পেতে দেননি স্প্যানিশ ডিফেন্ডাররা।

সপ্তম মিনিটে মেসি একবার গোলের সুযোগ পেলেও স্প্যানিশ গোলরক্ষক উনাই সিমন দুর্দান্ত সুইপ করে তা ব্যর্থ করে দেন। মিডফিল্ডে রদ্রির কার্যকর নেতৃত্ব এবং পুরো দলের গোছানো ফুটবলের সামনে প্রথমার্ধে মাত্র ৩৫ শতাংশ বলের দখল রাখতে পারে আর্জেন্টিনা। এ সময় স্পেনের গোলমুখে একটি শটও নিতে পারেনি তারা। উপরন্তু, বিরতির ঠিক আগে চোট পেয়ে লিসান্দ্রো মার্তিনেজ মাঠ ছাড়লে আর্জেন্টিনার রক্ষণ আরও চাপে পড়ে।

বিরতির পর লিওনেল স্কালোনি লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে নামিয়ে মাঝমাঠে গতি ফেরানোর চেষ্টা করলেও ম্যাচের লাগাম স্পেনের হাতেই থাকে। একের পর এক আক্রমণ সামলাতে হিমশিম খায় আর্জেন্টাইন রক্ষণভাগ। ম্যাচের ৭০ মিনিট পেরিয়ে গেলেও আর্জেন্টিনার কোনো শট স্পেনের গোলমুখে পৌঁছায়নি। এটি বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে বিরল এক পরিসংখ্যান। নির্ধারিত সময়ের শেষ দিকে গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ দেয়াল হয়ে না দাঁড়ালে ম্যাচটি আগেই শেষ হয়ে যেত। পাশাপাশি ইনজুরি সময়ে লামিনে ইয়ামালের বিপজ্জনক ফ্রি-কিকও চমৎকার দক্ষতায় রুখে দেন এ আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক।

নির্ধারিত ৯০ মিনিট গোলশূন্য থাকায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে, যেখানে জমে ওঠে নাটকের আসল পর্ব। অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধে নিকো উইলিয়ামসের একটি গোল ভিএআর পর্যালোচনার পর ফাউলের কারণে বাতিল ঘোষণা করেন রেফারি। তবে স্প্যানিশদের জয়ের অপেক্ষা বেশি দীর্ঘ হয়নি। ১০৬ মিনিটে পেদ্রো পোরো ও নিকো উইলিয়ামসের চমৎকার বোঝাপড়ার পর বল পান বদলি হিসেবে নামা ফেরান তোরেস। ঠাণ্ডা মাথায় লক্ষ্যভেদ করে দলকে এগিয়ে নেন এ স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড।

এর মাধ্যমে ২০১৪ সালের ফাইনালে জার্মানির মারিও গোটসের পর দ্বিতীয় বদলি খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপ ফাইনালে গোল করার বিরল নজির গড়লেন তোরেস। বাকি সময়ে আর্জেন্টিনা সমতায় ফেরার আপ্রাণ চেষ্টা করলেও স্পেনের জমাট রক্ষণ ভাঙতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত ১-০ গোলের স্মরণীয় জয় নিয়ে বিশ্ব ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট পুনরুদ্ধার করে স্পেন।

/এমএকে/