শিরোনাম

ভারতে পুলিশি পাহারায় ভেঙে ফেলা হলো ১৫০ বছরের পুরোনো মসজিদ

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
ভারতে পুলিশি পাহারায় ভেঙে ফেলা হলো ১৫০ বছরের পুরোনো মসজিদ
১৫০ বছরের পুরোনো মসজিদটি ভেঙে ফেলা হয়েছে

ভারতের উত্তর প্রদেশের শাহারানপুর কালেক্টরেট চত্বরে থাকা প্রায় ১৫০ বছরের পুরোনো একটি মসজিদ শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে ভারী পুলিশ পাহারায় ভেঙে ফেলা হয়েছে। জেলা জজের আদালত মসজিদ পরিচালনা কমিটির করা আপিল খারিজ করার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই, সকাল পাঁচটার দিকে এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। আদালতের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করার আইনি সুযোগ থাকলেও প্রশাসন তড়িঘড়ি করে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেছে।

সংসদ সদস্যকে গৃহবন্দী করে ভাঙা হয় মসজিদটি

ভাঙার কাজ শুরুর আগেই কাইরানার সমাজবাদী পার্টির সাংসদ ইকরা হাসানকে তার নিজ বাড়িতে গৃহবন্দী করে পুলিশ। তিনি যেন শাহারানপুরে গিয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলতে না পারেন, সে জন্যই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এ নিয়ে ইকরা হাসান বলেন, শাহারানপুর যাওয়া ঠেকাতে রাতভর আমার কাইরানার বাসভবনে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং আমাকে গৃহবন্দী করে রাখা হয়। তিনি আরও বলেন, কালেক্টরেট মসজিদ ইস্যু নিয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করতে এবং আমার নির্বাচনি এলাকার মানুষের উদ্বেগ জানাতে আমি শাহারানপুর যেতে চেয়েছিলাম, কিন্তু আমাকে বাড়ি থেকে বের হতেও দেওয়া হয়নি। তার ব্যক্তিগত সহকারীও বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গত রাত থেকে তাকে গৃহবন্দী করে রাখা হয়েছে, তার চলাফেরা সীমিত করা হয়েছে এবং কাইরানার বাড়ির বাইরে পুলিশও মোতায়েন করা হয়েছে।

দেড়শ বছরের ইতিহাস ও আইনি বিরোধ

কালেক্টরেট চত্বরের ৩১৫ বর্গমিটার জমিতে গড়ে ওঠা মসজিদটি প্রায় দেড় শতাব্দীর পুরোনো বলে জানান মুতাওয়াল্লি তানভীর আহমেদ। তবে বজরং দলের এক নেতার অভিযোগের ভিত্তিতে গত বছর মামলা হলে চলতি বছরের জুলাইয়ে নগর ম্যাজিস্ট্রেট মসজিদটিকে অননুমোদিত ঘোষণা করেন। পাশাপাশি উচ্ছেদের নির্দেশ দিয়ে তথাকথিত দখলদারদের ওপর প্রায় ৬.৪১ কোটি টাকা জরিমানাও ধার্য করা হয়। পরিচালনা কমিটি এ আদেশের বিরুদ্ধে আদালতে গেলেও ৪ সেপ্টেম্বর জেলা জজের আদালত আপিলটি খারিজ করে দেয়, যার পরপরই চলে উচ্ছেদ অভিযান।

উচ্চ আদালতে আপিলের আগেই উচ্ছেদ অভিযান

উচ্ছেদ অভিযানের সময়ের তাড়াহুড়ো ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়ে রাজ্যজুড়ে বিরোধী নেতারা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বহুজন সমাজ পার্টির প্রধান মায়াবতী সরকারের সমালোচনা করে বলেন, যেকোনো পরিস্থিতিতে, একটি সাংবিধানিক ধর্মনিরপেক্ষ সরকারের দায়িত্ব হলো সকল ধর্মের অনুসারী, তাদের ধর্মীয় স্থান ইত্যাদিকে সমানভাবে সম্মান ও মর্যাদা দেওয়া এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

হায়দরাবাদের সাংসদ ও এআইএমআইএম প্রধান আসাদুদ্দিন ওয়াইসি বলেন, ধর্মীয় স্বাধীনতার সাংবিধানিক নিশ্চয়তা কি মুসলিমদের জন্য প্রযোজ্য নয়? কেন তুচ্ছ কারণে আমাদের উপাসনালয়গুলো ক্রমাগত বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে? তিনি জানান, সেখানে ১৯১১ সাল থেকে নামাজ আদায়ের তথ্য রয়েছে। ওয়াইসি আরও বলেন, কিছু মানুষের জন্য হয়তো মসজিদ দেখামাত্রই কষ্ট হয়। সেটা তাদের সমস্যা, আমাদের নয়। প্রয়োজনে মুখ ফিরিয়ে নিন। আপনি আমাদের মসজিদ বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিতে পারেন না। আমার ধর্মীয় স্বাধীনতা আপনার দয়ার ওপর নির্ভরশীল নয়।

নাগিনার সাংসদ চন্দ্র শেখর আজাদও প্রশাসনের এ তাড়াহুড়ো নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, এখন যেহেতু মসজিদটি ভেঙে ফেলা হয়েছে, প্রশ্ন হলো- হাইকোর্টে আইনি লড়াইয়ের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও প্রশাসন কেন এত তাড়াহুড়ো করে কাজ করল? তার মতে, এ পদক্ষেপটি বিজেপি সরকারের সাম্প্রদায়িক রাজনীতি ও সমর্থকদের তোষণের আরও একটি উদাহরণ এবং এই অবিচার স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

/এমএকে/