নতুন আরেকটি কার্ড আনছে সরকার, মিলবে যেসব সেবা

নতুন আরেকটি কার্ড আনছে সরকার, মিলবে যেসব সেবা
নিজস্ব প্রতিবেদক

জন্মের পরই একটি পরিচয়পত্র, সেটিই থাকবে আজীবন। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তা, কৃষিসহ সরকারি সব ধরনের সেবা মিলবে এই একটি কার্ডে। এমন ‘ইউনিফায়েড ডিজিটাল আইডেনটিটি’ বা ‘এক-আইডি’ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। তবে এই একক পরিচয়পত্র তৈরিতে সরকারের ব্যয় হবে ৯ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১ হাজার ৫৩০ কোটি টাকাই আসবে বিশ্বব্যাংকের ঋণ থেকে।
এই উদোগ বাস্তবায়নে একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগ। এই প্রকল্পের নাম ‘ডিজিটাল সার্ভিস ট্রান্সফরমেশন ফর অ্যাকসেস অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স (ডি-স্টার)’। এর মেয়াদ ২০২৬ থেকে ২০৩১ সাল পর্যন্ত। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল। অনুমোদনের জন্য এটি এখন পরিকল্পনা কমিশনে রয়েছে।
তথ্য সংগ্রহেই বড় ব্যয়
প্রকল্পের প্রাথমিক প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রায় ১৮ কোটি নাগরিককে এই পরিচয়ের আওতায় আনার পরিকল্পনা থাকলেও কার্ড তৈরি ও মুদ্রণ করা হবে ২০ কোটি। প্রতিটি ‘পলিকার্বোনেট চিপ’ কার্ড উৎপাদন ও মুদ্রণে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রার সঙ্গে বর্তমান বিনিময় হারে প্রায় ২৪৬ টাকা। এর সঙ্গে কার্ড বিতরণ ও সরবরাহে আরও ১ ডলার বা প্রায় ১২৩ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। অর্থাৎ একটি কার্ড নাগরিকের হাতে পৌঁছানো পর্যন্ত ব্যয় হবে প্রায় ৩৬৯ টাকা। ফলে বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ, কার্ড উৎপাদন, মুদ্রণ ও বিতরণেই ব্যয় হবে ৭ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা, যা মোট প্রকল্প ব্যয়ের প্রায় ৮০ শতাংশ।
তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগ বলছে, ‘এক-আইডি’ চালু হলে ধীরে ধীরে এনআইডি, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ বিভিন্ন কার্ডের সেবা একই ব্যবস্থায় আনা হবে। তথ্য ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ ধারণাটিকে বলেছেন,‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান ডিজিটাল আইডি, ওয়ান ওয়ালেট’। অর্থাৎ একজন নাগরিকের একটি ডিজিটাল পরিচয় থাকবে এবং সেটির মাধ্যমে ডিজিটাল লেনদেনও করা যাবে।
উল্লেখ্য বিএনপি সরকার ফ্যামিলি কার্ড, স্বাস্থ্য কার্ড, প্রবাসী কার্ড ও কৃষক কার্ড দেওয়ার কথা বলেছে। এর মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড তৈরির জন্য তথ্য সংগ্রহসহ ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৯০৬ কোটি টাকা। কৃষক কার্ডে ব্যয় হবে ৬৮১ কোটি টাকা। স্বাস্থ্য ও প্রবাসী কার্ডের ব্যয় এখনো নির্ধারিত হয়নি।
ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব পাবে
একটি কার্ডে একজন নাগরিকের পরিচয়, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সামাজিক সুরক্ষা কিংবা আর্থিক লেনদেনের তথ্য যুক্ত হলে এসব সুবিধার পাশাপাশি ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে। এ বিষয়ে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগ বলছে, বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়েই একক পরিচয় ব্যবস্থার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র, সিঙ্গাপুর, এস্তোনিয়া ও ভারতের মতো দেশের অভিজ্ঞতা প্রকল্প প্রস্তাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
তবে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে শুধু কার্ড তৈরি করাই যথেষ্ট নয়। জন্মনিবন্ধন, এনআইডি, পাসপোর্ট, টিআইএন, ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ বিদ্যমান তথ্যভান্ডারগুলোর মধ্যে নির্ভুল তথ্য বিনিময়, একই ব্যক্তির একাধিক পরিচয় শনাক্ত করা এবং ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই হবে প্রকল্পটির বড় চ্যালেঞ্জ।
এ বিষয়ে তথ্য ও প্রযুক্তি বিভাগের সচিব মামুনুর রশীদ ভূঞা বলেন, বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের কার্ড থাকলেও সমন্বয়হীনতা রয়েছে। কারও একাধিক জন্মনিবন্ধন বা পাসপোর্ট থাকার ঘটনাও রয়েছে। নতুন পরিচয়পত্র হবে একক ও স্থায়ী।
বিদ্যমান ব্যবস্থা নিয়ে ভাবার পরামর্শ
নতুন করে ৯ হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যয়ের এই প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। দেশে ইতিমধ্যে জন্মনিবন্ধন, এনআইডি, পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও টিআইএনসহ বিভিন্ন পরিচয়ব্যবস্থা চালু আছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব তথ্যভান্ডারের মধ্যে কার্যকর আন্তসংযোগ তৈরি করা গেলে নাগরিকের একই তথ্য বারবার নেওয়ার প্রয়োজন কমানো সম্ভব।
এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক বি এম মইনুল হোসেন বলেন, জাতীয় পরিচয়পত্রকেই একক পরিচয় হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। ১৮ বছরের কম বয়সীদেরও এর আওতায় আনা সম্ভব। নতুন প্রকল্প নেওয়ার আগে আর্থিক ও বিদ্যমাণ ব্যবস্থার বিষয়গুলো নিয়ে ভাবার প্রয়োজন আছে।

জন্মের পরই একটি পরিচয়পত্র, সেটিই থাকবে আজীবন। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তা, কৃষিসহ সরকারি সব ধরনের সেবা মিলবে এই একটি কার্ডে। এমন ‘ইউনিফায়েড ডিজিটাল আইডেনটিটি’ বা ‘এক-আইডি’ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। তবে এই একক পরিচয়পত্র তৈরিতে সরকারের ব্যয় হবে ৯ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১ হাজার ৫৩০ কোটি টাকাই আসবে বিশ্বব্যাংকের ঋণ থেকে।
এই উদোগ বাস্তবায়নে একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগ। এই প্রকল্পের নাম ‘ডিজিটাল সার্ভিস ট্রান্সফরমেশন ফর অ্যাকসেস অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স (ডি-স্টার)’। এর মেয়াদ ২০২৬ থেকে ২০৩১ সাল পর্যন্ত। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল। অনুমোদনের জন্য এটি এখন পরিকল্পনা কমিশনে রয়েছে।
তথ্য সংগ্রহেই বড় ব্যয়
প্রকল্পের প্রাথমিক প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রায় ১৮ কোটি নাগরিককে এই পরিচয়ের আওতায় আনার পরিকল্পনা থাকলেও কার্ড তৈরি ও মুদ্রণ করা হবে ২০ কোটি। প্রতিটি ‘পলিকার্বোনেট চিপ’ কার্ড উৎপাদন ও মুদ্রণে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রার সঙ্গে বর্তমান বিনিময় হারে প্রায় ২৪৬ টাকা। এর সঙ্গে কার্ড বিতরণ ও সরবরাহে আরও ১ ডলার বা প্রায় ১২৩ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। অর্থাৎ একটি কার্ড নাগরিকের হাতে পৌঁছানো পর্যন্ত ব্যয় হবে প্রায় ৩৬৯ টাকা। ফলে বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ, কার্ড উৎপাদন, মুদ্রণ ও বিতরণেই ব্যয় হবে ৭ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা, যা মোট প্রকল্প ব্যয়ের প্রায় ৮০ শতাংশ।
তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগ বলছে, ‘এক-আইডি’ চালু হলে ধীরে ধীরে এনআইডি, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ বিভিন্ন কার্ডের সেবা একই ব্যবস্থায় আনা হবে। তথ্য ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ ধারণাটিকে বলেছেন,‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান ডিজিটাল আইডি, ওয়ান ওয়ালেট’। অর্থাৎ একজন নাগরিকের একটি ডিজিটাল পরিচয় থাকবে এবং সেটির মাধ্যমে ডিজিটাল লেনদেনও করা যাবে।
উল্লেখ্য বিএনপি সরকার ফ্যামিলি কার্ড, স্বাস্থ্য কার্ড, প্রবাসী কার্ড ও কৃষক কার্ড দেওয়ার কথা বলেছে। এর মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড তৈরির জন্য তথ্য সংগ্রহসহ ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৯০৬ কোটি টাকা। কৃষক কার্ডে ব্যয় হবে ৬৮১ কোটি টাকা। স্বাস্থ্য ও প্রবাসী কার্ডের ব্যয় এখনো নির্ধারিত হয়নি।
ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব পাবে
একটি কার্ডে একজন নাগরিকের পরিচয়, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সামাজিক সুরক্ষা কিংবা আর্থিক লেনদেনের তথ্য যুক্ত হলে এসব সুবিধার পাশাপাশি ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে। এ বিষয়ে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগ বলছে, বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়েই একক পরিচয় ব্যবস্থার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র, সিঙ্গাপুর, এস্তোনিয়া ও ভারতের মতো দেশের অভিজ্ঞতা প্রকল্প প্রস্তাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
তবে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে শুধু কার্ড তৈরি করাই যথেষ্ট নয়। জন্মনিবন্ধন, এনআইডি, পাসপোর্ট, টিআইএন, ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ বিদ্যমান তথ্যভান্ডারগুলোর মধ্যে নির্ভুল তথ্য বিনিময়, একই ব্যক্তির একাধিক পরিচয় শনাক্ত করা এবং ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই হবে প্রকল্পটির বড় চ্যালেঞ্জ।
এ বিষয়ে তথ্য ও প্রযুক্তি বিভাগের সচিব মামুনুর রশীদ ভূঞা বলেন, বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের কার্ড থাকলেও সমন্বয়হীনতা রয়েছে। কারও একাধিক জন্মনিবন্ধন বা পাসপোর্ট থাকার ঘটনাও রয়েছে। নতুন পরিচয়পত্র হবে একক ও স্থায়ী।
বিদ্যমান ব্যবস্থা নিয়ে ভাবার পরামর্শ
নতুন করে ৯ হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যয়ের এই প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। দেশে ইতিমধ্যে জন্মনিবন্ধন, এনআইডি, পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও টিআইএনসহ বিভিন্ন পরিচয়ব্যবস্থা চালু আছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব তথ্যভান্ডারের মধ্যে কার্যকর আন্তসংযোগ তৈরি করা গেলে নাগরিকের একই তথ্য বারবার নেওয়ার প্রয়োজন কমানো সম্ভব।
এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক বি এম মইনুল হোসেন বলেন, জাতীয় পরিচয়পত্রকেই একক পরিচয় হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। ১৮ বছরের কম বয়সীদেরও এর আওতায় আনা সম্ভব। নতুন প্রকল্প নেওয়ার আগে আর্থিক ও বিদ্যমাণ ব্যবস্থার বিষয়গুলো নিয়ে ভাবার প্রয়োজন আছে।

নতুন আরেকটি কার্ড আনছে সরকার, মিলবে যেসব সেবা
নিজস্ব প্রতিবেদক

জন্মের পরই একটি পরিচয়পত্র, সেটিই থাকবে আজীবন। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তা, কৃষিসহ সরকারি সব ধরনের সেবা মিলবে এই একটি কার্ডে। এমন ‘ইউনিফায়েড ডিজিটাল আইডেনটিটি’ বা ‘এক-আইডি’ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। তবে এই একক পরিচয়পত্র তৈরিতে সরকারের ব্যয় হবে ৯ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১ হাজার ৫৩০ কোটি টাকাই আসবে বিশ্বব্যাংকের ঋণ থেকে।
এই উদোগ বাস্তবায়নে একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগ। এই প্রকল্পের নাম ‘ডিজিটাল সার্ভিস ট্রান্সফরমেশন ফর অ্যাকসেস অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স (ডি-স্টার)’। এর মেয়াদ ২০২৬ থেকে ২০৩১ সাল পর্যন্ত। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল। অনুমোদনের জন্য এটি এখন পরিকল্পনা কমিশনে রয়েছে।
তথ্য সংগ্রহেই বড় ব্যয়
প্রকল্পের প্রাথমিক প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রায় ১৮ কোটি নাগরিককে এই পরিচয়ের আওতায় আনার পরিকল্পনা থাকলেও কার্ড তৈরি ও মুদ্রণ করা হবে ২০ কোটি। প্রতিটি ‘পলিকার্বোনেট চিপ’ কার্ড উৎপাদন ও মুদ্রণে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রার সঙ্গে বর্তমান বিনিময় হারে প্রায় ২৪৬ টাকা। এর সঙ্গে কার্ড বিতরণ ও সরবরাহে আরও ১ ডলার বা প্রায় ১২৩ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। অর্থাৎ একটি কার্ড নাগরিকের হাতে পৌঁছানো পর্যন্ত ব্যয় হবে প্রায় ৩৬৯ টাকা। ফলে বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ, কার্ড উৎপাদন, মুদ্রণ ও বিতরণেই ব্যয় হবে ৭ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা, যা মোট প্রকল্প ব্যয়ের প্রায় ৮০ শতাংশ।
তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগ বলছে, ‘এক-আইডি’ চালু হলে ধীরে ধীরে এনআইডি, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ বিভিন্ন কার্ডের সেবা একই ব্যবস্থায় আনা হবে। তথ্য ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ ধারণাটিকে বলেছেন,‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান ডিজিটাল আইডি, ওয়ান ওয়ালেট’। অর্থাৎ একজন নাগরিকের একটি ডিজিটাল পরিচয় থাকবে এবং সেটির মাধ্যমে ডিজিটাল লেনদেনও করা যাবে।
উল্লেখ্য বিএনপি সরকার ফ্যামিলি কার্ড, স্বাস্থ্য কার্ড, প্রবাসী কার্ড ও কৃষক কার্ড দেওয়ার কথা বলেছে। এর মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড তৈরির জন্য তথ্য সংগ্রহসহ ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৯০৬ কোটি টাকা। কৃষক কার্ডে ব্যয় হবে ৬৮১ কোটি টাকা। স্বাস্থ্য ও প্রবাসী কার্ডের ব্যয় এখনো নির্ধারিত হয়নি।
ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব পাবে
একটি কার্ডে একজন নাগরিকের পরিচয়, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সামাজিক সুরক্ষা কিংবা আর্থিক লেনদেনের তথ্য যুক্ত হলে এসব সুবিধার পাশাপাশি ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে। এ বিষয়ে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগ বলছে, বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়েই একক পরিচয় ব্যবস্থার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র, সিঙ্গাপুর, এস্তোনিয়া ও ভারতের মতো দেশের অভিজ্ঞতা প্রকল্প প্রস্তাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
তবে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে শুধু কার্ড তৈরি করাই যথেষ্ট নয়। জন্মনিবন্ধন, এনআইডি, পাসপোর্ট, টিআইএন, ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ বিদ্যমান তথ্যভান্ডারগুলোর মধ্যে নির্ভুল তথ্য বিনিময়, একই ব্যক্তির একাধিক পরিচয় শনাক্ত করা এবং ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই হবে প্রকল্পটির বড় চ্যালেঞ্জ।
এ বিষয়ে তথ্য ও প্রযুক্তি বিভাগের সচিব মামুনুর রশীদ ভূঞা বলেন, বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের কার্ড থাকলেও সমন্বয়হীনতা রয়েছে। কারও একাধিক জন্মনিবন্ধন বা পাসপোর্ট থাকার ঘটনাও রয়েছে। নতুন পরিচয়পত্র হবে একক ও স্থায়ী।
বিদ্যমান ব্যবস্থা নিয়ে ভাবার পরামর্শ
নতুন করে ৯ হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যয়ের এই প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। দেশে ইতিমধ্যে জন্মনিবন্ধন, এনআইডি, পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও টিআইএনসহ বিভিন্ন পরিচয়ব্যবস্থা চালু আছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব তথ্যভান্ডারের মধ্যে কার্যকর আন্তসংযোগ তৈরি করা গেলে নাগরিকের একই তথ্য বারবার নেওয়ার প্রয়োজন কমানো সম্ভব।
এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক বি এম মইনুল হোসেন বলেন, জাতীয় পরিচয়পত্রকেই একক পরিচয় হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। ১৮ বছরের কম বয়সীদেরও এর আওতায় আনা সম্ভব। নতুন প্রকল্প নেওয়ার আগে আর্থিক ও বিদ্যমাণ ব্যবস্থার বিষয়গুলো নিয়ে ভাবার প্রয়োজন আছে।








