শিরোনাম

রাবির হলে মশারির ওপর বিষধর সাপ, অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলেন শিক্ষার্থী

রাবি সংবাদদাতা
রাবি সংবাদদাতা
রাবির হলে মশারির ওপর বিষধর সাপ, অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলেন শিক্ষার্থী
উদ্ধারকৃত কালাচ সাপ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) একটি আবাসিক হলে গভীর রাতে নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে ছিলেন শিক্ষার্থী রাব্বি রেজা। হঠাৎ হাঁটুতে কোনো কিছুর স্পর্শে তার ঘুম ভেঙে যায়। চোখ মেলতেই দেখেন মশারির ওপর পেঁচিয়ে আছে একটি সাপ– মুহূর্তেই ঘুমের ঘোর বদলে যায় আতঙ্কে। পরে জানা যায়, সাপটি ছিল মারাত্মক বিষধর ‘কালাচ সাপ’।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ শামসুজ্জোহা হলে এমনই এক ভীতিকর ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, সাপটি দেখতে পাওয়ার পর স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সোয়ানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। খবর পাওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই সংগঠনটির স্বেচ্ছাসেবকেরা শহীদ শামসুজ্জোহা হলের তৃতীয় ব্লকের ১২১ নম্বর কক্ষ থেকে সাপটিকে উদ্ধার করে।

এ বিষয়ে শিক্ষার্থী রাব্বি রেজা বলেন, ‘প্রতিদিনের মতো রাত ১২টার দিকে মশারি টাঙিয়ে ঘুমাতে যাই। রাত আনুমানিক ২টার দিকে হাঁটুতে কোনো কিছুর স্পর্শ পেয়ে ঘুম ভাঙে। চোখ খুলে দেখি মশারির ওপর একটি সাপ পেঁচিয়ে আছে। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্যপ্রাণী উদ্ধারকারী দল সেভ ওয়াইল্ডলাইফ অ্যান্ড ন্যাচার (সোয়ান) সদস্যদের খবর দিই। তারা এসে সাপটি উদ্ধার করেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিষয়টি হল প্রশাসনকে জানানো হয়। পরে প্রশাসনের কর্মকর্তারা কক্ষ পরিদর্শন করেন এবং হলের পেছনের আগাছা পরিষ্কার ও কক্ষের জানালায় নেট লাগানোর প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেন।’

উদ্ধারকারী সেভ ওয়াইল্ডলাইফ অ্যান্ড নেচারের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ শেখ জানান, কালাচ সাপ অনেক সময় খাবারের সন্ধানে কিংবা আশ্রয়ের জন্য মানুষের বসতঘরে এবং বিছানায় উঠে আসতে পারে। এ ধরনের সাপের উপস্থিতি এড়াতে ঘরবাড়ি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং রাতে মশারি বিছানার সঙ্গে ভালোভাবে গুঁজে ঘুমানোর পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

এদিকে, আবাসিক হলের কক্ষের মশারির ওপর এমন বিষধর সাপ পাওয়ার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ঘটনার পর শহীদ শামসুজ্জোহা হল প্রশাসন কক্ষটি পরিদর্শন করেছে। পাশাপাশি হলের পেছনের আগাছা পরিষ্কার এবং জানালায় নেট লাগানোর প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় সাপের বিষ নিয়ে গবেষণারত বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক আবু রেজা বলেন, সাধারণত কালাচ লোকালয়ে আসে না। আমার জানা মতে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এটি দ্বিতীয়বারের মতো পাওয়া গেল। তবে শিক্ষার্থীর মশারির ওপর এ ধরনের বিষধর সাপ পাওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

তিনি আরও বলেন, বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে পদ্মার চরের মতো উপযুক্ত প্রাকৃতিক পরিবেশে উদ্ধারকৃত সাপটি অবমুক্ত করা হলে তা বেশি নিরাপদ হবে।

/এফআর/