শিরোনাম

অনুশৈবালের কারণে সুপেয় পানির সংকটে ইসরায়েল

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
অনুশৈবালের কারণে সুপেয় পানির সংকটে ইসরায়েল
ইসরায়েলের ভূমধ্যসাগরীয় উপকূল বরাবর ক্ষুদ্র শৈবালের প্রাদুর্ভাব

ভূমধ্যসাগরে হঠাৎ মাইলের পর মাইল ছড়িয়ে পড়া অতিক্ষুদ্র শৈবাল বা মাইক্রোঅ্যালগির কারণে চরম পানি সংকটে পড়েছে ইসরায়েল। সমুদ্রের লোনা পানি শোধন করে সুপেয় জলে রূপান্তর করা দেশটির উপকূলীয় ছয়টি প্রধান কেন্দ্রের মধ্যে পাঁচটিরই কাজ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে কয়েকটি প্ল্যান্ট আংশিক চালু করা গেলেও সম্প্রতি একটি মাত্র কেন্দ্র পূর্ণ ক্ষমতায় ফিরতে পেরেছে। শুষ্ক জলবায়ুর দেশটিতে পানীয় জলের প্রায় ৬৫ শতাংশই আসে সমুদ্র শোধন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। ফলে পিক সিজনে এমন বিপর্যয় দেশকে চরম উদ্বেগে ফেলেছে।

ইসরায়েলের জাতীয় পানি সরবরাহ কোম্পানি ‘মেকোরোট’-এর মুখপাত্র লিওর গুটম্যান বলেন, ‘ইসরায়েলে এ ধরনের ঘটনা এর আগে কখনো ঘটেনি, এটি অত্যন্ত বিরল ঘটনা।’ তবে বিকল্প উপায়ে পানি সরবরাহ চালু রাখায় এখনো সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরে পানির তীব্র হাহাকার তৈরি হয়নি বলে জানান তিনি। বেন-গুরিওন বিশ্ববিদ্যালয়ের পানি গবেষণা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ইডো বার-জেভ জানান, অন্তত ১২ মাইল এলাকা জুড়ে ছড়ানো এ ক্ষতিকর শৈবালের উৎপত্তি হয়েছিল মিশরীয় নীল নদের বদ্বীপে। সাগরের তীব্র স্রোত তা উত্তর দিকে ভাসিয়ে ইসরায়েল উপকূলে টেনে আনে। ২০ বছর ধরে সামুদ্রিক পানি পর্যবেক্ষণ করে আসা এ গবেষক বলেন, ‘আমি আমার জীবনে প্রথমবার এত বিশাল মাত্রায় এমন কিছু দেখলাম।’

দেশটির শোধনাগারগুলো প্রধানত ‘রিভার্স অসমোসিস’ প্রযুক্তি ব্যবহার করে সাগরের লোনা পানি থেকে ক্ষতিকর লবণ ও জীবাণু ছেঁকে ফেলে। তবে পানিতে অতিমাত্রায় শৈবাল ও ক্ষতিকর উপাদান ভাসতে থাকলে ফিল্টারের সূক্ষ্ম ছাঁকনি বা মেমব্রেন অকেজো হয়ে পড়ে। ইউটা বিশ্ববিদ্যালয়ের মিডল ইস্ট সেন্টারের পরিচালক মাইকেল ক্রিস্টোফার লো জানান, এর আগেও ২০০৮ ও ২০০৯ সালে ওমান উপসাগরে বিষাক্ত ‘লাল জোয়ারের’ (রেড টাইড) কারণে একইভাবে বেশ কয়েকটি শোধনাগার বন্ধ রাখতে হয়েছিল।

গ্রীষ্মে পানির চাহিদা যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই এ ধাক্কা সামলাতে হচ্ছে দেশকে। পরিস্থিতি সামাল দিতে জরুরি ভিত্তিতে গ্যালিলি সাগর থেকে পাম্প করে পানি আনা হচ্ছে, সক্রিয় করা হয়েছে ভূগর্ভস্থ কূপগুলো। এমনকি জেরুজালেমের দামেস্ক গেটের মতো স্থানে বসাতে হয়েছে জরুরি পানির ট্যাংকার। পরিস্থিতি সাময়িকভাবে সামাল দিতে ব্যক্তিগত বাগান বা সুইমিং পুলে পানি ব্যবহারে কড়াকড়ি আরোপের পাশাপাশি কৃষিখাতে পানীয় জল ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

সমুদ্রের অস্বাভাবিক উষ্ণতা (প্রায় ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা ৮৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট) এবং সামুদ্রিক ঝড়ের মিশে যাওয়া পরিবেশই শৈবালের এ হঠাৎ বংশবৃদ্ধির কারণ বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। এর আগে ছোটখাটো ঘটনা ঘটলেও, পুরো উপকূল জুড়ে একসঙ্গে একাধিক কেন্দ্রে এমন অচলাবস্থা নজিরবিহীন। বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু সংকটের যুগে সমুদ্র শোধনের ওপর বৈশ্বিক নির্ভরতা বাড়লেও কোনো একটি প্রযুক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভর করার বিপদটি এখন খালি চোখে দেখা যাচ্ছে। পুরো বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মাইকেল ক্রিস্টোফার লো বলেন, ‘ঘটনাটি ব্যাপক আশঙ্কার সৃষ্টি করেছে এবং আমাদের পুরো পানি সরবরাহ ব্যবস্থার ভঙ্গুরতাকে প্রকাশ করে দিয়েছে।’

সূত্র:সিএনএন

/এমএকে/