নিখোঁজ পাইলট উদ্ধারে দুঃসাহসিক অভিযান মার্কিন বাহিনীর

নিখোঁজ পাইলট উদ্ধারে দুঃসাহসিক অভিযান মার্কিন বাহিনীর
সিটিজেন ডেস্ক

গত শুক্রবার (৩ এপ্রিল) দক্ষিণ ইরানের আকাশে ভূপাতিত হওয়া মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ ক্রুকে উদ্ধার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। রবিবার (৫ এপ্রিল) সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, মার্কিন সামরিক বাহিনী তাদের ইতিহাসের অন্যতম দুঃসাহসিক তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চালিয়ে নিখোঁজ ক্রুকে উদ্ধার করেছে। উদ্ধার হওয়া কর্মকর্তা এখন সম্পূর্ণ সুস্থ ও নিরাপদ আছেন। যুদ্ধবিমানটিতে মোট দুজন ক্রু ছিলেন এবং তারা দুজনেই ইজেক্ট করে বা বিমান থেকে ছিটকে বেরিয়ে যেতে সক্ষম হন। অপর ক্রুকে আগেই উদ্ধার করেছিল মার্কিন বাহিনী।
উদ্ধার অভিযানের সঠিক পরিস্থিতি এখনো অস্পষ্ট হলেও, সংশ্লিষ্ট এক সূত্র এটিকে দক্ষিণ ইরানে পরিচালিত একটি 'বিশাল' কমব্যাট সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ মিশন হিসেবে বর্ণনা করেছে। বিবিসির তথ্যমতে, উদ্ধার অভিযানের সময় মার্কিন ও ইরানি বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে এবং প্রাথমিক ইজেকশনের সময় পাইলট আহত হয়ে থাকতে পারেন। শত্রু ভূখণ্ডে ভূপাতিত বিমানের ক্রুদের উদ্ধার করা মার্কিন সামরিক বাহিনীর অন্যতম জটিল ও সময়সাপেক্ষ একটি অভিযান। এসব মিশনে নিচু দিয়ে ওড়া হেলিকপ্টারের পাশাপাশি হামলা ও টহলে অংশ নেওয়া অন্যান্য সামরিক বিমানও যুক্ত থাকে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার পোস্টে জানান, নিখোঁজ ক্রু ইরানের দুর্গম পাহাড়ে শত্রুদের কাছাকাছি ছিলেন এবং শত্রুরা প্রতি ঘণ্টায় তার খুব কাছে পৌঁছে যাচ্ছিল। তবে ঊর্ধ্বতন মার্কিন কর্মকর্তারা ২৪ ঘণ্টা তার অবস্থান পর্যবেক্ষণ করে উদ্ধার অভিযানের পরিকল্পনা করেন। ট্রাম্প দাবি করেন, অভিযানে কয়েক ডজন মার্কিন বিমান অংশ নেয় এবং কোনো মার্কিন সেনা হতাহত ছাড়াই এটি সম্পন্ন হয়েছে।
অন্যদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও আধা-সরকারি ফারস নিউজ এজেন্সির খবরে বলা হয়, নিখোঁজ বৈমানিককে খোঁজার সময় ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) একটি মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করেছে, যা ইসফাহান প্রদেশে আছড়ে পড়ে। এর আগে ইরান জানিয়েছিল তারা নিখোঁজ মার্কিন ক্রুকে জীবিত উদ্ধার করতে চায় এবং সন্ধানে সহায়তাকারী নাগরিকদের জন্য পুরস্কারও ঘোষণা করেছিল।
থিংক ট্যাংক ডিফেন্স প্রায়োরিটিজ-এর সামরিক বিশ্লেষক জেনিফার কাভানাঘ জানান, তাদেরকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, যদি তারা শারীরিকভাবে সক্ষম হয় এবং এমনভাবে আহত না হয় যে নড়াচড়া করতে পারবে না, তাহলে তারা যেন যত দ্রুত সম্ভব ইজেকশন সাইট থেকে সরে যাওয়ার চেষ্টা করে এবং নিজেদেরকে এমনভাবে লুকিয়ে ফেলে যাতে তারা নিরাপদ থাকে।
কাভানাঘ আরও বলেছেন, তাদেরকে টিকে থাকার কৌশল সম্পর্কেও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, যাতে তারা খাদ্য বা জল ছাড়া অথবা স্থানীয় ভূখণ্ড থেকে প্রয়োজনীয় উপাদান সংগ্রহ করে যথাসম্ভব দীর্ঘ সময় কাটাতে পারে।
এফ-১৫ বিমানটি ঠিক কোথায় ভূপাতিত হয়েছে তা নিশ্চিত হওয়া না গেলেও, ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে কোহগিলুয়েহ ও বোয়ার-আহমাদ এবং খুজেস্তান প্রদেশের নাম উঠে এসেছে। কোহগিলুয়েহ ও বোয়ার-আহমাদ একটি পাহাড়ি প্রদেশ, যেখানে যাযাবরসহ ৭ লাখেরও বেশি মানুষের বসবাস। বন্যপ্রাণী ও চুরির হাত থেকে বাঁচতে এখানকার যাযাবররা রাইফেল বহন করেন। অন্যদিকে খুজেস্তান প্রদেশটি তেলশিল্পের কেন্দ্র এবং এখানে আরব, পারসিয়ান, লোরসহ বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর ৪৭ লাখেরও বেশি মানুষ বসবাস করে।
এর আগে প্রথম পাইলটকে উদ্ধার অভিযানে একটি এ-১০ ওয়ার্থগ বিমান অংশ নিয়েছিল, যা উপসাগরের আকাশে আঘাতপ্রাপ্ত হলে এর পাইলট ইজেক্ট করে রক্ষা পান। মার্কিন গণমাধ্যম জানায়, প্রথম পাইলটকে উদ্ধারকারী একটি হেলিকপ্টার হামলার শিকার হয় এবং এর ক্রুরা আহত হলেও সেটি নিরাপদে অবতরণ করে।
আইআরজিসি দাবি করেছে, পার্বত্য অঞ্চলে বসবাসরত যাযাবর উপজাতিরা মার্কিন উদ্ধার অভিযানের দুটি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টারে গুলি চালিয়েছে। বিবিসি একটি ভিডিও যাচাই করে দেখেছে, যেখানে ৩ জন সশস্ত্র ব্যক্তিকে অন্তত দুটি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়তে দেখা যায়। ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ড দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ-কে জানিয়েছে, তাদের নতুন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুটি মার্কিন যুদ্ধবিমানই ভূপাতিত করেছে।
সূত্র: বিবিসি

গত শুক্রবার (৩ এপ্রিল) দক্ষিণ ইরানের আকাশে ভূপাতিত হওয়া মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ ক্রুকে উদ্ধার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। রবিবার (৫ এপ্রিল) সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, মার্কিন সামরিক বাহিনী তাদের ইতিহাসের অন্যতম দুঃসাহসিক তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চালিয়ে নিখোঁজ ক্রুকে উদ্ধার করেছে। উদ্ধার হওয়া কর্মকর্তা এখন সম্পূর্ণ সুস্থ ও নিরাপদ আছেন। যুদ্ধবিমানটিতে মোট দুজন ক্রু ছিলেন এবং তারা দুজনেই ইজেক্ট করে বা বিমান থেকে ছিটকে বেরিয়ে যেতে সক্ষম হন। অপর ক্রুকে আগেই উদ্ধার করেছিল মার্কিন বাহিনী।
উদ্ধার অভিযানের সঠিক পরিস্থিতি এখনো অস্পষ্ট হলেও, সংশ্লিষ্ট এক সূত্র এটিকে দক্ষিণ ইরানে পরিচালিত একটি 'বিশাল' কমব্যাট সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ মিশন হিসেবে বর্ণনা করেছে। বিবিসির তথ্যমতে, উদ্ধার অভিযানের সময় মার্কিন ও ইরানি বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে এবং প্রাথমিক ইজেকশনের সময় পাইলট আহত হয়ে থাকতে পারেন। শত্রু ভূখণ্ডে ভূপাতিত বিমানের ক্রুদের উদ্ধার করা মার্কিন সামরিক বাহিনীর অন্যতম জটিল ও সময়সাপেক্ষ একটি অভিযান। এসব মিশনে নিচু দিয়ে ওড়া হেলিকপ্টারের পাশাপাশি হামলা ও টহলে অংশ নেওয়া অন্যান্য সামরিক বিমানও যুক্ত থাকে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার পোস্টে জানান, নিখোঁজ ক্রু ইরানের দুর্গম পাহাড়ে শত্রুদের কাছাকাছি ছিলেন এবং শত্রুরা প্রতি ঘণ্টায় তার খুব কাছে পৌঁছে যাচ্ছিল। তবে ঊর্ধ্বতন মার্কিন কর্মকর্তারা ২৪ ঘণ্টা তার অবস্থান পর্যবেক্ষণ করে উদ্ধার অভিযানের পরিকল্পনা করেন। ট্রাম্প দাবি করেন, অভিযানে কয়েক ডজন মার্কিন বিমান অংশ নেয় এবং কোনো মার্কিন সেনা হতাহত ছাড়াই এটি সম্পন্ন হয়েছে।
অন্যদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও আধা-সরকারি ফারস নিউজ এজেন্সির খবরে বলা হয়, নিখোঁজ বৈমানিককে খোঁজার সময় ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) একটি মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করেছে, যা ইসফাহান প্রদেশে আছড়ে পড়ে। এর আগে ইরান জানিয়েছিল তারা নিখোঁজ মার্কিন ক্রুকে জীবিত উদ্ধার করতে চায় এবং সন্ধানে সহায়তাকারী নাগরিকদের জন্য পুরস্কারও ঘোষণা করেছিল।
থিংক ট্যাংক ডিফেন্স প্রায়োরিটিজ-এর সামরিক বিশ্লেষক জেনিফার কাভানাঘ জানান, তাদেরকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, যদি তারা শারীরিকভাবে সক্ষম হয় এবং এমনভাবে আহত না হয় যে নড়াচড়া করতে পারবে না, তাহলে তারা যেন যত দ্রুত সম্ভব ইজেকশন সাইট থেকে সরে যাওয়ার চেষ্টা করে এবং নিজেদেরকে এমনভাবে লুকিয়ে ফেলে যাতে তারা নিরাপদ থাকে।
কাভানাঘ আরও বলেছেন, তাদেরকে টিকে থাকার কৌশল সম্পর্কেও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, যাতে তারা খাদ্য বা জল ছাড়া অথবা স্থানীয় ভূখণ্ড থেকে প্রয়োজনীয় উপাদান সংগ্রহ করে যথাসম্ভব দীর্ঘ সময় কাটাতে পারে।
এফ-১৫ বিমানটি ঠিক কোথায় ভূপাতিত হয়েছে তা নিশ্চিত হওয়া না গেলেও, ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে কোহগিলুয়েহ ও বোয়ার-আহমাদ এবং খুজেস্তান প্রদেশের নাম উঠে এসেছে। কোহগিলুয়েহ ও বোয়ার-আহমাদ একটি পাহাড়ি প্রদেশ, যেখানে যাযাবরসহ ৭ লাখেরও বেশি মানুষের বসবাস। বন্যপ্রাণী ও চুরির হাত থেকে বাঁচতে এখানকার যাযাবররা রাইফেল বহন করেন। অন্যদিকে খুজেস্তান প্রদেশটি তেলশিল্পের কেন্দ্র এবং এখানে আরব, পারসিয়ান, লোরসহ বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর ৪৭ লাখেরও বেশি মানুষ বসবাস করে।
এর আগে প্রথম পাইলটকে উদ্ধার অভিযানে একটি এ-১০ ওয়ার্থগ বিমান অংশ নিয়েছিল, যা উপসাগরের আকাশে আঘাতপ্রাপ্ত হলে এর পাইলট ইজেক্ট করে রক্ষা পান। মার্কিন গণমাধ্যম জানায়, প্রথম পাইলটকে উদ্ধারকারী একটি হেলিকপ্টার হামলার শিকার হয় এবং এর ক্রুরা আহত হলেও সেটি নিরাপদে অবতরণ করে।
আইআরজিসি দাবি করেছে, পার্বত্য অঞ্চলে বসবাসরত যাযাবর উপজাতিরা মার্কিন উদ্ধার অভিযানের দুটি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টারে গুলি চালিয়েছে। বিবিসি একটি ভিডিও যাচাই করে দেখেছে, যেখানে ৩ জন সশস্ত্র ব্যক্তিকে অন্তত দুটি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়তে দেখা যায়। ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ড দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ-কে জানিয়েছে, তাদের নতুন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুটি মার্কিন যুদ্ধবিমানই ভূপাতিত করেছে।
সূত্র: বিবিসি

নিখোঁজ পাইলট উদ্ধারে দুঃসাহসিক অভিযান মার্কিন বাহিনীর
সিটিজেন ডেস্ক

গত শুক্রবার (৩ এপ্রিল) দক্ষিণ ইরানের আকাশে ভূপাতিত হওয়া মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ ক্রুকে উদ্ধার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। রবিবার (৫ এপ্রিল) সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, মার্কিন সামরিক বাহিনী তাদের ইতিহাসের অন্যতম দুঃসাহসিক তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চালিয়ে নিখোঁজ ক্রুকে উদ্ধার করেছে। উদ্ধার হওয়া কর্মকর্তা এখন সম্পূর্ণ সুস্থ ও নিরাপদ আছেন। যুদ্ধবিমানটিতে মোট দুজন ক্রু ছিলেন এবং তারা দুজনেই ইজেক্ট করে বা বিমান থেকে ছিটকে বেরিয়ে যেতে সক্ষম হন। অপর ক্রুকে আগেই উদ্ধার করেছিল মার্কিন বাহিনী।
উদ্ধার অভিযানের সঠিক পরিস্থিতি এখনো অস্পষ্ট হলেও, সংশ্লিষ্ট এক সূত্র এটিকে দক্ষিণ ইরানে পরিচালিত একটি 'বিশাল' কমব্যাট সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ মিশন হিসেবে বর্ণনা করেছে। বিবিসির তথ্যমতে, উদ্ধার অভিযানের সময় মার্কিন ও ইরানি বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে এবং প্রাথমিক ইজেকশনের সময় পাইলট আহত হয়ে থাকতে পারেন। শত্রু ভূখণ্ডে ভূপাতিত বিমানের ক্রুদের উদ্ধার করা মার্কিন সামরিক বাহিনীর অন্যতম জটিল ও সময়সাপেক্ষ একটি অভিযান। এসব মিশনে নিচু দিয়ে ওড়া হেলিকপ্টারের পাশাপাশি হামলা ও টহলে অংশ নেওয়া অন্যান্য সামরিক বিমানও যুক্ত থাকে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার পোস্টে জানান, নিখোঁজ ক্রু ইরানের দুর্গম পাহাড়ে শত্রুদের কাছাকাছি ছিলেন এবং শত্রুরা প্রতি ঘণ্টায় তার খুব কাছে পৌঁছে যাচ্ছিল। তবে ঊর্ধ্বতন মার্কিন কর্মকর্তারা ২৪ ঘণ্টা তার অবস্থান পর্যবেক্ষণ করে উদ্ধার অভিযানের পরিকল্পনা করেন। ট্রাম্প দাবি করেন, অভিযানে কয়েক ডজন মার্কিন বিমান অংশ নেয় এবং কোনো মার্কিন সেনা হতাহত ছাড়াই এটি সম্পন্ন হয়েছে।
অন্যদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও আধা-সরকারি ফারস নিউজ এজেন্সির খবরে বলা হয়, নিখোঁজ বৈমানিককে খোঁজার সময় ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) একটি মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করেছে, যা ইসফাহান প্রদেশে আছড়ে পড়ে। এর আগে ইরান জানিয়েছিল তারা নিখোঁজ মার্কিন ক্রুকে জীবিত উদ্ধার করতে চায় এবং সন্ধানে সহায়তাকারী নাগরিকদের জন্য পুরস্কারও ঘোষণা করেছিল।
থিংক ট্যাংক ডিফেন্স প্রায়োরিটিজ-এর সামরিক বিশ্লেষক জেনিফার কাভানাঘ জানান, তাদেরকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, যদি তারা শারীরিকভাবে সক্ষম হয় এবং এমনভাবে আহত না হয় যে নড়াচড়া করতে পারবে না, তাহলে তারা যেন যত দ্রুত সম্ভব ইজেকশন সাইট থেকে সরে যাওয়ার চেষ্টা করে এবং নিজেদেরকে এমনভাবে লুকিয়ে ফেলে যাতে তারা নিরাপদ থাকে।
কাভানাঘ আরও বলেছেন, তাদেরকে টিকে থাকার কৌশল সম্পর্কেও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, যাতে তারা খাদ্য বা জল ছাড়া অথবা স্থানীয় ভূখণ্ড থেকে প্রয়োজনীয় উপাদান সংগ্রহ করে যথাসম্ভব দীর্ঘ সময় কাটাতে পারে।
এফ-১৫ বিমানটি ঠিক কোথায় ভূপাতিত হয়েছে তা নিশ্চিত হওয়া না গেলেও, ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে কোহগিলুয়েহ ও বোয়ার-আহমাদ এবং খুজেস্তান প্রদেশের নাম উঠে এসেছে। কোহগিলুয়েহ ও বোয়ার-আহমাদ একটি পাহাড়ি প্রদেশ, যেখানে যাযাবরসহ ৭ লাখেরও বেশি মানুষের বসবাস। বন্যপ্রাণী ও চুরির হাত থেকে বাঁচতে এখানকার যাযাবররা রাইফেল বহন করেন। অন্যদিকে খুজেস্তান প্রদেশটি তেলশিল্পের কেন্দ্র এবং এখানে আরব, পারসিয়ান, লোরসহ বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর ৪৭ লাখেরও বেশি মানুষ বসবাস করে।
এর আগে প্রথম পাইলটকে উদ্ধার অভিযানে একটি এ-১০ ওয়ার্থগ বিমান অংশ নিয়েছিল, যা উপসাগরের আকাশে আঘাতপ্রাপ্ত হলে এর পাইলট ইজেক্ট করে রক্ষা পান। মার্কিন গণমাধ্যম জানায়, প্রথম পাইলটকে উদ্ধারকারী একটি হেলিকপ্টার হামলার শিকার হয় এবং এর ক্রুরা আহত হলেও সেটি নিরাপদে অবতরণ করে।
আইআরজিসি দাবি করেছে, পার্বত্য অঞ্চলে বসবাসরত যাযাবর উপজাতিরা মার্কিন উদ্ধার অভিযানের দুটি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টারে গুলি চালিয়েছে। বিবিসি একটি ভিডিও যাচাই করে দেখেছে, যেখানে ৩ জন সশস্ত্র ব্যক্তিকে অন্তত দুটি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়তে দেখা যায়। ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ড দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ-কে জানিয়েছে, তাদের নতুন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুটি মার্কিন যুদ্ধবিমানই ভূপাতিত করেছে।
সূত্র: বিবিসি




