কৃষি খাতের সংকট কাটাতে ৪ সুপারিশ বিশ্বব্যাংকের

কৃষি খাতের সংকট কাটাতে ৪ সুপারিশ বিশ্বব্যাংকের
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বাংলাদেশে কৃষি খাতের টেকসই প্রবৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান বাড়াতে সার ভর্তুকি আধুনিকীকরণসহ ৪ দফা সুনির্দিষ্ট সুপারিশ করেছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটি বলছে, ধানের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে গবাদিপশু, মৎস্য ও শাকসবজির মতো উচ্চমূল্যের খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো এবং ‘কৃষক কার্ড’ ও ‘ই-ভাউচার’ চালুর মাধ্যমে প্রান্তিক চাষীদের কাছে সরাসরি সুবিধা পৌঁছানোই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ। প্রচলিত ব্যয় কাঠামো বদলে এই ‘স্মার্ট’ সংস্কার করা গেলে একদিকে যেমন বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে, অন্যদিকে নিশ্চিত হবে প্রকৃত কৃষকের উন্নয়ন।
বিশ্বব্যাংকের সদ্য প্রকাশিত ‘রিপারপাসিং এগ্রিকালচারাল পাবলিক স্পেন্ডিং ফর কোয়ালিটি গ্রোথ অ্যান্ড জবস ইন বাংলাদেশেস এগ্রিফুড সিস্টেম’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এই সংস্কারের রূপরেখা দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনে বাংলাদেশের কৃষি ব্যবস্থার গুণগত পরিবর্তনের জন্য স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি কিছু পর্যায়ক্রমিক সংস্কারের কথা বলা হয়েছে।
‘কৃষক কার্ড’ ও ‘ই-ভাউচার’ ব্যবস্থার দ্রুত বাস্তবায়ন
ভর্তুকির সুবিধা যেন বড় আমলা বা বড় ভূমিমালিকদের বদলে প্রকৃত দরিদ্র ও জলবায়ু-ঝুঁকিতে থাকা প্রান্তিক কৃষকদের হাতে পৌঁছায়, সেজন্য ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহারের জোর সুপারিশ করা হয়েছে। ‘কৃষক কার্ড’ এবং ‘ই-ভাউচার’ চালু করলে সরাসরি লক্ষ্যভিত্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে সহায়তা পৌঁছানো সম্ভব হবে।
মাটি পরীক্ষা ও সুষম সারের ব্যবহার বৃদ্ধি
বর্তমানে দেশের মাত্র ৫ শতাংশ কৃষক সুষম মাত্রায় সার ব্যবহার করেন। বিশ্বব্যাংক দেশব্যাপী ব্যাপকভাবে মাটি পরীক্ষা এবং কৃষক পরামর্শ সেবা জোরদার করার তাগিদ দিয়েছে, যাতে কৃষকরা সারের ভারসাম্যহীন ব্যবহার কমিয়ে সঠিক পুষ্টি উপাদান ব্যবহার করতে পারেন। এতে উৎপাদনশীলতা নাটকীয়ভাবে বাড়বে।
সার ভর্তুকির আধুনিকায়ন ও বৈচিত্র্যকরণ
কৃষি মন্ত্রণালয়ের বাজেটের প্রায় ৮০ শতাংশ চলে যায় সার ভর্তুকিতে এবং এর সিংহভাগ সুবিধা পান বড় চাষীরা। এই ব্যবস্থার পরিবর্তন এনে বৈষম্য কমানোর সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া, মোট বরাদ্দের ৮০ শতাংশ ধানের পেছনে ব্যয় না করে গবাদিপশু, মৎস্য চাষ এবং কৃষি-প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের মতো উচ্চ সম্ভাবনাময় খাতগুলোয় বরাদ্দ বাড়ানোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
উচ্চ-রিটার্ন খাতে সাশ্রয়ী অর্থের পুনর্বিনিয়োগ
ভর্তুকি ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সরকারের যে বিপুল অর্থ সাশ্রয় হবে, তা দীর্ঘমেয়াদে কৃষি গবেষণা, আধুনিক সেচ ব্যবস্থা, বাজার সংযোগ উন্নয়ন এবং জলবায়ু সহনশীল প্রযুক্তির মতো উচ্চ-রিটার্ন নিশ্চিত করা খাতগুলোয় বিনিয়োগ করার সুপারিশ করা হয়েছে।
বিশ্বব্যাংক মনে করে, বাংলাদেশ সরকার মোট সরকারি ব্যয়ের প্রায় ১০ শতাংশ এই খাতে বরাদ্দ দিলেও সঠিক পরিকল্পনার অভাবে কিছু বড় ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
ভর্তুকির সুফলের চরম বৈষম্য
বর্তমানে ক্রয়ের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে ভর্তুকি দেওয়ায় দেশের শীর্ষ ২০ শতাংশ বড় ভূমিমালিক কৃষক মোট সার ভর্তুকির প্রায় ৫০ শতাংশ সুবিধা ভোগ করছেন। অথচ নিচের সারির ৪০ শতাংশ ক্ষুদ্র কৃষক পাচ্ছেন মাত্র ১৫ শতাংশ।
ধানের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা
দেশের চাষযোগ্য জমির ৭২ শতাংশ জুড়ে ধান চাষ হয়, যা কৃষকদের অন্যান্য লাভজনক ও পুষ্টিকর ফসল (যেমন: ফলমূল, শাকসবজি) চাষে নিরুৎসাহিত করছে।
বৈশ্বিক ও জলবায়ু ঝুঁকি
বিশ্বব্যাংকের ডিভিশন ডিরেক্টর জঁ পেস্মে এবং সিনিয়র অর্থনীতিবিদ মনসুর আহমেদ জানান, মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সহিংসতার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে সারের সরবরাহ ঘাটতি ও মূল্যবৃদ্ধি বাংলাদেশের সরবরাহ ব্যবস্থাকে ঝুঁকিতে ফেলেছে। এই মুহূর্তে সার ভর্তুকির আধুনিকায়ন করা গেলে দেশের মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হবে এবং মাটির স্বাস্থ্যও রক্ষা পাবে।

বাংলাদেশে কৃষি খাতের টেকসই প্রবৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান বাড়াতে সার ভর্তুকি আধুনিকীকরণসহ ৪ দফা সুনির্দিষ্ট সুপারিশ করেছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটি বলছে, ধানের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে গবাদিপশু, মৎস্য ও শাকসবজির মতো উচ্চমূল্যের খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো এবং ‘কৃষক কার্ড’ ও ‘ই-ভাউচার’ চালুর মাধ্যমে প্রান্তিক চাষীদের কাছে সরাসরি সুবিধা পৌঁছানোই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ। প্রচলিত ব্যয় কাঠামো বদলে এই ‘স্মার্ট’ সংস্কার করা গেলে একদিকে যেমন বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে, অন্যদিকে নিশ্চিত হবে প্রকৃত কৃষকের উন্নয়ন।
বিশ্বব্যাংকের সদ্য প্রকাশিত ‘রিপারপাসিং এগ্রিকালচারাল পাবলিক স্পেন্ডিং ফর কোয়ালিটি গ্রোথ অ্যান্ড জবস ইন বাংলাদেশেস এগ্রিফুড সিস্টেম’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এই সংস্কারের রূপরেখা দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনে বাংলাদেশের কৃষি ব্যবস্থার গুণগত পরিবর্তনের জন্য স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি কিছু পর্যায়ক্রমিক সংস্কারের কথা বলা হয়েছে।
‘কৃষক কার্ড’ ও ‘ই-ভাউচার’ ব্যবস্থার দ্রুত বাস্তবায়ন
ভর্তুকির সুবিধা যেন বড় আমলা বা বড় ভূমিমালিকদের বদলে প্রকৃত দরিদ্র ও জলবায়ু-ঝুঁকিতে থাকা প্রান্তিক কৃষকদের হাতে পৌঁছায়, সেজন্য ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহারের জোর সুপারিশ করা হয়েছে। ‘কৃষক কার্ড’ এবং ‘ই-ভাউচার’ চালু করলে সরাসরি লক্ষ্যভিত্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে সহায়তা পৌঁছানো সম্ভব হবে।
মাটি পরীক্ষা ও সুষম সারের ব্যবহার বৃদ্ধি
বর্তমানে দেশের মাত্র ৫ শতাংশ কৃষক সুষম মাত্রায় সার ব্যবহার করেন। বিশ্বব্যাংক দেশব্যাপী ব্যাপকভাবে মাটি পরীক্ষা এবং কৃষক পরামর্শ সেবা জোরদার করার তাগিদ দিয়েছে, যাতে কৃষকরা সারের ভারসাম্যহীন ব্যবহার কমিয়ে সঠিক পুষ্টি উপাদান ব্যবহার করতে পারেন। এতে উৎপাদনশীলতা নাটকীয়ভাবে বাড়বে।
সার ভর্তুকির আধুনিকায়ন ও বৈচিত্র্যকরণ
কৃষি মন্ত্রণালয়ের বাজেটের প্রায় ৮০ শতাংশ চলে যায় সার ভর্তুকিতে এবং এর সিংহভাগ সুবিধা পান বড় চাষীরা। এই ব্যবস্থার পরিবর্তন এনে বৈষম্য কমানোর সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া, মোট বরাদ্দের ৮০ শতাংশ ধানের পেছনে ব্যয় না করে গবাদিপশু, মৎস্য চাষ এবং কৃষি-প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের মতো উচ্চ সম্ভাবনাময় খাতগুলোয় বরাদ্দ বাড়ানোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
উচ্চ-রিটার্ন খাতে সাশ্রয়ী অর্থের পুনর্বিনিয়োগ
ভর্তুকি ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সরকারের যে বিপুল অর্থ সাশ্রয় হবে, তা দীর্ঘমেয়াদে কৃষি গবেষণা, আধুনিক সেচ ব্যবস্থা, বাজার সংযোগ উন্নয়ন এবং জলবায়ু সহনশীল প্রযুক্তির মতো উচ্চ-রিটার্ন নিশ্চিত করা খাতগুলোয় বিনিয়োগ করার সুপারিশ করা হয়েছে।
বিশ্বব্যাংক মনে করে, বাংলাদেশ সরকার মোট সরকারি ব্যয়ের প্রায় ১০ শতাংশ এই খাতে বরাদ্দ দিলেও সঠিক পরিকল্পনার অভাবে কিছু বড় ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
ভর্তুকির সুফলের চরম বৈষম্য
বর্তমানে ক্রয়ের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে ভর্তুকি দেওয়ায় দেশের শীর্ষ ২০ শতাংশ বড় ভূমিমালিক কৃষক মোট সার ভর্তুকির প্রায় ৫০ শতাংশ সুবিধা ভোগ করছেন। অথচ নিচের সারির ৪০ শতাংশ ক্ষুদ্র কৃষক পাচ্ছেন মাত্র ১৫ শতাংশ।
ধানের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা
দেশের চাষযোগ্য জমির ৭২ শতাংশ জুড়ে ধান চাষ হয়, যা কৃষকদের অন্যান্য লাভজনক ও পুষ্টিকর ফসল (যেমন: ফলমূল, শাকসবজি) চাষে নিরুৎসাহিত করছে।
বৈশ্বিক ও জলবায়ু ঝুঁকি
বিশ্বব্যাংকের ডিভিশন ডিরেক্টর জঁ পেস্মে এবং সিনিয়র অর্থনীতিবিদ মনসুর আহমেদ জানান, মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সহিংসতার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে সারের সরবরাহ ঘাটতি ও মূল্যবৃদ্ধি বাংলাদেশের সরবরাহ ব্যবস্থাকে ঝুঁকিতে ফেলেছে। এই মুহূর্তে সার ভর্তুকির আধুনিকায়ন করা গেলে দেশের মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হবে এবং মাটির স্বাস্থ্যও রক্ষা পাবে।

কৃষি খাতের সংকট কাটাতে ৪ সুপারিশ বিশ্বব্যাংকের
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বাংলাদেশে কৃষি খাতের টেকসই প্রবৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান বাড়াতে সার ভর্তুকি আধুনিকীকরণসহ ৪ দফা সুনির্দিষ্ট সুপারিশ করেছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটি বলছে, ধানের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে গবাদিপশু, মৎস্য ও শাকসবজির মতো উচ্চমূল্যের খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো এবং ‘কৃষক কার্ড’ ও ‘ই-ভাউচার’ চালুর মাধ্যমে প্রান্তিক চাষীদের কাছে সরাসরি সুবিধা পৌঁছানোই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ। প্রচলিত ব্যয় কাঠামো বদলে এই ‘স্মার্ট’ সংস্কার করা গেলে একদিকে যেমন বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে, অন্যদিকে নিশ্চিত হবে প্রকৃত কৃষকের উন্নয়ন।
বিশ্বব্যাংকের সদ্য প্রকাশিত ‘রিপারপাসিং এগ্রিকালচারাল পাবলিক স্পেন্ডিং ফর কোয়ালিটি গ্রোথ অ্যান্ড জবস ইন বাংলাদেশেস এগ্রিফুড সিস্টেম’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এই সংস্কারের রূপরেখা দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনে বাংলাদেশের কৃষি ব্যবস্থার গুণগত পরিবর্তনের জন্য স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি কিছু পর্যায়ক্রমিক সংস্কারের কথা বলা হয়েছে।
‘কৃষক কার্ড’ ও ‘ই-ভাউচার’ ব্যবস্থার দ্রুত বাস্তবায়ন
ভর্তুকির সুবিধা যেন বড় আমলা বা বড় ভূমিমালিকদের বদলে প্রকৃত দরিদ্র ও জলবায়ু-ঝুঁকিতে থাকা প্রান্তিক কৃষকদের হাতে পৌঁছায়, সেজন্য ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহারের জোর সুপারিশ করা হয়েছে। ‘কৃষক কার্ড’ এবং ‘ই-ভাউচার’ চালু করলে সরাসরি লক্ষ্যভিত্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে সহায়তা পৌঁছানো সম্ভব হবে।
মাটি পরীক্ষা ও সুষম সারের ব্যবহার বৃদ্ধি
বর্তমানে দেশের মাত্র ৫ শতাংশ কৃষক সুষম মাত্রায় সার ব্যবহার করেন। বিশ্বব্যাংক দেশব্যাপী ব্যাপকভাবে মাটি পরীক্ষা এবং কৃষক পরামর্শ সেবা জোরদার করার তাগিদ দিয়েছে, যাতে কৃষকরা সারের ভারসাম্যহীন ব্যবহার কমিয়ে সঠিক পুষ্টি উপাদান ব্যবহার করতে পারেন। এতে উৎপাদনশীলতা নাটকীয়ভাবে বাড়বে।
সার ভর্তুকির আধুনিকায়ন ও বৈচিত্র্যকরণ
কৃষি মন্ত্রণালয়ের বাজেটের প্রায় ৮০ শতাংশ চলে যায় সার ভর্তুকিতে এবং এর সিংহভাগ সুবিধা পান বড় চাষীরা। এই ব্যবস্থার পরিবর্তন এনে বৈষম্য কমানোর সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া, মোট বরাদ্দের ৮০ শতাংশ ধানের পেছনে ব্যয় না করে গবাদিপশু, মৎস্য চাষ এবং কৃষি-প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের মতো উচ্চ সম্ভাবনাময় খাতগুলোয় বরাদ্দ বাড়ানোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
উচ্চ-রিটার্ন খাতে সাশ্রয়ী অর্থের পুনর্বিনিয়োগ
ভর্তুকি ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সরকারের যে বিপুল অর্থ সাশ্রয় হবে, তা দীর্ঘমেয়াদে কৃষি গবেষণা, আধুনিক সেচ ব্যবস্থা, বাজার সংযোগ উন্নয়ন এবং জলবায়ু সহনশীল প্রযুক্তির মতো উচ্চ-রিটার্ন নিশ্চিত করা খাতগুলোয় বিনিয়োগ করার সুপারিশ করা হয়েছে।
বিশ্বব্যাংক মনে করে, বাংলাদেশ সরকার মোট সরকারি ব্যয়ের প্রায় ১০ শতাংশ এই খাতে বরাদ্দ দিলেও সঠিক পরিকল্পনার অভাবে কিছু বড় ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
ভর্তুকির সুফলের চরম বৈষম্য
বর্তমানে ক্রয়ের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে ভর্তুকি দেওয়ায় দেশের শীর্ষ ২০ শতাংশ বড় ভূমিমালিক কৃষক মোট সার ভর্তুকির প্রায় ৫০ শতাংশ সুবিধা ভোগ করছেন। অথচ নিচের সারির ৪০ শতাংশ ক্ষুদ্র কৃষক পাচ্ছেন মাত্র ১৫ শতাংশ।
ধানের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা
দেশের চাষযোগ্য জমির ৭২ শতাংশ জুড়ে ধান চাষ হয়, যা কৃষকদের অন্যান্য লাভজনক ও পুষ্টিকর ফসল (যেমন: ফলমূল, শাকসবজি) চাষে নিরুৎসাহিত করছে।
বৈশ্বিক ও জলবায়ু ঝুঁকি
বিশ্বব্যাংকের ডিভিশন ডিরেক্টর জঁ পেস্মে এবং সিনিয়র অর্থনীতিবিদ মনসুর আহমেদ জানান, মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সহিংসতার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে সারের সরবরাহ ঘাটতি ও মূল্যবৃদ্ধি বাংলাদেশের সরবরাহ ব্যবস্থাকে ঝুঁকিতে ফেলেছে। এই মুহূর্তে সার ভর্তুকির আধুনিকায়ন করা গেলে দেশের মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হবে এবং মাটির স্বাস্থ্যও রক্ষা পাবে।

গভীর সংকটে দেশের অর্থনীতি, বিশ্বব্যাংকের সতর্কতা


