শিরোনাম

এক্সপ্লেইনার

হরমুজ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষতি নেই বললেও তেলের বাজার ভিন্ন

সিটিজেন ডেস্ক
হরমুজ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষতি নেই বললেও তেলের বাজার ভিন্ন
ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনার মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেছেন, ইরানি বাহিনী একটি ফরাসি জাহাজ এবং যুক্তরাজ্যের একটি মালবাহী জাহাজে গুলি চালিয়েছে। তবে বিভিন্ন সূত্রে ধারণা করা হচ্ছে, ওই দুটি জাহাজ আসলে ভারতীয় পতাকাবাহী ছিল। এ নিয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো সরকারি ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

তার পোস্টে ট্রাম্প আরও বলেন, ইরানের অবরোধমূলক পদক্ষেপ আসলে যুক্তরাষ্ট্রকে অজান্তেই সহায়তা করছে। তবে এই দাবি নিয়ে বিশেষজ্ঞরা দ্বিমত পোষণ করেছেন। বাস্তবে হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি এতটা সরল নয়।

মার্কিন নৌবাহিনীর অবস্থান অনুযায়ী, অবরোধ ব্যবস্থা এমনভাবে সাজানো হয়েছিল যাতে ইরানি পতাকাবাহী জাহাজ ছাড়া অন্যান্য জাহাজ চলাচল করতে পারে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে ‘অবরোধ কার্যকর নয়’ এমন দাবি বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

সবচেয়ে বিতর্কিত বক্তব্য এসেছে অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে। ট্রাম্প বলেছেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ক্ষতি হবে না। কিন্তু অর্থনীতিবিদদের মতে, এটি বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

তেল একটি বৈশ্বিক পণ্য এবং এই প্রণালি বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান পথ। এখানে বিঘ্ন ঘটলে সরাসরি আন্তর্জাতিক বাজারে প্রভাব পড়ে। এর প্রমাণও ইতিমধ্যে দেখা গেছে, শুক্রবার প্রণালি খোলার ইঙ্গিত আসার পর বিশ্ববাজারে এক ব্যারেল তেলের দাম প্রায় ৯ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়।

অর্থাৎ বাজার খুব দ্রুতই এই ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, প্রণালি বন্ধ থাকলে বা অনিশ্চিত থাকলে তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হওয়াই স্বাভাবিক, যা সরাসরি বৈশ্বিক অর্থনীতিকে প্রভাবিত করে।

এছাড়া শেয়ার বাজারেও এর প্রভাব পড়ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শুক্রবার যেমন ইতিবাচক অগ্রগতির খবরে বাজারে উত্থান দেখা গেছে, তেমনি পরিস্থিতি আবারও অনিশ্চিত হলে উল্টো চিত্র দেখা দিতে পারে।

/এমআর/