ভারতের অযোধ্যা রামমন্দিরে অনুদান তহবিলে তছরুপ, দানে নারাজ ভক্তরা

ভারতের অযোধ্যা রামমন্দিরে অনুদান তহবিলে তছরুপ, দানে নারাজ ভক্তরা
সিজেডএন ডেস্ক

অযোধ্যার নবনির্মিত ঐতিহাসিক রামমন্দিরে ভক্তদের দেওয়া কোটি কোটি টাকার অনুদান ও মূল্যবান সামগ্রী আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগে তোলপাড় শুরু হয়েছে দেশজুড়ে। কোটি কোটি সনাতন ধর্মাবলম্বীর আবেগ ও বিশ্বাসের কেন্দ্রে থাকা এ মন্দিরে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে ইতোমধ্যেই উত্তরপ্রদেশ পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দলের (এসআইটি) রিপোর্টের ভিত্তিতে আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ানো স্পর্শকাতর মামলায় মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, জনগণের ধর্মীয় আবেগ নিয়ে ছিনিমিনি খেলা কাউকেই রেহাই দেওয়া হবে না। এ ঘটনা সাধারণ ভক্তদের মধ্যেই চরম ক্ষোভ ও হতাশার জন্ম দেয়নি, বরং ভারতের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় ও রাজনৈতিক কেন্দ্রবিন্দু অযোধ্যাকে আবারও এক বড়সড় বিতর্কের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। প্রতিদিন যেখানে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ হাজার ভক্ত সমবেত হন এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরেই যেখানে প্রায় ৩৩০ কোটি টাকার অনুদান জমা পড়েছে। সেখানে এমন বড়সড় তছরুপের খবর প্রকাশ্যে আসায় ভক্তরা এখন তীব্র ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন।
এ বিশাল আর্থিক কেলেঙ্কারির বিষয়টি প্রথম সামনে আনেন ট্রাস্টের হিসাব বিভাগের প্রাক্তন তদারককারী মহিপাল সিং, যাকে এই ঘটনার হুইসেলব্লোয়ার বলা হচ্ছে। তিনি অভ্যন্তরীণভাবে উপহার ও নগদ অর্থের অব্যবস্থাপনা নিয়ে সরব হওয়ার পরই তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি প্রাণনাশের হুমকির মুখে চরম মানসিক আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। এরপরই বিষয়টি রাজনৈতিক স্তরে পৌঁছায় এবং সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব ও অযোধ্যার সাংসদ অবধেশ প্রসাদ এ অর্থ আত্মসাতের ঘটনার আদালতের তত্ত্বাবধানে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং ট্রাস্টের সদস্যদের সাময়িক অপসারণের দাবি তোলেন। ট্রাস্টের সদস্য কৃষ্ণ মোহনের অভিযোগের ভিত্তিতে রাম জন্মভূমি থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার অধীন কর্মচারী কর্তৃক চুরি, প্রতারণা ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের ধারায় একটি এফআইআর দায়ের করা হয়। ১৩ জুন আর্থিক অনিয়মের এ অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর ট্রাস্টের অনুরোধে বিজয় বিশ্বাস পন্থের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের এসআইটি গঠন করা হয়, যা এ পদ্ধতিগত ত্রুটি ও বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের তদন্ত করছে।
তদন্তে জানা গেছে, তীর্থযাত্রী সুবিধা কেন্দ্রে থাকা ৪০টি দানবাক্স খুলে টাকা গণনার দায়িত্বে থাকা একটি বিশেষ দলই এ চুরির নেপথ্যে ছিল। ধৃত আটজনের মধ্যে দানবাক্স তদারকির দায়িত্বে থাকা প্রধান অভিযুক্ত রামশঙ্কর যাদব (টিন্নু)। দানবাক্স থেকে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করে অযোধ্যার আশেপাশে বিপুল সম্পত্তি কিনেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া নগদ টাকা গণনাকারী লবকুশ মিশ্র এবং মনীশ যাদবের বাড়ি থেকে তল্লাশি চালিয়ে যথাক্রমে ১২ লাখ ও ৩৬ লাখ টাকা উদ্ধার করেছে পুলিশ। অন্য দুই গণনাকারী অনুকল্প মিশ্র এবং অবিনাশ শুক্লা টাকা চুরি করে বাথরুমে লুকিয়ে রাখা এবং অবৈধ সম্পদ গড়ার অভিযোগে অভিযুক্ত। কর্মীদের দায়িত্বে থাকা তত্ত্বাবধায়ক সুভাষ চন্দ্র শ্রীবাস্তবের বিরুদ্ধে অবহেলা ও চুরিতে সহায়তার অভিযোগ রয়েছে। করুণেশ পান্ডে ও রামশঙ্কর মিশ্রও এ জঘন্য ষড়যন্ত্রে সরাসরি অংশ নিয়ে টাকা আত্মসাৎ করেছেন। সাবেক এক জনপ্রতিনিধির দাবি অনুযায়ী, এ চক্রের মাধ্যমে প্রায় ৭ কোটি টাকার সম্পত্তি নয়ছয় করা হয়েছে।
যদিও শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্ট প্রথম থেকেই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। সম্প্রতি ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে ইস্তফা দেওয়া বিশ্ব হিন্দু পরিষদ নেতা চম্পত রাই একটি ভিডিও বার্তায় দাবি করেছেন, স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার কর্মী এবং ট্রাস্টের কর্মকর্তাদের কড়া নজরদারিতেই টাকা গণনা হয় এবং কোনো গরমিল হয়নি। তবে এ বিবৃতির পরেও জনরোষ কমেনি। উল্টো অযোধ্যা বার অ্যাসোসিয়েশন চম্পত রাইকে তিন দিনের মধ্যে অযোধ্যা ছাড়ার আলটিমেটাম দিয়েছে এবং অভিযুক্তদের পক্ষে কোনো আইনজীবী আইনি লড়াই লড়বেন না বলে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ১৯৯২ সালের বাবরি মসজিদ ধ্বংস এবং ২০১৯ সালে সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়ের পর ২০২৪ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হাত ধরে যে স্বপ্নের মন্দিরের উদ্বোধন হয়েছিল, তা আজ অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি ও বিশ্বাসভঙ্গের এক নজেরবিহীন আইনি ও নৈতিক সংকটের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে।
সূত্র: বিবিসি

অযোধ্যার নবনির্মিত ঐতিহাসিক রামমন্দিরে ভক্তদের দেওয়া কোটি কোটি টাকার অনুদান ও মূল্যবান সামগ্রী আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগে তোলপাড় শুরু হয়েছে দেশজুড়ে। কোটি কোটি সনাতন ধর্মাবলম্বীর আবেগ ও বিশ্বাসের কেন্দ্রে থাকা এ মন্দিরে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে ইতোমধ্যেই উত্তরপ্রদেশ পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দলের (এসআইটি) রিপোর্টের ভিত্তিতে আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ানো স্পর্শকাতর মামলায় মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, জনগণের ধর্মীয় আবেগ নিয়ে ছিনিমিনি খেলা কাউকেই রেহাই দেওয়া হবে না। এ ঘটনা সাধারণ ভক্তদের মধ্যেই চরম ক্ষোভ ও হতাশার জন্ম দেয়নি, বরং ভারতের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় ও রাজনৈতিক কেন্দ্রবিন্দু অযোধ্যাকে আবারও এক বড়সড় বিতর্কের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। প্রতিদিন যেখানে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ হাজার ভক্ত সমবেত হন এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরেই যেখানে প্রায় ৩৩০ কোটি টাকার অনুদান জমা পড়েছে। সেখানে এমন বড়সড় তছরুপের খবর প্রকাশ্যে আসায় ভক্তরা এখন তীব্র ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন।
এ বিশাল আর্থিক কেলেঙ্কারির বিষয়টি প্রথম সামনে আনেন ট্রাস্টের হিসাব বিভাগের প্রাক্তন তদারককারী মহিপাল সিং, যাকে এই ঘটনার হুইসেলব্লোয়ার বলা হচ্ছে। তিনি অভ্যন্তরীণভাবে উপহার ও নগদ অর্থের অব্যবস্থাপনা নিয়ে সরব হওয়ার পরই তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি প্রাণনাশের হুমকির মুখে চরম মানসিক আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। এরপরই বিষয়টি রাজনৈতিক স্তরে পৌঁছায় এবং সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব ও অযোধ্যার সাংসদ অবধেশ প্রসাদ এ অর্থ আত্মসাতের ঘটনার আদালতের তত্ত্বাবধানে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং ট্রাস্টের সদস্যদের সাময়িক অপসারণের দাবি তোলেন। ট্রাস্টের সদস্য কৃষ্ণ মোহনের অভিযোগের ভিত্তিতে রাম জন্মভূমি থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার অধীন কর্মচারী কর্তৃক চুরি, প্রতারণা ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের ধারায় একটি এফআইআর দায়ের করা হয়। ১৩ জুন আর্থিক অনিয়মের এ অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর ট্রাস্টের অনুরোধে বিজয় বিশ্বাস পন্থের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের এসআইটি গঠন করা হয়, যা এ পদ্ধতিগত ত্রুটি ও বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের তদন্ত করছে।
তদন্তে জানা গেছে, তীর্থযাত্রী সুবিধা কেন্দ্রে থাকা ৪০টি দানবাক্স খুলে টাকা গণনার দায়িত্বে থাকা একটি বিশেষ দলই এ চুরির নেপথ্যে ছিল। ধৃত আটজনের মধ্যে দানবাক্স তদারকির দায়িত্বে থাকা প্রধান অভিযুক্ত রামশঙ্কর যাদব (টিন্নু)। দানবাক্স থেকে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করে অযোধ্যার আশেপাশে বিপুল সম্পত্তি কিনেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া নগদ টাকা গণনাকারী লবকুশ মিশ্র এবং মনীশ যাদবের বাড়ি থেকে তল্লাশি চালিয়ে যথাক্রমে ১২ লাখ ও ৩৬ লাখ টাকা উদ্ধার করেছে পুলিশ। অন্য দুই গণনাকারী অনুকল্প মিশ্র এবং অবিনাশ শুক্লা টাকা চুরি করে বাথরুমে লুকিয়ে রাখা এবং অবৈধ সম্পদ গড়ার অভিযোগে অভিযুক্ত। কর্মীদের দায়িত্বে থাকা তত্ত্বাবধায়ক সুভাষ চন্দ্র শ্রীবাস্তবের বিরুদ্ধে অবহেলা ও চুরিতে সহায়তার অভিযোগ রয়েছে। করুণেশ পান্ডে ও রামশঙ্কর মিশ্রও এ জঘন্য ষড়যন্ত্রে সরাসরি অংশ নিয়ে টাকা আত্মসাৎ করেছেন। সাবেক এক জনপ্রতিনিধির দাবি অনুযায়ী, এ চক্রের মাধ্যমে প্রায় ৭ কোটি টাকার সম্পত্তি নয়ছয় করা হয়েছে।
যদিও শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্ট প্রথম থেকেই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। সম্প্রতি ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে ইস্তফা দেওয়া বিশ্ব হিন্দু পরিষদ নেতা চম্পত রাই একটি ভিডিও বার্তায় দাবি করেছেন, স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার কর্মী এবং ট্রাস্টের কর্মকর্তাদের কড়া নজরদারিতেই টাকা গণনা হয় এবং কোনো গরমিল হয়নি। তবে এ বিবৃতির পরেও জনরোষ কমেনি। উল্টো অযোধ্যা বার অ্যাসোসিয়েশন চম্পত রাইকে তিন দিনের মধ্যে অযোধ্যা ছাড়ার আলটিমেটাম দিয়েছে এবং অভিযুক্তদের পক্ষে কোনো আইনজীবী আইনি লড়াই লড়বেন না বলে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ১৯৯২ সালের বাবরি মসজিদ ধ্বংস এবং ২০১৯ সালে সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়ের পর ২০২৪ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হাত ধরে যে স্বপ্নের মন্দিরের উদ্বোধন হয়েছিল, তা আজ অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি ও বিশ্বাসভঙ্গের এক নজেরবিহীন আইনি ও নৈতিক সংকটের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে।
সূত্র: বিবিসি

ভারতের অযোধ্যা রামমন্দিরে অনুদান তহবিলে তছরুপ, দানে নারাজ ভক্তরা
সিজেডএন ডেস্ক

অযোধ্যার নবনির্মিত ঐতিহাসিক রামমন্দিরে ভক্তদের দেওয়া কোটি কোটি টাকার অনুদান ও মূল্যবান সামগ্রী আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগে তোলপাড় শুরু হয়েছে দেশজুড়ে। কোটি কোটি সনাতন ধর্মাবলম্বীর আবেগ ও বিশ্বাসের কেন্দ্রে থাকা এ মন্দিরে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে ইতোমধ্যেই উত্তরপ্রদেশ পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দলের (এসআইটি) রিপোর্টের ভিত্তিতে আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ানো স্পর্শকাতর মামলায় মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, জনগণের ধর্মীয় আবেগ নিয়ে ছিনিমিনি খেলা কাউকেই রেহাই দেওয়া হবে না। এ ঘটনা সাধারণ ভক্তদের মধ্যেই চরম ক্ষোভ ও হতাশার জন্ম দেয়নি, বরং ভারতের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় ও রাজনৈতিক কেন্দ্রবিন্দু অযোধ্যাকে আবারও এক বড়সড় বিতর্কের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। প্রতিদিন যেখানে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ হাজার ভক্ত সমবেত হন এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরেই যেখানে প্রায় ৩৩০ কোটি টাকার অনুদান জমা পড়েছে। সেখানে এমন বড়সড় তছরুপের খবর প্রকাশ্যে আসায় ভক্তরা এখন তীব্র ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন।
এ বিশাল আর্থিক কেলেঙ্কারির বিষয়টি প্রথম সামনে আনেন ট্রাস্টের হিসাব বিভাগের প্রাক্তন তদারককারী মহিপাল সিং, যাকে এই ঘটনার হুইসেলব্লোয়ার বলা হচ্ছে। তিনি অভ্যন্তরীণভাবে উপহার ও নগদ অর্থের অব্যবস্থাপনা নিয়ে সরব হওয়ার পরই তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি প্রাণনাশের হুমকির মুখে চরম মানসিক আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। এরপরই বিষয়টি রাজনৈতিক স্তরে পৌঁছায় এবং সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব ও অযোধ্যার সাংসদ অবধেশ প্রসাদ এ অর্থ আত্মসাতের ঘটনার আদালতের তত্ত্বাবধানে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং ট্রাস্টের সদস্যদের সাময়িক অপসারণের দাবি তোলেন। ট্রাস্টের সদস্য কৃষ্ণ মোহনের অভিযোগের ভিত্তিতে রাম জন্মভূমি থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার অধীন কর্মচারী কর্তৃক চুরি, প্রতারণা ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের ধারায় একটি এফআইআর দায়ের করা হয়। ১৩ জুন আর্থিক অনিয়মের এ অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর ট্রাস্টের অনুরোধে বিজয় বিশ্বাস পন্থের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের এসআইটি গঠন করা হয়, যা এ পদ্ধতিগত ত্রুটি ও বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের তদন্ত করছে।
তদন্তে জানা গেছে, তীর্থযাত্রী সুবিধা কেন্দ্রে থাকা ৪০টি দানবাক্স খুলে টাকা গণনার দায়িত্বে থাকা একটি বিশেষ দলই এ চুরির নেপথ্যে ছিল। ধৃত আটজনের মধ্যে দানবাক্স তদারকির দায়িত্বে থাকা প্রধান অভিযুক্ত রামশঙ্কর যাদব (টিন্নু)। দানবাক্স থেকে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করে অযোধ্যার আশেপাশে বিপুল সম্পত্তি কিনেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া নগদ টাকা গণনাকারী লবকুশ মিশ্র এবং মনীশ যাদবের বাড়ি থেকে তল্লাশি চালিয়ে যথাক্রমে ১২ লাখ ও ৩৬ লাখ টাকা উদ্ধার করেছে পুলিশ। অন্য দুই গণনাকারী অনুকল্প মিশ্র এবং অবিনাশ শুক্লা টাকা চুরি করে বাথরুমে লুকিয়ে রাখা এবং অবৈধ সম্পদ গড়ার অভিযোগে অভিযুক্ত। কর্মীদের দায়িত্বে থাকা তত্ত্বাবধায়ক সুভাষ চন্দ্র শ্রীবাস্তবের বিরুদ্ধে অবহেলা ও চুরিতে সহায়তার অভিযোগ রয়েছে। করুণেশ পান্ডে ও রামশঙ্কর মিশ্রও এ জঘন্য ষড়যন্ত্রে সরাসরি অংশ নিয়ে টাকা আত্মসাৎ করেছেন। সাবেক এক জনপ্রতিনিধির দাবি অনুযায়ী, এ চক্রের মাধ্যমে প্রায় ৭ কোটি টাকার সম্পত্তি নয়ছয় করা হয়েছে।
যদিও শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্ট প্রথম থেকেই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। সম্প্রতি ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে ইস্তফা দেওয়া বিশ্ব হিন্দু পরিষদ নেতা চম্পত রাই একটি ভিডিও বার্তায় দাবি করেছেন, স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার কর্মী এবং ট্রাস্টের কর্মকর্তাদের কড়া নজরদারিতেই টাকা গণনা হয় এবং কোনো গরমিল হয়নি। তবে এ বিবৃতির পরেও জনরোষ কমেনি। উল্টো অযোধ্যা বার অ্যাসোসিয়েশন চম্পত রাইকে তিন দিনের মধ্যে অযোধ্যা ছাড়ার আলটিমেটাম দিয়েছে এবং অভিযুক্তদের পক্ষে কোনো আইনজীবী আইনি লড়াই লড়বেন না বলে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ১৯৯২ সালের বাবরি মসজিদ ধ্বংস এবং ২০১৯ সালে সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়ের পর ২০২৪ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হাত ধরে যে স্বপ্নের মন্দিরের উদ্বোধন হয়েছিল, তা আজ অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি ও বিশ্বাসভঙ্গের এক নজেরবিহীন আইনি ও নৈতিক সংকটের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে।
সূত্র: বিবিসি

ধর্মীয় স্থাপনা ইস্যুতে মুখোমুখি অবস্থানে ভারত-পাকিস্তান
ভারতের নতুন সেনাপ্রধান হিসেবে নিয়োগ পেলেন ধীরাজ শেঠ


