শিরোনাম

ফিরলো স্প্রেড; আমানত-ঋণ সুদে ব্যবধান ৪ শতাংশ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
ফিরলো স্প্রেড; আমানত-ঋণ সুদে ব্যবধান ৪ শতাংশ
বাংলাদেশ ব্যাংক। ছবি: সিটিজেন জার্নাল

আড়াই বছর আগে বাতিল করে দেওয়া আমানত ও ঋণ সুদহার ব্যবধান পার্থক্যের সীমা সর্বোচ্চ কত হবে, তার বিধান ফিরিয়ে আনলো বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে ব্যাংকের ঋণ ও আমানতের সুদ হারের মধ্যে ব্যবধান হতে হবে সর্বোচ্চ ৪ শতাংশ।

সোমবার (২৯ জুন) এ বিষয়ে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, ক্রেডিট কার্ড ও ভোক্তা ঋণ ছাড়া অন্যান্য সব ঋণের সঙ্গে আমানত সুদহারের ব্যবধান হবে সর্বোচ্চ ৪ শতাংশ।

বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ বাড়াতে মুদ্রানীতি ঘোষণার আগের দিন এমন সিদ্ধান্ত জানালো বাংলাদেশ ব্যাংক।

এর মানে হচ্ছে, ব্যাংকগুলো যে সুদ হারে আমানত সংগ্রহ করবে, তার গড় সুদ ও ঋণ বিতরণের গড় সুদ হারের মধ্যে ব্যবধান হবে সর্বোচ্চ ৪ শতাংশ। ভোক্তা ও ক্রেডিট কার্ড ঋণ ছাড়া স্প্রেড হিসাব গণনা করা হয়।

এই ৪ শতাংশের মধ্যে ব্যাংকের সব তহবিল ও পরিচালন খরচ বাদ দিয়ে মুনাফা করতে হবে। বর্তমানে ব্যাংক খাতে কোনো স্প্রেড নেই। বর্তমানে বেশিরভাগ ব্যাংকের তহবিল খরচই সাড়ে ৩ থেকে ৪ শতাংশের উপরে।

দুর্বল ও খেলাপি বেশি থাকা ব্যাংকের তহবিল ব্যয় আরো বেশি।

বর্তমানে দুটি ছাড়া কোনো বেসরকারি ব্যাংকের স্প্রেড ৪ শতাংশের মধ্যে নেই। তবে, কবে নাগাদ এই সীমা ৪ শতাংশের মধ্যে নামিয়ে আনতে হবে তার কোনো নির্দেশনা দেয়নি বাংলাদেশ ব্যাংক।

নতুন নির্দেশনা জারি হওয়ার পর থেকেই কার্যকর করার কথা বলেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

স্প্রেড সীমা ঠিক করে দেওয়ায় ব্যাংকগুলোকে হয় আমানত সুদহার বাড়াতে হবে, নয়তো ঋণ সুদ হার কমিয়ে আনতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, বেসরকারি খাতের শুধু মিউচুয়াল ট্রাস্ট ও এবি ব্যাংক ছাড়া কোনো ব্যাংকেরই স্প্রেড ৪ শতাংশের মধ্যে নেই।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত মে মাসে মিউচুয়াল ট্রাস্ট(এমটিবি) এর স্প্রেড ছিল ৩ দশমিক ৯ শতাংশ। আর এবি ব্যাংকের স্প্রেড হচ্ছে শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ।

বেসরকারি খাতের ব্যাংকের মধ্যে সর্বোচ্চ স্প্রেড হচ্ছে ডাচ-বাংলা ব্যাংকের ৯ দশমিক ০৮ শতাংশ ও আইসিবি ইসলামী ব্যাংকের ৯ দশমিক ১৯ শতাংশ।

অন্যদিকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর সিংহভাগ ব্যাংকের স্প্রেড গত মে শেষে দাঁড়িয়েছে ৫ শতাংশের উপরে।

স্প্রেড সবচেয়ে বেশি হচ্ছে বিদেশি ব্যাংকের। গত মে মাসে সর্বোচ্চ স্প্রেড হচ্ছে বিদেশি ব্যাংকের মধ্যে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের ৯ শতাংশ।

সার্বিকভাবে ব্যাংক খাতে স্প্রেড হচ্ছে ৫ দশমিক ৭ শতাংশ।

ব্যাংকগুলোতে তারল্য সংকটের এই সময়ে স্প্রেড সীমা বেধে দেওয়ার ফলাফল কী আসবে, তা বলতে সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন বেসরকারি এক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক।

২০২০ সালে ব্যাংকে ঋণ সীমা সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ বেধে দেওয়ার সময় মূলত স্প্রেড অকার্যকর হয়ে যায়।

পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক চাপে ধাপে ধাপে ঋণ সুদ হার সীমা তুলতে শুরু করে বাংলাদেশ ব্যাংক। ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে স্প্রেড সীমা সার্কুলার দিয়ে স্থগিত করা হয়।

সবশেষ ২০২৪ সালের মে মাসে ঋণ সুদহার বাজারভিত্তিক করা হলেও কোনো স্প্রেড সীমা ঠিক করে দেয়নি বাংলাদেশ ব্যাংক।

নতুন সিদ্ধান্ত দিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, ‘গত ২০২৪ সালের ৮ মে সার্কুলার দিয়ে সম্পূর্ণ বাজারভিত্তিক সুদহার ব্যবস্থা প্রবর্তন করার পর ব্যাংকসমূহকে সীমা নির্ধারণসংক্রান্ত কোনো নির্দেশনা প্রদান করা হয়নি। সম্প্রতি পরিলক্ষিত হচ্ছে যে, অনেক ব্যাংকের আমানতের সুদহারের তুলনায় ঋণের সুদহার অধিক হারে নির্ধারণের ফলে গড়ভারিত অত্যধিক বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ব্যবসা-শিল্প প্রবৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করছে।

‘এক্ষণে, উৎপাদনশীল খাতসহ বিভিন্ন খাতে ঋণের সুদহার যৌক্তিক পর্যায়ে নির্ধারণের লক্ষ্যে ক্রেডিট কার্ড ও ভোক্তাঋণ ছাড়া অন্যান্য খাতে ঋণ এবং আমানতের গড়ভারিত সুদ হারের ব্যবধান ৪ শতাংশের মধ্যে সীমিত রাখার জন্য আপনাদেরকে নির্দেশনা প্রদান করা হলো।’

/এমআর/