শিরোনাম

সরকারি প্রকল্পে আসছে বেসরকারি পিডি

বিশেষ প্রতিনিধি
বিশেষ প্রতিনিধি
সরকারি প্রকল্পে আসছে বেসরকারি পিডি
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার লোগো।

সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম, দুর্নীতি প্রতিরোধ, কাজে গতি আনা ও অদক্ষতা দূর করতে বেসরকারি খাত থেকে প্রকল্প পরিচালক (পিডি) নিয়োগের উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। যোগ্যতাসম্পন্ন যেকোনো নাগরিককে শর্ত সাপেক্ষে পিডি নিয়োগের সুযোগ রেখে ইতোমধ্যে একটি পরিপত্রের খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে।

জানা গেছে, বর্তমানে সরকারের ১ হাজার ১৫০টি চলমান প্রকল্প আছে। এসব প্রকল্পে আমলাতান্ত্রিক অদক্ষতা, দীর্ঘসূত্রতা ও দুর্নীতির বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় ৫৫ শতাংশ প্রকল্পের মেয়াদ অন্তত একবার বা একাধিকবার বাড়ানো হয়েছে, যা প্রকল্প ব্যয় বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরে এডিপির প্রায় ২৩–৪০ শতাংশ অর্থ অপচয় ও লুটপাট হয়েছে বলে শ্বেতপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সরকারি প্রকল্পে যোগ্যতাসম্পন্ন যেকোনো বাংলাদেশি নাগরিক পিডি পদের জন্য আবেদন করতে পারবেন (দ্বৈত নাগরিকরা অযোগ্য)। এছাড়া সরকারি ও অবসরপ্রাপ্ত যোগ্য কর্মকর্তারাও সুযোগ পাবেন। জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আবেদন আহ্বান করা হবে।

নিয়োগ প্রক্রিয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবের নেতৃত্বে গঠিত ১০ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি ইন্টারভিউয়ের মাধ্যমে তিনজনের নাম সুপারিশ করবে। সেখান থেকে মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী চূড়ান্ত নিয়োগ দেবেন। ৫০ কোটি টাকার নিচের প্রকল্পের জন্য মাসিক বেতন হবে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং ৫০ কোটি টাকার ওপরের প্রকল্পের জন্য মাসিক বেতন হবে ৫ থেকে ১০ লাখ টাকা। নিয়োগপ্রাপ্ত পিডিকে নিজের আয়কর নিজেই দিতে হবে।

নিয়োগের শর্ত অনুযায়ী, একজন কর্মকর্তা কেবল একটি প্রকল্পেরই দায়িত্ব পাবেন। প্রতি ৩ মাস পরপর কাজের মূল্যায়ন করা হবে এবং পারফরম্যান্স সন্তোষজনক না হলে অপসারণ করা যাবে।

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার এই উদ্যোগকে ইতিবাচক উল্লেখ করে বলেন, এর মাধ্যমে উন্নয়ন প্রকল্পে গতি আসবে। তবে বেসরকারি ব্যক্তিদের দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহি কীভাবে নিশ্চিত করা হবে তা স্পষ্ট থাকা প্রয়োজন।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বিশ্বের বহু দেশে এই চর্চা আছে, তবে দলীয়করণ রোধে নিয়োগ প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত ও প্রতিযোগিতাপূর্ণ হতে হবে।

সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, এটি কার্যকর করা হলে রাজনৈতিক দলীয়করণের ঝুঁকি, অনিয়ম করলে বেসরকারি ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার সীমাবদ্ধতা এবং সরকারি কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে অসহযোগিতার আশঙ্কা রয়েছে।

তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, স্বচ্ছতা ও সঠিক জবাবদিহি নিশ্চিত করা গেলে এই উদ্যোগ দেশের উন্নয়ন খাতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।

/এফআর/