অযোধ্যার রাম মন্দিরে সিসিটিভি ফাঁকি দিয়ে কোটি রুপি আত্মসাৎ

অযোধ্যার রাম মন্দিরে সিসিটিভি ফাঁকি দিয়ে কোটি রুপি আত্মসাৎ
সিটিজেন ডেস্ক

ভারতের অযোধ্যার রাম মন্দিরের দানবাক্স থেকে কোটি কোটি রুপি আত্মসাতের ঘটনায় নতুন নতুন তথ্য সামনে আসছে। বিশেষ তদন্ত দল (এসআইটি) তাদের অন্তর্বর্তী প্রতিবেদনে জানিয়েছে, অর্থ আত্মসাতের জন্য একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিত কৌশলে কাজ করেছে। তারা সিসিটিভি ক্যামেরার নজরদারি এড়িয়ে নগদ অর্থ সরিয়ে ফেলত এবং পরে মন্দির চত্বরের ভেতরেই তা গোপন স্থানে লুকিয়ে রেখে বাইরে পাচার করত।
তদন্তের মধ্যেই বৃহস্পতিবার নৈতিক দায় স্বীকার করে রাম মন্দির ট্রাস্টের দুই গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা চম্পত রাই ও অনিল মিশ্র পদত্যাগ করেছেন। একই সময়ে গ্রেফতার হওয়া আট অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রেখেছে তদন্তকারীরা। খবর এনডিটিভির।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, মন্দিরের দানবাক্স থেকে সংগৃহীত অর্থ ব্যাংকে জমা দেওয়ার আগে হিসাব যাচাই করতে গিয়ে প্রথম অনিয়মের বিষয়টি ট্রাস্টের নজরে আসে। সাধারণত একটি দানবাক্সে ৬ থেকে ৭ লাখ রুপি থাকার কথা থাকলেও কয়েক সপ্তাহ ধরে ৫০০ রুপির নোটের বান্ডিলে অস্বাভাবিক ঘাটতি দেখা যায়। এরপর বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ সৃষ্টি হলে অর্থ গণনার কক্ষে গোপনে নজরদারি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়।
সেই ফুটেজ পর্যালোচনা করে তদন্তকারীরা দেখতে পান, একজন কর্মী ইচ্ছাকৃতভাবে ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে দৃশ্য আড়াল করে রাখতেন। এ সুযোগে তার সহযোগী বান্ডিল থেকে নোট বের করে নিজের পোশাকের ভেতরে লুকিয়ে ফেলতেন।
এসআইটির প্রতিবেদনে আত্মসাতের আরও একটি অভিনব পদ্ধতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযুক্তরা নোটের বান্ডিলে অতিরিক্ত টাকা গুঁজে রাখতেন। পরে কেবল বান্ডিলের সংখ্যা গণনা করে ভাউচার প্রস্তুত করা হতো। ব্যাংকে পাঠানোর আগে সেই অতিরিক্ত নোটগুলো সরিয়ে নেওয়া হলে কাগজে-কলমে হিসাব ঠিক থাকলেও প্রকৃত অর্থের বড় অংশ আত্মসাৎ করা সম্ভব হতো।
তদন্তে জানা গেছে, চুরি করা অর্থ প্রথমে মন্দির প্রাঙ্গণের একটি টয়লেটে লুকিয়ে রাখা হতো। পরে সুযোগ বুঝে সেগুলো বাইরে নিয়ে গিয়ে অন্যত্র ভাগ-বাটোয়ারা করা হতো।
তদন্তকারীদের ধারণা, ২০২৪ সালে মন্দির উদ্বোধনের পর থেকেই এই চক্র সক্রিয় ছিল। এসআইটির অন্তর্বর্তী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের ২৭ এপ্রিল থেকে ৫ জুন পর্যন্ত সময়ের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অন্তত ৭০টি চুরির ঘটনা শনাক্ত করা হয়েছে।
ঘটনার সঙ্গে কয়েকজন ব্যাংক কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও তদন্তে উঠে এসেছে। পাশাপাশি আরও কয়েকজন সরকারি কর্মচারীর ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষ হলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
যদিও বিভিন্ন গণমাধ্যমে ৭ থেকে সাড়ে ৭ কোটি রুপি আত্মসাতের দাবি করা হয়েছে, তবে সরকারি পর্যায়ে এখনো ক্ষতির চূড়ান্ত হিসাব প্রকাশ করা হয়নি। এ পর্যন্ত প্রায় ৭০ লাখ রুপি উদ্ধার করা হয়েছে এবং সেগুলোর গণনা ও যাচাই-বাছাই চলছে। তদন্তকারীরা মনে করছেন, উদ্ধার হওয়া অর্থের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।
এসআইটির প্রতিবেদনে যাদের নাম এসেছে তারা হলেন—অবিনাশ শুক্লা, অনুকল্প মিশ্র, লাভকুশ মিশ্র, মনীশ কুমার যাদব, করুণেশ পান্ডে, রামাশঙ্কর মিশ্র, সুভাষ শ্রীবাস্তব এবং রামশঙ্কর যাদব ওরফে তিন্নু যাদব। এদের সবাই নগদ অর্থ গণনা ও ব্যবস্থাপনার সঙ্গে কোনো না কোনোভাবে যুক্ত ছিলেন।
তদন্তে আরও উঠে এসেছে, অভিযুক্তদের কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সুপারিশে চাকরি পেয়েছিলেন। ট্রাস্টের প্রশাসনিক কর্মী ও চম্পত রায়ের সাবেক চালক তিন্নু যাদব তার চাচাতো ভাই মনীশ যাদবকে অর্থ গণনার দলে নিয়োগ করান। একইভাবে অনুকল্প মিশ্র তার ভগ্নিপতি লাভকুশ মিশ্রকে ওই দায়িত্বে যুক্ত করেন।
এসআইটির ভাষ্য অনুযায়ী, দায়িত্ব শেষে কর্মীদের শরীর তল্লাশির কোনো কার্যকর ব্যবস্থা ছিল না। নিরাপত্তা ব্যবস্থার এই দুর্বলতাকেই কাজে লাগিয়ে তারা নিয়মিত নগদ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী সরিয়ে ফেলতেন।
শুধু নগদ অর্থ নয়, ভক্তদের দান করা স্বর্ণালংকারও আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। তদন্তে জানা গেছে, কানের দুল, নাকফুল, চুড়ি, রামলালার উদ্দেশে উৎসর্গ করা গয়না এবং নূপুরসহ বিভিন্ন মূল্যবান অলংকারও চুরির শিকার হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্ত অবিনাশ শুক্লা আত্মসাৎ করা অর্থ নিজের ব্যাংক হিসাবেও জমা করতেন।
এসআইটির প্রতিবেদনে তিন্নু যাদব ও সুভাষ শ্রীবাস্তবকে পুরো চক্রের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তদন্তকারীদের মতে, অর্থ আত্মসাতের পরিকল্পনা প্রণয়ন থেকে বাস্তবায়ন পর্যন্ত এই দুজনের ভূমিকাই ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে সুভাষ শ্রীবাস্তব নতুন সদস্য সংগ্রহ এবং অর্থ গণনার দায়িত্ব বণ্টনের কাজ তদারকি করতেন।
এ ছাড়া গত তিন বছরের অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা পর্যালোচনায় দানবাক্সের সংখ্যা ও হিসাবের মধ্যে অসঙ্গতি, অপর্যাপ্ত সিসিটিভি নজরদারি, অর্থ গণনার তথ্য সংরক্ষণে দুর্বলতা এবং তদারকিতে জবাবদিহির ঘাটতির বিষয়ও উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব ত্রুটি ও দুর্বলতা আগেই চিহ্নিত হলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে নিরাপত্তা ব্যবস্থার অনেক নিয়ম কেবল কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ ছিল এবং বাস্তবে সেগুলোর প্রয়োগ ছিল অত্যন্ত দুর্বল।
উল্লেখ্য, ১৯৯২ সালে বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পর দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের রায়ের ভিত্তিতে অযোধ্যায় রাম মন্দির নির্মাণ করা হয়। ২০২৪ সালে উদ্বোধনের পর এটি দেশটির অন্যতম আলোচিত ধর্মীয় স্থাপনায় পরিণত হয়। তবে উদ্বোধনের অল্প সময়ের মধ্যেই দানবাক্সের অর্থ আত্মসাতের এই বড় কেলেঙ্কারি মন্দির প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।

ভারতের অযোধ্যার রাম মন্দিরের দানবাক্স থেকে কোটি কোটি রুপি আত্মসাতের ঘটনায় নতুন নতুন তথ্য সামনে আসছে। বিশেষ তদন্ত দল (এসআইটি) তাদের অন্তর্বর্তী প্রতিবেদনে জানিয়েছে, অর্থ আত্মসাতের জন্য একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিত কৌশলে কাজ করেছে। তারা সিসিটিভি ক্যামেরার নজরদারি এড়িয়ে নগদ অর্থ সরিয়ে ফেলত এবং পরে মন্দির চত্বরের ভেতরেই তা গোপন স্থানে লুকিয়ে রেখে বাইরে পাচার করত।
তদন্তের মধ্যেই বৃহস্পতিবার নৈতিক দায় স্বীকার করে রাম মন্দির ট্রাস্টের দুই গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা চম্পত রাই ও অনিল মিশ্র পদত্যাগ করেছেন। একই সময়ে গ্রেফতার হওয়া আট অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রেখেছে তদন্তকারীরা। খবর এনডিটিভির।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, মন্দিরের দানবাক্স থেকে সংগৃহীত অর্থ ব্যাংকে জমা দেওয়ার আগে হিসাব যাচাই করতে গিয়ে প্রথম অনিয়মের বিষয়টি ট্রাস্টের নজরে আসে। সাধারণত একটি দানবাক্সে ৬ থেকে ৭ লাখ রুপি থাকার কথা থাকলেও কয়েক সপ্তাহ ধরে ৫০০ রুপির নোটের বান্ডিলে অস্বাভাবিক ঘাটতি দেখা যায়। এরপর বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ সৃষ্টি হলে অর্থ গণনার কক্ষে গোপনে নজরদারি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়।
সেই ফুটেজ পর্যালোচনা করে তদন্তকারীরা দেখতে পান, একজন কর্মী ইচ্ছাকৃতভাবে ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে দৃশ্য আড়াল করে রাখতেন। এ সুযোগে তার সহযোগী বান্ডিল থেকে নোট বের করে নিজের পোশাকের ভেতরে লুকিয়ে ফেলতেন।
এসআইটির প্রতিবেদনে আত্মসাতের আরও একটি অভিনব পদ্ধতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযুক্তরা নোটের বান্ডিলে অতিরিক্ত টাকা গুঁজে রাখতেন। পরে কেবল বান্ডিলের সংখ্যা গণনা করে ভাউচার প্রস্তুত করা হতো। ব্যাংকে পাঠানোর আগে সেই অতিরিক্ত নোটগুলো সরিয়ে নেওয়া হলে কাগজে-কলমে হিসাব ঠিক থাকলেও প্রকৃত অর্থের বড় অংশ আত্মসাৎ করা সম্ভব হতো।
তদন্তে জানা গেছে, চুরি করা অর্থ প্রথমে মন্দির প্রাঙ্গণের একটি টয়লেটে লুকিয়ে রাখা হতো। পরে সুযোগ বুঝে সেগুলো বাইরে নিয়ে গিয়ে অন্যত্র ভাগ-বাটোয়ারা করা হতো।
তদন্তকারীদের ধারণা, ২০২৪ সালে মন্দির উদ্বোধনের পর থেকেই এই চক্র সক্রিয় ছিল। এসআইটির অন্তর্বর্তী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের ২৭ এপ্রিল থেকে ৫ জুন পর্যন্ত সময়ের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অন্তত ৭০টি চুরির ঘটনা শনাক্ত করা হয়েছে।
ঘটনার সঙ্গে কয়েকজন ব্যাংক কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও তদন্তে উঠে এসেছে। পাশাপাশি আরও কয়েকজন সরকারি কর্মচারীর ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষ হলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
যদিও বিভিন্ন গণমাধ্যমে ৭ থেকে সাড়ে ৭ কোটি রুপি আত্মসাতের দাবি করা হয়েছে, তবে সরকারি পর্যায়ে এখনো ক্ষতির চূড়ান্ত হিসাব প্রকাশ করা হয়নি। এ পর্যন্ত প্রায় ৭০ লাখ রুপি উদ্ধার করা হয়েছে এবং সেগুলোর গণনা ও যাচাই-বাছাই চলছে। তদন্তকারীরা মনে করছেন, উদ্ধার হওয়া অর্থের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।
এসআইটির প্রতিবেদনে যাদের নাম এসেছে তারা হলেন—অবিনাশ শুক্লা, অনুকল্প মিশ্র, লাভকুশ মিশ্র, মনীশ কুমার যাদব, করুণেশ পান্ডে, রামাশঙ্কর মিশ্র, সুভাষ শ্রীবাস্তব এবং রামশঙ্কর যাদব ওরফে তিন্নু যাদব। এদের সবাই নগদ অর্থ গণনা ও ব্যবস্থাপনার সঙ্গে কোনো না কোনোভাবে যুক্ত ছিলেন।
তদন্তে আরও উঠে এসেছে, অভিযুক্তদের কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সুপারিশে চাকরি পেয়েছিলেন। ট্রাস্টের প্রশাসনিক কর্মী ও চম্পত রায়ের সাবেক চালক তিন্নু যাদব তার চাচাতো ভাই মনীশ যাদবকে অর্থ গণনার দলে নিয়োগ করান। একইভাবে অনুকল্প মিশ্র তার ভগ্নিপতি লাভকুশ মিশ্রকে ওই দায়িত্বে যুক্ত করেন।
এসআইটির ভাষ্য অনুযায়ী, দায়িত্ব শেষে কর্মীদের শরীর তল্লাশির কোনো কার্যকর ব্যবস্থা ছিল না। নিরাপত্তা ব্যবস্থার এই দুর্বলতাকেই কাজে লাগিয়ে তারা নিয়মিত নগদ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী সরিয়ে ফেলতেন।
শুধু নগদ অর্থ নয়, ভক্তদের দান করা স্বর্ণালংকারও আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। তদন্তে জানা গেছে, কানের দুল, নাকফুল, চুড়ি, রামলালার উদ্দেশে উৎসর্গ করা গয়না এবং নূপুরসহ বিভিন্ন মূল্যবান অলংকারও চুরির শিকার হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্ত অবিনাশ শুক্লা আত্মসাৎ করা অর্থ নিজের ব্যাংক হিসাবেও জমা করতেন।
এসআইটির প্রতিবেদনে তিন্নু যাদব ও সুভাষ শ্রীবাস্তবকে পুরো চক্রের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তদন্তকারীদের মতে, অর্থ আত্মসাতের পরিকল্পনা প্রণয়ন থেকে বাস্তবায়ন পর্যন্ত এই দুজনের ভূমিকাই ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে সুভাষ শ্রীবাস্তব নতুন সদস্য সংগ্রহ এবং অর্থ গণনার দায়িত্ব বণ্টনের কাজ তদারকি করতেন।
এ ছাড়া গত তিন বছরের অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা পর্যালোচনায় দানবাক্সের সংখ্যা ও হিসাবের মধ্যে অসঙ্গতি, অপর্যাপ্ত সিসিটিভি নজরদারি, অর্থ গণনার তথ্য সংরক্ষণে দুর্বলতা এবং তদারকিতে জবাবদিহির ঘাটতির বিষয়ও উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব ত্রুটি ও দুর্বলতা আগেই চিহ্নিত হলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে নিরাপত্তা ব্যবস্থার অনেক নিয়ম কেবল কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ ছিল এবং বাস্তবে সেগুলোর প্রয়োগ ছিল অত্যন্ত দুর্বল।
উল্লেখ্য, ১৯৯২ সালে বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পর দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের রায়ের ভিত্তিতে অযোধ্যায় রাম মন্দির নির্মাণ করা হয়। ২০২৪ সালে উদ্বোধনের পর এটি দেশটির অন্যতম আলোচিত ধর্মীয় স্থাপনায় পরিণত হয়। তবে উদ্বোধনের অল্প সময়ের মধ্যেই দানবাক্সের অর্থ আত্মসাতের এই বড় কেলেঙ্কারি মন্দির প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।

অযোধ্যার রাম মন্দিরে সিসিটিভি ফাঁকি দিয়ে কোটি রুপি আত্মসাৎ
সিটিজেন ডেস্ক

ভারতের অযোধ্যার রাম মন্দিরের দানবাক্স থেকে কোটি কোটি রুপি আত্মসাতের ঘটনায় নতুন নতুন তথ্য সামনে আসছে। বিশেষ তদন্ত দল (এসআইটি) তাদের অন্তর্বর্তী প্রতিবেদনে জানিয়েছে, অর্থ আত্মসাতের জন্য একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিত কৌশলে কাজ করেছে। তারা সিসিটিভি ক্যামেরার নজরদারি এড়িয়ে নগদ অর্থ সরিয়ে ফেলত এবং পরে মন্দির চত্বরের ভেতরেই তা গোপন স্থানে লুকিয়ে রেখে বাইরে পাচার করত।
তদন্তের মধ্যেই বৃহস্পতিবার নৈতিক দায় স্বীকার করে রাম মন্দির ট্রাস্টের দুই গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা চম্পত রাই ও অনিল মিশ্র পদত্যাগ করেছেন। একই সময়ে গ্রেফতার হওয়া আট অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রেখেছে তদন্তকারীরা। খবর এনডিটিভির।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, মন্দিরের দানবাক্স থেকে সংগৃহীত অর্থ ব্যাংকে জমা দেওয়ার আগে হিসাব যাচাই করতে গিয়ে প্রথম অনিয়মের বিষয়টি ট্রাস্টের নজরে আসে। সাধারণত একটি দানবাক্সে ৬ থেকে ৭ লাখ রুপি থাকার কথা থাকলেও কয়েক সপ্তাহ ধরে ৫০০ রুপির নোটের বান্ডিলে অস্বাভাবিক ঘাটতি দেখা যায়। এরপর বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ সৃষ্টি হলে অর্থ গণনার কক্ষে গোপনে নজরদারি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়।
সেই ফুটেজ পর্যালোচনা করে তদন্তকারীরা দেখতে পান, একজন কর্মী ইচ্ছাকৃতভাবে ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে দৃশ্য আড়াল করে রাখতেন। এ সুযোগে তার সহযোগী বান্ডিল থেকে নোট বের করে নিজের পোশাকের ভেতরে লুকিয়ে ফেলতেন।
এসআইটির প্রতিবেদনে আত্মসাতের আরও একটি অভিনব পদ্ধতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযুক্তরা নোটের বান্ডিলে অতিরিক্ত টাকা গুঁজে রাখতেন। পরে কেবল বান্ডিলের সংখ্যা গণনা করে ভাউচার প্রস্তুত করা হতো। ব্যাংকে পাঠানোর আগে সেই অতিরিক্ত নোটগুলো সরিয়ে নেওয়া হলে কাগজে-কলমে হিসাব ঠিক থাকলেও প্রকৃত অর্থের বড় অংশ আত্মসাৎ করা সম্ভব হতো।
তদন্তে জানা গেছে, চুরি করা অর্থ প্রথমে মন্দির প্রাঙ্গণের একটি টয়লেটে লুকিয়ে রাখা হতো। পরে সুযোগ বুঝে সেগুলো বাইরে নিয়ে গিয়ে অন্যত্র ভাগ-বাটোয়ারা করা হতো।
তদন্তকারীদের ধারণা, ২০২৪ সালে মন্দির উদ্বোধনের পর থেকেই এই চক্র সক্রিয় ছিল। এসআইটির অন্তর্বর্তী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের ২৭ এপ্রিল থেকে ৫ জুন পর্যন্ত সময়ের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অন্তত ৭০টি চুরির ঘটনা শনাক্ত করা হয়েছে।
ঘটনার সঙ্গে কয়েকজন ব্যাংক কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও তদন্তে উঠে এসেছে। পাশাপাশি আরও কয়েকজন সরকারি কর্মচারীর ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষ হলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
যদিও বিভিন্ন গণমাধ্যমে ৭ থেকে সাড়ে ৭ কোটি রুপি আত্মসাতের দাবি করা হয়েছে, তবে সরকারি পর্যায়ে এখনো ক্ষতির চূড়ান্ত হিসাব প্রকাশ করা হয়নি। এ পর্যন্ত প্রায় ৭০ লাখ রুপি উদ্ধার করা হয়েছে এবং সেগুলোর গণনা ও যাচাই-বাছাই চলছে। তদন্তকারীরা মনে করছেন, উদ্ধার হওয়া অর্থের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।
এসআইটির প্রতিবেদনে যাদের নাম এসেছে তারা হলেন—অবিনাশ শুক্লা, অনুকল্প মিশ্র, লাভকুশ মিশ্র, মনীশ কুমার যাদব, করুণেশ পান্ডে, রামাশঙ্কর মিশ্র, সুভাষ শ্রীবাস্তব এবং রামশঙ্কর যাদব ওরফে তিন্নু যাদব। এদের সবাই নগদ অর্থ গণনা ও ব্যবস্থাপনার সঙ্গে কোনো না কোনোভাবে যুক্ত ছিলেন।
তদন্তে আরও উঠে এসেছে, অভিযুক্তদের কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সুপারিশে চাকরি পেয়েছিলেন। ট্রাস্টের প্রশাসনিক কর্মী ও চম্পত রায়ের সাবেক চালক তিন্নু যাদব তার চাচাতো ভাই মনীশ যাদবকে অর্থ গণনার দলে নিয়োগ করান। একইভাবে অনুকল্প মিশ্র তার ভগ্নিপতি লাভকুশ মিশ্রকে ওই দায়িত্বে যুক্ত করেন।
এসআইটির ভাষ্য অনুযায়ী, দায়িত্ব শেষে কর্মীদের শরীর তল্লাশির কোনো কার্যকর ব্যবস্থা ছিল না। নিরাপত্তা ব্যবস্থার এই দুর্বলতাকেই কাজে লাগিয়ে তারা নিয়মিত নগদ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী সরিয়ে ফেলতেন।
শুধু নগদ অর্থ নয়, ভক্তদের দান করা স্বর্ণালংকারও আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। তদন্তে জানা গেছে, কানের দুল, নাকফুল, চুড়ি, রামলালার উদ্দেশে উৎসর্গ করা গয়না এবং নূপুরসহ বিভিন্ন মূল্যবান অলংকারও চুরির শিকার হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্ত অবিনাশ শুক্লা আত্মসাৎ করা অর্থ নিজের ব্যাংক হিসাবেও জমা করতেন।
এসআইটির প্রতিবেদনে তিন্নু যাদব ও সুভাষ শ্রীবাস্তবকে পুরো চক্রের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তদন্তকারীদের মতে, অর্থ আত্মসাতের পরিকল্পনা প্রণয়ন থেকে বাস্তবায়ন পর্যন্ত এই দুজনের ভূমিকাই ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে সুভাষ শ্রীবাস্তব নতুন সদস্য সংগ্রহ এবং অর্থ গণনার দায়িত্ব বণ্টনের কাজ তদারকি করতেন।
এ ছাড়া গত তিন বছরের অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা পর্যালোচনায় দানবাক্সের সংখ্যা ও হিসাবের মধ্যে অসঙ্গতি, অপর্যাপ্ত সিসিটিভি নজরদারি, অর্থ গণনার তথ্য সংরক্ষণে দুর্বলতা এবং তদারকিতে জবাবদিহির ঘাটতির বিষয়ও উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব ত্রুটি ও দুর্বলতা আগেই চিহ্নিত হলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে নিরাপত্তা ব্যবস্থার অনেক নিয়ম কেবল কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ ছিল এবং বাস্তবে সেগুলোর প্রয়োগ ছিল অত্যন্ত দুর্বল।
উল্লেখ্য, ১৯৯২ সালে বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পর দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের রায়ের ভিত্তিতে অযোধ্যায় রাম মন্দির নির্মাণ করা হয়। ২০২৪ সালে উদ্বোধনের পর এটি দেশটির অন্যতম আলোচিত ধর্মীয় স্থাপনায় পরিণত হয়। তবে উদ্বোধনের অল্প সময়ের মধ্যেই দানবাক্সের অর্থ আত্মসাতের এই বড় কেলেঙ্কারি মন্দির প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।




