১২ বছরেও মেলেনি পাকা ভবন, ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা

১২ বছরেও মেলেনি পাকা ভবন, ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা
জামালপুর সংবাদদাতা

জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলায় মামলার কারণে দীর্ঘ ১২ বছর ধরে আটকে আছে দুর্গাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাকা ভবন নির্মাণ। ফলে ভাঙা টিনের জরাজীর্ণ ঘরে চলছে বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম। এতে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে শিক্ষার্থীরা।
বিদ্যালয়ের স্থান নির্ধারণ নিয়ে মামলাটি করেন উপজেলার মাইছানিরচর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রহমান। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও পরিচালকসহ কয়েকজনকে বিবাদী করে মামলাটি দায়ের করা হয়। বর্তমানে মামলাটি জামালপুরের আদালতে বিচারাধীন।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, মাইছানিরচর গ্রামে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৯০ সালে। ২০১৪ সালে বিদ্যালয়ের পাকা ভবন ব্রহ্মপুত্র নদে বিলীন হয়ে যায়। এরপর স্থান পরিবর্তন করে একই গ্রামের অন্য একটি স্থানে টিনের ঘর নির্মাণ করে পাঠদান কার্যক্রম শুরু হয়। ভবন নির্মাণের জন্য ওই এলাকার মূছা আলীসহ চারজন ব্যক্তি নামে ৪০ শতক জমি বিদ্যালয়ের জন্য দান করেন। তবে মামলার বাদীর দাবি, মাইছানিরচর গ্রামের পূর্বের স্থানের আশপাশেই বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণ করতে হবে।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য ও জমিদাতা মূছা আলী বলেন, বিদ্যালয়ের স্থান নিয়ে মাইছানিরচর এলাকার মানুষ দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। এ নিয়ে শুরু হয় টানাপোড়েন। ক্রমান্বয়ে বিরোধ আরও বাড়তে থাকে। বিদ্যালয়ের পাকা ভবন নির্মাণের জন্য বারবার অর্থ বরাদ্দ হলেও বিরোধের কারণে ভবন নির্মাণ সম্ভব হয়নি। এর জের ধরে ২০২১ সালে একই গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রহমান জামালপুরের আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলা চলাকালেও অর্থ বরাদ্দ হয়েছিল। কিন্তু আইনি জটিলতার কারণে ভবন নির্মাণ শুরু করা যায়নি।

শিক্ষার্থীর অভিভাবক আসাদুল ইসলাম বলেন, বিদ্যালয়ের উন্নয়নের স্বার্থে বিরোধ ও মামলার নিষ্পত্তি জরুরি। জরাজীর্ণ টিনের ঘরে শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত কষ্টে পড়াশোনা করছে। বিদ্যালয়ের মূল্যবান কাগজপত্রসহ অন্যান্য মালামালেরও কোনো নিরাপত্তা নেই।
মামলার বাদী আব্দুর রহমান বলেন, মাইছানিরচর গ্রামেই বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। নদীভাঙনের পর একই গ্রামের অন্য স্থানে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার দাবি করেছি। কিন্তু বর্তমানে বিদ্যালয়টি যে স্থানে রয়েছে, সেটি গ্রামের অধিকাংশ মানুষের পছন্দ নয়। এ কারণে আদালতে মামলা করেছি। আদালতের রায় অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেবো।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমির আলী বলেন, বর্তমানে বিদ্যালয়ে পাঁচজন শিক্ষক ও ১৩৪ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। ভবন না থাকায় শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত কষ্টে পড়াশোনা করছে। উপযুক্ত পরিবেশের অভাবে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না।
সার্বিক পরিস্থিতিতে মামলার বাদীর কাছে মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আবু হাসান মো. রেজাউল করিম বলেন, বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণের কাজ এলজিইডি করে থাকে। একাধিকবার অর্থ বরাদ্দ হলেও এলজিইডি ভবন নির্মাণ করতে পারেনি। মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নতুন করে আর কোনো অর্থ বরাদ্দ পাওয়া যাবে না। মামলা শেষ হলে নতুন করে উদ্যোগ নেওয়া হবে।

জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলায় মামলার কারণে দীর্ঘ ১২ বছর ধরে আটকে আছে দুর্গাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাকা ভবন নির্মাণ। ফলে ভাঙা টিনের জরাজীর্ণ ঘরে চলছে বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম। এতে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে শিক্ষার্থীরা।
বিদ্যালয়ের স্থান নির্ধারণ নিয়ে মামলাটি করেন উপজেলার মাইছানিরচর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রহমান। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও পরিচালকসহ কয়েকজনকে বিবাদী করে মামলাটি দায়ের করা হয়। বর্তমানে মামলাটি জামালপুরের আদালতে বিচারাধীন।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, মাইছানিরচর গ্রামে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৯০ সালে। ২০১৪ সালে বিদ্যালয়ের পাকা ভবন ব্রহ্মপুত্র নদে বিলীন হয়ে যায়। এরপর স্থান পরিবর্তন করে একই গ্রামের অন্য একটি স্থানে টিনের ঘর নির্মাণ করে পাঠদান কার্যক্রম শুরু হয়। ভবন নির্মাণের জন্য ওই এলাকার মূছা আলীসহ চারজন ব্যক্তি নামে ৪০ শতক জমি বিদ্যালয়ের জন্য দান করেন। তবে মামলার বাদীর দাবি, মাইছানিরচর গ্রামের পূর্বের স্থানের আশপাশেই বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণ করতে হবে।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য ও জমিদাতা মূছা আলী বলেন, বিদ্যালয়ের স্থান নিয়ে মাইছানিরচর এলাকার মানুষ দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। এ নিয়ে শুরু হয় টানাপোড়েন। ক্রমান্বয়ে বিরোধ আরও বাড়তে থাকে। বিদ্যালয়ের পাকা ভবন নির্মাণের জন্য বারবার অর্থ বরাদ্দ হলেও বিরোধের কারণে ভবন নির্মাণ সম্ভব হয়নি। এর জের ধরে ২০২১ সালে একই গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রহমান জামালপুরের আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলা চলাকালেও অর্থ বরাদ্দ হয়েছিল। কিন্তু আইনি জটিলতার কারণে ভবন নির্মাণ শুরু করা যায়নি।

শিক্ষার্থীর অভিভাবক আসাদুল ইসলাম বলেন, বিদ্যালয়ের উন্নয়নের স্বার্থে বিরোধ ও মামলার নিষ্পত্তি জরুরি। জরাজীর্ণ টিনের ঘরে শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত কষ্টে পড়াশোনা করছে। বিদ্যালয়ের মূল্যবান কাগজপত্রসহ অন্যান্য মালামালেরও কোনো নিরাপত্তা নেই।
মামলার বাদী আব্দুর রহমান বলেন, মাইছানিরচর গ্রামেই বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। নদীভাঙনের পর একই গ্রামের অন্য স্থানে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার দাবি করেছি। কিন্তু বর্তমানে বিদ্যালয়টি যে স্থানে রয়েছে, সেটি গ্রামের অধিকাংশ মানুষের পছন্দ নয়। এ কারণে আদালতে মামলা করেছি। আদালতের রায় অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেবো।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমির আলী বলেন, বর্তমানে বিদ্যালয়ে পাঁচজন শিক্ষক ও ১৩৪ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। ভবন না থাকায় শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত কষ্টে পড়াশোনা করছে। উপযুক্ত পরিবেশের অভাবে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না।
সার্বিক পরিস্থিতিতে মামলার বাদীর কাছে মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আবু হাসান মো. রেজাউল করিম বলেন, বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণের কাজ এলজিইডি করে থাকে। একাধিকবার অর্থ বরাদ্দ হলেও এলজিইডি ভবন নির্মাণ করতে পারেনি। মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নতুন করে আর কোনো অর্থ বরাদ্দ পাওয়া যাবে না। মামলা শেষ হলে নতুন করে উদ্যোগ নেওয়া হবে।

১২ বছরেও মেলেনি পাকা ভবন, ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা
জামালপুর সংবাদদাতা

জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলায় মামলার কারণে দীর্ঘ ১২ বছর ধরে আটকে আছে দুর্গাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাকা ভবন নির্মাণ। ফলে ভাঙা টিনের জরাজীর্ণ ঘরে চলছে বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম। এতে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে শিক্ষার্থীরা।
বিদ্যালয়ের স্থান নির্ধারণ নিয়ে মামলাটি করেন উপজেলার মাইছানিরচর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রহমান। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও পরিচালকসহ কয়েকজনকে বিবাদী করে মামলাটি দায়ের করা হয়। বর্তমানে মামলাটি জামালপুরের আদালতে বিচারাধীন।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, মাইছানিরচর গ্রামে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৯০ সালে। ২০১৪ সালে বিদ্যালয়ের পাকা ভবন ব্রহ্মপুত্র নদে বিলীন হয়ে যায়। এরপর স্থান পরিবর্তন করে একই গ্রামের অন্য একটি স্থানে টিনের ঘর নির্মাণ করে পাঠদান কার্যক্রম শুরু হয়। ভবন নির্মাণের জন্য ওই এলাকার মূছা আলীসহ চারজন ব্যক্তি নামে ৪০ শতক জমি বিদ্যালয়ের জন্য দান করেন। তবে মামলার বাদীর দাবি, মাইছানিরচর গ্রামের পূর্বের স্থানের আশপাশেই বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণ করতে হবে।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য ও জমিদাতা মূছা আলী বলেন, বিদ্যালয়ের স্থান নিয়ে মাইছানিরচর এলাকার মানুষ দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। এ নিয়ে শুরু হয় টানাপোড়েন। ক্রমান্বয়ে বিরোধ আরও বাড়তে থাকে। বিদ্যালয়ের পাকা ভবন নির্মাণের জন্য বারবার অর্থ বরাদ্দ হলেও বিরোধের কারণে ভবন নির্মাণ সম্ভব হয়নি। এর জের ধরে ২০২১ সালে একই গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রহমান জামালপুরের আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলা চলাকালেও অর্থ বরাদ্দ হয়েছিল। কিন্তু আইনি জটিলতার কারণে ভবন নির্মাণ শুরু করা যায়নি।

শিক্ষার্থীর অভিভাবক আসাদুল ইসলাম বলেন, বিদ্যালয়ের উন্নয়নের স্বার্থে বিরোধ ও মামলার নিষ্পত্তি জরুরি। জরাজীর্ণ টিনের ঘরে শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত কষ্টে পড়াশোনা করছে। বিদ্যালয়ের মূল্যবান কাগজপত্রসহ অন্যান্য মালামালেরও কোনো নিরাপত্তা নেই।
মামলার বাদী আব্দুর রহমান বলেন, মাইছানিরচর গ্রামেই বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। নদীভাঙনের পর একই গ্রামের অন্য স্থানে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার দাবি করেছি। কিন্তু বর্তমানে বিদ্যালয়টি যে স্থানে রয়েছে, সেটি গ্রামের অধিকাংশ মানুষের পছন্দ নয়। এ কারণে আদালতে মামলা করেছি। আদালতের রায় অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেবো।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমির আলী বলেন, বর্তমানে বিদ্যালয়ে পাঁচজন শিক্ষক ও ১৩৪ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। ভবন না থাকায় শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত কষ্টে পড়াশোনা করছে। উপযুক্ত পরিবেশের অভাবে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না।
সার্বিক পরিস্থিতিতে মামলার বাদীর কাছে মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আবু হাসান মো. রেজাউল করিম বলেন, বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণের কাজ এলজিইডি করে থাকে। একাধিকবার অর্থ বরাদ্দ হলেও এলজিইডি ভবন নির্মাণ করতে পারেনি। মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নতুন করে আর কোনো অর্থ বরাদ্দ পাওয়া যাবে না। মামলা শেষ হলে নতুন করে উদ্যোগ নেওয়া হবে।




