এক মাস ধরে তীব্র পানি সংকটে মিরপুরবাসী

এক মাস ধরে তীব্র পানি সংকটে মিরপুরবাসী
মেহেদী হাছান মাহীম

রাজধানীর মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় অনিয়মিত পানি সরবরাহে মানুষের দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হচ্ছে। রান্নাবান্না, গোসল থেকে শুরু করে শৌচাগার ব্যবহারের মতো মৌলিক কাজেও চরম দুর্ভোগে পড়েছেন বাসিন্দারা।
তবে একই এলাকার কিছু বাসিন্দা বলছেন, তাদের বাসায় পানির কোনো সংকট নেই। ফলে একই এলাকায় ভিন্ন ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে।
সোমবার (২৯ জুন) মিরপুরের শেওড়াপাড়া, পীরেরবাগ, বেলতলা, আনন্দ বাজার ও মিরপুর-১১ এলাকার বিভিন্ন স্থানে এমন চিত্র দেখা গেছে।
এর আগে রবিবার (২৮ জুন) দুপুরে পানির তীব্র সংকটে ক্ষুব্ধ হয়ে শেওড়াপাড়ার শতাধিক বাসিন্দা বালতি ও খালি বোতল হাতে নিয়ে মূল সড়ক অবরোধ করেন। প্রায় ২০ মিনিট ধরে চলা বিক্ষোভে সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে রাতের মধ্যেই পানি সরবরাহের আশ্বাস দেওয়া হলে বিক্ষোভকারীরা সড়ক ছেড়ে দেন।
স্থানীয়দের ভোগান্তির চিত্র
শেওড়াপাড়ার পীরেরবাগ, বেলতলা ও আনন্দ বাজার এলাকায় প্রায় এক মাস ধরে অনিয়মিত পানি সরবরাহ চলছে। কোথাও দিনের পর দিন পানি মিলছে না, আবার কোথাও নির্দিষ্ট সময়ের জন্য পানি এলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম।
পীরেরবাগের ৫৫/৭ নম্বরের বাসিন্দা মো. এনায়েত বলেন, আগে প্রায় দুই মাস এলাকায় পানির তীব্র সংকট ছিল। প্রায় ১০ দিন আগে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও আনন্দ বাজার এলাকায় এখনো সংকট রয়েছে। তিনি বলেন, পানি না থাকায় আশপাশের বাসা থেকে পানি এনে ব্যবহার করতে হয়েছে।
আনন্দ বাজারের বাসিন্দা সমেস জানান, ওয়াসার গাড়িতে পানি সরবরাহ করা হলেও তা নিয়মিত নয়। একদিন পানি দেওয়ার পর তিন দিন আর কোনো পানি আসে না। তিনি বলেন, পানির অভাবে ঠিকমতো রান্না করতে পারিনি। বাচ্চাদের গোসল করানো এবং শৌচাগার ব্যবহারের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজেও ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে।
আনন্দ বাজার স্কুলসংলগ্ন ১১৮ নম্বর বাড়িতে থাকেন মিলন। তিনি জানান, গত ১০ দিন ধরে তাদের বাসায় পানি অনিয়মিত।
মিলন বলেন, আংশিক পানি আসে, কিছুক্ষণ পর আবার চলে যায়। গতকাল সকালে ওয়াসার লোকজন এসে লাইনের কাজ করেছে। এখন পানি আছে, তবে আবার কখন বন্ধ হয়ে যায় সেই দুশ্চিন্তায় আছি।
তিনি আরও বলেন, একই এলাকায় কিছু বাসায় পানি থাকলেও অনেক বাসায় একেবারেই নেই।
স্থানীয় বাসিন্দা জলিল উদ্দিন বলেন, প্রায় এক মাস ধরে কখনো পানি পাওয়া যাচ্ছে, আবার কখনো মিলছে না।
একই এলাকার বাসিন্দা হারুনর রশিদ বলেন, গত ১৫ থেকে ২০ দিন ধরে পানির সংকট বেড়েছে। সকাল ১০টার দিকে পানি আসে, দুপুর ২টা থেকে ৩টার মধ্যে চলে যায়। আবার কোনো কোনো দিন রাত ৩টার দিকে অল্প সময়ের জন্য পানি পাওয়া যায়।
তবে সবাই একই সমস্যার মুখোমুখি নন। পশ্চিম শেওড়াপাড়ার বাসিন্দা মিজান জানান, প্রায় ১০ বছর ধরে তিনি এ এলাকায় বসবাস করছেন, কিন্তু এখন পর্যন্ত পানির কোনো সমস্যা হয়নি।
বেলতলার বাসিন্দা ফারজানা বেগমও জানান, তার বাসায় পানি সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে।
এদিকে, আনন্দ বাজার এলাকায় নতুন একটি পানির পাম্প নির্মাণের কাজ শুরু হতে দেখা গেছে। প্রকল্পটির সাইট সুপারভাইজার মো. শাহজাহান জানান, দুই দিন আগে কাজ শুরু হয়েছে। কাজ শেষ হতে প্রায় দেড় মাস লাগতে পারে, তবে নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে পানি সংকটের কারণ সম্পর্কে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। সমস্যার কারণ ও সমাধান সম্পর্কে ওয়াসা কর্তৃপক্ষই বিস্তারিত বলতে পারবে বলে জানান তিনি।
এদিকে, মিরপুর-১১ নম্বরের নান্নু মার্কেট ও আশপাশের এলাকাতেও পানি সংকট দেখা দিয়েছে। বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে পানি সরবরাহ অনিয়মিত। প্রয়োজনীয় পানি সংগ্রহ করতে অনেক সময় পাশের এলাকা বা প্রতিবেশীর ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এর ফলে তাদের দৈনন্দিন জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।
যা বলছে ওয়াসা
ঢাকা ওয়াসা সূত্রে জানা গেছে, ভাকুর্তা শোধনাগার থেকে স্বাভাবিক সময়ে বৃহত্তর মিরপুর এলাকায় প্রতিদিন প্রায় ১২ কোটি লিটার পানি সরবরাহ করা হয়। তবে ২০ জুন শোধনাগারের ট্রান্সফরমার ও জেনারেটরে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় ওই দিন সরবরাহ নেমে আসে মাত্র ৭ কোটি লিটারে। পরবর্তী দুইদিন ১০ কোটি লিটার করে পানি সরবরাহ করা সম্ভব হলেও, তিন দিনের ব্যবধানে স্বাভাবিক সরবরাহের তুলনায় মোট ৯ কোটি লিটার পানি কম পেয়েছে মিরপুরবাসী।
ওয়াসার কর্মকর্তারা জানান, ভাকুর্তা শোধনাগারের পানি বৃহত্তর মিরপুর এলাকার প্রধান উৎস। উৎপাদনে সামান্য ঘাটতি হলেও শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়া, মনিপুর ও আশপাশের এলাকায় এর সরাসরি প্রভাব পড়ে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় আগে থেকেই চাহিদার তুলনায় পানি সরবরাহ কম ছিল, সেখানে এই সংকট আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।

রাজধানীর মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় অনিয়মিত পানি সরবরাহে মানুষের দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হচ্ছে। রান্নাবান্না, গোসল থেকে শুরু করে শৌচাগার ব্যবহারের মতো মৌলিক কাজেও চরম দুর্ভোগে পড়েছেন বাসিন্দারা।
তবে একই এলাকার কিছু বাসিন্দা বলছেন, তাদের বাসায় পানির কোনো সংকট নেই। ফলে একই এলাকায় ভিন্ন ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে।
সোমবার (২৯ জুন) মিরপুরের শেওড়াপাড়া, পীরেরবাগ, বেলতলা, আনন্দ বাজার ও মিরপুর-১১ এলাকার বিভিন্ন স্থানে এমন চিত্র দেখা গেছে।
এর আগে রবিবার (২৮ জুন) দুপুরে পানির তীব্র সংকটে ক্ষুব্ধ হয়ে শেওড়াপাড়ার শতাধিক বাসিন্দা বালতি ও খালি বোতল হাতে নিয়ে মূল সড়ক অবরোধ করেন। প্রায় ২০ মিনিট ধরে চলা বিক্ষোভে সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে রাতের মধ্যেই পানি সরবরাহের আশ্বাস দেওয়া হলে বিক্ষোভকারীরা সড়ক ছেড়ে দেন।
স্থানীয়দের ভোগান্তির চিত্র
শেওড়াপাড়ার পীরেরবাগ, বেলতলা ও আনন্দ বাজার এলাকায় প্রায় এক মাস ধরে অনিয়মিত পানি সরবরাহ চলছে। কোথাও দিনের পর দিন পানি মিলছে না, আবার কোথাও নির্দিষ্ট সময়ের জন্য পানি এলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম।
পীরেরবাগের ৫৫/৭ নম্বরের বাসিন্দা মো. এনায়েত বলেন, আগে প্রায় দুই মাস এলাকায় পানির তীব্র সংকট ছিল। প্রায় ১০ দিন আগে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও আনন্দ বাজার এলাকায় এখনো সংকট রয়েছে। তিনি বলেন, পানি না থাকায় আশপাশের বাসা থেকে পানি এনে ব্যবহার করতে হয়েছে।
আনন্দ বাজারের বাসিন্দা সমেস জানান, ওয়াসার গাড়িতে পানি সরবরাহ করা হলেও তা নিয়মিত নয়। একদিন পানি দেওয়ার পর তিন দিন আর কোনো পানি আসে না। তিনি বলেন, পানির অভাবে ঠিকমতো রান্না করতে পারিনি। বাচ্চাদের গোসল করানো এবং শৌচাগার ব্যবহারের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজেও ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে।
আনন্দ বাজার স্কুলসংলগ্ন ১১৮ নম্বর বাড়িতে থাকেন মিলন। তিনি জানান, গত ১০ দিন ধরে তাদের বাসায় পানি অনিয়মিত।
মিলন বলেন, আংশিক পানি আসে, কিছুক্ষণ পর আবার চলে যায়। গতকাল সকালে ওয়াসার লোকজন এসে লাইনের কাজ করেছে। এখন পানি আছে, তবে আবার কখন বন্ধ হয়ে যায় সেই দুশ্চিন্তায় আছি।
তিনি আরও বলেন, একই এলাকায় কিছু বাসায় পানি থাকলেও অনেক বাসায় একেবারেই নেই।
স্থানীয় বাসিন্দা জলিল উদ্দিন বলেন, প্রায় এক মাস ধরে কখনো পানি পাওয়া যাচ্ছে, আবার কখনো মিলছে না।
একই এলাকার বাসিন্দা হারুনর রশিদ বলেন, গত ১৫ থেকে ২০ দিন ধরে পানির সংকট বেড়েছে। সকাল ১০টার দিকে পানি আসে, দুপুর ২টা থেকে ৩টার মধ্যে চলে যায়। আবার কোনো কোনো দিন রাত ৩টার দিকে অল্প সময়ের জন্য পানি পাওয়া যায়।
তবে সবাই একই সমস্যার মুখোমুখি নন। পশ্চিম শেওড়াপাড়ার বাসিন্দা মিজান জানান, প্রায় ১০ বছর ধরে তিনি এ এলাকায় বসবাস করছেন, কিন্তু এখন পর্যন্ত পানির কোনো সমস্যা হয়নি।
বেলতলার বাসিন্দা ফারজানা বেগমও জানান, তার বাসায় পানি সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে।
এদিকে, আনন্দ বাজার এলাকায় নতুন একটি পানির পাম্প নির্মাণের কাজ শুরু হতে দেখা গেছে। প্রকল্পটির সাইট সুপারভাইজার মো. শাহজাহান জানান, দুই দিন আগে কাজ শুরু হয়েছে। কাজ শেষ হতে প্রায় দেড় মাস লাগতে পারে, তবে নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে পানি সংকটের কারণ সম্পর্কে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। সমস্যার কারণ ও সমাধান সম্পর্কে ওয়াসা কর্তৃপক্ষই বিস্তারিত বলতে পারবে বলে জানান তিনি।
এদিকে, মিরপুর-১১ নম্বরের নান্নু মার্কেট ও আশপাশের এলাকাতেও পানি সংকট দেখা দিয়েছে। বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে পানি সরবরাহ অনিয়মিত। প্রয়োজনীয় পানি সংগ্রহ করতে অনেক সময় পাশের এলাকা বা প্রতিবেশীর ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এর ফলে তাদের দৈনন্দিন জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।
যা বলছে ওয়াসা
ঢাকা ওয়াসা সূত্রে জানা গেছে, ভাকুর্তা শোধনাগার থেকে স্বাভাবিক সময়ে বৃহত্তর মিরপুর এলাকায় প্রতিদিন প্রায় ১২ কোটি লিটার পানি সরবরাহ করা হয়। তবে ২০ জুন শোধনাগারের ট্রান্সফরমার ও জেনারেটরে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় ওই দিন সরবরাহ নেমে আসে মাত্র ৭ কোটি লিটারে। পরবর্তী দুইদিন ১০ কোটি লিটার করে পানি সরবরাহ করা সম্ভব হলেও, তিন দিনের ব্যবধানে স্বাভাবিক সরবরাহের তুলনায় মোট ৯ কোটি লিটার পানি কম পেয়েছে মিরপুরবাসী।
ওয়াসার কর্মকর্তারা জানান, ভাকুর্তা শোধনাগারের পানি বৃহত্তর মিরপুর এলাকার প্রধান উৎস। উৎপাদনে সামান্য ঘাটতি হলেও শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়া, মনিপুর ও আশপাশের এলাকায় এর সরাসরি প্রভাব পড়ে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় আগে থেকেই চাহিদার তুলনায় পানি সরবরাহ কম ছিল, সেখানে এই সংকট আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।

এক মাস ধরে তীব্র পানি সংকটে মিরপুরবাসী
মেহেদী হাছান মাহীম

রাজধানীর মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় অনিয়মিত পানি সরবরাহে মানুষের দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হচ্ছে। রান্নাবান্না, গোসল থেকে শুরু করে শৌচাগার ব্যবহারের মতো মৌলিক কাজেও চরম দুর্ভোগে পড়েছেন বাসিন্দারা।
তবে একই এলাকার কিছু বাসিন্দা বলছেন, তাদের বাসায় পানির কোনো সংকট নেই। ফলে একই এলাকায় ভিন্ন ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে।
সোমবার (২৯ জুন) মিরপুরের শেওড়াপাড়া, পীরেরবাগ, বেলতলা, আনন্দ বাজার ও মিরপুর-১১ এলাকার বিভিন্ন স্থানে এমন চিত্র দেখা গেছে।
এর আগে রবিবার (২৮ জুন) দুপুরে পানির তীব্র সংকটে ক্ষুব্ধ হয়ে শেওড়াপাড়ার শতাধিক বাসিন্দা বালতি ও খালি বোতল হাতে নিয়ে মূল সড়ক অবরোধ করেন। প্রায় ২০ মিনিট ধরে চলা বিক্ষোভে সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে রাতের মধ্যেই পানি সরবরাহের আশ্বাস দেওয়া হলে বিক্ষোভকারীরা সড়ক ছেড়ে দেন।
স্থানীয়দের ভোগান্তির চিত্র
শেওড়াপাড়ার পীরেরবাগ, বেলতলা ও আনন্দ বাজার এলাকায় প্রায় এক মাস ধরে অনিয়মিত পানি সরবরাহ চলছে। কোথাও দিনের পর দিন পানি মিলছে না, আবার কোথাও নির্দিষ্ট সময়ের জন্য পানি এলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম।
পীরেরবাগের ৫৫/৭ নম্বরের বাসিন্দা মো. এনায়েত বলেন, আগে প্রায় দুই মাস এলাকায় পানির তীব্র সংকট ছিল। প্রায় ১০ দিন আগে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও আনন্দ বাজার এলাকায় এখনো সংকট রয়েছে। তিনি বলেন, পানি না থাকায় আশপাশের বাসা থেকে পানি এনে ব্যবহার করতে হয়েছে।
আনন্দ বাজারের বাসিন্দা সমেস জানান, ওয়াসার গাড়িতে পানি সরবরাহ করা হলেও তা নিয়মিত নয়। একদিন পানি দেওয়ার পর তিন দিন আর কোনো পানি আসে না। তিনি বলেন, পানির অভাবে ঠিকমতো রান্না করতে পারিনি। বাচ্চাদের গোসল করানো এবং শৌচাগার ব্যবহারের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজেও ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে।
আনন্দ বাজার স্কুলসংলগ্ন ১১৮ নম্বর বাড়িতে থাকেন মিলন। তিনি জানান, গত ১০ দিন ধরে তাদের বাসায় পানি অনিয়মিত।
মিলন বলেন, আংশিক পানি আসে, কিছুক্ষণ পর আবার চলে যায়। গতকাল সকালে ওয়াসার লোকজন এসে লাইনের কাজ করেছে। এখন পানি আছে, তবে আবার কখন বন্ধ হয়ে যায় সেই দুশ্চিন্তায় আছি।
তিনি আরও বলেন, একই এলাকায় কিছু বাসায় পানি থাকলেও অনেক বাসায় একেবারেই নেই।
স্থানীয় বাসিন্দা জলিল উদ্দিন বলেন, প্রায় এক মাস ধরে কখনো পানি পাওয়া যাচ্ছে, আবার কখনো মিলছে না।
একই এলাকার বাসিন্দা হারুনর রশিদ বলেন, গত ১৫ থেকে ২০ দিন ধরে পানির সংকট বেড়েছে। সকাল ১০টার দিকে পানি আসে, দুপুর ২টা থেকে ৩টার মধ্যে চলে যায়। আবার কোনো কোনো দিন রাত ৩টার দিকে অল্প সময়ের জন্য পানি পাওয়া যায়।
তবে সবাই একই সমস্যার মুখোমুখি নন। পশ্চিম শেওড়াপাড়ার বাসিন্দা মিজান জানান, প্রায় ১০ বছর ধরে তিনি এ এলাকায় বসবাস করছেন, কিন্তু এখন পর্যন্ত পানির কোনো সমস্যা হয়নি।
বেলতলার বাসিন্দা ফারজানা বেগমও জানান, তার বাসায় পানি সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে।
এদিকে, আনন্দ বাজার এলাকায় নতুন একটি পানির পাম্প নির্মাণের কাজ শুরু হতে দেখা গেছে। প্রকল্পটির সাইট সুপারভাইজার মো. শাহজাহান জানান, দুই দিন আগে কাজ শুরু হয়েছে। কাজ শেষ হতে প্রায় দেড় মাস লাগতে পারে, তবে নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে পানি সংকটের কারণ সম্পর্কে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। সমস্যার কারণ ও সমাধান সম্পর্কে ওয়াসা কর্তৃপক্ষই বিস্তারিত বলতে পারবে বলে জানান তিনি।
এদিকে, মিরপুর-১১ নম্বরের নান্নু মার্কেট ও আশপাশের এলাকাতেও পানি সংকট দেখা দিয়েছে। বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে পানি সরবরাহ অনিয়মিত। প্রয়োজনীয় পানি সংগ্রহ করতে অনেক সময় পাশের এলাকা বা প্রতিবেশীর ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এর ফলে তাদের দৈনন্দিন জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।
যা বলছে ওয়াসা
ঢাকা ওয়াসা সূত্রে জানা গেছে, ভাকুর্তা শোধনাগার থেকে স্বাভাবিক সময়ে বৃহত্তর মিরপুর এলাকায় প্রতিদিন প্রায় ১২ কোটি লিটার পানি সরবরাহ করা হয়। তবে ২০ জুন শোধনাগারের ট্রান্সফরমার ও জেনারেটরে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় ওই দিন সরবরাহ নেমে আসে মাত্র ৭ কোটি লিটারে। পরবর্তী দুইদিন ১০ কোটি লিটার করে পানি সরবরাহ করা সম্ভব হলেও, তিন দিনের ব্যবধানে স্বাভাবিক সরবরাহের তুলনায় মোট ৯ কোটি লিটার পানি কম পেয়েছে মিরপুরবাসী।
ওয়াসার কর্মকর্তারা জানান, ভাকুর্তা শোধনাগারের পানি বৃহত্তর মিরপুর এলাকার প্রধান উৎস। উৎপাদনে সামান্য ঘাটতি হলেও শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়া, মনিপুর ও আশপাশের এলাকায় এর সরাসরি প্রভাব পড়ে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় আগে থেকেই চাহিদার তুলনায় পানি সরবরাহ কম ছিল, সেখানে এই সংকট আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।

মিরপুরে তীব্র পানির সংকট, ক্ষুব্ধ বাসিন্দাদের সড়ক অবরোধ

