শিরোনাম

রাজউকে পছন্দমাফিক সাজানো হলো বিসি কমিটি

রাজউকে পছন্দমাফিক সাজানো হলো বিসি কমিটি
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রধান কার্যালয়। ছবি: সিটিজেন জার্নাল

চেয়ারম্যানের পছন্দের কর্মকর্তাদের নিয়ে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) নতুন ইমারত নির্মাণ (বিল্ডিং কনস্ট্রাকশন বা বিসি) কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিশেষ করে ৮ তলার অধিক ভবনের নকশা অনুমোদনের জন্য গঠিত গুরুত্বপূর্ণ কমিটিগুলোর কয়েকটিতে পদ বাদ দিয়ে নির্দিষ্ট কর্মকর্তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে রাজউকের পাঁচ বোর্ড সদস্যের মধ্যে তিনজনকে রাখা হলেও বাকি দুই সদস্যকে বাদ দেওয়ায় প্রশ্ন তুলছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

সূত্র জানিয়েছে, ইমারতের নকশা অনুমোদনের জন্য নতুন করে বিসি কমিটি পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে রাজউক। এ লক্ষ্যে সম্প্রতি একটি খসড়া প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে। খসড়ায় ১ থেকে ৭ তলা পর্যন্ত ভবনের নকশা অনুমোদনের জন্য ৮টি জোনের ২৪টি পৃথক কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রতিটি সাব-জোনে পাঁচ সদস্যের কমিটি রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট জোনের পরিচালককে সভাপতি, নির্বাহী প্রকৌশলী (বাস্তবায়ন), চেয়ারম্যান মনোনীত একজন উপস্থপতি এবং একজন উপপরিচালককে সদস্য করা হয়েছে। আর সংশ্লিষ্ট অথরাইজড অফিসারকে করা হয়েছে সদস্য সচিব।

তবে মূল আলোচনায় এসেছে ৮ তলার অধিক ভবনের নকশা অনুমোদনকারী কমিটিগুলো। এসব কমিটিকে তিনটি অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে। অঞ্চল ‘ক’-তে রাখা হয়েছে জোন-১, ২ ও ৪; অঞ্চল ‘খ’-তে জোন-৫, ৬ ও ৭; আর অঞ্চল ‘গ’-তে জোন-৩ ও ৮।

তবে মূল আলোচনায় এসেছে ৮ তলার অধিক ভবনের নকশা অনুমোদনকারী কমিটিগুলো। এসব কমিটিকে তিনটি অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে। অঞ্চল ‘ক’-তে রাখা হয়েছে জোন-১, ২ ও ৪; অঞ্চল ‘খ’-তে জোন-৫, ৬ ও ৭; আর অঞ্চল ‘গ’-তে জোন-৩ ও ৮।

প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, অঞ্চল ‘ক’ কমিটির সভাপতি করা হয়েছে সদস্য (পরিকল্পনা)’কে। সদস্য হিসেবে আছেন পরিচালক (উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ-১), তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (ডিজাইন), তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (বৈদ্যুতিক), নগর স্থপতি, নগর পরিকল্পনাবিদ (নগর পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন), বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের একজন প্রতিনিধি এবং সদস্য সচিব করা হয়েছে সংশ্লিষ্ট সাব-জোনের অথরাইজড অফিসারকে।

অঞ্চল ‘খ’ কমিটির সভাপতি করা হয়েছে সদস্য (উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ)’কে। সদস্য হিসেবে খাকছেন পরিচালক (উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ-২), তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (প্রকল্প), তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (বৈদ্যুতিক), সাঈদ রেজাউল হক, কাজী সাঈদ মোর্শেদ, ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের প্রতিনিধি। সংশ্লিষ্ট সাব-জোনের অথরাইজড অফিসারকে সদস্য সচিব হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। খসড়া কমিটিতে সাঈদ রেজাউল হক ও কাজী সাঈদ মোর্শেদের পদ উল্লেখ করা হয়েছে তাদের নামের ডান পাশে। যার মানে তারা দুজন ভবিষ্যতে নির্দিষ্ট ওই পদে না থাকলেও কমিটিতে থেকে যাবেন। এই মুহূর্তে সাঈদ রেজাউল হকের পদবি উপ নগরপরিকল্পনাবিদ আর কাজী সাঈদ মোর্শেদ উপস্থপতি।

অঞ্চল ‘গ’-এর কমিটিও একই ধাচে করা হয়েছে। সভাপতি করা হয়েছে সদস্য (উন্নয়ন)’কে। সদস্য হিসেবে আছেন পরিচালক (উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ-১/২), খন্দকার মো. ওয়াহিদ সাদিক, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (বৈদ্যুতিক), নগর পরিকল্পনাবিদ (পরিকল্পনা প্রণয়ন), মো. সাবিবর আহমেদ, ইনস্টিটিউট অব আর্কিটেক্টস বাংলাদেশের প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট সাব-জোনের অথরাইজড অফিসারকে সদস্য সচিব করা হয়েছে। খন্দকার মো. ওয়াহিদ সাদিক বর্তমানে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) পদে আছেন আর মো. সাবিবর আহমেদ উপস্থপতি।

কমিটি গঠনের এই ধরন নিয়েই আপত্তি তুলছেন রাজউকের কর্মকর্তারা। তাদের মতে, সরকারি কমিটিতে সাধারণত সদস্যদের পদবির ভিত্তিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। আগের কমিটিগুলো সেই অনুযায়ী করা হয়েছে। কিন্তু এবার অঞ্চল ‘খ’ ও ‘গ’ কমিটিতে কয়েকটি ক্ষেত্রে পদ উল্লেখ না করে নির্দিষ্ট কর্মকর্তার নাম সরাসরি যুক্ত করা হয়েছে। ৭ তলা পর্যন্ত নকশা অনুমোদন কমিটিতে অবশ্য সদস্যদের পদবির ভিত্তিতেই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

রাজউকের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ৮ তলার অধিক ভবনের নকশা অনুমোদনের ক্ষেত্রে বড় অঙ্কের আর্থিক লেনদেন হয়ে থাকে। সে কারণেই চেয়ারম্যান নিজের আস্থাভাজনদের দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কমিটি সাজিয়েছেন।

রাজউকের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ৮ তলার অধিক ভবনের নকশা অনুমোদনের ক্ষেত্রে বড় অঙ্কের আর্থিক লেনদেন হয়ে থাকে। সে কারণেই চেয়ারম্যান নিজের আস্থাভাজনদের দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কমিটি সাজিয়েছেন।

জানা যায়, রাজউকের পাঁচ বোর্ড সদস্যের মধ্যে সদস্য (পরিকল্পনা), সদস্য (উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ) ও সদস্য (উন্নয়ন) এই তিনজনকে কমিটিতে রাখা হলেও সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) এবং সদস্য (অর্থ ও প্রশাসন)’কে বাইরে রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া আগের কমিটিগুলোতে শুধু রাজউকের কর্মকর্তারা থাকলেও এবার বাইরের বিভিন্ন পেশাজীবী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে আছে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স, ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ এবং ইনস্টিটিউট অব আর্কিটেক্টস বাংলাদেশের প্রতিনিধি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজউকের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রিয়াজুল ইসলাম মুঠোফোনে সিটিজেন জার্নালকে বলেন, ‘আমি এই কমিটির সদস্য নই। বোর্ডের সদস্যরা এই বিষয়ে জানে।’

/বিবি/