শিরোনাম

নিউইয়র্ক টাইমসের বিরুদ্ধে মানহানি মামলার ঘোষণা নেতানিয়াহুর

সিটিজেন ডেস্ক
নিউইয়র্ক টাইমসের বিরুদ্ধে মানহানি মামলার ঘোষণা নেতানিয়াহুর
ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন সংবাদ মাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করার ঘোষণা দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রধানমন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে এ আইনি পদক্ষেপের কথা জানান। ফিলিস্তিনি বন্দিদের ওপর ইসরায়েলি কারারক্ষীদের যৌন নিপীড়নের অভিযোগ তুলে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় নেতানিয়াহু উল্লেখ করেন, তিনি তার আইনি উপদেষ্টাদের নিউইয়র্ক টাইমস এবং কলামিস্ট নিকোলাস ক্রিস্টফের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর মতে, এ প্রতিবেদন ইসরায়েলি সেনাদের মর্যাদাহানি করেছে এবং ধর্ষণের মতো একটি গুরুতর বিষয়ে মিথ্যা অপবাদ ছড়িয়ে হামাসের মতো সন্ত্রাসীদের সঙ্গে ইসরায়েলের বীর সেনাদের একটি কাল্পনিক সমান্তরাল রেখা টানার চেষ্টা করেছে। ইসরায়েলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ কলামটিকে আধুনিক সংবাদমাধ্যমে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রকাশিত অন্যতম জঘন্য ও বিকৃত মিথ্যা হিসেবে অভিহিত করেছে।

নিকোলাস ক্রিস্টফের দ্য সাইলেন্স দ্যাট মিটস দ্য রেপ অফ ফিলিস্তিনিয়ানস শীর্ষক কলামটি গত সোমবার প্রকাশিত হয়, যেখানে সাংবাদিক সামি আল-সাইসহ ১৪ জন ফিলিস্তিনি নারী ও পুরুষের জবানবন্দি তুলে ধরা হয়েছে। তারা অভিযোগ করেছেন, বন্দিদশায় ইসরায়েলি রক্ষীরা তাদের মারধর ও বারবার যৌন নির্যাতন করেছে। যদিও ক্রিস্টফ লিখেছেন, ইসরায়েলি নেতারা সরাসরি ধর্ষণের আদেশ দেন এমন কোনো প্রমাণ নেই। তবে তিনি জাতিসংঘ এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার বরাত দিয়ে উল্লেখ করেছেন, যৌন সহিংসতা ইসরায়েলের নিরাপত্তা ব্যবস্থার একটি স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর বা নিয়মিত প্রক্রিয়ায় পরিণত হয়েছে। কলামটিতে সেভ দ্য চিলড্রেন এর ২০২৫ সালের একটি জরিপ উদ্ধৃত করা হয়েছে, যেখানে দেখা গেছে আটক হওয়া অর্ধেকেরও বেশি ফিলিস্তিনি শিশু যৌন সহিংসতার প্রত্যক্ষদর্শী বা ভুক্তভোগী। এছাড়া কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস এর তথ্যানুয়ায়ী, ৫৯ জন ফিলিস্তিনি সাংবাদিকের মধ্যে ২৯ শতাংশ যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়ার কথা জানিয়েছেন এবং তিন শতাংশ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, নিউইয়র্ক টাইমস কর্তৃপক্ষ তাদের প্রতিবেদনের সত্যতায় অনড় রয়েছে। পত্রিকার মুখপাত্র চার্লি স্ট্যাডল্যান্ডার এক বিবৃতিতে জানান, কলামটি প্রকাশের আগে তারা স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে তথ্যের সত্যতা যাচাই করেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ক্রিস্টফের এ বিশ্লেষণধর্মী কাজে জাতিসংঘ, মানবাধিকার সংস্থা এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের নির্ভরযোগ্য সাক্ষ্য ব্যবহার করা হয়েছে। স্ট্যাডল্যান্ডার আরও স্পষ্ট করেন, পত্রিকাটি এ কলামটি প্রত্যাহার করার কোনো চিন্তা করছে না এবং প্রকাশিত তথ্যের পেছনে তারা শক্ত অবস্থানে রয়েছে। ক্রিস্টফ তার কলামে প্রশ্ন তুলেছেন, হামাস কর্তৃক ইসরায়েলি নারীদের ওপর নির্যাতনের তদন্তকে ইসরায়েল স্বাগত জানালেও ফিলিস্তিনিদের ওপর নিজ বাহিনীর নির্যাতনের তদন্তের দাবি কেন বারবার প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছে। নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, সত্যের জয় হবেই এবং তার নেতৃত্বে ইসরায়েল এ অপপ্রচারের বিরুদ্ধে নীরব থাকবে না।

সূত্র: দ্য হিল

/এমএকে/