যৌন নির্যাতনের অভিযোগে লন্ডনে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতের যাবজ্জীবন
সিটিজেন ডেস্ক

যৌন নির্যাতনের অভিযোগে লন্ডনে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতের যাবজ্জীবন
সিটিজেন ডেস্ক
প্রকাশ : ১৪ মে ২০২৬, ২৩: ১০

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সাবেক ইমাম আব্দুল হালিম খান। ছবি: সংগৃহীত
নারী ও শিশুদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে যৌন নির্যাতন চালানোর দায়ে আব্দুল হালিম খান নামের এক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সাবেক ইমামকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন লন্ডনের একটি আদালত।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) স্নারেসব্রুক ক্রাউন কোর্ট এ রায় ঘোষণা করেন বিচারক। রায় অনুযায়ী, প্যারোলে মুক্তির আবেদন করার আগে তাকে অন্তত ২০ বছর কারাগারে থাকতে হবে।
পূর্ব লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটস এলাকার সাবেক এই ইমামের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে বিচারক লেসলি কাথবার্ট ‘পরিকল্পিত ও দীর্ঘমেয়াদি যৌন নিপীড়নের অভিযান’ হিসেবে উল্লেখ করেন। আদালতে উপস্থাপিত নথি অনুযায়ী, ২০০৪ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে সাতজন ভুক্তভোগীর ওপর অন্তত ২১টি গুরুতর অপরাধ সংঘটিত করেন তিনি। এর মধ্যে রয়েছে নয়টি ধর্ষণ এবং ১৩ বছরের কম বয়সী শিশুদের ওপর পাঁচটি ধর্ষণের ঘটনা।
রাষ্ট্রপক্ষ আদালতে জানায়, আব্দুল হালিম খান ‘জিনের আছর’ ও অশুভ শক্তির ভয় দেখিয়ে ভুক্তভোগীদের মানসিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করতেন। নিজেকে আধ্যাত্মিক ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তি দাবি করে তিনি বলতেন, তিনি জিন দ্বারা পরিচালিত। পাশাপাশি কালো জাদুর ভয় দেখিয়ে পরিবারের ক্ষতি করার হুমকি দিয়ে ভুক্তভোগীদের চুপ থাকতে বাধ্য করা হতো। এই কৌশল ব্যবহার করে তিনি ১২ বছর বয়সী শিশু থেকে শুরু করে প্রাপ্তবয়স্ক নারীদের ওপর বছরের পর বছর নির্যাতন চালান।
আদালতে দেওয়া ভুক্তভোগীদের জবানবন্দিতে উঠে আসে ভয়াবহ অভিজ্ঞতার বর্ণনা। শৈশবে নির্যাতনের শিকার হওয়া এক নারী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বিচারককে বলেন, ‘আমার কাছে খান কোনো মানুষ নয়, সে যেন শয়তানের প্রতিচ্ছবি।’
আরেক ভুক্তভোগী জানান, তাকে ডিম্বাশয়ের ক্যানসারের ভুয়া ভয় দেখিয়ে বলা হয়েছিল, একমাত্র আব্দুল হালিম খানই তাকে সুস্থ করতে পারবেন। পরে নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে তাকে ধর্ষণ করা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান আইনজীবী সারাহ মরিস কেসি আদালতে বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি অত্যন্ত কৌশলে মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাসকে নিজের অপরাধ ঢাকার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছেন।
রায়ের পর টাওয়ার হ্যামলেটস এলাকায় ধর্মীয় নেতাদের জবাবদিহি ও নজরদারি বাড়ানোর দাবি জোরালো হয়েছে। স্থানীয় কাউন্সিল ও কমিউনিটি নেতারা স্বতন্ত্র ধর্মীয় শিক্ষকদের বাধ্যতামূলক নিবন্ধন এবং কঠোর ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাই চালুর উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট মেট্রোপলিটন পুলিশ কর্মকর্তারা ভুক্তভোগীদের সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন। ডিটেকটিভ সার্জেন্ট সারা ইয়েমস এবং ডিটেকটিভ চিফ ইন্সপেক্টর জেনি রোনান বলেন, ২০১৮ সালে প্রথম অভিযোগ পাওয়ার পর শুরু হওয়া ‘অপারেশন স্পেয়ারব্যাঙ্ক’ এই রায়ের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জন করেছে।

নারী ও শিশুদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে যৌন নির্যাতন চালানোর দায়ে আব্দুল হালিম খান নামের এক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সাবেক ইমামকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন লন্ডনের একটি আদালত।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) স্নারেসব্রুক ক্রাউন কোর্ট এ রায় ঘোষণা করেন বিচারক। রায় অনুযায়ী, প্যারোলে মুক্তির আবেদন করার আগে তাকে অন্তত ২০ বছর কারাগারে থাকতে হবে।
পূর্ব লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটস এলাকার সাবেক এই ইমামের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে বিচারক লেসলি কাথবার্ট ‘পরিকল্পিত ও দীর্ঘমেয়াদি যৌন নিপীড়নের অভিযান’ হিসেবে উল্লেখ করেন। আদালতে উপস্থাপিত নথি অনুযায়ী, ২০০৪ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে সাতজন ভুক্তভোগীর ওপর অন্তত ২১টি গুরুতর অপরাধ সংঘটিত করেন তিনি। এর মধ্যে রয়েছে নয়টি ধর্ষণ এবং ১৩ বছরের কম বয়সী শিশুদের ওপর পাঁচটি ধর্ষণের ঘটনা।
রাষ্ট্রপক্ষ আদালতে জানায়, আব্দুল হালিম খান ‘জিনের আছর’ ও অশুভ শক্তির ভয় দেখিয়ে ভুক্তভোগীদের মানসিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করতেন। নিজেকে আধ্যাত্মিক ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তি দাবি করে তিনি বলতেন, তিনি জিন দ্বারা পরিচালিত। পাশাপাশি কালো জাদুর ভয় দেখিয়ে পরিবারের ক্ষতি করার হুমকি দিয়ে ভুক্তভোগীদের চুপ থাকতে বাধ্য করা হতো। এই কৌশল ব্যবহার করে তিনি ১২ বছর বয়সী শিশু থেকে শুরু করে প্রাপ্তবয়স্ক নারীদের ওপর বছরের পর বছর নির্যাতন চালান।
আদালতে দেওয়া ভুক্তভোগীদের জবানবন্দিতে উঠে আসে ভয়াবহ অভিজ্ঞতার বর্ণনা। শৈশবে নির্যাতনের শিকার হওয়া এক নারী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বিচারককে বলেন, ‘আমার কাছে খান কোনো মানুষ নয়, সে যেন শয়তানের প্রতিচ্ছবি।’
আরেক ভুক্তভোগী জানান, তাকে ডিম্বাশয়ের ক্যানসারের ভুয়া ভয় দেখিয়ে বলা হয়েছিল, একমাত্র আব্দুল হালিম খানই তাকে সুস্থ করতে পারবেন। পরে নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে তাকে ধর্ষণ করা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান আইনজীবী সারাহ মরিস কেসি আদালতে বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি অত্যন্ত কৌশলে মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাসকে নিজের অপরাধ ঢাকার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছেন।
রায়ের পর টাওয়ার হ্যামলেটস এলাকায় ধর্মীয় নেতাদের জবাবদিহি ও নজরদারি বাড়ানোর দাবি জোরালো হয়েছে। স্থানীয় কাউন্সিল ও কমিউনিটি নেতারা স্বতন্ত্র ধর্মীয় শিক্ষকদের বাধ্যতামূলক নিবন্ধন এবং কঠোর ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাই চালুর উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট মেট্রোপলিটন পুলিশ কর্মকর্তারা ভুক্তভোগীদের সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন। ডিটেকটিভ সার্জেন্ট সারা ইয়েমস এবং ডিটেকটিভ চিফ ইন্সপেক্টর জেনি রোনান বলেন, ২০১৮ সালে প্রথম অভিযোগ পাওয়ার পর শুরু হওয়া ‘অপারেশন স্পেয়ারব্যাঙ্ক’ এই রায়ের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জন করেছে।

যৌন নির্যাতনের অভিযোগে লন্ডনে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতের যাবজ্জীবন
সিটিজেন ডেস্ক
প্রকাশ : ১৪ মে ২০২৬, ২৩: ১০

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সাবেক ইমাম আব্দুল হালিম খান। ছবি: সংগৃহীত
নারী ও শিশুদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে যৌন নির্যাতন চালানোর দায়ে আব্দুল হালিম খান নামের এক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সাবেক ইমামকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন লন্ডনের একটি আদালত।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) স্নারেসব্রুক ক্রাউন কোর্ট এ রায় ঘোষণা করেন বিচারক। রায় অনুযায়ী, প্যারোলে মুক্তির আবেদন করার আগে তাকে অন্তত ২০ বছর কারাগারে থাকতে হবে।
পূর্ব লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটস এলাকার সাবেক এই ইমামের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে বিচারক লেসলি কাথবার্ট ‘পরিকল্পিত ও দীর্ঘমেয়াদি যৌন নিপীড়নের অভিযান’ হিসেবে উল্লেখ করেন। আদালতে উপস্থাপিত নথি অনুযায়ী, ২০০৪ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে সাতজন ভুক্তভোগীর ওপর অন্তত ২১টি গুরুতর অপরাধ সংঘটিত করেন তিনি। এর মধ্যে রয়েছে নয়টি ধর্ষণ এবং ১৩ বছরের কম বয়সী শিশুদের ওপর পাঁচটি ধর্ষণের ঘটনা।
রাষ্ট্রপক্ষ আদালতে জানায়, আব্দুল হালিম খান ‘জিনের আছর’ ও অশুভ শক্তির ভয় দেখিয়ে ভুক্তভোগীদের মানসিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করতেন। নিজেকে আধ্যাত্মিক ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তি দাবি করে তিনি বলতেন, তিনি জিন দ্বারা পরিচালিত। পাশাপাশি কালো জাদুর ভয় দেখিয়ে পরিবারের ক্ষতি করার হুমকি দিয়ে ভুক্তভোগীদের চুপ থাকতে বাধ্য করা হতো। এই কৌশল ব্যবহার করে তিনি ১২ বছর বয়সী শিশু থেকে শুরু করে প্রাপ্তবয়স্ক নারীদের ওপর বছরের পর বছর নির্যাতন চালান।
আদালতে দেওয়া ভুক্তভোগীদের জবানবন্দিতে উঠে আসে ভয়াবহ অভিজ্ঞতার বর্ণনা। শৈশবে নির্যাতনের শিকার হওয়া এক নারী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বিচারককে বলেন, ‘আমার কাছে খান কোনো মানুষ নয়, সে যেন শয়তানের প্রতিচ্ছবি।’
আরেক ভুক্তভোগী জানান, তাকে ডিম্বাশয়ের ক্যানসারের ভুয়া ভয় দেখিয়ে বলা হয়েছিল, একমাত্র আব্দুল হালিম খানই তাকে সুস্থ করতে পারবেন। পরে নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে তাকে ধর্ষণ করা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান আইনজীবী সারাহ মরিস কেসি আদালতে বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি অত্যন্ত কৌশলে মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাসকে নিজের অপরাধ ঢাকার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছেন।
রায়ের পর টাওয়ার হ্যামলেটস এলাকায় ধর্মীয় নেতাদের জবাবদিহি ও নজরদারি বাড়ানোর দাবি জোরালো হয়েছে। স্থানীয় কাউন্সিল ও কমিউনিটি নেতারা স্বতন্ত্র ধর্মীয় শিক্ষকদের বাধ্যতামূলক নিবন্ধন এবং কঠোর ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাই চালুর উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট মেট্রোপলিটন পুলিশ কর্মকর্তারা ভুক্তভোগীদের সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন। ডিটেকটিভ সার্জেন্ট সারা ইয়েমস এবং ডিটেকটিভ চিফ ইন্সপেক্টর জেনি রোনান বলেন, ২০১৮ সালে প্রথম অভিযোগ পাওয়ার পর শুরু হওয়া ‘অপারেশন স্পেয়ারব্যাঙ্ক’ এই রায়ের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জন করেছে।
/এমআর/




