
সেলিনা আক্তার সিটিজেন জার্নাল২৪.কম এ নিজস্ব প্রতিবেদক হিসেবে কর্মরত। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। তার কর্মজীবন শুরু হয় দৈনিক 'আজকের পত্রিকা' র মাধ্যমে।

সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের অভিযোগ, স্বচ্ছতা নিশ্চিতে লটারি পদ্ধতির কথা বলা হলেও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী ডিভিশনের পদগুলো রাখা হয়েছে লটারির বাইরে।

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) থেকে বিশেষ কোটায় প্লট বরাদ্দ পান সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তানজিম আহমদ সোহেল তাজ

রাজধানীসহ দেশের বিভাগীয় শহরে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মালিকানাধীন বিপুলসংখ্যক প্লট রয়েছে। এরমধ্যে কিছু প্লট হাতিয়ে নিতে তৎপর রয়েছে একটি স্বার্থান্বেষী মহল। যুগের পর যুগ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তর ঘুরে কাঙ্ক্ষিত সুবিধা করতে না পারলেও সম্প্রতি নতুন কৌশলে সফল হয়েছে তারা।

প্রচলিত আইন ভেঙে ঢাকায় একটি প্লট ও ফ্ল্যাট বরাদ্দ নিয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব মো. হামিদুর রহমান খান

অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত এক যুগে সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পে আসবাবপত্র সরবরাহ ও ইন্টিরিয়র ডিজাইনের কাজ ঘুরেফিরে পেয়েছে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান।

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) অথরাইজড অফিসার প্রকৌশলী পলাশ সিকদারের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধান চলছে। সেই অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

রাজউকে নকশা অনুমোদনকে ঘিরে বছরের পর বছর ধরে অঘোষিত অর্থ লেনদেনের একটি সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। এই অর্থের কোনো সরকারি হিসাব নেই, কোনো রসিদও দেওয়া হয় না। কিন্তু সংশ্লিষ্টদের দাবি, টাকা ছাড়া অনেক ক্ষেত্রে ফাইল এগোয় না।

আসবাবপত্র কেনার দরপত্র হওয়ার বিধিগত বাধ্যবাধকতা হলো গুডস বা পণ্য সরবরাহ ক্যাটাগরিতে। অথচ সেটি আহ্বান করা হয়েছে ওয়ার্কস বা নির্মাণকাজ ক্যাটাগরিতে। এরপর একের পর এক বড় অঙ্কের কার্যাদেশ গেছে নিজের পছন্দমাফিক নির্দিষ্ট কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের হাতে।

চার দশক আগে বরাদ্দ পাওয়া নিকুঞ্জ-২ আবাসিক এলাকার একটি প্লটের দ্বিতীয় ও তৃতীয় কিস্তির টাকা কখনোই জমা হয়নি। অথচ অন্য একটি প্লটের ব্যাংক রশিদ ওই নথিতে সংযুক্ত করে সব কিস্তি পরিশোধ হয়েছে দেখিয়ে প্লটটি উত্তরাধিকারীদের নামে নামজারি

কখনো নকশাবহির্ভূত ভবন নির্মাণে সহযোগিতা, আবার কখনো অবৈধ স্থাপনায় ছাড় দেওয়া বা ভেঙে ফেলার ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়– এমন অভিযোগ রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) মাঠ পর্যায়ে তদারকিতে থাকা কতিপয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

‘যখনই ঢাকায় চাকরির জন্য স্যারদের কাছে অনুরোধ করি, তখনই জানান জুন ক্লোজিং পর্যন্ত অপেক্ষা করতে। এভাবে জুন যায় জুন আসে আমার আর ঢাকায় চাকরি করা হয় না। অথচ, মাসুদ রানারা প্রতি জুনেই স্যারদের ম্যানেজ করে গত ছয় বছর ঢাকায় গুরুত্বপূর্ণ চেয়ারে চাকরি করে যাচ্ছে।’

রাজধানীতে বৃষ্টি মানেই জলাবদ্ধতা। মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি হলেই রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, আবাসিক এলাকা ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র পানিতে তলিয়ে যায়। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন নগরবাসী। জলাবদ্ধতা নিরসনে বছরের পর বছর কোটি কোটি টাকার প্রকল্প নেওয়া হলেও বাস্তবে এর সুফল মিলছে না।

এক চাকরিচ্যুত উপ-সহকারী প্রকৌশলীকে প্রায় ১৯ লাখ টাকা বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ করায় বিপাকে পড়েছেন পাবনা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, ১৯৮৩ সালের পর ‘ডিপ ফ্রিজে’ থাকা এই ফাইলটি ‘নয়-ছয়’ করে নিজেদের করে নিতে কখনো দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), কখনো পুলিশের ইউনিট, আবার কখনো আদালতকে ব্যবহার করেছে একাধিক চক্র।

রাজধানীর ইস্কাটন গার্ডেন সরকারি কর্মকর্তা কোয়ার্টারের ঝুঁকিপূর্ণ ও জরাজীর্ণ সীমানা প্রাচীর পুনর্নির্মাণের জন্য নেওয়া হয়েছে কোটিরও বেশি টাকার প্রকল্প। কিন্তু পুরোনো দেয়াল অপসারণ না করেই তার ওপর নতুন করে ইট গেঁথে প্রাচীর উঁচু করা হচ্ছে।

দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও সংকট কাটিয়ে রাজউকে কতটা গতি ও স্বচ্ছতা এসেছে এবং চলমান উচ্ছেদ অভিযান, নকশা অনুমোদন প্রক্রিয়া ও পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে সিজেডএন টোয়েন্টিফোর ডটকমের সঙ্গে কথা বলেছেন রাজউক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলাম।

হোটেল নির্মাণের অনুমোদন, কিন্তু নির্মাণকাজ এগোচ্ছে বাণিজ্যিক ভবনের আদলে। রাজধানীর হাতিরঝিল-সংলগ্ন বীর উত্তম শওকত সড়কে নির্মাণাধীন পাঁচ তারকা হোটেল চেইন সুইসোটেল ঢাকা প্রকল্পে এমন ঘটনা ঘটেছে

সরকারি নির্মাণ খাতে এখন এমন এক প্রবণতা তৈরি হয়েছে, যেখানে বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান গণপূর্ত অধিদপ্তরকে পাশ কাটিয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থা নিজেদের মতো করে নির্মাণকাজ পরিচালনা করছে। গড়ে তুলছে ছোট ছোট নির্মাণ সংক্রান্ত উইং।

একসময় পদ্মা তীরের নিভৃত গ্রাম। চারদিকে ছিল কৃষিজমি আর জনবসতির ছাপ। সেই অজপাড়া গাঁয়ের চিত্রই বদলে দিয়েছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রকে ঘিরে গড়ে ওঠা আবাসন প্রকল্প ‘গ্রিন সিটি’।

বঙ্গভবন থেকে সার্কিট হাউজ, আদালত থেকে হাসপাতাল সকল স্থানে অফিসের আসববাবপত্র ও ইন্টিরিয়রের জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহে একচেটিয়ে কাজ পেয়ে আসছে হাতিল ফার্ণিচার।

রাজধানীর অন্যতম জলাধার গুলশান লেকে দীর্ঘদিন ধরে পয়ঃবর্জ্য ও দূষিত পানি প্রবেশ করছে। গুলশান, বনানী, বারিধারা ও নিকেতন এলাকার ভবনগুলোর পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা যাচাই করে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। লেকে ঘিরে আশ-পাশ এলাকা থেকে পয়ঃবর্জ্য প্রবেশ করে এমন ১২টি উৎস পাওয়া গেছে।

জাতীয় সংসদ ভবনের আলোচিত মাইক কাণ্ডের পর অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে এবার দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) স্বশরীরে হাজির হতে হয়েছে গণপূর্ত অধিদপ্তরের ৮ প্রকৌশলীকে।

অভিজাত এলাকা গুলশানের একটি বড় ‘প্লট উপযোগী’ সরকারি জমিকে ‘খণ্ড জমি’ দেখিয়ে বেসরকারি হোটেল লেকশোর কর্তৃপক্ষকে বাজারদরের চেয়ে অনেক কম মূল্যে বরাদ্দ দেওয়ার তোড়জোড় চালাচ্ছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)।

সচিব রমনা পার্কে নিয়মিত হাঁটেন। তাই উনার চাহিদামতো রাতারাতি তৈরি করা হলো একটি মসজিদ। কিন্তু বিপত্তি বাধে প্রচলিত আইনে। যে প্রকল্পের নাম দিয়ে কয়েক কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে সেটি তখনও সরকারের কোনো পর্যায়ে অনুমোদন হয়নি।
