
সেলিনা আক্তার সিটিজেন জার্নাল২৪.কম এ নিজস্ব প্রতিবেদক হিসেবে কর্মরত। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। তার কর্মজীবন শুরু হয় দৈনিক 'আজকের পত্রিকা' র মাধ্যমে।

রাজধানীর আজিমপুর সরকারি অফিসার্স কোয়ার্টারের ২০ তলা ভবনগুলোতে স্থাপন করা হয়েছে দেড় শতাধিক লিফট। বাসিন্দাদের ভবনে ওঠানামার একমাত্র ভরসা এসব লিফট

ওয়াসা সব গ্রাহকের কাছ থেকেই নিয়মিত পানির বিলের সঙ্গ পয়ঃনিষ্কাশন বা সুয়ারেজ বিল আদায় করঠে। সেবা না দিয়েই বিল আদায়ের বিষয়টিকে গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণার শামিল বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশ্বরেকর্ড গড়ার খবর এখন প্রায়ই সংবাদের শিরোনাম হয়। কখনো সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে কোনো কাজ করে, কখনো সবচেয়ে বড় আয়োজনের মাধ্যমে, আবার কখনো বিস্ময়কর কোনো দক্ষতা দেখিয়ে মানুষ জায়গা করে নিচ্ছেন গিনিজ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে

গুলশান লেকে সরাসরি পয়ঃবর্জ্য ও দূষিত পানি ফেলা বন্ধ করতে গুলশান, বনানী, বারিধারা ও নিকেতন এলাকার ভবনগুলোতে সেপটিক ট্যাংক, সোকওয়েল অথবা পয়ঃবর্জ্য শোধনাগার (এসটিপি) স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের সংস্কার ও সম্প্রসারণ প্রকল্পের প্রাথমিক নকশা ও সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য প্রায় ৮ কোটি টাকা খরচ করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান টিএ কনসালট্যান্টের বরাবরে এ অর্থ ছাড় করা হয়েছে

আইনগত বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন, অসম চুক্তি এবং পিপিপি কর্তৃপক্ষের একাধিক আপত্তির মুখে পাঁচ বছর আগে বাতিল হয় চট্টগ্রামের নাসিরাবাদে জিইসি মোড়ে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের (জাগৃক) পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) প্রকল্পটি।

একটা সময় সরকারি যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার সাজসজ্জা কিংবা ভিআইপি অনুষ্ঠানের কাজে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হতো ‘প্যারাডাইম আর্কিটেক্টস অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স’কে। গত দেড় যুগ ধরে এমন অঘোষিত সংস্কৃতি ছিলো সরকারের বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান গণপূর্ত অধিদপ্তরে।

সূত্র বলছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবারের ব্যক্তিগত প্লটে সরকারি অর্থ ব্যয় করা প্রকৌশলীদের তথ্য সংগ্রহে নেমেছে দায়িত্বশীল সংস্থা।

গাড়ি কেনার জন্য সরকারের সুদমুক্ত ঋণ সুবিধা নিয়েছেন। প্রতি মাসে পাচ্ছেন জ্বালানি, রক্ষণাবেক্ষণ ও চালকের বেতন বাবদ নগদ অর্থ। তারপরও সরকারি প্রকল্পের জন্য কেনা জিপ ব্যবহার করছেন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পাঁচ সদস্য।

অধীনস্থ সংস্থা থেকে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব, সহকারী একান্ত সচিব নিয়েছেন একাধিক গাড়ি। দামি পাজেরো স্পোর্ট ও আউটল্যান্ডার জিপও রয়েছে সেই তালিকায়

রাজউকের পরিকল্পিত নগরায়নের উদ্দেশ্য, সেখানে পর্যাপ্ত ফাঁকা জমি, প্রশস্ত রাস্তা ও ওয়াটার বডি রেখে নকশা করা হয়। কিন্তু সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কোনো প্রকল্পের জমি দামি হয়ে উঠলে শুরু হয় মূল পরিকল্পনার কাটছাঁট।

গুলশান-১ এর সিনেমা হলের প্লটে অবশেষে বাণিজ্যিক ব্যবহারের অনুমোদন পেয়েই গেলো বেসরকারি আবাসন নির্মাণ প্রতিষ্ঠান শান্তা হোল্ডিংস। আর এতে একের পর এক নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে অনেকটা ‘গায়ের জোরে’ প্লটগুলো শান্তার হাতে তুলে দিয়েছে রাজউক।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজউক থেকে পাওয়া প্লটের তথ্য খুঁজতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিন সদস্যের এ কমিটির পেছনে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩১ লাখ টাকা। এর মধ্যে কমিটির সভাপতি সাবেক এক আমলা নিয়েছেন ১২ লাখ টাকা, দুইজন সদস্যের প্রত্যেকে নিয়েছেন ৬ লাখ টাকা করে

সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের অভিযোগ, স্বচ্ছতা নিশ্চিতে লটারি পদ্ধতির কথা বলা হলেও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী ডিভিশনের পদগুলো রাখা হয়েছে লটারির বাইরে।

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) থেকে বিশেষ কোটায় প্লট বরাদ্দ পান সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তানজিম আহমদ সোহেল তাজ

রাজধানীসহ দেশের বিভাগীয় শহরে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মালিকানাধীন বিপুলসংখ্যক প্লট রয়েছে। এরমধ্যে কিছু প্লট হাতিয়ে নিতে তৎপর রয়েছে একটি স্বার্থান্বেষী মহল। যুগের পর যুগ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তর ঘুরে কাঙ্ক্ষিত সুবিধা করতে না পারলেও সম্প্রতি নতুন কৌশলে সফল হয়েছে তারা।

প্রচলিত আইন ভেঙে ঢাকায় একটি প্লট ও ফ্ল্যাট বরাদ্দ নিয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব মো. হামিদুর রহমান খান

অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত এক যুগে সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পে আসবাবপত্র সরবরাহ ও ইন্টিরিয়র ডিজাইনের কাজ ঘুরেফিরে পেয়েছে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান।

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) অথরাইজড অফিসার প্রকৌশলী পলাশ সিকদারের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধান চলছে। সেই অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

রাজউকে নকশা অনুমোদনকে ঘিরে বছরের পর বছর ধরে অঘোষিত অর্থ লেনদেনের একটি সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। এই অর্থের কোনো সরকারি হিসাব নেই, কোনো রসিদও দেওয়া হয় না। কিন্তু সংশ্লিষ্টদের দাবি, টাকা ছাড়া অনেক ক্ষেত্রে ফাইল এগোয় না।

আসবাবপত্র কেনার দরপত্র হওয়ার বিধিগত বাধ্যবাধকতা হলো গুডস বা পণ্য সরবরাহ ক্যাটাগরিতে। অথচ সেটি আহ্বান করা হয়েছে ওয়ার্কস বা নির্মাণকাজ ক্যাটাগরিতে। এরপর একের পর এক বড় অঙ্কের কার্যাদেশ গেছে নিজের পছন্দমাফিক নির্দিষ্ট কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের হাতে।

চার দশক আগে বরাদ্দ পাওয়া নিকুঞ্জ-২ আবাসিক এলাকার একটি প্লটের দ্বিতীয় ও তৃতীয় কিস্তির টাকা কখনোই জমা হয়নি। অথচ অন্য একটি প্লটের ব্যাংক রশিদ ওই নথিতে সংযুক্ত করে সব কিস্তি পরিশোধ হয়েছে দেখিয়ে প্লটটি উত্তরাধিকারীদের নামে নামজারি

কখনো নকশাবহির্ভূত ভবন নির্মাণে সহযোগিতা, আবার কখনো অবৈধ স্থাপনায় ছাড় দেওয়া বা ভেঙে ফেলার ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়– এমন অভিযোগ রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) মাঠ পর্যায়ে তদারকিতে থাকা কতিপয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

‘যখনই ঢাকায় চাকরির জন্য স্যারদের কাছে অনুরোধ করি, তখনই জানান জুন ক্লোজিং পর্যন্ত অপেক্ষা করতে। এভাবে জুন যায় জুন আসে আমার আর ঢাকায় চাকরি করা হয় না। অথচ, মাসুদ রানারা প্রতি জুনেই স্যারদের ম্যানেজ করে গত ছয় বছর ঢাকায় গুরুত্বপূর্ণ চেয়ারে চাকরি করে যাচ্ছে।’
