শিরোনাম

নিরাপত্তার দাবিতে শজিমেক হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি

সিটিজেন ডেস্ক
নিরাপত্তার দাবিতে শজিমেক হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি
রোগীর স্বজনদের হামলার প্রতিবাদে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি ও মানববন্ধন। ছবি: সংগৃহীত

বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসকদের ওপর হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে চার দফা দাবিতে কর্মবিরতি পালন করছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। বুধবার (১৩ মে) রাত ৯টা থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার দুপুরে হাসপাতালের সামনে মানববন্ধন করেন তারা।

মানববন্ধনে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা কর্মস্থলে নিরাপত্তাহীনতার কথা তুলে ধরে কয়েকটি দাবি জানান। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—চিকিৎসকদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা, হাসপাতালের প্রতিটি ওয়ার্ডকে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা, বুধবারের ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে চিকিৎসকদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা প্রদান।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত পাঁচ মাস বয়সী শিশু নিহানকে গত সোমবার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বুধবার বিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হলে তার স্বজনরা চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ এনে উত্তেজিত হয়ে পড়েন। চিকিৎসকদের অভিযোগ, এ সময় ক্ষুব্ধ স্বজনরা এক নারী চিকিৎসকের ওপর হামলা ও লাঞ্ছনার ঘটনা ঘটান। পরে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ইন্টার্ন চিকিৎসক ও রোগীর স্বজনদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

ঘটনার পর নিহানের মা, ফুফু ও চাচাকে আটক করা হলেও রাতে মুচলেকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।

শজিমেক ইন্টার্ন চিকিৎসক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নিয়ামুল হাসান বলেন, ‘৫০০ শয্যার এই হাসপাতালে প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার রোগীকে সেবা দিতে হচ্ছে। দিনরাত পরিশ্রম করার পরও চিকিৎসকদের ওপর হামলার মতো ঘটনা ঘটছে। আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত উদ্বেগ থেকেই যাচ্ছে।’

তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতি ঘোষণা করা হয়েছে। দাবি পূরণ না হলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

হাসপাতালের পরিচালক মোহাম্মদ মহসিন বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। তার ভাষ্যমতে, একজন রোগীর স্বজন প্রথমে এক চিকিৎসকের গায়ে হাত তোলেন। তবে কোনো পক্ষের সহিংসতাকেই সমর্থন করা হচ্ছে না। পুরো ঘটনা তদন্তে ইতোমধ্যে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। এছাড়া রোগীর স্বজনরা তাদের আচরণের জন্য অনুশোচনা প্রকাশ করেছেন বলে দাবি করেন হাসপাতাল পরিচালক।

এদিকে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতির কারণে সাধারণ রোগীদের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ দেখা দিলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সিনিয়র চিকিৎসকদের মাধ্যমে জরুরি ও নিয়মিত চিকিৎসাসেবা চালু রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।

/এমআর/