চাকরির ৯ বছরে সম্পদের পাহাড় সাভারের সাব-রেজিস্ট্রার জাকিরের

চাকরির ৯ বছরে সম্পদের পাহাড় সাভারের সাব-রেজিস্ট্রার জাকিরের
মরিয়ম সেঁজুতি

একজন সাব-রেজিস্ট্রারের সব মিলিয়ে মাসে ৪৫ হাজার টাকা বেতন তুলতে পারেন। এই টাকায় টেনেটুনে সংসার চলার কথা তার। কিন্তু তিনি শত কোটি টাকার সম্পদের মালিকের মতো বিলাসি জীবনযাপন করেন। থাকেন মোহাম্মপুরের তাজমহল রোডের ২ কোটি টাকার ২৫০০ বর্গফুটের বিশাল ফ্ল্যাটে। চড়েন ১ কোটি টাকার গাড়িতে। মিরপুরে ছয় কোটি টাকার ছয়তলা একটি বাড়ি আছে তার। টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে আছে বিপণিবিতান। এ ছাড়া আছে কয়েক কোটি টাকার জমি ও পোলট্রি খামার।
এসব সম্পদ ঢাকার সাভার উজেলা সাব-রেজিস্ট্রার মো. জাকির হোসেনের। অনিয়ম, দুর্নীতি, জালিয়াতি এবং ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে তিনি অবৈধভাবে এসব সম্পদ অর্জন করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে গত বছরের ১৯ জুলাই সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা, আইন মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন সরকারি কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন সাভারের রাজাশন এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রহমান পাটোয়ারী।
ওই লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, জুলাই গণ-অভ্যূত্থানের সময় গুলিতে নিহত হন গাজীপুরের ভবানিপুরের রাসেল মিয়া। এই ঘটনায় ঢাকার একটি আদালতে হওয়া হত্যা মামলার ৫৭ নম্বর আসামি জাকির হোসেন। মামলায় তাকে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাবেক সহসম্পাদক উল্লেখ করা হয়। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০১৭ সালে তিনি চাকরিতে যোগ দেন। চাকরিতে যোগ দিয়েই তিনি নানা ধরনের অনিয়ম-দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন।
যেভাবে সাভারে আসলেন জাকির হোসেন
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর জাকির হোসেন রাজনৈতিক পরিচয় গোপন করে সাভারে বদলি হয়ে আসেন। এখানে আসতে তাকে ১০ কোটি টাকা ঘুষ দিতে হয়েছে। এ কারণে প্রতিদিন তিনি সাব-রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ের কর্মচারীদের ১৫ লাখ টাকা ঘুষ আদায়ের ‘টার্গেট’ নির্ধারণ করে দিয়েছেন। জাল দলিল তৈরিসহ নানাভাবে তিনি ঘুষ আদায় করছেন। তিনি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করছেন।
এসব ঘটনায় অতিষ্ঠ হয়ে ২১ এপ্রিল বিকেলে সাভার উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ের সামনে ‘সাভারবাসী’ ব্যানারে মানববন্ধন করা হয়। এই কর্মসূচি থেকে জাকির হোসেনকে দ্রুত অপসারণ ও গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়।
আইন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ৫ আগস্টের পর জাকির হোসেন সাভারে বদলি হন। তাকে বদলিতে সহায়তা করেন তৎকালীন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের পিএস শামসুদ্দিন মাসুম।
এই শামসুদ্দিন মাসুমের বাড়ি হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলায়। বদলির আগে জাকির হোসেন বানিয়াচং উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সেই সুবাদে মাসুমের পরিবারের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়। পরে মাসুমের পরিবারের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের ঘুষ দিয়ে সাভারে বদলি হন জাকির।
অবৈধ সম্পদের খতিয়ান
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জাকির হোসেনের বাড়ি টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায়। বাবা মোহাম্মদ আলী ও মা নুরজাহান বেগমের নামে মির্জাপুরের নয়াপাড়া ও গায়রাবেতিল মৌজায় অন্তত ১০ একর জমি কিনেছেন তিনি।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, মির্জাপুরের বিভিন্ন এলাকায় জাকির হোসেন ও তাঁর স্ত্রীর নামে ৩১ শতাংশ জমি রয়েছে। খাটিয়ার হাট-বাজার এলাকায়ও রয়েছে একটি দোতলা বিপণিবিতান। এখানে ৩০ থেকে ৪০টি দোকান আছে। অভিযোগ আছে, বিপণিবিতানটি বন বিভাগের জমি দখল করে করা হয়েছে। এমনকি ৫ বিঘা জমিতে তার বাংলোবাড়িটিও বন বিভাগের জমি দখল করে নির্মাণ করা হয়েছে। ওই বাড়ির পেছনে ২ কোটি টাকা ব্যয়ে তিনি একটি পোলট্রি খামার করেছেন। মির্জাপুরের বাওয়ার কুমারজানি মৌজার পৌর মার্কেট সংলগ্ন এলাকায় ৫ কোটি টাকা দিয়ে ১ বিঘা জমি কিনেছেন তিনি ।
জাকির হোসেনের স্ত্রীর কাছে শতভরি স্বর্ণালংকার আছে। তার সন্তানরা মাসিক ৩০ হাজার টাকা বেতনের নামি ‘ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে’ পড়াশোনা করে এবং যাতায়াত করে দামি গাড়িতে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সম্প্রতি জাকির হোসেন মিরপুরে একটি ছয়তলা বাড়ি নির্মাণ করেছেন। এই বাড়ির অনুমানিক মূল্য ৬ কোটি টাকা। এ ছাড়া জাকির এবং তার স্ত্রীর মনিরা সুলতানার একাধিক ব্যাংক হিসাবে প্রায় ১২ কোটি টাকার লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।
জাকির ও তার স্ত্রীর সব ব্যাংক হিসাব তলব
সাভার উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার জাকির হোসেন ও তার স্ত্রী মনিরা সুলতানার সব ব্যাংক হিসাবের তথ্য তলব করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিট। সম্প্রতি আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিটের অতিরিক্ত সহকারী কর কমিশনার এ.এইচ.এম. আতাউর রহমান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে দেশের সব ব্যাংক, মোবাইলে আর্থিক সেবা (এমএফএস) ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে তাদের নামে থাকা সকল ধরনের হিসাবের তথ্য সরবরাহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, ছাত্রলীগ নেতা হওয়ার সুবাদে আওয়ামী লীগের শাসনামলে চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই তিনি প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে প্রভাব বিস্তার করেন এবং ঘুষ আদায় শুরু করেন। এখন বিএনপি সমর্থক সেজেছেন। সাভারে বদলি হয়ে আসার পর তিনি প্রকাশ্যেই দম্ভ করে বলেন— ‘আমি ১০ কোটি টাকা দিয়ে পোস্টিং নিয়েছি, এই টাকা আমাকে তুলতে হবে।’
গত বছরের জুলাইয়ে সাভারের এক ব্যক্তির লিখিত অভিযোগসহ বিভিন্ন পক্ষের অভিযোগের প্রেক্ষিতে জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে তদন্ত করে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় গত ১৩ জানুয়ারি তাকে একটি অব্যাহতিপত্র দেওয়া হয়। কিন্তু এরপর নতুন করে আবার তার বিরুদ্ধে তদন্তের সিদ্ধান্ত নেয় আইন মন্ত্রণালয়।
বর্তমানে জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে হওয়া বিভিন্ন অভিযোগ অনুসন্ধানের দায়িত্ব পেয়েছেন আইন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. মঈনউদ্দিন কাদির। মঙ্গলবার (২২ এপ্রিল) এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি ইস্যু করা হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মঈনুদ্দিন কাদির সিটিজেন জার্নালকে বলেন, ‘বুধবার (২২ এপ্রিল) আমি এ বিষয়ে প্রাথমিক অনুসন্ধানের দায়িত্ব পেয়েছি। আগামী ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে প্রাথমিক অনুসন্ধান সম্পন্ন করা হবে। এখন প্রয়োজনীয় তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করছি।’ শিগগিরই সাভার সাব-রেজিস্ট্র্রারের কার্যালয়ে যাবেন বলে জানান তিনি।
অভিযোগ সূত্রে আরও জানা গেছে, সাভার সাব-রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে স্থানীয় কিছু অসাধু ব্যক্তিকে নিয়ে একটি নিজস্ব বাহিনী গড়ে তুলেছেন জাকির হোসেন। এমনকি আইন মন্ত্রণালয়ের কিছু অসাধু কর্মকর্তাকে নিয়মিত ‘মাসোহারা’ দিয়ে তিনি তদন্ত বাধাগ্রস্ত করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জাকির হোসেনের বক্তব্য
অভিযোগের বিষয়ে জানতে গতকাল শনিবার সাভার উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার জাকির হোসেনের মুঠোফোনে কল দেওয়া হয়। তিনি কল ধরে বলেন, ‘অভিযোগের বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয় থেকে অনুসন্ধান করার বিষয়টি আমার জন্য ভালো হয়েছে। আশা করি সত্যতা যাচাই করেই মন্ত্রণালয় সঠিক ব্যবস্থা নিবে।’
জাকির হোসেন আরও বলেন, ‘ফ্ল্যাট ও গাড়ি কেনার জন্য আমি ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছিলাম, যা ইতোমধ্যে পরিশোধ করা হয়েছে। আমার স্ত্রী একজন ব্যাংকার। এ ছাড়া আমার নিজের এলাকায় দোকানসহ জমি রয়েছে যা আমার পৈতৃক সম্পত্তির অংশ।’
দুর্নীতির বিষয়ে জানতে চাইলে জাকির হোসেন বলেন, ‘দুর্নীতি করিনি, বরং সাভার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে অনিয়ম দূর করেছি। ফলে দলিল সম্পাদনের সংখ্যা কম হলেও গত অর্থবছরে প্রায় ৫০ কোটি টাকা বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে অফিসে পিয়ন, উমেদার ও নকলনবিশদের মাধ্যমে একটি সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছিল, যারা নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত টাকা আদায় করত। দায়িত্ব নিয়ে সেই সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়েছি এবং গ্রাহকদের হয়রানি কমানোর চেষ্টা করেছি।’
জাকির হোসেনকে বদলির দাবি
জাকির হোসেন অস্বীকার করলেও সাভার উপজেলার বিভিন্ন এলাকার জমির দলিলদাতা, গ্রহীতা এবং দলিল লেখকরা তার অত্যাচারে অতিষ্ঠ বলে অভিযোগ করেছেন। তারা বলেন, ঘুষ ছাড়া কোনো কাজই করেন না জাকির হোসেন।
অভিযোগকারী সাভারের রাজাশন এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রহমান পাটোয়ারী ও মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, জাকির হোসেন স্বপদে বহাল থাকলে কোনো নিরপেক্ষ তদন্ত সম্ভব নয়। কারণ তিনি তার ক্ষমতা ও অর্থ দিয়ে সাক্ষীদের ভয়ভীতি দেখান।

একজন সাব-রেজিস্ট্রারের সব মিলিয়ে মাসে ৪৫ হাজার টাকা বেতন তুলতে পারেন। এই টাকায় টেনেটুনে সংসার চলার কথা তার। কিন্তু তিনি শত কোটি টাকার সম্পদের মালিকের মতো বিলাসি জীবনযাপন করেন। থাকেন মোহাম্মপুরের তাজমহল রোডের ২ কোটি টাকার ২৫০০ বর্গফুটের বিশাল ফ্ল্যাটে। চড়েন ১ কোটি টাকার গাড়িতে। মিরপুরে ছয় কোটি টাকার ছয়তলা একটি বাড়ি আছে তার। টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে আছে বিপণিবিতান। এ ছাড়া আছে কয়েক কোটি টাকার জমি ও পোলট্রি খামার।
এসব সম্পদ ঢাকার সাভার উজেলা সাব-রেজিস্ট্রার মো. জাকির হোসেনের। অনিয়ম, দুর্নীতি, জালিয়াতি এবং ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে তিনি অবৈধভাবে এসব সম্পদ অর্জন করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে গত বছরের ১৯ জুলাই সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা, আইন মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন সরকারি কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন সাভারের রাজাশন এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রহমান পাটোয়ারী।
ওই লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, জুলাই গণ-অভ্যূত্থানের সময় গুলিতে নিহত হন গাজীপুরের ভবানিপুরের রাসেল মিয়া। এই ঘটনায় ঢাকার একটি আদালতে হওয়া হত্যা মামলার ৫৭ নম্বর আসামি জাকির হোসেন। মামলায় তাকে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাবেক সহসম্পাদক উল্লেখ করা হয়। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০১৭ সালে তিনি চাকরিতে যোগ দেন। চাকরিতে যোগ দিয়েই তিনি নানা ধরনের অনিয়ম-দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন।
যেভাবে সাভারে আসলেন জাকির হোসেন
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর জাকির হোসেন রাজনৈতিক পরিচয় গোপন করে সাভারে বদলি হয়ে আসেন। এখানে আসতে তাকে ১০ কোটি টাকা ঘুষ দিতে হয়েছে। এ কারণে প্রতিদিন তিনি সাব-রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ের কর্মচারীদের ১৫ লাখ টাকা ঘুষ আদায়ের ‘টার্গেট’ নির্ধারণ করে দিয়েছেন। জাল দলিল তৈরিসহ নানাভাবে তিনি ঘুষ আদায় করছেন। তিনি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করছেন।
এসব ঘটনায় অতিষ্ঠ হয়ে ২১ এপ্রিল বিকেলে সাভার উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ের সামনে ‘সাভারবাসী’ ব্যানারে মানববন্ধন করা হয়। এই কর্মসূচি থেকে জাকির হোসেনকে দ্রুত অপসারণ ও গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়।
আইন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ৫ আগস্টের পর জাকির হোসেন সাভারে বদলি হন। তাকে বদলিতে সহায়তা করেন তৎকালীন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের পিএস শামসুদ্দিন মাসুম।
এই শামসুদ্দিন মাসুমের বাড়ি হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলায়। বদলির আগে জাকির হোসেন বানিয়াচং উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সেই সুবাদে মাসুমের পরিবারের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়। পরে মাসুমের পরিবারের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের ঘুষ দিয়ে সাভারে বদলি হন জাকির।
অবৈধ সম্পদের খতিয়ান
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জাকির হোসেনের বাড়ি টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায়। বাবা মোহাম্মদ আলী ও মা নুরজাহান বেগমের নামে মির্জাপুরের নয়াপাড়া ও গায়রাবেতিল মৌজায় অন্তত ১০ একর জমি কিনেছেন তিনি।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, মির্জাপুরের বিভিন্ন এলাকায় জাকির হোসেন ও তাঁর স্ত্রীর নামে ৩১ শতাংশ জমি রয়েছে। খাটিয়ার হাট-বাজার এলাকায়ও রয়েছে একটি দোতলা বিপণিবিতান। এখানে ৩০ থেকে ৪০টি দোকান আছে। অভিযোগ আছে, বিপণিবিতানটি বন বিভাগের জমি দখল করে করা হয়েছে। এমনকি ৫ বিঘা জমিতে তার বাংলোবাড়িটিও বন বিভাগের জমি দখল করে নির্মাণ করা হয়েছে। ওই বাড়ির পেছনে ২ কোটি টাকা ব্যয়ে তিনি একটি পোলট্রি খামার করেছেন। মির্জাপুরের বাওয়ার কুমারজানি মৌজার পৌর মার্কেট সংলগ্ন এলাকায় ৫ কোটি টাকা দিয়ে ১ বিঘা জমি কিনেছেন তিনি ।
জাকির হোসেনের স্ত্রীর কাছে শতভরি স্বর্ণালংকার আছে। তার সন্তানরা মাসিক ৩০ হাজার টাকা বেতনের নামি ‘ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে’ পড়াশোনা করে এবং যাতায়াত করে দামি গাড়িতে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সম্প্রতি জাকির হোসেন মিরপুরে একটি ছয়তলা বাড়ি নির্মাণ করেছেন। এই বাড়ির অনুমানিক মূল্য ৬ কোটি টাকা। এ ছাড়া জাকির এবং তার স্ত্রীর মনিরা সুলতানার একাধিক ব্যাংক হিসাবে প্রায় ১২ কোটি টাকার লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।
জাকির ও তার স্ত্রীর সব ব্যাংক হিসাব তলব
সাভার উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার জাকির হোসেন ও তার স্ত্রী মনিরা সুলতানার সব ব্যাংক হিসাবের তথ্য তলব করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিট। সম্প্রতি আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিটের অতিরিক্ত সহকারী কর কমিশনার এ.এইচ.এম. আতাউর রহমান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে দেশের সব ব্যাংক, মোবাইলে আর্থিক সেবা (এমএফএস) ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে তাদের নামে থাকা সকল ধরনের হিসাবের তথ্য সরবরাহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, ছাত্রলীগ নেতা হওয়ার সুবাদে আওয়ামী লীগের শাসনামলে চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই তিনি প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে প্রভাব বিস্তার করেন এবং ঘুষ আদায় শুরু করেন। এখন বিএনপি সমর্থক সেজেছেন। সাভারে বদলি হয়ে আসার পর তিনি প্রকাশ্যেই দম্ভ করে বলেন— ‘আমি ১০ কোটি টাকা দিয়ে পোস্টিং নিয়েছি, এই টাকা আমাকে তুলতে হবে।’
গত বছরের জুলাইয়ে সাভারের এক ব্যক্তির লিখিত অভিযোগসহ বিভিন্ন পক্ষের অভিযোগের প্রেক্ষিতে জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে তদন্ত করে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় গত ১৩ জানুয়ারি তাকে একটি অব্যাহতিপত্র দেওয়া হয়। কিন্তু এরপর নতুন করে আবার তার বিরুদ্ধে তদন্তের সিদ্ধান্ত নেয় আইন মন্ত্রণালয়।
বর্তমানে জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে হওয়া বিভিন্ন অভিযোগ অনুসন্ধানের দায়িত্ব পেয়েছেন আইন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. মঈনউদ্দিন কাদির। মঙ্গলবার (২২ এপ্রিল) এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি ইস্যু করা হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মঈনুদ্দিন কাদির সিটিজেন জার্নালকে বলেন, ‘বুধবার (২২ এপ্রিল) আমি এ বিষয়ে প্রাথমিক অনুসন্ধানের দায়িত্ব পেয়েছি। আগামী ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে প্রাথমিক অনুসন্ধান সম্পন্ন করা হবে। এখন প্রয়োজনীয় তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করছি।’ শিগগিরই সাভার সাব-রেজিস্ট্র্রারের কার্যালয়ে যাবেন বলে জানান তিনি।
অভিযোগ সূত্রে আরও জানা গেছে, সাভার সাব-রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে স্থানীয় কিছু অসাধু ব্যক্তিকে নিয়ে একটি নিজস্ব বাহিনী গড়ে তুলেছেন জাকির হোসেন। এমনকি আইন মন্ত্রণালয়ের কিছু অসাধু কর্মকর্তাকে নিয়মিত ‘মাসোহারা’ দিয়ে তিনি তদন্ত বাধাগ্রস্ত করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জাকির হোসেনের বক্তব্য
অভিযোগের বিষয়ে জানতে গতকাল শনিবার সাভার উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার জাকির হোসেনের মুঠোফোনে কল দেওয়া হয়। তিনি কল ধরে বলেন, ‘অভিযোগের বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয় থেকে অনুসন্ধান করার বিষয়টি আমার জন্য ভালো হয়েছে। আশা করি সত্যতা যাচাই করেই মন্ত্রণালয় সঠিক ব্যবস্থা নিবে।’
জাকির হোসেন আরও বলেন, ‘ফ্ল্যাট ও গাড়ি কেনার জন্য আমি ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছিলাম, যা ইতোমধ্যে পরিশোধ করা হয়েছে। আমার স্ত্রী একজন ব্যাংকার। এ ছাড়া আমার নিজের এলাকায় দোকানসহ জমি রয়েছে যা আমার পৈতৃক সম্পত্তির অংশ।’
দুর্নীতির বিষয়ে জানতে চাইলে জাকির হোসেন বলেন, ‘দুর্নীতি করিনি, বরং সাভার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে অনিয়ম দূর করেছি। ফলে দলিল সম্পাদনের সংখ্যা কম হলেও গত অর্থবছরে প্রায় ৫০ কোটি টাকা বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে অফিসে পিয়ন, উমেদার ও নকলনবিশদের মাধ্যমে একটি সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছিল, যারা নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত টাকা আদায় করত। দায়িত্ব নিয়ে সেই সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়েছি এবং গ্রাহকদের হয়রানি কমানোর চেষ্টা করেছি।’
জাকির হোসেনকে বদলির দাবি
জাকির হোসেন অস্বীকার করলেও সাভার উপজেলার বিভিন্ন এলাকার জমির দলিলদাতা, গ্রহীতা এবং দলিল লেখকরা তার অত্যাচারে অতিষ্ঠ বলে অভিযোগ করেছেন। তারা বলেন, ঘুষ ছাড়া কোনো কাজই করেন না জাকির হোসেন।
অভিযোগকারী সাভারের রাজাশন এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রহমান পাটোয়ারী ও মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, জাকির হোসেন স্বপদে বহাল থাকলে কোনো নিরপেক্ষ তদন্ত সম্ভব নয়। কারণ তিনি তার ক্ষমতা ও অর্থ দিয়ে সাক্ষীদের ভয়ভীতি দেখান।

চাকরির ৯ বছরে সম্পদের পাহাড় সাভারের সাব-রেজিস্ট্রার জাকিরের
মরিয়ম সেঁজুতি

একজন সাব-রেজিস্ট্রারের সব মিলিয়ে মাসে ৪৫ হাজার টাকা বেতন তুলতে পারেন। এই টাকায় টেনেটুনে সংসার চলার কথা তার। কিন্তু তিনি শত কোটি টাকার সম্পদের মালিকের মতো বিলাসি জীবনযাপন করেন। থাকেন মোহাম্মপুরের তাজমহল রোডের ২ কোটি টাকার ২৫০০ বর্গফুটের বিশাল ফ্ল্যাটে। চড়েন ১ কোটি টাকার গাড়িতে। মিরপুরে ছয় কোটি টাকার ছয়তলা একটি বাড়ি আছে তার। টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে আছে বিপণিবিতান। এ ছাড়া আছে কয়েক কোটি টাকার জমি ও পোলট্রি খামার।
এসব সম্পদ ঢাকার সাভার উজেলা সাব-রেজিস্ট্রার মো. জাকির হোসেনের। অনিয়ম, দুর্নীতি, জালিয়াতি এবং ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে তিনি অবৈধভাবে এসব সম্পদ অর্জন করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে গত বছরের ১৯ জুলাই সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা, আইন মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন সরকারি কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন সাভারের রাজাশন এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রহমান পাটোয়ারী।
ওই লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, জুলাই গণ-অভ্যূত্থানের সময় গুলিতে নিহত হন গাজীপুরের ভবানিপুরের রাসেল মিয়া। এই ঘটনায় ঢাকার একটি আদালতে হওয়া হত্যা মামলার ৫৭ নম্বর আসামি জাকির হোসেন। মামলায় তাকে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাবেক সহসম্পাদক উল্লেখ করা হয়। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০১৭ সালে তিনি চাকরিতে যোগ দেন। চাকরিতে যোগ দিয়েই তিনি নানা ধরনের অনিয়ম-দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন।
যেভাবে সাভারে আসলেন জাকির হোসেন
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর জাকির হোসেন রাজনৈতিক পরিচয় গোপন করে সাভারে বদলি হয়ে আসেন। এখানে আসতে তাকে ১০ কোটি টাকা ঘুষ দিতে হয়েছে। এ কারণে প্রতিদিন তিনি সাব-রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ের কর্মচারীদের ১৫ লাখ টাকা ঘুষ আদায়ের ‘টার্গেট’ নির্ধারণ করে দিয়েছেন। জাল দলিল তৈরিসহ নানাভাবে তিনি ঘুষ আদায় করছেন। তিনি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করছেন।
এসব ঘটনায় অতিষ্ঠ হয়ে ২১ এপ্রিল বিকেলে সাভার উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ের সামনে ‘সাভারবাসী’ ব্যানারে মানববন্ধন করা হয়। এই কর্মসূচি থেকে জাকির হোসেনকে দ্রুত অপসারণ ও গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়।
আইন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ৫ আগস্টের পর জাকির হোসেন সাভারে বদলি হন। তাকে বদলিতে সহায়তা করেন তৎকালীন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের পিএস শামসুদ্দিন মাসুম।
এই শামসুদ্দিন মাসুমের বাড়ি হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলায়। বদলির আগে জাকির হোসেন বানিয়াচং উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সেই সুবাদে মাসুমের পরিবারের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়। পরে মাসুমের পরিবারের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের ঘুষ দিয়ে সাভারে বদলি হন জাকির।
অবৈধ সম্পদের খতিয়ান
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জাকির হোসেনের বাড়ি টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায়। বাবা মোহাম্মদ আলী ও মা নুরজাহান বেগমের নামে মির্জাপুরের নয়াপাড়া ও গায়রাবেতিল মৌজায় অন্তত ১০ একর জমি কিনেছেন তিনি।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, মির্জাপুরের বিভিন্ন এলাকায় জাকির হোসেন ও তাঁর স্ত্রীর নামে ৩১ শতাংশ জমি রয়েছে। খাটিয়ার হাট-বাজার এলাকায়ও রয়েছে একটি দোতলা বিপণিবিতান। এখানে ৩০ থেকে ৪০টি দোকান আছে। অভিযোগ আছে, বিপণিবিতানটি বন বিভাগের জমি দখল করে করা হয়েছে। এমনকি ৫ বিঘা জমিতে তার বাংলোবাড়িটিও বন বিভাগের জমি দখল করে নির্মাণ করা হয়েছে। ওই বাড়ির পেছনে ২ কোটি টাকা ব্যয়ে তিনি একটি পোলট্রি খামার করেছেন। মির্জাপুরের বাওয়ার কুমারজানি মৌজার পৌর মার্কেট সংলগ্ন এলাকায় ৫ কোটি টাকা দিয়ে ১ বিঘা জমি কিনেছেন তিনি ।
জাকির হোসেনের স্ত্রীর কাছে শতভরি স্বর্ণালংকার আছে। তার সন্তানরা মাসিক ৩০ হাজার টাকা বেতনের নামি ‘ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে’ পড়াশোনা করে এবং যাতায়াত করে দামি গাড়িতে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সম্প্রতি জাকির হোসেন মিরপুরে একটি ছয়তলা বাড়ি নির্মাণ করেছেন। এই বাড়ির অনুমানিক মূল্য ৬ কোটি টাকা। এ ছাড়া জাকির এবং তার স্ত্রীর মনিরা সুলতানার একাধিক ব্যাংক হিসাবে প্রায় ১২ কোটি টাকার লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।
জাকির ও তার স্ত্রীর সব ব্যাংক হিসাব তলব
সাভার উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার জাকির হোসেন ও তার স্ত্রী মনিরা সুলতানার সব ব্যাংক হিসাবের তথ্য তলব করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিট। সম্প্রতি আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিটের অতিরিক্ত সহকারী কর কমিশনার এ.এইচ.এম. আতাউর রহমান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে দেশের সব ব্যাংক, মোবাইলে আর্থিক সেবা (এমএফএস) ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে তাদের নামে থাকা সকল ধরনের হিসাবের তথ্য সরবরাহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, ছাত্রলীগ নেতা হওয়ার সুবাদে আওয়ামী লীগের শাসনামলে চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই তিনি প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে প্রভাব বিস্তার করেন এবং ঘুষ আদায় শুরু করেন। এখন বিএনপি সমর্থক সেজেছেন। সাভারে বদলি হয়ে আসার পর তিনি প্রকাশ্যেই দম্ভ করে বলেন— ‘আমি ১০ কোটি টাকা দিয়ে পোস্টিং নিয়েছি, এই টাকা আমাকে তুলতে হবে।’
গত বছরের জুলাইয়ে সাভারের এক ব্যক্তির লিখিত অভিযোগসহ বিভিন্ন পক্ষের অভিযোগের প্রেক্ষিতে জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে তদন্ত করে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় গত ১৩ জানুয়ারি তাকে একটি অব্যাহতিপত্র দেওয়া হয়। কিন্তু এরপর নতুন করে আবার তার বিরুদ্ধে তদন্তের সিদ্ধান্ত নেয় আইন মন্ত্রণালয়।
বর্তমানে জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে হওয়া বিভিন্ন অভিযোগ অনুসন্ধানের দায়িত্ব পেয়েছেন আইন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. মঈনউদ্দিন কাদির। মঙ্গলবার (২২ এপ্রিল) এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি ইস্যু করা হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মঈনুদ্দিন কাদির সিটিজেন জার্নালকে বলেন, ‘বুধবার (২২ এপ্রিল) আমি এ বিষয়ে প্রাথমিক অনুসন্ধানের দায়িত্ব পেয়েছি। আগামী ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে প্রাথমিক অনুসন্ধান সম্পন্ন করা হবে। এখন প্রয়োজনীয় তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করছি।’ শিগগিরই সাভার সাব-রেজিস্ট্র্রারের কার্যালয়ে যাবেন বলে জানান তিনি।
অভিযোগ সূত্রে আরও জানা গেছে, সাভার সাব-রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে স্থানীয় কিছু অসাধু ব্যক্তিকে নিয়ে একটি নিজস্ব বাহিনী গড়ে তুলেছেন জাকির হোসেন। এমনকি আইন মন্ত্রণালয়ের কিছু অসাধু কর্মকর্তাকে নিয়মিত ‘মাসোহারা’ দিয়ে তিনি তদন্ত বাধাগ্রস্ত করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জাকির হোসেনের বক্তব্য
অভিযোগের বিষয়ে জানতে গতকাল শনিবার সাভার উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার জাকির হোসেনের মুঠোফোনে কল দেওয়া হয়। তিনি কল ধরে বলেন, ‘অভিযোগের বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয় থেকে অনুসন্ধান করার বিষয়টি আমার জন্য ভালো হয়েছে। আশা করি সত্যতা যাচাই করেই মন্ত্রণালয় সঠিক ব্যবস্থা নিবে।’
জাকির হোসেন আরও বলেন, ‘ফ্ল্যাট ও গাড়ি কেনার জন্য আমি ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছিলাম, যা ইতোমধ্যে পরিশোধ করা হয়েছে। আমার স্ত্রী একজন ব্যাংকার। এ ছাড়া আমার নিজের এলাকায় দোকানসহ জমি রয়েছে যা আমার পৈতৃক সম্পত্তির অংশ।’
দুর্নীতির বিষয়ে জানতে চাইলে জাকির হোসেন বলেন, ‘দুর্নীতি করিনি, বরং সাভার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে অনিয়ম দূর করেছি। ফলে দলিল সম্পাদনের সংখ্যা কম হলেও গত অর্থবছরে প্রায় ৫০ কোটি টাকা বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে অফিসে পিয়ন, উমেদার ও নকলনবিশদের মাধ্যমে একটি সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছিল, যারা নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত টাকা আদায় করত। দায়িত্ব নিয়ে সেই সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়েছি এবং গ্রাহকদের হয়রানি কমানোর চেষ্টা করেছি।’
জাকির হোসেনকে বদলির দাবি
জাকির হোসেন অস্বীকার করলেও সাভার উপজেলার বিভিন্ন এলাকার জমির দলিলদাতা, গ্রহীতা এবং দলিল লেখকরা তার অত্যাচারে অতিষ্ঠ বলে অভিযোগ করেছেন। তারা বলেন, ঘুষ ছাড়া কোনো কাজই করেন না জাকির হোসেন।
অভিযোগকারী সাভারের রাজাশন এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রহমান পাটোয়ারী ও মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, জাকির হোসেন স্বপদে বহাল থাকলে কোনো নিরপেক্ষ তদন্ত সম্ভব নয়। কারণ তিনি তার ক্ষমতা ও অর্থ দিয়ে সাক্ষীদের ভয়ভীতি দেখান।




