কাস্টমস কর্মকর্তার রহস্যজনক মৃত্যু : সাজানো সংসারে বিষাদের ছায়া
কুমিল্লা সংবাদদাতা

কাস্টমস কর্মকর্তার রহস্যজনক মৃত্যু : সাজানো সংসারে বিষাদের ছায়া
কুমিল্লা সংবাদদাতা
প্রকাশ : ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩: ২৮

বুলেট বৈরাগী। ছবি: সংগৃহীত
একটি সাজানো সংসার, নয় মাস বয়সী অবুঝ শিশু আর বাবা-মায়ের বুকভরা আশা–সবই যেন এক লহমায় ধূলিসাৎ হয়ে গেলো ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে। ৪১তম বিসিএস (নন-ক্যাডার) কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগীর জীবনের গল্পটা এভাবে থেমে যাওয়ার কথা ছিল না। দীর্ঘ প্রশিক্ষণ শেষে যখন ঘরে ফেরার কথা, স্ত্রী-সন্তানদের পাশে থাকার কথা, তখন বাড়িতে ফিরলো তার নিথর দেহ।
১১ এপ্রিল প্রশিক্ষণের জন্য চট্টগ্রামে গিয়েছিলেন বুলেট। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাতে প্রশিক্ষণ শেষ করে চট্টগ্রামের অলঙ্কার মোড় থেকে বাসে ওঠেন কুমিল্লার উদ্দেশ্যে। রাত ২টা ২৫ মিনিটে পরিবারের সঙ্গে শেষ কথা হয় তার। জানিয়েছিলেন, পদুয়ার বাজার নেমে যাবেন নিজ গন্তব্য রাজগঞ্জ পানপট্টির বাসায়। কিন্তু সেই ফেরা আর হলো না। পদুয়ার বাজার এলাকায় নামার কথা থাকলেও শনিবার সকালে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয় কোটবাড়ী এলাকার আইরিশ হিল হোটেলের পাশ থেকে।
বুলেটের মা নীলিমা বৈরাগীর কণ্ঠে এখন কেবলই হাহাকার। তিনি জানান, রাত আড়াইটার পর ছেলের ফোন থেকে অজ্ঞাত কিছু মানুষ কথা বলেছিল, এরপর থেকেই ফোনটি বন্ধ হয়ে যায়। পরিবারের প্রশ্ন, যেখানে পদুয়ার বাজার নামার কথা, সেখানে কোটবাড়ীতে কেন পাওয়া গেল তার মরদেহ?
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার সুশীল বৈরাগীর ছেলে বুলেট ছিলেন পরিবারের একমাত্র অবলম্বন। কুমিল্লার বিবিরবাজার স্থলবন্দরে কর্মরত এই কর্মকর্তার মৃত্যুতে এখন দিশেহারা তার স্ত্রী ও স্বজনরা। ৯ মাস বয়সী শিশু সন্তানটি এখনো জানে না, তার বাবা তাকে আর কোনোদিন কোলে তুলে নেবে না।
কোটবাড়ী এলাকার মহাসড়কের পাশে পড়ে থাকা অজ্ঞাত সেই মরদেহের পরিচয় যখন হাইওয়ে থানায় এসে শনাক্ত করেন স্বজনরা, তখন কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবার।
ময়নামতি হাইওয়ে থানার ওসি মো. আব্দুল মমিন জানান, ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহের মুখে রক্ত থাকলেও শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন ছিল না।
সদর দক্ষিণ মডেল থানার ওসি সিরাজুল মোস্তফা বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন পেলেই নিশ্চিত হওয়া যাবে, এটি দুর্ঘটনা নাকি পরিকল্পিত কোনো হত্যাকাণ্ড।
কঠোর পরিশ্রমের ফসল ছিলেন বুলেট বৈরাগী। কিন্তু মহাসড়কের অন্ধকারে মুহূর্তে ঝরে গেল তার প্রাণ। এখন অপেক্ষা কেবল সত্য উদ্ঘাটনের। অপরাধীদের আইনের আওতায় আনাই হবে– এই শোকাতুর পরিবারের জন্য একমাত্র সান্ত্বনা।

একটি সাজানো সংসার, নয় মাস বয়সী অবুঝ শিশু আর বাবা-মায়ের বুকভরা আশা–সবই যেন এক লহমায় ধূলিসাৎ হয়ে গেলো ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে। ৪১তম বিসিএস (নন-ক্যাডার) কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগীর জীবনের গল্পটা এভাবে থেমে যাওয়ার কথা ছিল না। দীর্ঘ প্রশিক্ষণ শেষে যখন ঘরে ফেরার কথা, স্ত্রী-সন্তানদের পাশে থাকার কথা, তখন বাড়িতে ফিরলো তার নিথর দেহ।
১১ এপ্রিল প্রশিক্ষণের জন্য চট্টগ্রামে গিয়েছিলেন বুলেট। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাতে প্রশিক্ষণ শেষ করে চট্টগ্রামের অলঙ্কার মোড় থেকে বাসে ওঠেন কুমিল্লার উদ্দেশ্যে। রাত ২টা ২৫ মিনিটে পরিবারের সঙ্গে শেষ কথা হয় তার। জানিয়েছিলেন, পদুয়ার বাজার নেমে যাবেন নিজ গন্তব্য রাজগঞ্জ পানপট্টির বাসায়। কিন্তু সেই ফেরা আর হলো না। পদুয়ার বাজার এলাকায় নামার কথা থাকলেও শনিবার সকালে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয় কোটবাড়ী এলাকার আইরিশ হিল হোটেলের পাশ থেকে।
বুলেটের মা নীলিমা বৈরাগীর কণ্ঠে এখন কেবলই হাহাকার। তিনি জানান, রাত আড়াইটার পর ছেলের ফোন থেকে অজ্ঞাত কিছু মানুষ কথা বলেছিল, এরপর থেকেই ফোনটি বন্ধ হয়ে যায়। পরিবারের প্রশ্ন, যেখানে পদুয়ার বাজার নামার কথা, সেখানে কোটবাড়ীতে কেন পাওয়া গেল তার মরদেহ?
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার সুশীল বৈরাগীর ছেলে বুলেট ছিলেন পরিবারের একমাত্র অবলম্বন। কুমিল্লার বিবিরবাজার স্থলবন্দরে কর্মরত এই কর্মকর্তার মৃত্যুতে এখন দিশেহারা তার স্ত্রী ও স্বজনরা। ৯ মাস বয়সী শিশু সন্তানটি এখনো জানে না, তার বাবা তাকে আর কোনোদিন কোলে তুলে নেবে না।
কোটবাড়ী এলাকার মহাসড়কের পাশে পড়ে থাকা অজ্ঞাত সেই মরদেহের পরিচয় যখন হাইওয়ে থানায় এসে শনাক্ত করেন স্বজনরা, তখন কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবার।
ময়নামতি হাইওয়ে থানার ওসি মো. আব্দুল মমিন জানান, ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহের মুখে রক্ত থাকলেও শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন ছিল না।
সদর দক্ষিণ মডেল থানার ওসি সিরাজুল মোস্তফা বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন পেলেই নিশ্চিত হওয়া যাবে, এটি দুর্ঘটনা নাকি পরিকল্পিত কোনো হত্যাকাণ্ড।
কঠোর পরিশ্রমের ফসল ছিলেন বুলেট বৈরাগী। কিন্তু মহাসড়কের অন্ধকারে মুহূর্তে ঝরে গেল তার প্রাণ। এখন অপেক্ষা কেবল সত্য উদ্ঘাটনের। অপরাধীদের আইনের আওতায় আনাই হবে– এই শোকাতুর পরিবারের জন্য একমাত্র সান্ত্বনা।

কাস্টমস কর্মকর্তার রহস্যজনক মৃত্যু : সাজানো সংসারে বিষাদের ছায়া
কুমিল্লা সংবাদদাতা
প্রকাশ : ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩: ২৮

বুলেট বৈরাগী। ছবি: সংগৃহীত
একটি সাজানো সংসার, নয় মাস বয়সী অবুঝ শিশু আর বাবা-মায়ের বুকভরা আশা–সবই যেন এক লহমায় ধূলিসাৎ হয়ে গেলো ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে। ৪১তম বিসিএস (নন-ক্যাডার) কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগীর জীবনের গল্পটা এভাবে থেমে যাওয়ার কথা ছিল না। দীর্ঘ প্রশিক্ষণ শেষে যখন ঘরে ফেরার কথা, স্ত্রী-সন্তানদের পাশে থাকার কথা, তখন বাড়িতে ফিরলো তার নিথর দেহ।
১১ এপ্রিল প্রশিক্ষণের জন্য চট্টগ্রামে গিয়েছিলেন বুলেট। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাতে প্রশিক্ষণ শেষ করে চট্টগ্রামের অলঙ্কার মোড় থেকে বাসে ওঠেন কুমিল্লার উদ্দেশ্যে। রাত ২টা ২৫ মিনিটে পরিবারের সঙ্গে শেষ কথা হয় তার। জানিয়েছিলেন, পদুয়ার বাজার নেমে যাবেন নিজ গন্তব্য রাজগঞ্জ পানপট্টির বাসায়। কিন্তু সেই ফেরা আর হলো না। পদুয়ার বাজার এলাকায় নামার কথা থাকলেও শনিবার সকালে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয় কোটবাড়ী এলাকার আইরিশ হিল হোটেলের পাশ থেকে।
বুলেটের মা নীলিমা বৈরাগীর কণ্ঠে এখন কেবলই হাহাকার। তিনি জানান, রাত আড়াইটার পর ছেলের ফোন থেকে অজ্ঞাত কিছু মানুষ কথা বলেছিল, এরপর থেকেই ফোনটি বন্ধ হয়ে যায়। পরিবারের প্রশ্ন, যেখানে পদুয়ার বাজার নামার কথা, সেখানে কোটবাড়ীতে কেন পাওয়া গেল তার মরদেহ?
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার সুশীল বৈরাগীর ছেলে বুলেট ছিলেন পরিবারের একমাত্র অবলম্বন। কুমিল্লার বিবিরবাজার স্থলবন্দরে কর্মরত এই কর্মকর্তার মৃত্যুতে এখন দিশেহারা তার স্ত্রী ও স্বজনরা। ৯ মাস বয়সী শিশু সন্তানটি এখনো জানে না, তার বাবা তাকে আর কোনোদিন কোলে তুলে নেবে না।
কোটবাড়ী এলাকার মহাসড়কের পাশে পড়ে থাকা অজ্ঞাত সেই মরদেহের পরিচয় যখন হাইওয়ে থানায় এসে শনাক্ত করেন স্বজনরা, তখন কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবার।
ময়নামতি হাইওয়ে থানার ওসি মো. আব্দুল মমিন জানান, ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহের মুখে রক্ত থাকলেও শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন ছিল না।
সদর দক্ষিণ মডেল থানার ওসি সিরাজুল মোস্তফা বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন পেলেই নিশ্চিত হওয়া যাবে, এটি দুর্ঘটনা নাকি পরিকল্পিত কোনো হত্যাকাণ্ড।
কঠোর পরিশ্রমের ফসল ছিলেন বুলেট বৈরাগী। কিন্তু মহাসড়কের অন্ধকারে মুহূর্তে ঝরে গেল তার প্রাণ। এখন অপেক্ষা কেবল সত্য উদ্ঘাটনের। অপরাধীদের আইনের আওতায় আনাই হবে– এই শোকাতুর পরিবারের জন্য একমাত্র সান্ত্বনা।
/এসআর/




