শিরোনাম

গৃহায়নের ‘জিইসি’ মোড়ে বাতিল প্রকল্প পাস করাতে তৎপর স্বার্থান্বেষী মহল

গৃহায়নের ‘জিইসি’ মোড়ে বাতিল প্রকল্প পাস করাতে তৎপর স্বার্থান্বেষী মহল
চট্টগ্রামের নাসিরাবাদে জিইসি মোড়ে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের বাতিল হওয়া পিপিপি প্রকল্পটি ঘিরে নতুন করে তৎপরতা শুরু হয়েছে। গ্রাফিক্স: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

আইনগত বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন, অসম চুক্তি এবং পিপিপি কর্তৃপক্ষের একাধিক আপত্তির মুখে পাঁচ বছর আগে বাতিল হয় চট্টগ্রামের নাসিরাবাদে জিইসি মোড়ে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের (জাগৃক) পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) প্রকল্পটি। পরবর্তীতে পিপিপির তালিকা থেকেও প্রকল্পটিকে বাদ দেওয়া হয়। ফলে বিধিগতভাবে পিপিপি কাঠামোর আওতায় এটি পুনর্বিবেচনার সুযোগ নেই। সেই বাতিল প্রকল্পটি ঘিরে নতুন করে শুরু হয়েছে তৎপরতা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ পর্যায় থেকে ইঙ্গিত পাওয়ার পর মাঠে নেমেছেন কর্মকর্তারা। এ জন্য চলতি বছরের আগস্টে জাগৃক থেকে নতুন করে গঠন করা হয়েছে যাচাই-বাছাই কমিটি। অথচ পূর্বের শর্তে চায়না ইউনাইটেড ইঞ্জিনিয়ারিং কর্পোরেশন (সিইউসি) ও তাদের অংশীদারদের সঙ্গে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হলে জাগৃকের সম্ভাব্য ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াতে পারে কমবেশি প্রায় ৩ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা।

যেভাবে শুরু

নথি ঘেঁটে দেখা যায়, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী থাকাকালে তার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত জিয়া-বাবলু (গণপূর্তে ঠিকাদার ও তদবির বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত) এবং ডেসটিনি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রফিকুল আমীনের ছোট ভাই ড. মোহাম্মদ এ আমীন (চায়না ইউনাইটেড ইঞ্জিনিয়ারিং কর্পোরেশনের কান্ট্রি ডিরেক্টর) মিলে এ প্রকল্পে হাত দেন। এভাবে চট্টগ্রামের নাসিরাবাদে জিইসি মোড়ে জাগৃকের ৮ দশমিক ৫ একর জমিতে বাণিজ্যিক, আবাসিক ও অফিস কমপ্লেক্স নির্মাণের প্রস্তাবনা সামনে আসে।

এরপর দরপত্র মূল্যায়নের জন্য কোয়ালিফিকেশন অ্যান্ড টেন্ডার ইভ্যালুয়েশন কমিটি (কিউটেক) গঠন করা হয়। তৎকালীন জাগৃকের সদস্য (প্রকৌশল ও সমন্বয়) এস এ এম ফজলুল কবিরকে সভাপতি করে গঠিত কমিটিতে সদস্য ছিলেন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আব্দুল লতিফ হেলালী, পিপিপি কর্তৃপক্ষের মহাপরিচালক (অ্যাডমিন অ্যান্ড ফাইন্যান্স) মো. ফারুক আহমেদ, বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মেহেদী আহমেদ আনসারী, স্থাপত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. আশিকুর রহমান জোয়ার্দার এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. মুমিতুর রহমান। সদস্যসচিব ছিলেন জাগৃকের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (চট্টগ্রাম সার্কেল) মো. শামসুল আলম। এই কমিটি ২০১৮ সালের ১৮ জুলাই চায়না ইউনাইটেড ইঞ্জিনিয়ারিং কর্পোরেশন (সিইউসি) ও ইমপালস প্রপার্টিজ লিমিটেডের যৌথ উদ্যোগকে (জেভি) প্রথম স্থান দিয়ে সুপারিশ করে।

পিপিপি কর্তৃপক্ষের আপত্তি

সিইউসি-ইমপালস জেভির কাগজপত্র ও কনসোর্টিয়াম চুক্তি পর্যালোচনা করে পিপিপি কর্তৃপক্ষ একাধিক অসঙ্গতি খুঁজে পায়। ২০১৮ সালের ২৯ জুলাইয়ের মূল্যায়ন প্রতিবেদনে সংস্থাটি ৬টি বড় আপত্তি তুলে ধরে।

নথিপত্রে দেখা যায়, কনসোর্টিয়াম চুক্তি অনুযায়ী চায়না ইউনাইটেড ইঞ্জিনিয়ারিং কর্পোরেশন প্রকল্প কোম্পানির ৯০ শতাংশ শেয়ারের মালিক হবে। অথচ একই চুক্তিতে উল্লেখ করা হয়, তারা কোনো ইকুইটি বিনিয়োগ করবে না এবং প্রকল্পের মুনাফায়ও অংশ নেবে না। তাদের অবদান থাকবে শুধু কারিগরি অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত সহায়তায়।

পিপিপি কর্তৃপক্ষ প্রশ্ন তোলে, কোনো মূলধন বিনিয়োগ ছাড়া একটি প্রতিষ্ঠান কীভাবে ৯০ শতাংশ শেয়ারের মালিক হতে পারে। পিপিপি গাইডলাইন অনুযায়ী কনসোর্টিয়ামের লিড মেম্বারের ন্যূনতম ২৬ শতাংশ ইকুইটি অংশীদারত্ব থাকা বাধ্যতামূলক।

এছাড়া পূর্ণাঙ্গ তথ্যের অনুপস্থিতি, ন্যূনতম যোগ্যতার শর্তের সঙ্গে অসামঞ্জস্য, উদ্ভাবনী নির্মাণ প্রযুক্তি সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য না থাকা এবং আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্নও তোলে পিপিপি কর্তৃপক্ষ।

২০১৮ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর দেওয়া মতামতে পিপিপি কর্তৃপক্ষ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে, কনসোর্টিয়াম চুক্তিটি গ্রহণযোগ্য না হলে প্রকল্প বাস্তবায়ন অনিশ্চয়তায় পড়তে পারে। এমন পরিস্থিতিতে মূল্যায়ন প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে নতুন মূল্যায়ন কিংবা নতুন প্রেফার্ড বিডার নির্বাচনের সুযোগ রয়েছে বলেও জানানো হয়।

দরপত্র মূল্যায়ন নিয়েও বিতর্ক

দরপত্র মূল্যায়নকে ঘিরেও সামনে আসে একাধিক অনিয়মের অভিযোগ। সিইউসি-ইমপালস জেভির জমা দেওয়া নথিতে পৃষ্ঠা নম্বর ছিল না। বাধ্যতামূলক স্ক্যানকৃত পিডিএফের পরিবর্তে সম্পাদনাযোগ্য ওয়ার্ড ফাইল জমা দেওয়া হয়েছিল। হার্ডকপি ও সফটকপির মধ্যে অসামঞ্জস্য ছিল। এমনকি কনসেপ্ট প্ল্যানের অংশ হিসেবে জমা দেওয়া একটি লে-আউট ডায়াগ্রামে দরপত্র উন্মুক্তকরণ কমিটির কোনো স্বাক্ষরও ছিল না। এসব বিষয়ে পিপিপি কর্তৃপক্ষ ব্যাখ্যা চাইলেও দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বিষয়গুলোকে ‘মাইনর ইনফরমালিটি’ হিসেবে দেখার পক্ষে মত দেয়।

নথিপত্র পর্যালোচনায় আরও দেখা যায়, কমিটির পঞ্চম সভার কার্যবিবরণীতে সিইউসির পক্ষে ব্যাখ্যা উপস্থাপনের বিষয়ে কমিটির সদস্য বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মেহেদী আহমেদ আনসারীর স্বাক্ষর নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, তার স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে। এই বিষয়ে (৭ সেপ্টেম্বর, সোমবার) অধ্যাপক ড. মেহেদী আহমেদ আনসারীর সঙ্গে কথা হলে বিস্তারিত শুনে বলেন ‘নো কমেন্টস’।

সরকারের গচ্চা যেতে পারে ৩ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা

প্রকল্পটির আর্থিক হিসাব নিয়েও রয়েছে বড় ধরনের বিতর্ক। হিসাবের ক্ষেত্রে এক ধরনের ‘শুভংকরের ফাঁকি’ দেওয়া হয়েছে। কাগজে-কলমে পুরো প্রকল্পের ৪৫ দশমিক ১৮ শতাংশ অংশ জাগৃক পাবে বলে দেখানো হয়েছে। এই হিসাব দাঁড় করাতে প্রকল্প অংশে বিদ্যমান তিনটি ভবন, বিড ভ্যারিয়েবল, ইনফ্রাস্ট্রাকচার কস্ট এবং প্রিমিয়াম ও ফির বিপরীতে নির্ধারিত চারটি পৃথক শতকরা হার ১৯ দশমিক ৬৪ শতাংশ, ১৬ দশমিক ৮৭ শতাংশ, ৫ দশমিক ২৭ শতাংশ এবং ৩ দশমিক ৪০ শতাংশ সরাসরি যোগ করা হয়। ভিন্ন ভিন্ন খাতের শতকরা হার এভাবে যোগ করে পুরো প্রকল্পে জাগৃকের অংশ নির্ধারণ প্রক্রিয়া গাণিতিকভাবে জটিল করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রকল্পের বিভিন্ন খাতে প্রস্তাবিত জাগৃকের প্রাপ্য অর্থ এবং নির্ধারিত শতকরা হার বিশ্লেষণ করলে প্রকৃত মূল্যমান বেরিয়ে আসে। সে হিসাবে তিনটি ভবনের অংশে জাগৃকের ১৯ দশমিক ৬৪ শতাংশের বিপরীতে প্রাপ্য ধরা হয়েছিল ১২৭ কোটি ৫৪ লাখ টাকা, যা থেকে ওই খাতের মোট মূল্য দাঁড়ায় ৬৪৯ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। বিড ভ্যারিয়েবল খাতে ১৬ দশমিক ৮৭ শতাংশের বিপরীতে ৯৯১ কোটি টাকা ধরলে এর মূল্য দাঁড়ায় ৫ হাজার ৮৭৪ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। ইনফ্রাস্ট্রাকচার কস্ট খাতে ৫ দশমিক ২৭ শতাংশের বিপরীতে ৯২ কোটি ৫২ লাখ টাকা হিসেবে মোট মূল্য দাঁড়ায় ১ হাজার ৭৫৫ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। অন্যদিকে, প্রিমিয়াম ও ফি খাতে ৩ দশমিক ৪০ শতাংশের বিপরীতে ৫৪ কোটি টাকা ধরে এর মূল্য দাঁড়ায় ১ হাজার ৫৮৮ কোটি ২৩ লাখ টাকা। চারটি খাতের পূর্ণাঙ্গ মূল্য একত্র করলে প্রকল্পটির মোট সম্ভাব্য মূল্য দাঁড়ায় ৯ হাজার ৮৬৭ কোটি ৫৪ লাখ টাকা।

এভাবেই সামনে আসে লোকসানের বড় অঙ্ক। প্রকল্পের মোট মূল্য যদি ৯ হাজার ৮৬৭ কোটি ৫৪ লাখ টাকা হয়, তাহলে ৪৫ দশমিক ১৮ শতাংশ হিসেবে জাগৃকের প্রাপ্য হওয়ার কথা প্রায় ৪ হাজার ৪৫৮ কোটি ১৫ লাখ টাকা। কিন্তু জাগৃকের জন্য চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করা হয়েছিল মাত্র ১ হাজার ২৬৫ কোটি ৬ লাখ টাকা। এতে প্রায় ৩ হাজার ১৯৩ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অর্থাৎ প্রকল্পের মোট মূল্যের বিপরীতে জাগৃকের প্রকৃত প্রাপ্তি দাঁড়ায় মাত্র ১২ দশমিক ৮২ শতাংশ।

অভিযোগ রয়েছে, চট্টগ্রামের জিইসি মোড় এলাকার ৮ দশমিক ৫০ একর বা ৫১৪ কাঠা মূল্যবান সরকারি জমির বর্তমান বাজারমূল্য ও বিদ্যমান স্থাপনার মূল্য প্রায় ২ হাজার ৬২০ কোটি টাকা। অথচ যাবতীয় ফি ও ব্যয় বাদ দিয়ে জাগৃকের প্রাপ্য ধরা হয়েছে প্রায় ১ হাজার ১৬৮ কোটি টাকা। ফলে শুধু জমির মূল্য বিবেচনায় সরকারের সম্ভাব্য রাজস্ব ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াতে পারে প্রায় ১ হাজার ৪৫১ কোটি টাকা।

চেয়ারম্যানের ওপর চাপ, তবুও আটকে গেল ফাইল

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন মন্ত্রী থাকাকালে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের চেষ্টা করেন। পরবর্তীতে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হিসেবেও তিনি বিষয়টি এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালান। তবে অসম চুক্তির কারণে প্রকল্পটি অনুমোদন দিলে ভবিষ্যতে জবাবদিহির মুখে পড়তে হতে পারে এমন আশঙ্কায় জাগৃক কর্মকর্তারা এতে সম্মত হননি।

সূত্রমতে, পদে পদে অনিয়মে ভরপুর প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য তৎকালীন জাগৃক চেয়ারম্যান মো. দেলওয়ার হায়দারের ওপর চাপ প্রয়োগ করেছিলেন সেই সময়ের প্রভাবশালী কর্মকর্তা প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস। তবে এতেও রাজি হননি দেলওয়ার হায়দার। যার ফলে মুখ্য সচিব ক্ষিপ্ত হয়ে পরবর্তীতে সচিব পদে পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত করেন সরকারের মেধাবী আমলা হিসেবে পরিচিত দেলওয়ার হায়দারকে।

যেভাবে বাতিল হলো প্রকল্পটি

২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাগৃক চেয়ারম্যান মো. দেলওয়ার হায়দারের সভাপতিত্বে সংস্থাটির ২১৭তম বোর্ড সভায় দরপত্র কার্যক্রম বাতিল করা হয়। বোর্ডের সিদ্ধান্তে বলা হয়, কনসোর্টিয়াম গঠনে ইকুইটি শেয়ারের বাধ্যবাধকতা মানা হয়নি, লিড মেম্বার হিসেবে সিইউসিকে বিবেচনা করা যায় না। বিডের বৈধতার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, কনসোর্টিয়াম চুক্তি আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।

৫ বছর পর যেভাবে আলোচনা শুরু

২০২৫ সালে ড. মোহাম্মদ এ আমীন নতুন করে প্রকল্পটি পুনরুজ্জীবিত করার নানামুখী উদ্যোগ নেন। চীনা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য পূর্ত মন্ত্রণালয়ে একটি আবেদন করা হয়। এরপর গত বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর সাবেক গণপূর্ত সচিব নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোসা. ফেরদৌসী বেগম, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখার কর্মকর্তাদের পাশাপাশি সেখানে ড. মোহাম্মদ এ আমীনও উপস্থিত ছিলেন।

একটি কমিটি গঠন করার অর্থ এই নয় যে প্রকল্পটি চালু করা হবে। নতুন করে কমিটি গঠন করা হয়েছে যাচাই-বাছাইয়ের জন্য। তারা সুপারিশ দেবে। পরে সিদ্ধান্ত আসবে এখানে প্রকল্প করা হবে কি না মোসা. ফেরদৌসী বেগম চেয়ারম্যান, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ

এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের ২ আগস্ট জাগৃক থেকে নতুন একটি যাচাই-বাছাই কমিটি গঠন করা হয়। সেখানে আহ্বায়ক হিসেবে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. হারিজুর রহমান, চট্টগ্রাম সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী, পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) মো. মেহেদী হাসান, নির্বাহী প্রকৌশলী কাজী নজরুল ইসলাম, উপপরিচালক মারিয়া হক, উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ হিল বাকী, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দীনকে সদস্য এবং তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মুহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইনকে সদস্য সচিব করা হয়।

যা বলছেন সংশ্লিষ্টরা

এ বিষয়ে জানতে জাগৃকের সদস্য (প্রকৌশল ও সমন্বয়) আবুল কাশেম মোহাম্মদ শাহজালাল মজুমদারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যস্ততার কথা বলে এড়িয়ে যান।

জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোসা. ফেরদৌসী বেগম সিজেডএন টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘একটি কমিটি গঠন করার অর্থ এই নয় যে প্রকল্পটি চালু করা হবে। নতুন করে কমিটি গঠন করা হয়েছে যাচাই-বাছাইয়ের জন্য। তারা সুপারিশ দেবে। পরে সিদ্ধান্ত আসবে এখানে প্রকল্প করা হবে কি না।’

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ওবায়দুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি খোঁজ নিয়ে জানাচ্ছি।’ পরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

এদিকে, চায়না ইউনাইটেড ইঞ্জিনিয়ারিং কর্পোরেশনের কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. মোহাম্মদ এ আমীনের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।