ঋণসুবিধা নিয়েও রাজউকের ৫ আমলার দখলে সরকারি গাড়ি

ঋণসুবিধা নিয়েও রাজউকের ৫ আমলার দখলে সরকারি গাড়ি
সেলিনা আক্তার

গাড়ি কেনার জন্য সরকারের সুদমুক্ত ঋণ সুবিধা নিয়েছেন। প্রতি মাসে পাচ্ছেন জ্বালানি, রক্ষণাবেক্ষণ ও চালকের বেতন বাবদ নগদ অর্থ। তারপরও সরকারি প্রকল্পের জন্য কেনা জিপ ব্যবহার করছেন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পাঁচ সদস্য। এসব জিপের জন্য সংস্থাটির কোষাগার থেকে চালকের বেতন ও জ্বালানি বাবদ নিয়মিত অর্থও পরিশোধ করা হচ্ছে। প্রেষণে আসা প্রশাসন ক্যাডারের কর্তকর্তাদের এমন কর্মকাণ্ডে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রাজউকের কর্মকর্তারা। সিজেডএন টোয়েন্টিফোরের অনুসন্ধানে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।
জানা যায়, সরকারি গাড়ির ব্যবহার কমাতে এবং নিজস্ব যানবাহন ব্যবহারে উৎসাহিত করতে কর্মকর্তাদের সুদমুক্ত ঋণ দেয় সরকার। শর্ত ছিলো এ সুবিধা নেওয়ার পর আর সরকারি যানবাহন ব্যবহার করা যাবে না। কিন্তু রাজউকের এই পাঁচ সদস্যের ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র। তারা একদিকে গাড়ি কেনার সরকারি সুবিধা ভোগ করছেন, অন্যদিকে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য কেনা জিপও ব্যবহার করছেন। প্রভাবশালী এই কর্মকর্তারদের গাড়ি বিলাসে বঞ্চিত হচ্ছেন রাজউকের অন্য কর্মকর্তারা।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই সুবিধাভোগীদের মধ্যে রয়েছেন প্রশাসন ক্যাডারের ১৫তম ব্যাচের কর্মকর্তা ও রাজউক সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) শেখ মতিয়ার রহমান, ২২তম ব্যাচের কর্মকর্তা সদস্য (উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ) এরাদুল হক ও সদস্য (পরিকল্পনা) বশিরুল হক ভূইয়া এবং ২৪তম ব্যাচের কর্মকর্তা সদস্য (উন্নয়ন) মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম ও সদস্য (প্রশাসন ও অর্থ) শাহীনুর আলম।
জানা যায়, সদস্য (উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ) এরাদুল হক ব্যবহার করছেন ঢাকা মেট্রো-ঘ-১৪১৮৪৯ নম্বরের জিপ। উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের আওতায় কেনা গাড়িটির চালক মোজাহারুল ইসলাম। সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) শেখ মতিয়ার রহমানের কাছে রয়েছে ঢাকা মেট্রো-ঘ-১৪২১৫০ নম্বরের জিপ। গ্রিন বিল্ডিং প্রকল্পের এই গাড়ির চালক মো. আনোয়ার হোসেন। সদস্য (উন্নয়ন) মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম ব্যবহার করছেন ঢাকা মেট্রো-ঘ-১১-৬৯৬৪ নম্বরের জিপ। পূর্বাচল প্রকল্পের আওতায় কেনা এই গাড়ির চালক মো. সামসুদৌহা চৌধুরী। সদস্য (প্রশাসন ও অর্থ) শাহীনুর আলমের কাছে রয়েছে ঢাকা মেট্রো-ঘ-১১-৬৬৩৭ নম্বরের জিপ। বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (ড্যাপ) প্রকল্পের গাড়িটির চালক মো. কামাল হোসেন। অন্যদিকে সদস্য (পরিকল্পনা) বশিরুল হক ভূইয়া ব্যবহার করছেন ঢাকা মেট্রো-ঘ-১৪-২৩২৪ নম্বরের জিপ। এটির চালক মো. পারভেজ রহমান।
রাজউক সূত্রে জানা যায়, একটি গাড়ির জ্বালানি ও চালক বাবদ সংস্থাটিকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে হয়। কমবেশি একটি গাড়ির জন্য জ্বালানি বাবদ বছরে প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা যাচ্ছে রাজউকের কোষাগার থেকে। এছাড়া একজন চালকের বেতন ভাতা বাবদ বছরে খরচ প্রায় ৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা। সেই হিসাবে একটি গাড়ির জ্বালানি ও চালক বাবদ বছরে ব্যয় প্রায় ৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে এই পাঁচটি গাড়ির পেছনে বছরে সরকারের খরচ হচ্ছে কমপক্ষে ২৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৭-১৮ অর্থবছর থেকে উপসচিব হতে সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত গাড়ি কেনার জন্য ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত সুদমুক্ত ঋণ দেওয়া হয়। পাশাপাশি জ্বালানি, রক্ষণাবেক্ষণ এবং চালকের বেতন বাবদ মাসে ৫০ হাজার টাকা ভাতা পান তারা। এই সুবিধা নেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার নিজস্ব গাড়িই ব্যবহারের কথা। সরকারি যানবাহন ব্যবহারের সুযোগও তখন আর থাকে না। কিন্তু এ নিয়ম শুধু কাগজেই সীমাবদ্ধ। বাস্তবে বেশিরভাগ মন্ত্রণালয় ও সংস্থার কর্মকর্তারা চেয়ারে বসেই ইচ্ছেমাফিক সরকারি গাড়িসুবিধা নিচ্ছেন।
আমি সরকারি বিধি মোতাবেক লোন নিয়েছি এবং বিধি মোতাবেক অর্থ সমর্পণ-পূর্বক সরকারি গাড়ি ব্যবহার করি শেখ মতিয়ার রহমান সদস্য (এস্টেট ও ভূমি), রাজউক
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজউক সদস্য (পরিকল্পনা) বশিরুল হক ভূইয়া বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেন, ‘গাড়ি কেনার জন্য ঋণসুবিধা নেওয়ার কারণে সরকার আমার বেতন থেকে ২৫ হাজার টাকা করে কেটে নেয়। এছাড়া আমার পদের বিপরীতে বরাদ্দ থাকা গাড়ির জন্য রাজউককে আরও ৮০০ টাকা করে দিতে হয়।’
একপর্যায়ে কিছুটা উত্তেজিত হয়ে এ কর্মকর্তা বলেন, ‘আপনাদের কোনো সমস্যা থাকলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করুন।’
সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) শেখ মতিয়ার রহমান বলেন, ‘আমি সরকারি বিধি মোতাবেক লোন নিয়েছি এবং বিধি মোতাবেক অর্থ সমর্পণ-পূর্বক সরকারি গাড়ি ব্যবহার করি।’
প্রাধিকারপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তাদের সুদমুক্ত ঋণ এবং গাড়ি সেবা নগদায়ন নীতিমালা, ২০২০ (সংশোধিত) এর বরাত দিয়ে রাজউক সদস্য (প্রশাসন ও অর্থ) শাহীনুর আলম বলেন, ‘নীতিমালায় আছে ব্যক্তিগত ঋণ নেওয়ার পরও কোনো কর্মকর্তা যদি সংস্থার গাড়ি ব্যবহার করে তবে রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ যে অর্থ দেওয়া হয় তার অর্ধেক (২৫ হাজার) প্রাপ্ত হবেন।’
এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘রাজউক থেকে আমাকে যে গাড়ি দেওয়া হয়েছে তা কিছুদিন যাবত নষ্ট হয়ে আছে। ব্যক্তিগত গাড়ি চালিয়ে অফিসে আসতে হচ্ছে।’
তবে নীতিমালায় ‘সুদমুক্ত ঋণসুবিধা প্রাপ্তির যোগ্যতা’ অংশে দেখা যায়, প্রাধিকারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সরকারি যানবাহন অধিদপ্তর হতে গাড়ি সুবিধা গ্রহণ করলেও গাড়ি সেবা নগদায়নের আবেদন করতে পারবেন। কিন্তু সুদমুক্ত ঋণ গ্রহণপূর্বক গাড়ি ক্রয়ের পর যানবাহন অধিদপ্তরের গাড়ি ব্যবহারের সুবিধা আর বহাল থাকবে না।

গাড়ি কেনার জন্য সরকারের সুদমুক্ত ঋণ সুবিধা নিয়েছেন। প্রতি মাসে পাচ্ছেন জ্বালানি, রক্ষণাবেক্ষণ ও চালকের বেতন বাবদ নগদ অর্থ। তারপরও সরকারি প্রকল্পের জন্য কেনা জিপ ব্যবহার করছেন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পাঁচ সদস্য। এসব জিপের জন্য সংস্থাটির কোষাগার থেকে চালকের বেতন ও জ্বালানি বাবদ নিয়মিত অর্থও পরিশোধ করা হচ্ছে। প্রেষণে আসা প্রশাসন ক্যাডারের কর্তকর্তাদের এমন কর্মকাণ্ডে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রাজউকের কর্মকর্তারা। সিজেডএন টোয়েন্টিফোরের অনুসন্ধানে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।
জানা যায়, সরকারি গাড়ির ব্যবহার কমাতে এবং নিজস্ব যানবাহন ব্যবহারে উৎসাহিত করতে কর্মকর্তাদের সুদমুক্ত ঋণ দেয় সরকার। শর্ত ছিলো এ সুবিধা নেওয়ার পর আর সরকারি যানবাহন ব্যবহার করা যাবে না। কিন্তু রাজউকের এই পাঁচ সদস্যের ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র। তারা একদিকে গাড়ি কেনার সরকারি সুবিধা ভোগ করছেন, অন্যদিকে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য কেনা জিপও ব্যবহার করছেন। প্রভাবশালী এই কর্মকর্তারদের গাড়ি বিলাসে বঞ্চিত হচ্ছেন রাজউকের অন্য কর্মকর্তারা।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই সুবিধাভোগীদের মধ্যে রয়েছেন প্রশাসন ক্যাডারের ১৫তম ব্যাচের কর্মকর্তা ও রাজউক সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) শেখ মতিয়ার রহমান, ২২তম ব্যাচের কর্মকর্তা সদস্য (উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ) এরাদুল হক ও সদস্য (পরিকল্পনা) বশিরুল হক ভূইয়া এবং ২৪তম ব্যাচের কর্মকর্তা সদস্য (উন্নয়ন) মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম ও সদস্য (প্রশাসন ও অর্থ) শাহীনুর আলম।
জানা যায়, সদস্য (উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ) এরাদুল হক ব্যবহার করছেন ঢাকা মেট্রো-ঘ-১৪১৮৪৯ নম্বরের জিপ। উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের আওতায় কেনা গাড়িটির চালক মোজাহারুল ইসলাম। সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) শেখ মতিয়ার রহমানের কাছে রয়েছে ঢাকা মেট্রো-ঘ-১৪২১৫০ নম্বরের জিপ। গ্রিন বিল্ডিং প্রকল্পের এই গাড়ির চালক মো. আনোয়ার হোসেন। সদস্য (উন্নয়ন) মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম ব্যবহার করছেন ঢাকা মেট্রো-ঘ-১১-৬৯৬৪ নম্বরের জিপ। পূর্বাচল প্রকল্পের আওতায় কেনা এই গাড়ির চালক মো. সামসুদৌহা চৌধুরী। সদস্য (প্রশাসন ও অর্থ) শাহীনুর আলমের কাছে রয়েছে ঢাকা মেট্রো-ঘ-১১-৬৬৩৭ নম্বরের জিপ। বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (ড্যাপ) প্রকল্পের গাড়িটির চালক মো. কামাল হোসেন। অন্যদিকে সদস্য (পরিকল্পনা) বশিরুল হক ভূইয়া ব্যবহার করছেন ঢাকা মেট্রো-ঘ-১৪-২৩২৪ নম্বরের জিপ। এটির চালক মো. পারভেজ রহমান।
রাজউক সূত্রে জানা যায়, একটি গাড়ির জ্বালানি ও চালক বাবদ সংস্থাটিকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে হয়। কমবেশি একটি গাড়ির জন্য জ্বালানি বাবদ বছরে প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা যাচ্ছে রাজউকের কোষাগার থেকে। এছাড়া একজন চালকের বেতন ভাতা বাবদ বছরে খরচ প্রায় ৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা। সেই হিসাবে একটি গাড়ির জ্বালানি ও চালক বাবদ বছরে ব্যয় প্রায় ৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে এই পাঁচটি গাড়ির পেছনে বছরে সরকারের খরচ হচ্ছে কমপক্ষে ২৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৭-১৮ অর্থবছর থেকে উপসচিব হতে সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত গাড়ি কেনার জন্য ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত সুদমুক্ত ঋণ দেওয়া হয়। পাশাপাশি জ্বালানি, রক্ষণাবেক্ষণ এবং চালকের বেতন বাবদ মাসে ৫০ হাজার টাকা ভাতা পান তারা। এই সুবিধা নেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার নিজস্ব গাড়িই ব্যবহারের কথা। সরকারি যানবাহন ব্যবহারের সুযোগও তখন আর থাকে না। কিন্তু এ নিয়ম শুধু কাগজেই সীমাবদ্ধ। বাস্তবে বেশিরভাগ মন্ত্রণালয় ও সংস্থার কর্মকর্তারা চেয়ারে বসেই ইচ্ছেমাফিক সরকারি গাড়িসুবিধা নিচ্ছেন।
আমি সরকারি বিধি মোতাবেক লোন নিয়েছি এবং বিধি মোতাবেক অর্থ সমর্পণ-পূর্বক সরকারি গাড়ি ব্যবহার করি শেখ মতিয়ার রহমান সদস্য (এস্টেট ও ভূমি), রাজউক
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজউক সদস্য (পরিকল্পনা) বশিরুল হক ভূইয়া বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেন, ‘গাড়ি কেনার জন্য ঋণসুবিধা নেওয়ার কারণে সরকার আমার বেতন থেকে ২৫ হাজার টাকা করে কেটে নেয়। এছাড়া আমার পদের বিপরীতে বরাদ্দ থাকা গাড়ির জন্য রাজউককে আরও ৮০০ টাকা করে দিতে হয়।’
একপর্যায়ে কিছুটা উত্তেজিত হয়ে এ কর্মকর্তা বলেন, ‘আপনাদের কোনো সমস্যা থাকলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করুন।’
সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) শেখ মতিয়ার রহমান বলেন, ‘আমি সরকারি বিধি মোতাবেক লোন নিয়েছি এবং বিধি মোতাবেক অর্থ সমর্পণ-পূর্বক সরকারি গাড়ি ব্যবহার করি।’
প্রাধিকারপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তাদের সুদমুক্ত ঋণ এবং গাড়ি সেবা নগদায়ন নীতিমালা, ২০২০ (সংশোধিত) এর বরাত দিয়ে রাজউক সদস্য (প্রশাসন ও অর্থ) শাহীনুর আলম বলেন, ‘নীতিমালায় আছে ব্যক্তিগত ঋণ নেওয়ার পরও কোনো কর্মকর্তা যদি সংস্থার গাড়ি ব্যবহার করে তবে রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ যে অর্থ দেওয়া হয় তার অর্ধেক (২৫ হাজার) প্রাপ্ত হবেন।’
এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘রাজউক থেকে আমাকে যে গাড়ি দেওয়া হয়েছে তা কিছুদিন যাবত নষ্ট হয়ে আছে। ব্যক্তিগত গাড়ি চালিয়ে অফিসে আসতে হচ্ছে।’
তবে নীতিমালায় ‘সুদমুক্ত ঋণসুবিধা প্রাপ্তির যোগ্যতা’ অংশে দেখা যায়, প্রাধিকারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সরকারি যানবাহন অধিদপ্তর হতে গাড়ি সুবিধা গ্রহণ করলেও গাড়ি সেবা নগদায়নের আবেদন করতে পারবেন। কিন্তু সুদমুক্ত ঋণ গ্রহণপূর্বক গাড়ি ক্রয়ের পর যানবাহন অধিদপ্তরের গাড়ি ব্যবহারের সুবিধা আর বহাল থাকবে না।

ঋণসুবিধা নিয়েও রাজউকের ৫ আমলার দখলে সরকারি গাড়ি
সেলিনা আক্তার

গাড়ি কেনার জন্য সরকারের সুদমুক্ত ঋণ সুবিধা নিয়েছেন। প্রতি মাসে পাচ্ছেন জ্বালানি, রক্ষণাবেক্ষণ ও চালকের বেতন বাবদ নগদ অর্থ। তারপরও সরকারি প্রকল্পের জন্য কেনা জিপ ব্যবহার করছেন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পাঁচ সদস্য। এসব জিপের জন্য সংস্থাটির কোষাগার থেকে চালকের বেতন ও জ্বালানি বাবদ নিয়মিত অর্থও পরিশোধ করা হচ্ছে। প্রেষণে আসা প্রশাসন ক্যাডারের কর্তকর্তাদের এমন কর্মকাণ্ডে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রাজউকের কর্মকর্তারা। সিজেডএন টোয়েন্টিফোরের অনুসন্ধানে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।
জানা যায়, সরকারি গাড়ির ব্যবহার কমাতে এবং নিজস্ব যানবাহন ব্যবহারে উৎসাহিত করতে কর্মকর্তাদের সুদমুক্ত ঋণ দেয় সরকার। শর্ত ছিলো এ সুবিধা নেওয়ার পর আর সরকারি যানবাহন ব্যবহার করা যাবে না। কিন্তু রাজউকের এই পাঁচ সদস্যের ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র। তারা একদিকে গাড়ি কেনার সরকারি সুবিধা ভোগ করছেন, অন্যদিকে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য কেনা জিপও ব্যবহার করছেন। প্রভাবশালী এই কর্মকর্তারদের গাড়ি বিলাসে বঞ্চিত হচ্ছেন রাজউকের অন্য কর্মকর্তারা।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই সুবিধাভোগীদের মধ্যে রয়েছেন প্রশাসন ক্যাডারের ১৫তম ব্যাচের কর্মকর্তা ও রাজউক সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) শেখ মতিয়ার রহমান, ২২তম ব্যাচের কর্মকর্তা সদস্য (উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ) এরাদুল হক ও সদস্য (পরিকল্পনা) বশিরুল হক ভূইয়া এবং ২৪তম ব্যাচের কর্মকর্তা সদস্য (উন্নয়ন) মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম ও সদস্য (প্রশাসন ও অর্থ) শাহীনুর আলম।
জানা যায়, সদস্য (উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ) এরাদুল হক ব্যবহার করছেন ঢাকা মেট্রো-ঘ-১৪১৮৪৯ নম্বরের জিপ। উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের আওতায় কেনা গাড়িটির চালক মোজাহারুল ইসলাম। সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) শেখ মতিয়ার রহমানের কাছে রয়েছে ঢাকা মেট্রো-ঘ-১৪২১৫০ নম্বরের জিপ। গ্রিন বিল্ডিং প্রকল্পের এই গাড়ির চালক মো. আনোয়ার হোসেন। সদস্য (উন্নয়ন) মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম ব্যবহার করছেন ঢাকা মেট্রো-ঘ-১১-৬৯৬৪ নম্বরের জিপ। পূর্বাচল প্রকল্পের আওতায় কেনা এই গাড়ির চালক মো. সামসুদৌহা চৌধুরী। সদস্য (প্রশাসন ও অর্থ) শাহীনুর আলমের কাছে রয়েছে ঢাকা মেট্রো-ঘ-১১-৬৬৩৭ নম্বরের জিপ। বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (ড্যাপ) প্রকল্পের গাড়িটির চালক মো. কামাল হোসেন। অন্যদিকে সদস্য (পরিকল্পনা) বশিরুল হক ভূইয়া ব্যবহার করছেন ঢাকা মেট্রো-ঘ-১৪-২৩২৪ নম্বরের জিপ। এটির চালক মো. পারভেজ রহমান।
রাজউক সূত্রে জানা যায়, একটি গাড়ির জ্বালানি ও চালক বাবদ সংস্থাটিকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে হয়। কমবেশি একটি গাড়ির জন্য জ্বালানি বাবদ বছরে প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা যাচ্ছে রাজউকের কোষাগার থেকে। এছাড়া একজন চালকের বেতন ভাতা বাবদ বছরে খরচ প্রায় ৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা। সেই হিসাবে একটি গাড়ির জ্বালানি ও চালক বাবদ বছরে ব্যয় প্রায় ৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে এই পাঁচটি গাড়ির পেছনে বছরে সরকারের খরচ হচ্ছে কমপক্ষে ২৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৭-১৮ অর্থবছর থেকে উপসচিব হতে সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত গাড়ি কেনার জন্য ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত সুদমুক্ত ঋণ দেওয়া হয়। পাশাপাশি জ্বালানি, রক্ষণাবেক্ষণ এবং চালকের বেতন বাবদ মাসে ৫০ হাজার টাকা ভাতা পান তারা। এই সুবিধা নেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার নিজস্ব গাড়িই ব্যবহারের কথা। সরকারি যানবাহন ব্যবহারের সুযোগও তখন আর থাকে না। কিন্তু এ নিয়ম শুধু কাগজেই সীমাবদ্ধ। বাস্তবে বেশিরভাগ মন্ত্রণালয় ও সংস্থার কর্মকর্তারা চেয়ারে বসেই ইচ্ছেমাফিক সরকারি গাড়িসুবিধা নিচ্ছেন।
আমি সরকারি বিধি মোতাবেক লোন নিয়েছি এবং বিধি মোতাবেক অর্থ সমর্পণ-পূর্বক সরকারি গাড়ি ব্যবহার করি শেখ মতিয়ার রহমান সদস্য (এস্টেট ও ভূমি), রাজউক
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজউক সদস্য (পরিকল্পনা) বশিরুল হক ভূইয়া বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেন, ‘গাড়ি কেনার জন্য ঋণসুবিধা নেওয়ার কারণে সরকার আমার বেতন থেকে ২৫ হাজার টাকা করে কেটে নেয়। এছাড়া আমার পদের বিপরীতে বরাদ্দ থাকা গাড়ির জন্য রাজউককে আরও ৮০০ টাকা করে দিতে হয়।’
একপর্যায়ে কিছুটা উত্তেজিত হয়ে এ কর্মকর্তা বলেন, ‘আপনাদের কোনো সমস্যা থাকলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করুন।’
সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) শেখ মতিয়ার রহমান বলেন, ‘আমি সরকারি বিধি মোতাবেক লোন নিয়েছি এবং বিধি মোতাবেক অর্থ সমর্পণ-পূর্বক সরকারি গাড়ি ব্যবহার করি।’
প্রাধিকারপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তাদের সুদমুক্ত ঋণ এবং গাড়ি সেবা নগদায়ন নীতিমালা, ২০২০ (সংশোধিত) এর বরাত দিয়ে রাজউক সদস্য (প্রশাসন ও অর্থ) শাহীনুর আলম বলেন, ‘নীতিমালায় আছে ব্যক্তিগত ঋণ নেওয়ার পরও কোনো কর্মকর্তা যদি সংস্থার গাড়ি ব্যবহার করে তবে রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ যে অর্থ দেওয়া হয় তার অর্ধেক (২৫ হাজার) প্রাপ্ত হবেন।’
এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘রাজউক থেকে আমাকে যে গাড়ি দেওয়া হয়েছে তা কিছুদিন যাবত নষ্ট হয়ে আছে। ব্যক্তিগত গাড়ি চালিয়ে অফিসে আসতে হচ্ছে।’
তবে নীতিমালায় ‘সুদমুক্ত ঋণসুবিধা প্রাপ্তির যোগ্যতা’ অংশে দেখা যায়, প্রাধিকারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সরকারি যানবাহন অধিদপ্তর হতে গাড়ি সুবিধা গ্রহণ করলেও গাড়ি সেবা নগদায়নের আবেদন করতে পারবেন। কিন্তু সুদমুক্ত ঋণ গ্রহণপূর্বক গাড়ি ক্রয়ের পর যানবাহন অধিদপ্তরের গাড়ি ব্যবহারের সুবিধা আর বহাল থাকবে না।

মন্ত্রী প্রতিমন্ত্রী সচিবের ‘পিএস-এপিএসের’ গাড়ি বিলাস
আ.লীগ আমলে প্লট বরাদ্দে অনিয়ম খুঁজতে কমিটি নিলো ৩১ লাখ টাকা
আ.লীগ আমলে পাওয়া সোহেল তাজের প্লট বাতিল করছে সরকার
কার স্বার্থে পূর্ত মন্ত্রণালয়ে নিষ্কণ্টক জমির তালিকা 





