শিরোনাম

মেট্রোস্টেশন ঘিরে নতুন ২১ বাণিজ্যিক প্লট, বরাদ্দে তোড়জোড় রাজউকের

মেট্রোস্টেশন ঘিরে নতুন ২১ বাণিজ্যিক প্লট, বরাদ্দে তোড়জোড় রাজউকের
উত্তরা ১৫ সেক্টরের অ্যাভিনিউ-৪ সংলগ্ন এলাকা। ছবি: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

পরিকল্পিত নগরায়ণের উদ্দেশ্যে পর্যাপ্ত ফাঁকা জমি, সবুজ চত্বর, প্রশস্ত রাস্তা ও ওয়াটার বডি রেখে আবাসিক এলাকার নকশা করে থাকে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। কিন্তু সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কোনো প্রকল্পের জমি দামি হয়ে উঠলে শুরু হয় মূল পরিকল্পনার কাটছাঁট। উত্তরা তৃতীয় পর্বও এর বাইরে নয়। এই মুহূর্তে উত্তরা তৃতীয় পর্বে মেট্রোস্টেশন ঘিরে একখণ্ড জমি ‘সোনার চেয়ে দামি’ হয়ে উঠেছে। সেই জমিতে সৃজন করা হয়েছে ২১টি বাণিজ্যিক প্লট। প্রশ্ন উঠেছে, শেষ পর্যন্ত এই জমিতে তড়িঘড়ি করে প্লট সৃজনের পর বরাদ্দ প্রক্রিয়ার কী হবে।

রাজধানীর উত্তরা তৃতীয় পর্ব আবাসিক এলাকার ১৫ নম্বর সেক্টরে মেট্রোরেল ডিপো ঘিরে নতুন করে এই বাণিজ্যিক প্লটগুলো সৃজন করেছে রাজউক। অ্যাভিনিউ-৪ সংলগ্ন এলাকার প্রায় ৪৩ বিঘা জমি ভাগ করে এসব প্লটের আইডি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ এই এলাকায় নতুন করে এতগুলো বাণিজ্যিক প্লট সৃজন রাজউকের অনুমোদিত মাস্টারপ্ল্যান ও ভূমি ব্যবহার পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে।

নতুন ২১টি বাণিজ্যিক প্লট ম্যাপের চিহ্নিত এলাকায় করা হয়েছে।

রাজউক সূত্র জানায়, গত ৪ আগস্ট অনুষ্ঠিত সংস্থাটির ২০২৬ সালের ১৯তম বোর্ড সভায় ২১টি প্লট সৃজন ও আইডি অনুমোদনের সিদ্ধান্ত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন রাজউক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলাম। উপস্থিত ছিলেন সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) শেখ মতিয়ার রহমান, সদস্য (প্রশাসন ও অর্থ) মো. শাহীনুর আলম, সদস্য (উন্নয়ন) মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম, সদস্য (উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ) এরাদুল হক এবং সদস্য (পরিকল্পনা) মোহাম্মদ বশিরুল হক ভূইয়া।

রাজউকের নথি অনুযায়ী, উত্তরা তৃতীয় পর্বের ১৫ নম্বর সেক্টরে অ্যাভিনিউ-৪ সংলগ্ন সেন্ট্রাল বিজনেস ডিস্ট্রিক্ট (সিবিডি) ও লেক-২-এর উত্তর দিক থেকে মেট্রোরেলের ডিপো পর্যন্ত আইডিবিহীন জমি রয়েছে। দক্ষিণ থেকে উত্তর দিকে তিন অংশে জমির পরিমাণ প্রায় ১৪ দশমিক ৪৬ বিঘা, ১২ দশমিক ৮৮ বিঘা ও ১৫ দশমিক ৫৭ বিঘা। মোট জমি ৪২ দশমিক ৯১ বিঘা। বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত এসব জমি ভবিষ্যতে বরাদ্দের সুবিধার্থে পৃথক প্লটে চিহ্নিত করে আইডি দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়।

রাজউকের অনুমোদিত তালিকা অনুযায়ী, নতুন সৃজন করা ২১টি প্লটের মধ্যে প্রথমটির আয়তন ২ দশমিক ৪৬ বিঘা। এরপর ২ থেকে ১২ নম্বর প্লটের প্রতিটির আয়তন দুই বিঘা করে। ১৩ নম্বর প্লটের আয়তন ২ দশমিক ৮৮ বিঘা। ১৪ নম্বর প্লটটি পেট্রোল পাম্প হিসেবে চিহ্নিত, যার আয়তন এক বিঘা। ১৫ ও ১৬ নম্বর প্লটের আয়তন যথাক্রমে ২ দশমিক ৪৭ ও ২ দশমিক ৪৬ বিঘা। ১৭ থেকে ২০ নম্বর প্লটের প্রতিটির আয়তন দুই বিঘা। আর ২১ নম্বর প্লটটি সবুজ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত, যার আয়তন ১ দশমিক ৬৪ বিঘা।

বিস্তারিত কাজ শেষে বিষয়টি বোর্ড সভায় উপস্থাপন করেন রাজউকের উপ-স্থপতি, নগর স্থপতি, প্রধান স্থপতি ও সদস্য (পরিকল্পনা)। পরে বোর্ড সিদ্ধান্ত দেয় বাস্তবায়নে থাকবেন প্রধান নগর স্থপতি (চলতি দায়িত্ব) মোস্তাক আহমেদ।

রাজউকের একাধিক কর্মকর্তা জানান, নতুন করে বাণিজ্যিক প্লট সৃজনের ক্ষেত্রে অনুমোদিত মাস্টারপ্ল্যান ও সংশ্লিষ্ট ভূমি ব্যবহার পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্যের বিষয়টি এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ, মেট্রোরেল ডিপো ও অ্যাভিনিউ-৪ সংলগ্ন এই এলাকা উত্তরা তৃতীয় পর্বের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এখানে নতুন বাণিজ্যিক প্লট সৃষ্টি হলে ভবিষ্যতে যানবাহন চলাচল, বাণিজ্যিক চাপ ও আশপাশের ভূমি ব্যবহারে কী প্রভাব পড়বে, সেটিও এখন বিবেচনার বিষয়।

জানতে চাইলে রাজউকের সদস্য (পরিকল্পনা) বশিরুল হক ভূইয়া সিজেডএন টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘এই বিষয়ে আমার কোনো ধারণা নেই। প্রধান নগর স্থপতি বা চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।’

রাজউক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ‘মাস্টারপ্ল্যানে এই জায়গাটি কমার্শিয়াল হিসেবে আছে। যা দীর্ঘদিন ধরে খালি পড়ে থাকার কারণে বেদখল হয়ে যাচ্ছিলো। কয়েকদিন পর পর ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে হয়। দখলমুক্ত রাখার জন্য আমরা এখন শুধু প্লট আকারে করেছি।’

রাজউকের প্রধান স্থপতি (চলতি দায়িত্ব) মোস্তাক আহমেদ বলেন, ‘প্লট সৃজনের ক্ষেত্রে মাস্টারপ্ল্যানের কোনো ব্যত্যয় করা হয়নি। বরং এসব প্লট আগেই সৃজন করা উচিত ছিল। এখন সৃজন করা হয়েছে। এতে রাজউক ভালো দাম পাবে। লেক ও আশপাশের পরিবেশের বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই প্লটগুলো সৃজন করা হয়েছে।’

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের সাবেক সভাপতি ড. আদিল মুহাম্মদ খান সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেন, ‘মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী করা হলে সেটি নিয়ে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু আমাদের অভিজ্ঞতা ভালো নয়, এর আগে পূর্বাচলে মাস্টারপ্লানের ব্যত্যয় ঘটিয়ে বাণিজ্যিক প্লট করা হয়েছিল।’

/এসএ/