আ.লীগ আমলে প্লট বরাদ্দে অনিয়ম খুঁজতে কমিটি নিলো ৩১ লাখ টাকা

আ.লীগ আমলে প্লট বরাদ্দে অনিয়ম খুঁজতে কমিটি নিলো ৩১ লাখ টাকা
সেলিনা আক্তার

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজউক থেকে পাওয়া প্লটের তথ্য খুঁজতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিন সদস্যের এ কমিটির পেছনে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩১ লাখ টাকা। এর মধ্যে কমিটির সভাপতি সাবেক এক আমলা নিয়েছেন ১২ লাখ টাকা, দুইজন সদস্যের প্রত্যেকে নিয়েছেন ৬ লাখ টাকা করে। এর বাইরে আপ্যায়নের জন্য ১ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং সভাপতির জন্য বরাদ্দ গাড়ির জ্বালানি ও চালকের পেছনে ব্যয় হয়েছে ৫ লাখ ৬৪ হাজার ৭২০ টাকা।
অভিযোগ উঠেছে, গত এক বছরে এ কমিটির সদস্যরা নিয়মিত সভা না করে এসব সম্মানী নিয়েছেন। যতটি সভা করার কথা ছিল, তা করেননি। অথচ কাগজে-কলমে দেখানো হয়েছে এর চেয়ে বেশি সভা। সিজেডএন টোয়েন্টিফোরের হাতে আসা নথি ঘেঁটে এসব তথ্য মিলেছে।
সূত্র জানায়, ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের জুলাই পর্যন্ত রাজউকের বিভিন্ন আবাসিক প্রকল্পে বরাদ্দ দেওয়া প্লটগুলো বিধি মেনে দেওয়া হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে হাইকোর্টের নির্দেশে তিন সদস্যের এ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির চেয়ারম্যান করা হয় ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক মহ. মনিরুজ্জামানকে। সদস্য ঢাকা ওয়াসার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আলমগীর হাসিন এবং সদস্যসচিব রাজউকের সদস্য (প্রশাসন ও অর্থ) বশিরুল হক ভূইয়া। রাজউকের এই পদে পরিবর্তনের সঙ্গে এর আগে সদস্যসচিবও পরিবর্তন হয়েছে।
জানা যায়, কমিটি গঠনের সময় প্রয়োজন অনুযায়ী মাসে সর্বোচ্চ তিনটি সভা করার কথা ছিল। পরে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে সাতটি এবং সেপ্টেম্বরে ১০টি সভার অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রতিটি সভার চেয়ারম্যানের সম্মানী ১০ হাজার এবং দুই সদস্যের ৫ হাজার টাকা করে নির্ধারণ করা হয়। নথিতে ২০২৫ সালের জুনে ১০টি, জুলাইয়ে ১৩টি এবং আগস্টে ১৫টি সভা করার তথ্য পাওয়া গেছে। অর্থাৎ অনুমোদিত সংখ্যার চেয়ে বেশি সভা দেখিয়ে সম্মানী তোলা হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অভিযোগ, কমিটির সদস্য ওয়াসার প্রকৌশলী আলমগীর হাসিন গত আট মাস রাজউকে আসেননি। অথচ তার নামে নিয়মিত সভার সম্মানী উত্তোলন করা হয়েছে। চেয়ারম্যানের সঙ্গেও এ সময়ে তার নিয়মিত যোগাযোগ ছিল না বলে জানা যায়। অন্যদিকে, সদস্যসচিব বশিরুল হক ভূইয়া কমিটির দপ্তর হিসেবে ব্যবহৃত রাজউকের অ্যানেক্স ভবনে একদিনও যাননি এবং কোনো সভায় অংশ নেননি বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রশিক্ষণের জন্য প্রায় ৪৫ দিন দায়িত্ব থেকে অবমুক্ত থাকার সময়েও সভা দেখিয়ে সম্মানীর নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
সভায় উপস্থিত না থেকে সম্মানী নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে কমিটির সদস্য আলমগীর হাসিন বলেন, ‘এটা সত্য যে আমি সভার সবদিন উপস্থিত থাকতে পারিনি। মূলত কাজ করেছে কমিটির সভাপতি মুনিরুজ্জামান। আমি শুধু মতামত দিয়েছি।’
একই বিষয়ে রাজউক সদস্য বশিরুল হক ভূইয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।
তথ্যমতে, শুধু সম্মানী বাবদ ব্যয় ২৪ লাখ টাকা। আপ্যায়নে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। চেয়ারম্যানের ব্যবহারের জন্য দেওয়া গাড়িতে মাসে ১৫০ লিটার জ্বালানির ব্যয় এক বছরে ২ লাখ ৩৪ হাজার টাকা এবং চালকের পেছনে ৩ লাখ ৩০ হাজার ৭২০ টাকা খরচ হয়েছে। সব মিলিয়ে ব্যয় প্রায় ৩০ লাখ ৮৪ হাজার ৭২০ টাকা।
এত অর্থ খরচ হলেও কমিটি এখন পর্যন্ত প্লটগুলোর বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো সুপারিশ দেয়নি বলে জানা যায়। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, কমিটি মূলত প্লট নম্বর ও বরাদ্দসংক্রান্ত তথ্য দিয়ে কমিটি রাজউকের ঝিলমিল আবাসিক প্রকল্পের ২৬০টি প্লট, পূর্বাচলের ৯৪৪টি, উত্তরা আদর্শ শহর আবাসিক এলাকার ২২১টি, মোট ১ হাজার ৪২৬টি প্লটের তালিকা করেছে। এই প্লটগুলোর মধ্যে কোন প্লটের বরাদ্দ কেন বিধিবহির্ভূত বা কোন প্লট বাতিল হওয়া উচিত, এমন বিশ্লেষণ নেই। কমিটিকে ২০২৫ সালের ৩১ আগস্টের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছিল। পরে সময় বাড়িয়ে ২০২৬ সালের ১২ জুলাই পর্যন্ত করা হয়।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে কমিটির চেয়ারম্যান মুহ. মনিরুজ্জামান সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেন, ‘এই বিষয়ে আমি কোনো কথা বলতে চাচ্ছি না।’
সার্বিক বিষয়ে জানতে রাজউক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘হাইকোর্টের সিদ্ধান্তে মন্ত্রণালয় থেকে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর সঙ্গে রাজউকের খুব একটা সম্পৃক্ততা নেই।’

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজউক থেকে পাওয়া প্লটের তথ্য খুঁজতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিন সদস্যের এ কমিটির পেছনে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩১ লাখ টাকা। এর মধ্যে কমিটির সভাপতি সাবেক এক আমলা নিয়েছেন ১২ লাখ টাকা, দুইজন সদস্যের প্রত্যেকে নিয়েছেন ৬ লাখ টাকা করে। এর বাইরে আপ্যায়নের জন্য ১ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং সভাপতির জন্য বরাদ্দ গাড়ির জ্বালানি ও চালকের পেছনে ব্যয় হয়েছে ৫ লাখ ৬৪ হাজার ৭২০ টাকা।
অভিযোগ উঠেছে, গত এক বছরে এ কমিটির সদস্যরা নিয়মিত সভা না করে এসব সম্মানী নিয়েছেন। যতটি সভা করার কথা ছিল, তা করেননি। অথচ কাগজে-কলমে দেখানো হয়েছে এর চেয়ে বেশি সভা। সিজেডএন টোয়েন্টিফোরের হাতে আসা নথি ঘেঁটে এসব তথ্য মিলেছে।
সূত্র জানায়, ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের জুলাই পর্যন্ত রাজউকের বিভিন্ন আবাসিক প্রকল্পে বরাদ্দ দেওয়া প্লটগুলো বিধি মেনে দেওয়া হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে হাইকোর্টের নির্দেশে তিন সদস্যের এ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির চেয়ারম্যান করা হয় ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক মহ. মনিরুজ্জামানকে। সদস্য ঢাকা ওয়াসার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আলমগীর হাসিন এবং সদস্যসচিব রাজউকের সদস্য (প্রশাসন ও অর্থ) বশিরুল হক ভূইয়া। রাজউকের এই পদে পরিবর্তনের সঙ্গে এর আগে সদস্যসচিবও পরিবর্তন হয়েছে।
জানা যায়, কমিটি গঠনের সময় প্রয়োজন অনুযায়ী মাসে সর্বোচ্চ তিনটি সভা করার কথা ছিল। পরে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে সাতটি এবং সেপ্টেম্বরে ১০টি সভার অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রতিটি সভার চেয়ারম্যানের সম্মানী ১০ হাজার এবং দুই সদস্যের ৫ হাজার টাকা করে নির্ধারণ করা হয়। নথিতে ২০২৫ সালের জুনে ১০টি, জুলাইয়ে ১৩টি এবং আগস্টে ১৫টি সভা করার তথ্য পাওয়া গেছে। অর্থাৎ অনুমোদিত সংখ্যার চেয়ে বেশি সভা দেখিয়ে সম্মানী তোলা হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অভিযোগ, কমিটির সদস্য ওয়াসার প্রকৌশলী আলমগীর হাসিন গত আট মাস রাজউকে আসেননি। অথচ তার নামে নিয়মিত সভার সম্মানী উত্তোলন করা হয়েছে। চেয়ারম্যানের সঙ্গেও এ সময়ে তার নিয়মিত যোগাযোগ ছিল না বলে জানা যায়। অন্যদিকে, সদস্যসচিব বশিরুল হক ভূইয়া কমিটির দপ্তর হিসেবে ব্যবহৃত রাজউকের অ্যানেক্স ভবনে একদিনও যাননি এবং কোনো সভায় অংশ নেননি বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রশিক্ষণের জন্য প্রায় ৪৫ দিন দায়িত্ব থেকে অবমুক্ত থাকার সময়েও সভা দেখিয়ে সম্মানীর নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
সভায় উপস্থিত না থেকে সম্মানী নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে কমিটির সদস্য আলমগীর হাসিন বলেন, ‘এটা সত্য যে আমি সভার সবদিন উপস্থিত থাকতে পারিনি। মূলত কাজ করেছে কমিটির সভাপতি মুনিরুজ্জামান। আমি শুধু মতামত দিয়েছি।’
একই বিষয়ে রাজউক সদস্য বশিরুল হক ভূইয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।
তথ্যমতে, শুধু সম্মানী বাবদ ব্যয় ২৪ লাখ টাকা। আপ্যায়নে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। চেয়ারম্যানের ব্যবহারের জন্য দেওয়া গাড়িতে মাসে ১৫০ লিটার জ্বালানির ব্যয় এক বছরে ২ লাখ ৩৪ হাজার টাকা এবং চালকের পেছনে ৩ লাখ ৩০ হাজার ৭২০ টাকা খরচ হয়েছে। সব মিলিয়ে ব্যয় প্রায় ৩০ লাখ ৮৪ হাজার ৭২০ টাকা।
এত অর্থ খরচ হলেও কমিটি এখন পর্যন্ত প্লটগুলোর বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো সুপারিশ দেয়নি বলে জানা যায়। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, কমিটি মূলত প্লট নম্বর ও বরাদ্দসংক্রান্ত তথ্য দিয়ে কমিটি রাজউকের ঝিলমিল আবাসিক প্রকল্পের ২৬০টি প্লট, পূর্বাচলের ৯৪৪টি, উত্তরা আদর্শ শহর আবাসিক এলাকার ২২১টি, মোট ১ হাজার ৪২৬টি প্লটের তালিকা করেছে। এই প্লটগুলোর মধ্যে কোন প্লটের বরাদ্দ কেন বিধিবহির্ভূত বা কোন প্লট বাতিল হওয়া উচিত, এমন বিশ্লেষণ নেই। কমিটিকে ২০২৫ সালের ৩১ আগস্টের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছিল। পরে সময় বাড়িয়ে ২০২৬ সালের ১২ জুলাই পর্যন্ত করা হয়।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে কমিটির চেয়ারম্যান মুহ. মনিরুজ্জামান সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেন, ‘এই বিষয়ে আমি কোনো কথা বলতে চাচ্ছি না।’
সার্বিক বিষয়ে জানতে রাজউক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘হাইকোর্টের সিদ্ধান্তে মন্ত্রণালয় থেকে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর সঙ্গে রাজউকের খুব একটা সম্পৃক্ততা নেই।’

আ.লীগ আমলে প্লট বরাদ্দে অনিয়ম খুঁজতে কমিটি নিলো ৩১ লাখ টাকা
সেলিনা আক্তার

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজউক থেকে পাওয়া প্লটের তথ্য খুঁজতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিন সদস্যের এ কমিটির পেছনে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩১ লাখ টাকা। এর মধ্যে কমিটির সভাপতি সাবেক এক আমলা নিয়েছেন ১২ লাখ টাকা, দুইজন সদস্যের প্রত্যেকে নিয়েছেন ৬ লাখ টাকা করে। এর বাইরে আপ্যায়নের জন্য ১ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং সভাপতির জন্য বরাদ্দ গাড়ির জ্বালানি ও চালকের পেছনে ব্যয় হয়েছে ৫ লাখ ৬৪ হাজার ৭২০ টাকা।
অভিযোগ উঠেছে, গত এক বছরে এ কমিটির সদস্যরা নিয়মিত সভা না করে এসব সম্মানী নিয়েছেন। যতটি সভা করার কথা ছিল, তা করেননি। অথচ কাগজে-কলমে দেখানো হয়েছে এর চেয়ে বেশি সভা। সিজেডএন টোয়েন্টিফোরের হাতে আসা নথি ঘেঁটে এসব তথ্য মিলেছে।
সূত্র জানায়, ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের জুলাই পর্যন্ত রাজউকের বিভিন্ন আবাসিক প্রকল্পে বরাদ্দ দেওয়া প্লটগুলো বিধি মেনে দেওয়া হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে হাইকোর্টের নির্দেশে তিন সদস্যের এ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির চেয়ারম্যান করা হয় ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক মহ. মনিরুজ্জামানকে। সদস্য ঢাকা ওয়াসার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আলমগীর হাসিন এবং সদস্যসচিব রাজউকের সদস্য (প্রশাসন ও অর্থ) বশিরুল হক ভূইয়া। রাজউকের এই পদে পরিবর্তনের সঙ্গে এর আগে সদস্যসচিবও পরিবর্তন হয়েছে।
জানা যায়, কমিটি গঠনের সময় প্রয়োজন অনুযায়ী মাসে সর্বোচ্চ তিনটি সভা করার কথা ছিল। পরে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে সাতটি এবং সেপ্টেম্বরে ১০টি সভার অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রতিটি সভার চেয়ারম্যানের সম্মানী ১০ হাজার এবং দুই সদস্যের ৫ হাজার টাকা করে নির্ধারণ করা হয়। নথিতে ২০২৫ সালের জুনে ১০টি, জুলাইয়ে ১৩টি এবং আগস্টে ১৫টি সভা করার তথ্য পাওয়া গেছে। অর্থাৎ অনুমোদিত সংখ্যার চেয়ে বেশি সভা দেখিয়ে সম্মানী তোলা হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অভিযোগ, কমিটির সদস্য ওয়াসার প্রকৌশলী আলমগীর হাসিন গত আট মাস রাজউকে আসেননি। অথচ তার নামে নিয়মিত সভার সম্মানী উত্তোলন করা হয়েছে। চেয়ারম্যানের সঙ্গেও এ সময়ে তার নিয়মিত যোগাযোগ ছিল না বলে জানা যায়। অন্যদিকে, সদস্যসচিব বশিরুল হক ভূইয়া কমিটির দপ্তর হিসেবে ব্যবহৃত রাজউকের অ্যানেক্স ভবনে একদিনও যাননি এবং কোনো সভায় অংশ নেননি বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রশিক্ষণের জন্য প্রায় ৪৫ দিন দায়িত্ব থেকে অবমুক্ত থাকার সময়েও সভা দেখিয়ে সম্মানীর নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
সভায় উপস্থিত না থেকে সম্মানী নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে কমিটির সদস্য আলমগীর হাসিন বলেন, ‘এটা সত্য যে আমি সভার সবদিন উপস্থিত থাকতে পারিনি। মূলত কাজ করেছে কমিটির সভাপতি মুনিরুজ্জামান। আমি শুধু মতামত দিয়েছি।’
একই বিষয়ে রাজউক সদস্য বশিরুল হক ভূইয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।
তথ্যমতে, শুধু সম্মানী বাবদ ব্যয় ২৪ লাখ টাকা। আপ্যায়নে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। চেয়ারম্যানের ব্যবহারের জন্য দেওয়া গাড়িতে মাসে ১৫০ লিটার জ্বালানির ব্যয় এক বছরে ২ লাখ ৩৪ হাজার টাকা এবং চালকের পেছনে ৩ লাখ ৩০ হাজার ৭২০ টাকা খরচ হয়েছে। সব মিলিয়ে ব্যয় প্রায় ৩০ লাখ ৮৪ হাজার ৭২০ টাকা।
এত অর্থ খরচ হলেও কমিটি এখন পর্যন্ত প্লটগুলোর বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো সুপারিশ দেয়নি বলে জানা যায়। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, কমিটি মূলত প্লট নম্বর ও বরাদ্দসংক্রান্ত তথ্য দিয়ে কমিটি রাজউকের ঝিলমিল আবাসিক প্রকল্পের ২৬০টি প্লট, পূর্বাচলের ৯৪৪টি, উত্তরা আদর্শ শহর আবাসিক এলাকার ২২১টি, মোট ১ হাজার ৪২৬টি প্লটের তালিকা করেছে। এই প্লটগুলোর মধ্যে কোন প্লটের বরাদ্দ কেন বিধিবহির্ভূত বা কোন প্লট বাতিল হওয়া উচিত, এমন বিশ্লেষণ নেই। কমিটিকে ২০২৫ সালের ৩১ আগস্টের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছিল। পরে সময় বাড়িয়ে ২০২৬ সালের ১২ জুলাই পর্যন্ত করা হয়।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে কমিটির চেয়ারম্যান মুহ. মনিরুজ্জামান সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেন, ‘এই বিষয়ে আমি কোনো কথা বলতে চাচ্ছি না।’
সার্বিক বিষয়ে জানতে রাজউক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘হাইকোর্টের সিদ্ধান্তে মন্ত্রণালয় থেকে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর সঙ্গে রাজউকের খুব একটা সম্পৃক্ততা নেই।’

আ.লীগ আমলে পাওয়া সোহেল তাজের প্লট বাতিল করছে সরকার
গণপূর্তে স্বজনপ্রীতির লটারিতে কেপিআই ‘খেলা’
কার স্বার্থে পূর্ত মন্ত্রণালয়ে নিষ্কণ্টক জমির তালিকা 





