ঢামেকের ‘অন্ধকার’ প্রকল্পে নকশার নামে ৮ কোটি পরামর্শক ফি

ঢামেকের ‘অন্ধকার’ প্রকল্পে নকশার নামে ৮ কোটি পরামর্শক ফি
সেলিনা আক্তার

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের সংস্কার ও সম্প্রসারণ প্রকল্পের প্রাথমিক নকশা ও সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য প্রায় ৮ কোটি টাকা খরচ করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান টিএ কনসালট্যান্টের বরাবরে এ অর্থ ছাড় করা হয়েছে। কিন্তু যে প্রকল্পের জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ করা হলো– তা বাস্তবায়নযোগ্য নয় বলে ফেরত দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। তবে, পরামর্শক প্রতিষ্ঠান বলছে তারা যে পরিমাণ কাজ করেছেন সেই তুলনায় পারিশ্রমিক কম নিয়েছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, ‘ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সংস্কার ও সম্প্রসারণ’ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ২১ হাজার ৫৮ কোটি ৬৭ লাখ ৫৩ হাজার টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পরামর্শক হিসেবে ২০২০ সালের ২১ সেপ্টেম্বর নিয়োগ দেওয়া হয় টিএ কনসালট্যান্টেকে। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) স্থপতি মঞ্জুর কাদের হেমায়েত উদ্দিন সেখানে নকশার কাজটি করেন। আর অবকাঠামোগত নকশা ও পরিকল্পনায় ছিলো স্থাপত্য অধিদপ্তর এবং গণপূর্ত অধিদপ্তর। বাস্তবায়নকাল নির্ধারণ করা হয়েছিল ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত।
জানা গেছে, প্রকল্পের আওতায় ঢামেক হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা ২ হাজার ৬০০ থেকে ৫ হাজারে উন্নীত করার পরিকল্পনা ছিল। একই সঙ্গে চিকিৎসক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য আধুনিক আবাসন এবং উন্নত কর্মপরিবেশ গড়ে তোলার কথাও বলা হয়। যার জন্য শিক্ষার্থীদের আবাসিক হল, নার্সিং ইনস্টিটিউট, চিকিৎসকদের ডরমিটরি এবং অন্যান্য হাসপাতালের অন্যান্য অবকাঠামো সংস্কার ও নির্মাণের কথা ছিল।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পরামর্শক প্রতিষ্ঠানটির টিএ কনসালট্যান্টের দায়িত্ব ছিল সম্ভাব্যতা যাচাই, প্রাথমিক নকশা প্রণয়ন এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রস্তুতিমূলক কাজ সম্পন্ন করা। কিন্তু শুধু সম্ভাব্যতা যাচাই, প্রাথমিক নকশা প্রণয়ন করেই প্রতিষ্ঠানটিকে প্রায় ৮ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও প্রকল্পটি আর এগোচ্ছে না। সম্ভাব্যতা যাচাই ও নকশার বিষয়েও রয়েছে আপত্তি। এমন প্রস্তাবনার বছর পাঁচেক অতিক্রম হলেও পাশ হয়নি প্রকল্পের প্রস্তাবনা (ডিপিপি)। ফলে পরিকল্পনা পর্যায়েই খরচ হলো অর্থ।
গণপূর্ত অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তৎকালীন স্বাস্থ্য সচিব এম এ আকমল হোসেন আজাদের কাছে পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের তৈরি করা প্রাথমিক নকশাসহ সবকিছু উপস্থাপন করা হয়। তখন তিনি জানান, এটি বাস্তবায়নযোগ্য নয়। প্রস্তাবিত নকশায় ভবনগুলোতে পর্যাপ্ত আলো বাতাস প্রবেশ করবে কিনা এমন প্রশ্নও রাখেন সভায় উপস্থিত লোকজন। এ ছাড়া প্রাথমিক নকশায় ঢামেকের মতো ছোট জায়গায় ভবনের সংখ্যাও বেশি দেখানো হয়েছে। সর্বোপরি পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের কাজের মান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সংশ্লিষ্টরা। সব কিছু মিলিয়ে উপস্থাপন করা নকশায় আরও পরিবর্তন করার তাগিদ দিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে প্রকল্পটি ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা জানান, বিগত আওয়ামী সরকারের প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এই প্রকল্পটি শুরু করার পরিকল্পনা ছিল। শুরুতে প্রকল্প এলাকায় শিট পাইলিংয়ের কাজ হওয়ার কথা ছিল। ওই কাজের মাধ্যমে প্রকল্প এলাকা প্রস্তুত করে পরে নির্মাণকাজ শুরু করার পরিকল্পনা করা হয়। কিন্তু প্রকল্প আলোর মুখ না দেখলেও সরকারের কোষগার থেকে ৮ কোটি টাকার বিল পরিশোধ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন একাধিক কর্মকর্তা।
এ বিষয়ে জানতে টিএ কনসালট্যান্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) স্থপতি মঞ্জুর কাদের হেমায়েত উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সিজেডএন টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘চুক্তি অনুযায়ী সরকার আমাদের টাকা পরিশোধ করেছে। বরং আমরা যে পরিমাণ সার্ভিস দিয়েছি বা কাজ করেছি তার তুলনায় কম পারিশ্রমিক নিয়েছি।’
এ বিষয়ে কথা বলতে সিজেডএন টোয়েন্টিফোর ডটকমের পক্ষ থেকে প্রথমে যোগাযোগ করা হয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) এস এম আহসানুল আজিজের সঙ্গে। তিনি বিস্তারিত শুনে পরে মন্তব্য করবেন বলে পরবর্তীতে কোনো সাড়া দেননি।
পরে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব ড. আ ন ম বজলুর রশীদও বিস্তারিত শুনে কোনো মন্তব্য না করে অন্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের সংস্কার ও সম্প্রসারণ প্রকল্পের প্রাথমিক নকশা ও সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য প্রায় ৮ কোটি টাকা খরচ করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান টিএ কনসালট্যান্টের বরাবরে এ অর্থ ছাড় করা হয়েছে। কিন্তু যে প্রকল্পের জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ করা হলো– তা বাস্তবায়নযোগ্য নয় বলে ফেরত দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। তবে, পরামর্শক প্রতিষ্ঠান বলছে তারা যে পরিমাণ কাজ করেছেন সেই তুলনায় পারিশ্রমিক কম নিয়েছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, ‘ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সংস্কার ও সম্প্রসারণ’ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ২১ হাজার ৫৮ কোটি ৬৭ লাখ ৫৩ হাজার টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পরামর্শক হিসেবে ২০২০ সালের ২১ সেপ্টেম্বর নিয়োগ দেওয়া হয় টিএ কনসালট্যান্টেকে। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) স্থপতি মঞ্জুর কাদের হেমায়েত উদ্দিন সেখানে নকশার কাজটি করেন। আর অবকাঠামোগত নকশা ও পরিকল্পনায় ছিলো স্থাপত্য অধিদপ্তর এবং গণপূর্ত অধিদপ্তর। বাস্তবায়নকাল নির্ধারণ করা হয়েছিল ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত।
জানা গেছে, প্রকল্পের আওতায় ঢামেক হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা ২ হাজার ৬০০ থেকে ৫ হাজারে উন্নীত করার পরিকল্পনা ছিল। একই সঙ্গে চিকিৎসক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য আধুনিক আবাসন এবং উন্নত কর্মপরিবেশ গড়ে তোলার কথাও বলা হয়। যার জন্য শিক্ষার্থীদের আবাসিক হল, নার্সিং ইনস্টিটিউট, চিকিৎসকদের ডরমিটরি এবং অন্যান্য হাসপাতালের অন্যান্য অবকাঠামো সংস্কার ও নির্মাণের কথা ছিল।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পরামর্শক প্রতিষ্ঠানটির টিএ কনসালট্যান্টের দায়িত্ব ছিল সম্ভাব্যতা যাচাই, প্রাথমিক নকশা প্রণয়ন এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রস্তুতিমূলক কাজ সম্পন্ন করা। কিন্তু শুধু সম্ভাব্যতা যাচাই, প্রাথমিক নকশা প্রণয়ন করেই প্রতিষ্ঠানটিকে প্রায় ৮ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও প্রকল্পটি আর এগোচ্ছে না। সম্ভাব্যতা যাচাই ও নকশার বিষয়েও রয়েছে আপত্তি। এমন প্রস্তাবনার বছর পাঁচেক অতিক্রম হলেও পাশ হয়নি প্রকল্পের প্রস্তাবনা (ডিপিপি)। ফলে পরিকল্পনা পর্যায়েই খরচ হলো অর্থ।
গণপূর্ত অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তৎকালীন স্বাস্থ্য সচিব এম এ আকমল হোসেন আজাদের কাছে পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের তৈরি করা প্রাথমিক নকশাসহ সবকিছু উপস্থাপন করা হয়। তখন তিনি জানান, এটি বাস্তবায়নযোগ্য নয়। প্রস্তাবিত নকশায় ভবনগুলোতে পর্যাপ্ত আলো বাতাস প্রবেশ করবে কিনা এমন প্রশ্নও রাখেন সভায় উপস্থিত লোকজন। এ ছাড়া প্রাথমিক নকশায় ঢামেকের মতো ছোট জায়গায় ভবনের সংখ্যাও বেশি দেখানো হয়েছে। সর্বোপরি পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের কাজের মান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সংশ্লিষ্টরা। সব কিছু মিলিয়ে উপস্থাপন করা নকশায় আরও পরিবর্তন করার তাগিদ দিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে প্রকল্পটি ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা জানান, বিগত আওয়ামী সরকারের প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এই প্রকল্পটি শুরু করার পরিকল্পনা ছিল। শুরুতে প্রকল্প এলাকায় শিট পাইলিংয়ের কাজ হওয়ার কথা ছিল। ওই কাজের মাধ্যমে প্রকল্প এলাকা প্রস্তুত করে পরে নির্মাণকাজ শুরু করার পরিকল্পনা করা হয়। কিন্তু প্রকল্প আলোর মুখ না দেখলেও সরকারের কোষগার থেকে ৮ কোটি টাকার বিল পরিশোধ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন একাধিক কর্মকর্তা।
এ বিষয়ে জানতে টিএ কনসালট্যান্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) স্থপতি মঞ্জুর কাদের হেমায়েত উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সিজেডএন টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘চুক্তি অনুযায়ী সরকার আমাদের টাকা পরিশোধ করেছে। বরং আমরা যে পরিমাণ সার্ভিস দিয়েছি বা কাজ করেছি তার তুলনায় কম পারিশ্রমিক নিয়েছি।’
এ বিষয়ে কথা বলতে সিজেডএন টোয়েন্টিফোর ডটকমের পক্ষ থেকে প্রথমে যোগাযোগ করা হয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) এস এম আহসানুল আজিজের সঙ্গে। তিনি বিস্তারিত শুনে পরে মন্তব্য করবেন বলে পরবর্তীতে কোনো সাড়া দেননি।
পরে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব ড. আ ন ম বজলুর রশীদও বিস্তারিত শুনে কোনো মন্তব্য না করে অন্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।

ঢামেকের ‘অন্ধকার’ প্রকল্পে নকশার নামে ৮ কোটি পরামর্শক ফি
সেলিনা আক্তার

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের সংস্কার ও সম্প্রসারণ প্রকল্পের প্রাথমিক নকশা ও সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য প্রায় ৮ কোটি টাকা খরচ করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান টিএ কনসালট্যান্টের বরাবরে এ অর্থ ছাড় করা হয়েছে। কিন্তু যে প্রকল্পের জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ করা হলো– তা বাস্তবায়নযোগ্য নয় বলে ফেরত দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। তবে, পরামর্শক প্রতিষ্ঠান বলছে তারা যে পরিমাণ কাজ করেছেন সেই তুলনায় পারিশ্রমিক কম নিয়েছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, ‘ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সংস্কার ও সম্প্রসারণ’ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ২১ হাজার ৫৮ কোটি ৬৭ লাখ ৫৩ হাজার টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পরামর্শক হিসেবে ২০২০ সালের ২১ সেপ্টেম্বর নিয়োগ দেওয়া হয় টিএ কনসালট্যান্টেকে। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) স্থপতি মঞ্জুর কাদের হেমায়েত উদ্দিন সেখানে নকশার কাজটি করেন। আর অবকাঠামোগত নকশা ও পরিকল্পনায় ছিলো স্থাপত্য অধিদপ্তর এবং গণপূর্ত অধিদপ্তর। বাস্তবায়নকাল নির্ধারণ করা হয়েছিল ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত।
জানা গেছে, প্রকল্পের আওতায় ঢামেক হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা ২ হাজার ৬০০ থেকে ৫ হাজারে উন্নীত করার পরিকল্পনা ছিল। একই সঙ্গে চিকিৎসক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য আধুনিক আবাসন এবং উন্নত কর্মপরিবেশ গড়ে তোলার কথাও বলা হয়। যার জন্য শিক্ষার্থীদের আবাসিক হল, নার্সিং ইনস্টিটিউট, চিকিৎসকদের ডরমিটরি এবং অন্যান্য হাসপাতালের অন্যান্য অবকাঠামো সংস্কার ও নির্মাণের কথা ছিল।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পরামর্শক প্রতিষ্ঠানটির টিএ কনসালট্যান্টের দায়িত্ব ছিল সম্ভাব্যতা যাচাই, প্রাথমিক নকশা প্রণয়ন এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রস্তুতিমূলক কাজ সম্পন্ন করা। কিন্তু শুধু সম্ভাব্যতা যাচাই, প্রাথমিক নকশা প্রণয়ন করেই প্রতিষ্ঠানটিকে প্রায় ৮ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও প্রকল্পটি আর এগোচ্ছে না। সম্ভাব্যতা যাচাই ও নকশার বিষয়েও রয়েছে আপত্তি। এমন প্রস্তাবনার বছর পাঁচেক অতিক্রম হলেও পাশ হয়নি প্রকল্পের প্রস্তাবনা (ডিপিপি)। ফলে পরিকল্পনা পর্যায়েই খরচ হলো অর্থ।
গণপূর্ত অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তৎকালীন স্বাস্থ্য সচিব এম এ আকমল হোসেন আজাদের কাছে পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের তৈরি করা প্রাথমিক নকশাসহ সবকিছু উপস্থাপন করা হয়। তখন তিনি জানান, এটি বাস্তবায়নযোগ্য নয়। প্রস্তাবিত নকশায় ভবনগুলোতে পর্যাপ্ত আলো বাতাস প্রবেশ করবে কিনা এমন প্রশ্নও রাখেন সভায় উপস্থিত লোকজন। এ ছাড়া প্রাথমিক নকশায় ঢামেকের মতো ছোট জায়গায় ভবনের সংখ্যাও বেশি দেখানো হয়েছে। সর্বোপরি পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের কাজের মান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সংশ্লিষ্টরা। সব কিছু মিলিয়ে উপস্থাপন করা নকশায় আরও পরিবর্তন করার তাগিদ দিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে প্রকল্পটি ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা জানান, বিগত আওয়ামী সরকারের প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এই প্রকল্পটি শুরু করার পরিকল্পনা ছিল। শুরুতে প্রকল্প এলাকায় শিট পাইলিংয়ের কাজ হওয়ার কথা ছিল। ওই কাজের মাধ্যমে প্রকল্প এলাকা প্রস্তুত করে পরে নির্মাণকাজ শুরু করার পরিকল্পনা করা হয়। কিন্তু প্রকল্প আলোর মুখ না দেখলেও সরকারের কোষগার থেকে ৮ কোটি টাকার বিল পরিশোধ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন একাধিক কর্মকর্তা।
এ বিষয়ে জানতে টিএ কনসালট্যান্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) স্থপতি মঞ্জুর কাদের হেমায়েত উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সিজেডএন টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘চুক্তি অনুযায়ী সরকার আমাদের টাকা পরিশোধ করেছে। বরং আমরা যে পরিমাণ সার্ভিস দিয়েছি বা কাজ করেছি তার তুলনায় কম পারিশ্রমিক নিয়েছি।’
এ বিষয়ে কথা বলতে সিজেডএন টোয়েন্টিফোর ডটকমের পক্ষ থেকে প্রথমে যোগাযোগ করা হয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) এস এম আহসানুল আজিজের সঙ্গে। তিনি বিস্তারিত শুনে পরে মন্তব্য করবেন বলে পরবর্তীতে কোনো সাড়া দেননি।
পরে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব ড. আ ন ম বজলুর রশীদও বিস্তারিত শুনে কোনো মন্তব্য না করে অন্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।

গৃহায়নের ‘জিইসি’ মোড়ে বাতিল প্রকল্প পাস করাতে তৎপর স্বার্থান্বেষী মহল
কার স্বার্থে পূর্ত মন্ত্রণালয়ে নিষ্কণ্টক জমির তালিকা
পূর্তে ‘বীরদর্পে’ ফিরেছে প্যারাডাইম
পদে পদে আইন ভেঙে আনোয়ার খান মডার্নের হাসপাতাল বাণিজ্য







