গণপূর্তে স্বজনপ্রীতির লটারিতে কেপিআই ‘খেলা’

গণপূর্তে স্বজনপ্রীতির লটারিতে কেপিআই ‘খেলা’
সেলিনা আক্তার

গণপূর্ত অধিদপ্তরে প্রকৌশলীদের পদায়ন বা বদলিতে স্বচ্ছতা আনতে লটারি পদ্ধতি চালু হলেও এর সামগ্রিক কার্যক্রম নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের অভিযোগ, স্বচ্ছতা নিশ্চিতে লটারি পদ্ধতির কথা বলা হলেও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী ডিভিশনের পদগুলো রাখা হয়েছে লটারির বাইরে। এক্ষেত্রে কৌশলে কেপিআই বা রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নাম ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে স্বচ্ছতার নামে চলছে ‘আইওয়াশ’, আর গুরুত্বপূর্ণ পদে লবিং ও স্বজনপ্রীতির সুযোগ বহাল থাকছে বলে মনে করছেন একটি বড় অংশের প্রকৌশলীরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, অধিদপ্তরের ই/এম (ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড মেকানিক্যাল) ও সিভিল বিভাগের পদায়নে লটারির কথা বলা হলেও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, সচিবালয়, জাতীয় সংসদ, রাষ্ট্রপতির কার্যালয়, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন ও মন্ত্রিপাড়ার স্থাপনা ও এলাকার দায়িত্বে থাকা পদগুলো লটারির আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। ই/এম বিভাগের ১, ২, ৪ ও ৭ নম্বর ডিভিশনের পদও লটারির আওতামুক্ত রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অন্যদিকে ই/এম বিভাগের ৩, ৫, ৬, ৮ ও ১১ নম্বর ডিভিশন, বিভিন্ন ওয়ার্কশপ এবং ঢাকার বাইরের সিভিল বিভাগের গোপালগঞ্জ, রাজশাহী, খুলনা, পাবনা ও বরিশালের মতো এলাকার পদ রাখা হয়েছে লটারির তালিকায়। কর্মকর্তাদের অভিযোগ, সবচেয়ে ক্ষমতাবান ও লোভনীয় চেয়ারগুলো নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী বণ্টনের সুযোগ রেখে সাধারণ কর্মকর্তাদের তুলনামূলক কম আকর্ষণীয় পদে লটারির মুখোমুখি করা হচ্ছে।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গত ৩০ জুলাই প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে গণপূর্ত অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল ও ই/এম) পদে লটারির মাধ্যমে পদায়ন ও বদলি করা হয়। পর্যায়ক্রমে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী ও নির্বাহী প্রকৌশলীদেরও লটারির মাধ্যমে বদলির প্রক্রিয়া এগোচ্ছে বলে জানা গেছে।
গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো লটারির বাইরে
লটারির আওতার বাইরে রাখা হয়েছে ই/এম বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলীর পদ। ই/এম-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইউসুফ বর্তমানে পূর্ত ভবন, জুলাই জাদুঘর ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন। তিনি এর আগে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়ে বিশেষ আদেশে এ চেয়ারের দায়িত্ব পান। এর আগে এই প্রকৌশলী জাতীয় সংসদের পূর্ত কাজের দায়িত্ব পালন করেন।
ই/এম-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মাশফিকুর রহমান বর্তমানে মন্ত্রিপাড়া ও সচিব নিবাসের দায়িত্বে রয়েছেন। এর আগে তিনি উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী হিসেবে সিটি ডিভিশনের আওতায় বঙ্গভবনের দায়িত্ব পালন করেন। ই/এম-৪-এর নির্বাহী প্রকৌশলী নিয়াজ মো. তানভীর আলম বর্তমানে সচিবালয়ের দায়িত্বে আছেন। এর আগে তিনি ই/এম-৩-এর নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে আজিমপুর এলাকার দায়িত্ব পালন করেন। তানভীর আলম উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী হিসেবে বঙ্গভবনেও দায়িত্ব পালন করেন।
ই/এম-৭-এর নির্বাহী প্রকৌশলী রিসালাত বারী বর্তমানে জাতীয় সংসদের দায়িত্বে রয়েছেন। এর আগে তিনি উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী হিসেবে জাতীয় সংসদ ও মহাখালী এলাকার দায়িত্ব পালন করেন।
এ ছাড়া সচিবালয়, মন্ত্রিপাড়া, সিটি ডিভিশন এবং ডিভিশন-২-এর সিভিল বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এবং উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলীদের পদও লটারির বাইরে রাখা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ।
উপ-সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) পদেও একইভাবে লটারির বাইরে রাখার অভিযোগ রয়েছে। ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-১-এর রাজরবাগ সাব-ডিভিশন-১-এর শাখা-২-এর মো. মাহবুবুর রহমান সবুজ ও শাখা-৩-এর মোহাম্মদ মিজানুর রহমানকে লটারির আওতায় রাখা হয়নি।
নগর গণপূর্ত বিভাগ ঢাকার রমনা সাব-ডিভিশন-১-এর শাখা-২-এর খন্দকার মমিনুর রহমান ও শাখা-৩-এর আহমদ আল মামুন সরকারও রয়েছেন এই তালিকায়। ইডেন ভবন গণপূর্ত বিভাগের ইডেন সাব-ডিভিশন-১-এর শাখা-১-এর মোহাম্মদ জিয়াউল হক এবং সাব-ডিভিশন-২-এর শাখা-১-এর মো. সালাহ উদ্দিন ও শাখা-৩-এর মো. শাহীন খন্দকারকেও লটারির বাইরে রাখা হয়েছে।
শেরেবাংলা নগর গণপূর্ত বিভাগ-৪-এর শেরেবাংলা নগর সাব-ডিভিশন-৯-এর শাখা-১-এর অনিরুদ্ধ মন্ডল, শাখা-২-এর মো. আজাদ হোসেন ও শাখা-৩-এর শাহ আলম আহম্মেদ এবং গণপূর্ত ঢাকা বিভাগ-৫-এর বঙ্গভবন সাব-ডিভিশনের শাখা-১-এর মো. হাফিজুল হক, শাখা-২-এর মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন ও শাখা-৩-এর মো. আসাদুজ্জামানকেও লটারি আওতার বাইরে রাখা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-২ এর সাব-ডিভিশন-২ এর শাখা-৩ এর মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ এবং শাখা-৪ এর মো. সাইদুল ইসলামকেও লটারি পদ্ধতি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ঢাকা সাব-ডিভিশন-৩ এর শাখা-১ এর মোহাম্মদ শাহনেওয়াজকে লটারি পদ্ধতি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, ২০২৫ সালের শেষভাগে যেসব পদে এরইমধ্যে প্রকৌশলীদের পদায়ন করা হয়েছে, সেগুলোর কিছু আবার লটারির তালিকায় রাখা হয়েছে। এতে পদায়ন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
গণপূর্তের একাধিক প্রকৌশলীর ভাষ্য, লটারি পদ্ধতির মাধ্যমে যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও কর্মদক্ষতার নিরপেক্ষ মূল্যায়নের কথা বলা হলেও বাস্তবে এর প্রতিফলন নেই। তাদের প্রশ্ন, গুরুত্বপূর্ণ ও আকর্ষণীয় পদগুলো যদি লটারির বাইরে রাখা হয়, তাহলে পুরো প্রক্রিয়াকে কীভাবে নিরপেক্ষ বলা যায়।
সার্বিক বিষয়ে জানতে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সিজেডএন টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘সব কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ জায়গার পদগুলো লটারির সিস্টেমের বাইরে রাখা হয়েছে। এখানে কোনো পক্ষপাতিত্ব করা হয়নি।’

গণপূর্ত অধিদপ্তরে প্রকৌশলীদের পদায়ন বা বদলিতে স্বচ্ছতা আনতে লটারি পদ্ধতি চালু হলেও এর সামগ্রিক কার্যক্রম নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের অভিযোগ, স্বচ্ছতা নিশ্চিতে লটারি পদ্ধতির কথা বলা হলেও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী ডিভিশনের পদগুলো রাখা হয়েছে লটারির বাইরে। এক্ষেত্রে কৌশলে কেপিআই বা রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নাম ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে স্বচ্ছতার নামে চলছে ‘আইওয়াশ’, আর গুরুত্বপূর্ণ পদে লবিং ও স্বজনপ্রীতির সুযোগ বহাল থাকছে বলে মনে করছেন একটি বড় অংশের প্রকৌশলীরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, অধিদপ্তরের ই/এম (ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড মেকানিক্যাল) ও সিভিল বিভাগের পদায়নে লটারির কথা বলা হলেও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, সচিবালয়, জাতীয় সংসদ, রাষ্ট্রপতির কার্যালয়, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন ও মন্ত্রিপাড়ার স্থাপনা ও এলাকার দায়িত্বে থাকা পদগুলো লটারির আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। ই/এম বিভাগের ১, ২, ৪ ও ৭ নম্বর ডিভিশনের পদও লটারির আওতামুক্ত রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অন্যদিকে ই/এম বিভাগের ৩, ৫, ৬, ৮ ও ১১ নম্বর ডিভিশন, বিভিন্ন ওয়ার্কশপ এবং ঢাকার বাইরের সিভিল বিভাগের গোপালগঞ্জ, রাজশাহী, খুলনা, পাবনা ও বরিশালের মতো এলাকার পদ রাখা হয়েছে লটারির তালিকায়। কর্মকর্তাদের অভিযোগ, সবচেয়ে ক্ষমতাবান ও লোভনীয় চেয়ারগুলো নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী বণ্টনের সুযোগ রেখে সাধারণ কর্মকর্তাদের তুলনামূলক কম আকর্ষণীয় পদে লটারির মুখোমুখি করা হচ্ছে।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গত ৩০ জুলাই প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে গণপূর্ত অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল ও ই/এম) পদে লটারির মাধ্যমে পদায়ন ও বদলি করা হয়। পর্যায়ক্রমে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী ও নির্বাহী প্রকৌশলীদেরও লটারির মাধ্যমে বদলির প্রক্রিয়া এগোচ্ছে বলে জানা গেছে।
গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো লটারির বাইরে
লটারির আওতার বাইরে রাখা হয়েছে ই/এম বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলীর পদ। ই/এম-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইউসুফ বর্তমানে পূর্ত ভবন, জুলাই জাদুঘর ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন। তিনি এর আগে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়ে বিশেষ আদেশে এ চেয়ারের দায়িত্ব পান। এর আগে এই প্রকৌশলী জাতীয় সংসদের পূর্ত কাজের দায়িত্ব পালন করেন।
ই/এম-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মাশফিকুর রহমান বর্তমানে মন্ত্রিপাড়া ও সচিব নিবাসের দায়িত্বে রয়েছেন। এর আগে তিনি উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী হিসেবে সিটি ডিভিশনের আওতায় বঙ্গভবনের দায়িত্ব পালন করেন। ই/এম-৪-এর নির্বাহী প্রকৌশলী নিয়াজ মো. তানভীর আলম বর্তমানে সচিবালয়ের দায়িত্বে আছেন। এর আগে তিনি ই/এম-৩-এর নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে আজিমপুর এলাকার দায়িত্ব পালন করেন। তানভীর আলম উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী হিসেবে বঙ্গভবনেও দায়িত্ব পালন করেন।
ই/এম-৭-এর নির্বাহী প্রকৌশলী রিসালাত বারী বর্তমানে জাতীয় সংসদের দায়িত্বে রয়েছেন। এর আগে তিনি উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী হিসেবে জাতীয় সংসদ ও মহাখালী এলাকার দায়িত্ব পালন করেন।
এ ছাড়া সচিবালয়, মন্ত্রিপাড়া, সিটি ডিভিশন এবং ডিভিশন-২-এর সিভিল বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এবং উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলীদের পদও লটারির বাইরে রাখা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ।
উপ-সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) পদেও একইভাবে লটারির বাইরে রাখার অভিযোগ রয়েছে। ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-১-এর রাজরবাগ সাব-ডিভিশন-১-এর শাখা-২-এর মো. মাহবুবুর রহমান সবুজ ও শাখা-৩-এর মোহাম্মদ মিজানুর রহমানকে লটারির আওতায় রাখা হয়নি।
নগর গণপূর্ত বিভাগ ঢাকার রমনা সাব-ডিভিশন-১-এর শাখা-২-এর খন্দকার মমিনুর রহমান ও শাখা-৩-এর আহমদ আল মামুন সরকারও রয়েছেন এই তালিকায়। ইডেন ভবন গণপূর্ত বিভাগের ইডেন সাব-ডিভিশন-১-এর শাখা-১-এর মোহাম্মদ জিয়াউল হক এবং সাব-ডিভিশন-২-এর শাখা-১-এর মো. সালাহ উদ্দিন ও শাখা-৩-এর মো. শাহীন খন্দকারকেও লটারির বাইরে রাখা হয়েছে।
শেরেবাংলা নগর গণপূর্ত বিভাগ-৪-এর শেরেবাংলা নগর সাব-ডিভিশন-৯-এর শাখা-১-এর অনিরুদ্ধ মন্ডল, শাখা-২-এর মো. আজাদ হোসেন ও শাখা-৩-এর শাহ আলম আহম্মেদ এবং গণপূর্ত ঢাকা বিভাগ-৫-এর বঙ্গভবন সাব-ডিভিশনের শাখা-১-এর মো. হাফিজুল হক, শাখা-২-এর মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন ও শাখা-৩-এর মো. আসাদুজ্জামানকেও লটারি আওতার বাইরে রাখা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-২ এর সাব-ডিভিশন-২ এর শাখা-৩ এর মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ এবং শাখা-৪ এর মো. সাইদুল ইসলামকেও লটারি পদ্ধতি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ঢাকা সাব-ডিভিশন-৩ এর শাখা-১ এর মোহাম্মদ শাহনেওয়াজকে লটারি পদ্ধতি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, ২০২৫ সালের শেষভাগে যেসব পদে এরইমধ্যে প্রকৌশলীদের পদায়ন করা হয়েছে, সেগুলোর কিছু আবার লটারির তালিকায় রাখা হয়েছে। এতে পদায়ন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
গণপূর্তের একাধিক প্রকৌশলীর ভাষ্য, লটারি পদ্ধতির মাধ্যমে যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও কর্মদক্ষতার নিরপেক্ষ মূল্যায়নের কথা বলা হলেও বাস্তবে এর প্রতিফলন নেই। তাদের প্রশ্ন, গুরুত্বপূর্ণ ও আকর্ষণীয় পদগুলো যদি লটারির বাইরে রাখা হয়, তাহলে পুরো প্রক্রিয়াকে কীভাবে নিরপেক্ষ বলা যায়।
সার্বিক বিষয়ে জানতে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সিজেডএন টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘সব কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ জায়গার পদগুলো লটারির সিস্টেমের বাইরে রাখা হয়েছে। এখানে কোনো পক্ষপাতিত্ব করা হয়নি।’

গণপূর্তে স্বজনপ্রীতির লটারিতে কেপিআই ‘খেলা’
সেলিনা আক্তার

গণপূর্ত অধিদপ্তরে প্রকৌশলীদের পদায়ন বা বদলিতে স্বচ্ছতা আনতে লটারি পদ্ধতি চালু হলেও এর সামগ্রিক কার্যক্রম নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের অভিযোগ, স্বচ্ছতা নিশ্চিতে লটারি পদ্ধতির কথা বলা হলেও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী ডিভিশনের পদগুলো রাখা হয়েছে লটারির বাইরে। এক্ষেত্রে কৌশলে কেপিআই বা রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নাম ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে স্বচ্ছতার নামে চলছে ‘আইওয়াশ’, আর গুরুত্বপূর্ণ পদে লবিং ও স্বজনপ্রীতির সুযোগ বহাল থাকছে বলে মনে করছেন একটি বড় অংশের প্রকৌশলীরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, অধিদপ্তরের ই/এম (ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড মেকানিক্যাল) ও সিভিল বিভাগের পদায়নে লটারির কথা বলা হলেও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, সচিবালয়, জাতীয় সংসদ, রাষ্ট্রপতির কার্যালয়, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন ও মন্ত্রিপাড়ার স্থাপনা ও এলাকার দায়িত্বে থাকা পদগুলো লটারির আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। ই/এম বিভাগের ১, ২, ৪ ও ৭ নম্বর ডিভিশনের পদও লটারির আওতামুক্ত রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অন্যদিকে ই/এম বিভাগের ৩, ৫, ৬, ৮ ও ১১ নম্বর ডিভিশন, বিভিন্ন ওয়ার্কশপ এবং ঢাকার বাইরের সিভিল বিভাগের গোপালগঞ্জ, রাজশাহী, খুলনা, পাবনা ও বরিশালের মতো এলাকার পদ রাখা হয়েছে লটারির তালিকায়। কর্মকর্তাদের অভিযোগ, সবচেয়ে ক্ষমতাবান ও লোভনীয় চেয়ারগুলো নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী বণ্টনের সুযোগ রেখে সাধারণ কর্মকর্তাদের তুলনামূলক কম আকর্ষণীয় পদে লটারির মুখোমুখি করা হচ্ছে।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গত ৩০ জুলাই প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে গণপূর্ত অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল ও ই/এম) পদে লটারির মাধ্যমে পদায়ন ও বদলি করা হয়। পর্যায়ক্রমে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী ও নির্বাহী প্রকৌশলীদেরও লটারির মাধ্যমে বদলির প্রক্রিয়া এগোচ্ছে বলে জানা গেছে।
গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো লটারির বাইরে
লটারির আওতার বাইরে রাখা হয়েছে ই/এম বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলীর পদ। ই/এম-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইউসুফ বর্তমানে পূর্ত ভবন, জুলাই জাদুঘর ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন। তিনি এর আগে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়ে বিশেষ আদেশে এ চেয়ারের দায়িত্ব পান। এর আগে এই প্রকৌশলী জাতীয় সংসদের পূর্ত কাজের দায়িত্ব পালন করেন।
ই/এম-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মাশফিকুর রহমান বর্তমানে মন্ত্রিপাড়া ও সচিব নিবাসের দায়িত্বে রয়েছেন। এর আগে তিনি উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী হিসেবে সিটি ডিভিশনের আওতায় বঙ্গভবনের দায়িত্ব পালন করেন। ই/এম-৪-এর নির্বাহী প্রকৌশলী নিয়াজ মো. তানভীর আলম বর্তমানে সচিবালয়ের দায়িত্বে আছেন। এর আগে তিনি ই/এম-৩-এর নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে আজিমপুর এলাকার দায়িত্ব পালন করেন। তানভীর আলম উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী হিসেবে বঙ্গভবনেও দায়িত্ব পালন করেন।
ই/এম-৭-এর নির্বাহী প্রকৌশলী রিসালাত বারী বর্তমানে জাতীয় সংসদের দায়িত্বে রয়েছেন। এর আগে তিনি উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী হিসেবে জাতীয় সংসদ ও মহাখালী এলাকার দায়িত্ব পালন করেন।
এ ছাড়া সচিবালয়, মন্ত্রিপাড়া, সিটি ডিভিশন এবং ডিভিশন-২-এর সিভিল বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এবং উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলীদের পদও লটারির বাইরে রাখা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ।
উপ-সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) পদেও একইভাবে লটারির বাইরে রাখার অভিযোগ রয়েছে। ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-১-এর রাজরবাগ সাব-ডিভিশন-১-এর শাখা-২-এর মো. মাহবুবুর রহমান সবুজ ও শাখা-৩-এর মোহাম্মদ মিজানুর রহমানকে লটারির আওতায় রাখা হয়নি।
নগর গণপূর্ত বিভাগ ঢাকার রমনা সাব-ডিভিশন-১-এর শাখা-২-এর খন্দকার মমিনুর রহমান ও শাখা-৩-এর আহমদ আল মামুন সরকারও রয়েছেন এই তালিকায়। ইডেন ভবন গণপূর্ত বিভাগের ইডেন সাব-ডিভিশন-১-এর শাখা-১-এর মোহাম্মদ জিয়াউল হক এবং সাব-ডিভিশন-২-এর শাখা-১-এর মো. সালাহ উদ্দিন ও শাখা-৩-এর মো. শাহীন খন্দকারকেও লটারির বাইরে রাখা হয়েছে।
শেরেবাংলা নগর গণপূর্ত বিভাগ-৪-এর শেরেবাংলা নগর সাব-ডিভিশন-৯-এর শাখা-১-এর অনিরুদ্ধ মন্ডল, শাখা-২-এর মো. আজাদ হোসেন ও শাখা-৩-এর শাহ আলম আহম্মেদ এবং গণপূর্ত ঢাকা বিভাগ-৫-এর বঙ্গভবন সাব-ডিভিশনের শাখা-১-এর মো. হাফিজুল হক, শাখা-২-এর মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন ও শাখা-৩-এর মো. আসাদুজ্জামানকেও লটারি আওতার বাইরে রাখা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-২ এর সাব-ডিভিশন-২ এর শাখা-৩ এর মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ এবং শাখা-৪ এর মো. সাইদুল ইসলামকেও লটারি পদ্ধতি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ঢাকা সাব-ডিভিশন-৩ এর শাখা-১ এর মোহাম্মদ শাহনেওয়াজকে লটারি পদ্ধতি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, ২০২৫ সালের শেষভাগে যেসব পদে এরইমধ্যে প্রকৌশলীদের পদায়ন করা হয়েছে, সেগুলোর কিছু আবার লটারির তালিকায় রাখা হয়েছে। এতে পদায়ন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
গণপূর্তের একাধিক প্রকৌশলীর ভাষ্য, লটারি পদ্ধতির মাধ্যমে যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও কর্মদক্ষতার নিরপেক্ষ মূল্যায়নের কথা বলা হলেও বাস্তবে এর প্রতিফলন নেই। তাদের প্রশ্ন, গুরুত্বপূর্ণ ও আকর্ষণীয় পদগুলো যদি লটারির বাইরে রাখা হয়, তাহলে পুরো প্রক্রিয়াকে কীভাবে নিরপেক্ষ বলা যায়।
সার্বিক বিষয়ে জানতে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সিজেডএন টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘সব কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ জায়গার পদগুলো লটারির সিস্টেমের বাইরে রাখা হয়েছে। এখানে কোনো পক্ষপাতিত্ব করা হয়নি।’

আ.লীগ আমলে পাওয়া সোহেল তাজের প্লট বাতিল করছে সরকার
কার স্বার্থে পূর্ত মন্ত্রণালয়ে নিষ্কণ্টক জমির তালিকা
সাবেক পূর্ত সচিবের গোপনে ফ্ল্যাট বিক্রি, আটকে গেল রাজউকের প্লট
নিজস্ব কারখানা অচল, ঠিকাদার-নির্ভর আসবাব কেনে গণপূর্ত
গণপূর্তের ১০০ কোটি টাকার আসবাবপত্র ক্রয়ে ভয়াবহ অনিয়ম 






