মৃত শিশুদের জান্নাতপ্রাপ্তি নিয়ে কী বলছে ইসলাম
সিটিজেন ডেস্ক

মৃত শিশুদের জান্নাতপ্রাপ্তি নিয়ে কী বলছে ইসলাম
সিটিজেন ডেস্ক
প্রকাশ : ২০ এপ্রিল ২০২৬, ১৬: ১১

প্রতীকী ছবি
কোনো মানুষ মৃত্যুর পর তার পরকালের অবস্থান নির্ধারিত হয় তার ঈমান ও আমলের ভিত্তিতে ইসলামের মৌলিক শিক্ষায় এমনটাই বলা হয়েছে। নেক আমল যার বেশি, তার জন্য রয়েছে জান্নাতের প্রতিশ্রুতি; আর যারা অবিশ্বাসী বা সৎকর্মে পিছিয়ে, তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের শাস্তি।
তবে শিশুদের ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন। ইসলামী শরিয়তে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগে কোনো ব্যক্তির ওপর ধর্মীয় বিধান সম্পূর্ণভাবে প্রযোজ্য হয় না। সে কারণে শৈশবে মৃত্যুবরণ করা শিশুদের আমলের হিসাব নেওয়া হবে না বলেই উল্লেখ করেছেন আলেমরা।
হাদিসে এসেছে, মৃত শিশুদের জান্নাতে রাখা হবে এবং তারা তাদের পিতা-মাতার জন্য সুপারিশ করবে। সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিমে বর্ণিত এক হাদিসে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেন, কোনো নারীর তিনটি সন্তান মৃত্যুবরণ করলে তারা তার জন্য জাহান্নাম থেকে পর্দা হয়ে দাঁড়াবে। একজন সাহাবি জানতে চাইলে, দুটি সন্তান হলেও কি একই ফজিলত হবে। উত্তরে তিনি বলেন, দুটি হলেও একই প্রতিদান পাওয়া যাবে।
আলেমদের মতে, যে শিশু তার পিতা-মাতার জন্য জাহান্নাম থেকে রক্ষার মাধ্যম হবে, সে নিজে জাহান্নামে যাবে না; বরং জান্নাতেই অবস্থান করবে।
পবিত্র কোরআনেও ঈমানদারদের সন্তানদের ব্যাপারে সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে। কুরআন শরীফ-এর সুরা তুরে বলা হয়েছে, যারা ঈমান এনেছে এবং তাদের সন্তানরাও ঈমানের পথে অনুসরণ করেছে, আল্লাহ তাদের সন্তানদের তাদের সঙ্গে একত্র করবেন (আয়াত ২১)।
তাফসিরকারকরা বলেন, এর অর্থ হলো মুমিনদের সন্তানরা নিজেদের আমলে সমপর্যায়ে না পৌঁছালেও আল্লাহ তাদের মর্যাদা বাড়িয়ে পিতা-মাতার সঙ্গে জান্নাতে মিলিত করবেন।
আরেক হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, অকালমৃত শিশু কিয়ামতের দিন তার মা-বাবাকে জান্নাতে প্রবেশ করানোর জন্য টেনে নিয়ে যাবে। অন্য বর্ণনায় বলা হয়েছে, তারা পিতা-মাতার কাপড় ধরে জান্নাতে নিয়ে যাবে।
এ ছাড়া কিছু হাদিসে উল্লেখ আছে, মুমিনদের মৃত শিশুরা জান্নাতের এক স্থানে অবস্থান করে এবং নবী ইবরাহিম (আ.) ও তার স্ত্রী সারার তত্ত্বাবধানে লালিত-পালিত হয়। পরে কিয়ামতের দিন তাদের পিতা-মাতার কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হবে। (সহিহুল জামে)
তবে আলেমরা সতর্ক করে বলেন, নির্দিষ্ট করে কোনো ব্যক্তিকে জান্নাতি বা জাহান্নামি ঘোষণা করা ঠিক নয়। একইভাবে অবিশ্বাসীদের শিশু বা যারা ইসলামের বার্তা পায়নি, তাদের বিষয়ে কিয়ামতের দিন আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ পরীক্ষা নেওয়া হবে বলে বিভিন্ন তাফসিরে উল্লেখ রয়েছে। সেই পরীক্ষার ফল অনুযায়ী তাদের চূড়ান্ত পরিণতি নির্ধারিত হবে।

কোনো মানুষ মৃত্যুর পর তার পরকালের অবস্থান নির্ধারিত হয় তার ঈমান ও আমলের ভিত্তিতে ইসলামের মৌলিক শিক্ষায় এমনটাই বলা হয়েছে। নেক আমল যার বেশি, তার জন্য রয়েছে জান্নাতের প্রতিশ্রুতি; আর যারা অবিশ্বাসী বা সৎকর্মে পিছিয়ে, তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের শাস্তি।
তবে শিশুদের ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন। ইসলামী শরিয়তে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগে কোনো ব্যক্তির ওপর ধর্মীয় বিধান সম্পূর্ণভাবে প্রযোজ্য হয় না। সে কারণে শৈশবে মৃত্যুবরণ করা শিশুদের আমলের হিসাব নেওয়া হবে না বলেই উল্লেখ করেছেন আলেমরা।
হাদিসে এসেছে, মৃত শিশুদের জান্নাতে রাখা হবে এবং তারা তাদের পিতা-মাতার জন্য সুপারিশ করবে। সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিমে বর্ণিত এক হাদিসে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেন, কোনো নারীর তিনটি সন্তান মৃত্যুবরণ করলে তারা তার জন্য জাহান্নাম থেকে পর্দা হয়ে দাঁড়াবে। একজন সাহাবি জানতে চাইলে, দুটি সন্তান হলেও কি একই ফজিলত হবে। উত্তরে তিনি বলেন, দুটি হলেও একই প্রতিদান পাওয়া যাবে।
আলেমদের মতে, যে শিশু তার পিতা-মাতার জন্য জাহান্নাম থেকে রক্ষার মাধ্যম হবে, সে নিজে জাহান্নামে যাবে না; বরং জান্নাতেই অবস্থান করবে।
পবিত্র কোরআনেও ঈমানদারদের সন্তানদের ব্যাপারে সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে। কুরআন শরীফ-এর সুরা তুরে বলা হয়েছে, যারা ঈমান এনেছে এবং তাদের সন্তানরাও ঈমানের পথে অনুসরণ করেছে, আল্লাহ তাদের সন্তানদের তাদের সঙ্গে একত্র করবেন (আয়াত ২১)।
তাফসিরকারকরা বলেন, এর অর্থ হলো মুমিনদের সন্তানরা নিজেদের আমলে সমপর্যায়ে না পৌঁছালেও আল্লাহ তাদের মর্যাদা বাড়িয়ে পিতা-মাতার সঙ্গে জান্নাতে মিলিত করবেন।
আরেক হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, অকালমৃত শিশু কিয়ামতের দিন তার মা-বাবাকে জান্নাতে প্রবেশ করানোর জন্য টেনে নিয়ে যাবে। অন্য বর্ণনায় বলা হয়েছে, তারা পিতা-মাতার কাপড় ধরে জান্নাতে নিয়ে যাবে।
এ ছাড়া কিছু হাদিসে উল্লেখ আছে, মুমিনদের মৃত শিশুরা জান্নাতের এক স্থানে অবস্থান করে এবং নবী ইবরাহিম (আ.) ও তার স্ত্রী সারার তত্ত্বাবধানে লালিত-পালিত হয়। পরে কিয়ামতের দিন তাদের পিতা-মাতার কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হবে। (সহিহুল জামে)
তবে আলেমরা সতর্ক করে বলেন, নির্দিষ্ট করে কোনো ব্যক্তিকে জান্নাতি বা জাহান্নামি ঘোষণা করা ঠিক নয়। একইভাবে অবিশ্বাসীদের শিশু বা যারা ইসলামের বার্তা পায়নি, তাদের বিষয়ে কিয়ামতের দিন আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ পরীক্ষা নেওয়া হবে বলে বিভিন্ন তাফসিরে উল্লেখ রয়েছে। সেই পরীক্ষার ফল অনুযায়ী তাদের চূড়ান্ত পরিণতি নির্ধারিত হবে।

মৃত শিশুদের জান্নাতপ্রাপ্তি নিয়ে কী বলছে ইসলাম
সিটিজেন ডেস্ক
প্রকাশ : ২০ এপ্রিল ২০২৬, ১৬: ১১

প্রতীকী ছবি
কোনো মানুষ মৃত্যুর পর তার পরকালের অবস্থান নির্ধারিত হয় তার ঈমান ও আমলের ভিত্তিতে ইসলামের মৌলিক শিক্ষায় এমনটাই বলা হয়েছে। নেক আমল যার বেশি, তার জন্য রয়েছে জান্নাতের প্রতিশ্রুতি; আর যারা অবিশ্বাসী বা সৎকর্মে পিছিয়ে, তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের শাস্তি।
তবে শিশুদের ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন। ইসলামী শরিয়তে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগে কোনো ব্যক্তির ওপর ধর্মীয় বিধান সম্পূর্ণভাবে প্রযোজ্য হয় না। সে কারণে শৈশবে মৃত্যুবরণ করা শিশুদের আমলের হিসাব নেওয়া হবে না বলেই উল্লেখ করেছেন আলেমরা।
হাদিসে এসেছে, মৃত শিশুদের জান্নাতে রাখা হবে এবং তারা তাদের পিতা-মাতার জন্য সুপারিশ করবে। সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিমে বর্ণিত এক হাদিসে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেন, কোনো নারীর তিনটি সন্তান মৃত্যুবরণ করলে তারা তার জন্য জাহান্নাম থেকে পর্দা হয়ে দাঁড়াবে। একজন সাহাবি জানতে চাইলে, দুটি সন্তান হলেও কি একই ফজিলত হবে। উত্তরে তিনি বলেন, দুটি হলেও একই প্রতিদান পাওয়া যাবে।
আলেমদের মতে, যে শিশু তার পিতা-মাতার জন্য জাহান্নাম থেকে রক্ষার মাধ্যম হবে, সে নিজে জাহান্নামে যাবে না; বরং জান্নাতেই অবস্থান করবে।
পবিত্র কোরআনেও ঈমানদারদের সন্তানদের ব্যাপারে সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে। কুরআন শরীফ-এর সুরা তুরে বলা হয়েছে, যারা ঈমান এনেছে এবং তাদের সন্তানরাও ঈমানের পথে অনুসরণ করেছে, আল্লাহ তাদের সন্তানদের তাদের সঙ্গে একত্র করবেন (আয়াত ২১)।
তাফসিরকারকরা বলেন, এর অর্থ হলো মুমিনদের সন্তানরা নিজেদের আমলে সমপর্যায়ে না পৌঁছালেও আল্লাহ তাদের মর্যাদা বাড়িয়ে পিতা-মাতার সঙ্গে জান্নাতে মিলিত করবেন।
আরেক হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, অকালমৃত শিশু কিয়ামতের দিন তার মা-বাবাকে জান্নাতে প্রবেশ করানোর জন্য টেনে নিয়ে যাবে। অন্য বর্ণনায় বলা হয়েছে, তারা পিতা-মাতার কাপড় ধরে জান্নাতে নিয়ে যাবে।
এ ছাড়া কিছু হাদিসে উল্লেখ আছে, মুমিনদের মৃত শিশুরা জান্নাতের এক স্থানে অবস্থান করে এবং নবী ইবরাহিম (আ.) ও তার স্ত্রী সারার তত্ত্বাবধানে লালিত-পালিত হয়। পরে কিয়ামতের দিন তাদের পিতা-মাতার কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হবে। (সহিহুল জামে)
তবে আলেমরা সতর্ক করে বলেন, নির্দিষ্ট করে কোনো ব্যক্তিকে জান্নাতি বা জাহান্নামি ঘোষণা করা ঠিক নয়। একইভাবে অবিশ্বাসীদের শিশু বা যারা ইসলামের বার্তা পায়নি, তাদের বিষয়ে কিয়ামতের দিন আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ পরীক্ষা নেওয়া হবে বলে বিভিন্ন তাফসিরে উল্লেখ রয়েছে। সেই পরীক্ষার ফল অনুযায়ী তাদের চূড়ান্ত পরিণতি নির্ধারিত হবে।
/এসএ/




