যে তিনটি কাজে মৃত্যুর পরও সওয়াব মিলবে
সিটিজেন ডেস্ক

যে তিনটি কাজে মৃত্যুর পরও সওয়াব মিলবে
সিটিজেন ডেস্ক
প্রকাশ : ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৪: ৩৪

ছবি: সংগৃহীত
ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী মানুষের আমল মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ হয়ে যায়। তবে কুরআন ও হাদিসে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে, কিছু আমল এমন রয়েছে যার সওয়াব মৃত্যুর পরও অব্যাহত থাকে। বিশেষ করে সাদাকায়ে জারিয়া, উপকারী জ্ঞান এবং নেক সন্তানের দোয়া আমলকে স্থায়ী সওয়াবের উৎস হিসেবে বর্ণনা করেছেন মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) (সহিহ মুসলিম, ১৬৩১)।
উপকারী জ্ঞান
ইসলামে জ্ঞানকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, বিশেষ করে সেই জ্ঞান যা মানুষের উপকারে আসে। হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর কাছে জিবরাঈল (আ.)-এর মাধ্যমে আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রথম ওহী হিসেবে 'ইকরা' শব্দটি নাজিল হয়েছিল। যার অর্থ ‘পড়ুন’ বা ‘পাঠ করুন’। কোনো ব্যক্তি যদি এমন জ্ঞান রেখে যান, যা অন্যদের সঠিক পথ দেখায়, তবে তা মৃত্যুর পরও তার জন্য সওয়াবের উৎস হয়ে থাকে।
কুরআনে বলা হয়েছে, ‘বলুন, যারা জানে এবং যারা জানে না, তারা কি সমান?’ (সূরা যুমার, ৩৯:৯)।
আরেক স্থানে আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহ তাদের মর্যাদা উন্নত করেন, যারা ঈমান এনেছে এবং যাদের জ্ঞান দেওয়া হয়েছে’ (সূরা মুজাদিলা, ৫৮:১১)।
ধর্মীয় গবেষকদের মতে, বই রচনা, ধর্মীয় শিক্ষাদান, উপকারী জ্ঞান প্রচার কিংবা এমন কোনো শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা সবই এই ধারার অন্তর্ভুক্ত।
নেক সন্তান
সন্তান যদি নেককার হয় এবং পিতা-মাতার জন্য দোয়া করে, তবে সেটিও মৃত্যুর পর সওয়াব প্রাপ্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত।
কুরআনে আল্লাহ তাআলা নেক সন্তানদের দোয়ার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘হে আমাদের প্রতিপালক, আমাকে, আমার পিতা-মাতাকে এবং মুমিনদের ক্ষমা করুন, যেদিন হিসাব প্রতিষ্ঠিত হবে’ (সূরা ইবরাহিম, ১৪:৪১)।
আরেক আয়াতে এসেছে, ‘আর যারা বলে, ‘হে আমাদের রব, আমাদের স্ত্রী ও সন্তানদের আমাদের চোখের শীতলতা দান করুন’ (সূরা ফুরকান, ২৫:৭৪)।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, পরিবারে ধর্মীয় শিক্ষা ও নৈতিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সন্তানকে নেককার হিসেবে গড়ে তোলা হলে তা পিতা-মাতার জন্য মৃত্যুর পরও কল্যাণ বয়ে আনে।
সাদাকায়ে জারিয়া
সাদাকায়ে জারিয়া এমন এক দান, যার উপকারিতা দীর্ঘস্থায়ী এবং মানুষ এ থেকে উপকৃত হতে থাকে। ফলে দাতার মৃত্যুর পরও তার আমলনামায় সওয়াব যোগ হতে থাকে।
কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যারা আল্লাহর পথে তাদের সম্পদ ব্যয় করে, তাদের উদাহরণ একটি বীজের মতো, যা থেকে সাতটি শিষ জন্মায়, প্রতিটি শিষে একশত দানা থাকে। আর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা আরও বাড়িয়ে দেন’ (সূরা বাকারা, ২:২৬১)।
আরও বলা হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আমিই মৃতদের জীবিত করি এবং লিখে রাখি তারা যা অগ্রে পাঠিয়েছে এবং যা তারা পিছনে রেখে গেছে’ (সূরা ইয়াসিন, ৩৬:১২)।
কিছু ইসলামি বিশ্লেষকদের মতে, মসজিদ নির্মাণ, কূপ খনন, সড়ক বা আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি, গাছ রোপণ সাদাকায়ে জারিয়ার অন্তর্ভুক্ত। কারণ এই কাজগুলোর সুফল দীর্ঘদিন ধরে মানুষের উপকারে আসে।
ইসলামের দৃষ্টিতে মানুষের জীবন ক্ষণস্থায়ী হলেও তার সৎকর্মের প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। সাদাকায়ে জারিয়া, উপকারী জ্ঞান ও নেক সন্তানের দোয়া এই তিনটি আমল সেই স্থায়ী প্রভাবেরই প্রতিফলন।

ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী মানুষের আমল মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ হয়ে যায়। তবে কুরআন ও হাদিসে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে, কিছু আমল এমন রয়েছে যার সওয়াব মৃত্যুর পরও অব্যাহত থাকে। বিশেষ করে সাদাকায়ে জারিয়া, উপকারী জ্ঞান এবং নেক সন্তানের দোয়া আমলকে স্থায়ী সওয়াবের উৎস হিসেবে বর্ণনা করেছেন মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) (সহিহ মুসলিম, ১৬৩১)।
উপকারী জ্ঞান
ইসলামে জ্ঞানকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, বিশেষ করে সেই জ্ঞান যা মানুষের উপকারে আসে। হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর কাছে জিবরাঈল (আ.)-এর মাধ্যমে আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রথম ওহী হিসেবে 'ইকরা' শব্দটি নাজিল হয়েছিল। যার অর্থ ‘পড়ুন’ বা ‘পাঠ করুন’। কোনো ব্যক্তি যদি এমন জ্ঞান রেখে যান, যা অন্যদের সঠিক পথ দেখায়, তবে তা মৃত্যুর পরও তার জন্য সওয়াবের উৎস হয়ে থাকে।
কুরআনে বলা হয়েছে, ‘বলুন, যারা জানে এবং যারা জানে না, তারা কি সমান?’ (সূরা যুমার, ৩৯:৯)।
আরেক স্থানে আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহ তাদের মর্যাদা উন্নত করেন, যারা ঈমান এনেছে এবং যাদের জ্ঞান দেওয়া হয়েছে’ (সূরা মুজাদিলা, ৫৮:১১)।
ধর্মীয় গবেষকদের মতে, বই রচনা, ধর্মীয় শিক্ষাদান, উপকারী জ্ঞান প্রচার কিংবা এমন কোনো শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা সবই এই ধারার অন্তর্ভুক্ত।
নেক সন্তান
সন্তান যদি নেককার হয় এবং পিতা-মাতার জন্য দোয়া করে, তবে সেটিও মৃত্যুর পর সওয়াব প্রাপ্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত।
কুরআনে আল্লাহ তাআলা নেক সন্তানদের দোয়ার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘হে আমাদের প্রতিপালক, আমাকে, আমার পিতা-মাতাকে এবং মুমিনদের ক্ষমা করুন, যেদিন হিসাব প্রতিষ্ঠিত হবে’ (সূরা ইবরাহিম, ১৪:৪১)।
আরেক আয়াতে এসেছে, ‘আর যারা বলে, ‘হে আমাদের রব, আমাদের স্ত্রী ও সন্তানদের আমাদের চোখের শীতলতা দান করুন’ (সূরা ফুরকান, ২৫:৭৪)।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, পরিবারে ধর্মীয় শিক্ষা ও নৈতিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সন্তানকে নেককার হিসেবে গড়ে তোলা হলে তা পিতা-মাতার জন্য মৃত্যুর পরও কল্যাণ বয়ে আনে।
সাদাকায়ে জারিয়া
সাদাকায়ে জারিয়া এমন এক দান, যার উপকারিতা দীর্ঘস্থায়ী এবং মানুষ এ থেকে উপকৃত হতে থাকে। ফলে দাতার মৃত্যুর পরও তার আমলনামায় সওয়াব যোগ হতে থাকে।
কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যারা আল্লাহর পথে তাদের সম্পদ ব্যয় করে, তাদের উদাহরণ একটি বীজের মতো, যা থেকে সাতটি শিষ জন্মায়, প্রতিটি শিষে একশত দানা থাকে। আর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা আরও বাড়িয়ে দেন’ (সূরা বাকারা, ২:২৬১)।
আরও বলা হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আমিই মৃতদের জীবিত করি এবং লিখে রাখি তারা যা অগ্রে পাঠিয়েছে এবং যা তারা পিছনে রেখে গেছে’ (সূরা ইয়াসিন, ৩৬:১২)।
কিছু ইসলামি বিশ্লেষকদের মতে, মসজিদ নির্মাণ, কূপ খনন, সড়ক বা আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি, গাছ রোপণ সাদাকায়ে জারিয়ার অন্তর্ভুক্ত। কারণ এই কাজগুলোর সুফল দীর্ঘদিন ধরে মানুষের উপকারে আসে।
ইসলামের দৃষ্টিতে মানুষের জীবন ক্ষণস্থায়ী হলেও তার সৎকর্মের প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। সাদাকায়ে জারিয়া, উপকারী জ্ঞান ও নেক সন্তানের দোয়া এই তিনটি আমল সেই স্থায়ী প্রভাবেরই প্রতিফলন।

যে তিনটি কাজে মৃত্যুর পরও সওয়াব মিলবে
সিটিজেন ডেস্ক
প্রকাশ : ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৪: ৩৪

ছবি: সংগৃহীত
ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী মানুষের আমল মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ হয়ে যায়। তবে কুরআন ও হাদিসে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে, কিছু আমল এমন রয়েছে যার সওয়াব মৃত্যুর পরও অব্যাহত থাকে। বিশেষ করে সাদাকায়ে জারিয়া, উপকারী জ্ঞান এবং নেক সন্তানের দোয়া আমলকে স্থায়ী সওয়াবের উৎস হিসেবে বর্ণনা করেছেন মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) (সহিহ মুসলিম, ১৬৩১)।
উপকারী জ্ঞান
ইসলামে জ্ঞানকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, বিশেষ করে সেই জ্ঞান যা মানুষের উপকারে আসে। হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর কাছে জিবরাঈল (আ.)-এর মাধ্যমে আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রথম ওহী হিসেবে 'ইকরা' শব্দটি নাজিল হয়েছিল। যার অর্থ ‘পড়ুন’ বা ‘পাঠ করুন’। কোনো ব্যক্তি যদি এমন জ্ঞান রেখে যান, যা অন্যদের সঠিক পথ দেখায়, তবে তা মৃত্যুর পরও তার জন্য সওয়াবের উৎস হয়ে থাকে।
কুরআনে বলা হয়েছে, ‘বলুন, যারা জানে এবং যারা জানে না, তারা কি সমান?’ (সূরা যুমার, ৩৯:৯)।
আরেক স্থানে আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহ তাদের মর্যাদা উন্নত করেন, যারা ঈমান এনেছে এবং যাদের জ্ঞান দেওয়া হয়েছে’ (সূরা মুজাদিলা, ৫৮:১১)।
ধর্মীয় গবেষকদের মতে, বই রচনা, ধর্মীয় শিক্ষাদান, উপকারী জ্ঞান প্রচার কিংবা এমন কোনো শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা সবই এই ধারার অন্তর্ভুক্ত।
নেক সন্তান
সন্তান যদি নেককার হয় এবং পিতা-মাতার জন্য দোয়া করে, তবে সেটিও মৃত্যুর পর সওয়াব প্রাপ্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত।
কুরআনে আল্লাহ তাআলা নেক সন্তানদের দোয়ার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘হে আমাদের প্রতিপালক, আমাকে, আমার পিতা-মাতাকে এবং মুমিনদের ক্ষমা করুন, যেদিন হিসাব প্রতিষ্ঠিত হবে’ (সূরা ইবরাহিম, ১৪:৪১)।
আরেক আয়াতে এসেছে, ‘আর যারা বলে, ‘হে আমাদের রব, আমাদের স্ত্রী ও সন্তানদের আমাদের চোখের শীতলতা দান করুন’ (সূরা ফুরকান, ২৫:৭৪)।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, পরিবারে ধর্মীয় শিক্ষা ও নৈতিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সন্তানকে নেককার হিসেবে গড়ে তোলা হলে তা পিতা-মাতার জন্য মৃত্যুর পরও কল্যাণ বয়ে আনে।
সাদাকায়ে জারিয়া
সাদাকায়ে জারিয়া এমন এক দান, যার উপকারিতা দীর্ঘস্থায়ী এবং মানুষ এ থেকে উপকৃত হতে থাকে। ফলে দাতার মৃত্যুর পরও তার আমলনামায় সওয়াব যোগ হতে থাকে।
কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যারা আল্লাহর পথে তাদের সম্পদ ব্যয় করে, তাদের উদাহরণ একটি বীজের মতো, যা থেকে সাতটি শিষ জন্মায়, প্রতিটি শিষে একশত দানা থাকে। আর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা আরও বাড়িয়ে দেন’ (সূরা বাকারা, ২:২৬১)।
আরও বলা হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আমিই মৃতদের জীবিত করি এবং লিখে রাখি তারা যা অগ্রে পাঠিয়েছে এবং যা তারা পিছনে রেখে গেছে’ (সূরা ইয়াসিন, ৩৬:১২)।
কিছু ইসলামি বিশ্লেষকদের মতে, মসজিদ নির্মাণ, কূপ খনন, সড়ক বা আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি, গাছ রোপণ সাদাকায়ে জারিয়ার অন্তর্ভুক্ত। কারণ এই কাজগুলোর সুফল দীর্ঘদিন ধরে মানুষের উপকারে আসে।
ইসলামের দৃষ্টিতে মানুষের জীবন ক্ষণস্থায়ী হলেও তার সৎকর্মের প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। সাদাকায়ে জারিয়া, উপকারী জ্ঞান ও নেক সন্তানের দোয়া এই তিনটি আমল সেই স্থায়ী প্রভাবেরই প্রতিফলন।
/এসএ/




