শিরোনাম
সরাসরি

লেবাননে দখল অব্যাহত রেখে আলোচনায় ইসরায়েল

১৮: ৪৩

লেবাননে দখল অব্যাহত রেখে আলোচনায় ইসরায়েল

লেবাননে দখল অব্যাহত রেখে আলোচনায় ইসরায়েল
যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। ছবি: আল জাজিরা

ইসরায়েলি বাহিনী লেবাননের ভূখণ্ডে অবস্থান বজায় রেখে সামরিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ায় দেশটিতে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সীমান্তঘেঁষা অন্তত ৫৫টি গ্রামের বাসিন্দাদের এখনো নিজ বাড়িতে ফিরতে দেওয়া হচ্ছে না, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ইসরায়েল গাজায় যে ধরনের নিয়ন্ত্রণরেখা প্রতিষ্ঠা করেছিল, তার অনুরূপ একটি তথাকথিত ‘হলুদ রেখা’ দক্ষিণ লেবাননেও গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। যদিও ইসরায়েল এটিকে নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা বলে দাবি করছে। সমালোচকদের মতে, এটি কার্যত একটি দখলদারিত্ব প্রতিষ্ঠার কৌশল।

যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর গত কয়েক দিনেও ধ্বংসযজ্ঞ থেমে থাকেনি। বিভিন্ন শহর ও গ্রামে নতুন করে হামলা চালিয়ে সেগুলো মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

দক্ষিণ লেবাননের অন্যতম বড় শহর বিন্ট জেবেইলে প্রায় ৩০ হাজার মানুষের বসবাস ছিল, যা প্রায় সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, শহরের অবকাঠামো এতটাই বিধ্বস্ত যে রাস্তাঘাট পর্যন্ত চেনার উপায় নেই।

যুদ্ধবিরতির চতুর্থ দিনে গড়ানো এই সমঝোতাকে অনেকেই অস্থায়ী ও অত্যন্ত নাজুক বলে মনে করছেন। কারণ, এতে ইসরায়েলের দখলদারিত্ব বা নিরাপত্তার অজুহাতে যেকোনো স্থানে হামলা চালানোর দাবির মতো মৌলিক বিষয়গুলো এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে।

এদিকে, এমন পরিস্থিতিতে দখলদারিত্ব অব্যাহত রেখেই আলোচনায় বসতে সম্মত হওয়ায় লেবানন সরকারের প্রতিও সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। অনেকের মতে, এই অবস্থায় আলোচনা বাস্তবসম্মত সমাধানের পথ খুলে দেবে কি না, তা নিয়েই বড় প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে।

১৮: ১৯

সমঝোতা ভেস্তে গেলে আবারও যুদ্ধের আশঙ্কা

সমঝোতা ভেস্তে গেলে আবারও যুদ্ধের আশঙ্কা
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা। ছবি সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের অবস্থান নিয়ে যে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দেখা যাচ্ছে, তা আসলে বিভ্রান্তিকর নয়। বরং একটি সুপরিকল্পিত কৌশলের অংশ, এমনটাই মনে করছেন তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক মোহাম্মদ এসলামি।

মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা বিষয়ক এই বিশ্লেষক আল জাজিরাকে বলেন, ‘ইরান প্রণালিটি বন্ধ করেছিল সেটি পুনরায় খোলার উদ্দেশ্যেই, এটি মূলত একটি দরকষাকষির প্রক্রিয়া।’ তার মতে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে তেহরান আলোচনায় নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে চাইছে।

ইরানি পণ্যবাহী জাহাজ জব্দের ঘটনাকে ঘিরে ‘ভুল হিসাব’ করেছে এমন ধারণাও নাকচ করেন এসলামি। তিনি বলেন, ইরানের দৃষ্টিকোণ থেকে যুক্তরাষ্ট্র এখন পরিস্থিতি সামাল দিতে একটি ‘মুখরক্ষার পথ’ খুঁজছে, আর ওই জাহাজ আটক তারই অংশ হতে পারে।

তিনি আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র-সম্পর্কিত জাহাজগুলোতে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) প্রতিশোধমূলক হামলার যে খবর পাওয়া যাচ্ছে, তা স্পষ্ট করে যে ইরান পিছু হটার কোনো ইঙ্গিত দিচ্ছে না।

সংঘাতের সামগ্রিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে এসলামি বলেন, এই যুদ্ধ শুরুর সময় যুক্তরাষ্ট্রের সুস্পষ্ট কোনো কৌশল ছিল না। ফলে চলমান আলোচনা নিয়ে তিনি খুব বেশি আশাবাদী নন। তার সতর্কবার্তা, যদি শেষ পর্যন্ত কোনো কার্যকর সমঝোতা না হয়, তাহলে যুদ্ধ আবারও শুরু হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

সূত্র: আল জাজিরা

১৮: ০৬

জাহাজ আটকের ঘটনা আলোচনাকে ভেস্তে দিতে পারে

পারস্য উপসাগরে একটি ইরানি পণ্যবাহী জাহাজ জব্দের ঘটনাকে ঘিরে আঞ্চলিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশ্লেষকেরা। ইসলামাবাদে নির্ধারিত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের ঠিক আগে এ ধরনের পদক্ষেপ আলোচনার ইতিবাচক ফল পাওয়ার সম্ভাবনাকে দুর্বল করে দিতে পারে।

অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক আমিন সাইকাল মনে করেন, এমন উদ্যোগ পরিস্থিতি শান্ত করার বদলে উত্তেজনা বাড়ায়। আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এই ঘটনা ইসলামাবাদে আলোচনার কার্যকর ও বাস্তবসম্মত অগ্রগতির পথকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো সত্যিই দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে পৌঁছাতে চায়, তাহলে তাদের এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে যা পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তোলে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে সংযমই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর কৌশল।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতি নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে সাইকাল বলেন, তিনি একসঙ্গে দুটি ভিন্ন কৌশল প্রয়োগ করছেন। একদিকে সংকট নিরসনের বার্তা দিচ্ছেন, অন্যদিকে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর হুমকিও অব্যাহত রেখেছেন। এই দ্বৈত অবস্থান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে বলে তার মত।

যুদ্ধবিরতির সময়সীমা ঘনিয়ে আসায় উভয় পক্ষের ওপর চাপ বাড়ছে বলেও উল্লেখ করেন সাইকাল। একই সঙ্গে তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি এখন ইরানের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে, যা সামগ্রিক শক্তির ভারসাম্যে নতুন মাত্রা যোগ করছে।

সূত্র: আল জাজিরা

১৭: ৫৪

ইরানি জাহাজ আটককে ‘জোরপূর্বক হস্তক্ষেপ’ আখ্যা চীনের

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে একটি ইরানি পতাকাবাহী পণ্যবাহী জাহাজ আটক হওয়ার ঘটনায় তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে চীন।

সোমবার (২০ এপ্রিল) পশ্চিমা গণমাধ্যম রয়টার্স জানায়, দেশটি এ ঘটনাকে ‘জোরপূর্বক বাধা প্রদান’ হিসেবে উল্লেখ করে সব পক্ষকে যুদ্ধবিরতির শর্ত মেনে দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানিয়েছে।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন বলেন, হরমুজ প্রণালির বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং জটিল। এই প্রেক্ষাপটে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর উচিত এমন কোনো পদক্ষেপ না নেওয়া, যা উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

তিনি আরও বলেন, প্রণালি দিয়ে স্বাভাবিক নৌ চলাচল পুনরায় চালু রাখতে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করা এখন অত্যন্ত জরুরি। এর জন্য সবাইকে সংযম ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্র জানায়, তারা একটি ইরানি পণ্যবাহী জাহাজে গুলি চালিয়ে সেটিকে আটক করেছে। তাদের দাবি, জাহাজটি ইরানের ওপর আরোপিত অবরোধ এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল।

অন্যদিকে, ইরানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, জাহাজটি চীন থেকে আসছিল। তারা এ ঘটনাকে ‘মার্কিন সামরিক বাহিনীর সশস্ত্র জলদস্যুতা’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে এর প্রতিক্রিয়ায় ব্যবস্থা নেওয়ার অঙ্গীকার করেছে।

সূত্র: আল জাজিরা

১৭: ৩৬

‘সশস্ত্র জলদস্যুতার’ প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার ইরানের

‘সশস্ত্র জলদস্যুতার’ প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার ইরানের
ইরানের খাতাম উল আনবিয়া যৌথ সামরিক সদর দপ্তর গতরাতে ইরানের জাহাজে মার্কিন হামলার ঘটনার প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

ইরানের খাতাম উল আনবিয়া যৌথ সামরিক সদর দপ্তর গতরাতে ইরানের জাহাজে মার্কিন হামলার ঘটনার প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। সোমবার (২০ এপ্রিল) তেহরান এ ঘটনাকে সরাসরি মার্কিন ‘সশস্ত্র জলদস্যুতা’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছে। যা ইতোমধ্যেই পরিস্থিতিকে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলছে।

পর্যবেক্ষকদের মতে, এটি এমন এক সময়ে ঘটেছে যখন একদিকে কূটনৈতিক আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে উভয় পক্ষই সামরিক প্রস্তুতির বার্তা দিচ্ছে। ফলে সমঝোতার বদলে নতুন করে সংঘাতের ঝুঁকি বাড়ছে।

বর্তমান সংকটকে বিশ্লেষকেরা তিনটি প্রধান দিক দিয়ে ব্যাখ্যা করছেন। প্রথমত, উভয় পক্ষের বক্তব্য ও অবস্থানে স্পষ্টতার অভাব রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন সংকেত পাওয়া যাচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে। এর পেছনে মূল কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে চলমান উত্তেজনার ভঙ্গুর ও সংবেদনশীল প্রকৃতি।

দ্বিতীয়ত, সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। ঘোষিত যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষের দিকে এগোচ্ছে, এবং সেই সঙ্গে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ার বাস্তব সম্ভাবনাও বাড়ছে। প্রতিটি পর্যায়েই অনিশ্চয়তা ও ভঙ্গুরতা পরিস্থিতিকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে।

তৃতীয়ত, পুরো সংকটটি বহুমাত্রিক ও জটিল। আঞ্চলিক নিরাপত্তা, শক্তির ভারসাম্য, এবং বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে ইরানের কৌশলগত প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। এর পাশাপাশি, উভয় পক্ষের মধ্যে বিদ্যমান নানা অচলাবস্থা যেকোনো কূটনৈতিক সমাধানের পথকে কঠিন করে তুলছে।

সব মিলিয়ে, কূটনৈতিক উদ্যোগ অব্যাহত থাকলেও পাল্টাপাল্টি হুমকি ও প্রতিশোধের ঘোষণা পরিস্থিতিকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

সূত্র: আল জাজিরা

১৭: ১৭

১২ ঘণ্টায় হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে ৩ জাহাজ

১২ ঘণ্টায় হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে ৩ জাহাজ
হরমুজ প্রণালি। ছবি: এপি

মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। সোমবার (২০ এপ্রিল) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ১২ ঘণ্টায় মাত্র তিনটি জাহাজ এই প্রণালি অতিক্রম করেছে, যা স্বাভাবিক পরিস্থিতির তুলনায় অত্যন্ত কম। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে আবারও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

জাহাজ চলাচলসংক্রান্ত ডেটা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, স্যাটেলাইট তথ্য ও ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মের উপাত্ত অনুযায়ী নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা যুক্তরাজ্যের তেলবাহী ট্যাংকার ‘নেরো’ পারস্য উপসাগর ছেড়ে প্রণালি অতিক্রম করছে। এই জাহাজটির গতিবিধি ঘিরেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

এছাড়া আরও দুটি জাহাজ, একটি রাসায়নিক ট্যাংকার এবং একটি এলপিজি বহনকারী জাহাজ আলাদাভাবে এই জলপথ দিয়ে উপসাগরে প্রবেশ করেছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। তবে সামগ্রিক চিত্রে দেখা যাচ্ছে, স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, চলমান উত্তেজনা এবং নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে অনেক জাহাজই এই পথ এড়িয়ে চলার চেষ্টা করছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা আরও বাড়িয়ে তুলছে।

সূত্র: আল জাজিরা