শিরোনাম

নতুন মডেলের গ্রেনেড পাচ্ছে মার্কিন সেনারা

সিটিজেন ডেস্ক
নতুন মডেলের গ্রেনেড পাচ্ছে মার্কিন সেনারা
মার্কিন সেনার হাতে নতুন এম১১১ গ্রেনেড। ছবি: মার্কিন সেনাবাহিনীর ওয়েবসাইট

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সংঘাতের মধ্যেই নতুন গ্রেনেড পেতে যাচ্ছে মার্কিন স্থলবাহিনী। বৃহস্পতিবার (২ মার্চ) এই তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন।

স্থলসেনাদের জন্য প্রথমবারের মতো প্লাস্টিকে মোড়ানো হাত বোমা বা হ্যান্ড গ্রেনেডের অনুমোদন দিয়েছে মার্কিন সেনাবাহিনী। গত মাসে ‘এম১১১’ নামের এই নতুন গ্রেনেডের বিষয়ে তথ্য প্রকাশ করা হয়।

সর্বশেষ ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় ১৯৬৮ সালে একটি নতুন মডেলের গ্রেনেড তুলে দেওয়া হয়েছিল মার্কিন সেনাদের হাতে। সেটি ছিল ‘এমকে৩এ২’। যুদ্ধক্ষেত্রে কার্যকারিতা দেখালেও অ্যাসবেস্টসের উপস্থিতির কারণে গ্রেনেডটি ১৯৭০ সালে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। অ্যাসবেস্টসের সঙ্গে ফুসফুসের ক্যান্সারসহ অন্যান্য মরণব্যাধির যোগসূত্র খুঁজে পাওয়ায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ।

এরপর থেকে মার্কিন সেনারা মূলত এম৬৭ গ্রেনেড ব্যবহার করে এসেছেন। গ্রেনেডটি দেখতে খানিকটা বেসবলের মতো। ইস্পাতের তৈরি গোলাকার গ্রেনেডগুলোর ওজন ১৮০ থেকে ১৮৪ গ্রামের মতো। এতে আরডিএক্স ও টিএনটির সমন্বয়ে তৈরি একটি শক্তিশালী বিস্ফোরক থাকে।

আগের আমলে গ্রেনেডের ভেতর ছোট ছোট ‘বল’ রাখা থাকতো। বিস্ফোরণের সময় বলগুলো শত্রুদের দিকে ছুটে যেত। তবে বর্তমানে গ্রেনেডে কোনো বল থাকে না। বাইরের ইস্পাতের আবরণটি বিস্ফোরণের দমকে ভেঙে শত টুকরো হয়ে উচ্চ গতিতে শত্রুকে আঘাত হানে।

নতুন হ্যান্ড গ্রেনেড ‘এম১১১’-এ প্রথাগত শ্র্যাপনেলের বদলে ‘শকওয়েভ’ ব্যবহার করে শত্রু নিধনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এই প্রযুক্তির নাম ব্লাস্ট ওভারপ্রেশার (বিওপি)। সেনাবাহিনীর দাবি, এই গ্রেনেড ঘনবসতিপূর্ণ শহুরে এলাকায় বেশি কার্যকরী ভূমিকা রাখবে।

এই গ্রেনেডের মাধ্যমে বেসামরিক মানুষ বা ‘হামলার লক্ষ্য নয়’ এমন ব্যক্তিদের এড়িয়ে সুনির্দিষ্ট অবস্থানে হামলা চালিয়ে লক্ষ্য পূরণ সম্ভব।

‘এম৬৭’ গ্রেনেড। ছবি: সংগৃহীত
‘এম৬৭’ গ্রেনেড। ছবি: সংগৃহীত

বিস্ফোরণের পর খানিকটা ‘এম৬৭’-এর মতোই ‘এম১১১’ গ্রেনেডের বাইরের প্লাস্টিকের আস্তরণটি বাষ্পীভূত হয়ে যায় এবং ইলেকট্রিক শকের মতো ‘শকওয়েভ’ চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ে। শকওয়েভের আঘাতে শত্রু নিহত বা অজ্ঞান হয়ে পড়ে।

প্রথাগত গ্রেনেড ছোড়ার পর দেয়াল, আসবাবপত্রের পেছনে লুকিয়ে প্রাণে বেঁচে যাওয়ার সুযোগ থাকে। আগের গ্রেনেডের শ্র্যাপনেল অনেক কিছুই ‘ভেদ’ করতে পারে না। তবে শকওয়েভের জন্য এগুলো কোনো বাধা নয়।

নতুন গ্রেনেডের প্রকল্প পরিচালক কর্নেল ভিন্স মরিস জানান, হাতের তালুর সমান আকারের এই সিলিন্ডার সদৃশ গ্রেনেড তৈরিতে মধ্যপ্রাচ্যের পুরনো সংঘাতগুলোর অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো হয়েছে। ইরাক যুদ্ধ থেকে আমরা শিখেছি যে, এম৬৭ গ্রেনেড সব সময় কার্যকর নয়। এতে অনেক সময়ই বন্ধুভাবাপন্ন মানুষরা অকারণে হতাহত হয়।

মার্কিন সেনাবাহিনী জানিয়েছে, এম৬৭ ফ্র্যাগমেন্টেশন গ্রেনেড একেবারেই বাতিল হচ্ছে না। খোলা ময়দানে ব্যবহারের জন্য এটাও বহন করবেন সেনারা । তবে ঘরের ভেতর বা ভবনে হামলার ক্ষেত্রে এম১১১ ব্যবহার করা হবে।

/এফসি/