জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা থেকে দেশকে সরানোর চেষ্টা চলছে: আনু মুহাম্মদ

জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা থেকে দেশকে সরানোর চেষ্টা চলছে: আনু মুহাম্মদ
সিজেডএন ডেস্ক

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে গণতান্ত্রিক রূপান্তরের প্রত্যাশা সৃষ্টি হয়েছিল, দেশকে সেখান থেকে বিপরীতমুখী পথে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলছে বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। তার ভাষ্য, জনগণের নেতৃত্বে সংঘটিত এই অভ্যুত্থানের অর্জন জনগণের হাতছাড়া করার এক গভীর ও উদ্বেগজনক প্রক্রিয়া এখন দৃশ্যমান।
রবিবার (২৬ জুলাই) বিকালে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক সাংস্কৃতিক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় কারফিউ উপেক্ষা করে বের হওয়া গানের মিছিলের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্য এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে একটি দমনমূলক শাসনের অবসান ঘটলেও যে গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের স্বপ্ন মানুষ দেখেছিল, তা এখনো বাস্তবে প্রতিফলিত হয়নি।
জুলাই আন্দোলনে শিল্পী, লেখক ও সংস্কৃতিকর্মীদের ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, গানের মিছিল ছিল বৃহত্তর গণপ্রতিরোধের এক গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক প্রকাশ। দীর্ঘদিন সংস্কৃতি অঙ্গনের একটি অংশ ক্ষমতাসীনদের প্রভাবের কাছে নতিস্বীকার করলেও অনেক শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মী স্বাধীন অবস্থান ধরে রেখে হত্যাকাণ্ড, দমন-পীড়ন ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে রাজপথে নেমেছিলেন। তাঁদের সক্রিয় অংশগ্রহণ গণ-অভ্যুত্থানকে আরও বিস্তৃত ও শক্তিশালী করেছিল।
তবে অভ্যুত্থানের পর পরিস্থিতি প্রত্যাশিত ধারায় এগোয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর মতে, আন্দোলনের মূল চেতনা ছিল বৈষম্যহীন সমাজ, সবার সমান অধিকার এবং গণতান্ত্রিক রূপান্তর। কিন্তু পরবর্তী সময়ে নারী, আদিবাসী, শিল্পী, লেখক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের ওপর ধারাবাহিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। যে শক্তি সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক বিকাশের পথ সুগম করার কথা ছিল, বাস্তবে তার উল্টো প্রবণতাই এখন চোখে পড়ছে।
আনু মুহাম্মদ আরও বলেন, লিঙ্গ, ধর্ম ও জাতিগত বিভাজনের রাজনীতি করা গোষ্ঠীগুলো ক্রমেই প্রভাব বিস্তার করছে। এতে অনেকের মনে এমন ধারণা তৈরি হয়েছে যে, তারাই যেন গণ-অভ্যুত্থানের একমাত্র মালিক। তাঁর অভিযোগ, জনগণের আন্দোলনকে জনগণের হাতছাড়া করার এই ধারাবাহিক প্রক্রিয়ায় অন্তর্বর্তী সরকার মানুষের প্রত্যাশার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। একই সঙ্গে পরবর্তী নির্বাচিত সরকারও বিভিন্ন ইস্যুতে নীরব অবস্থান নিয়ে সেই প্রবণতাকে প্রশ্রয় দিচ্ছে।
অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ অব্যাহত রাখার আহ্বান
অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সামিনা লুৎফা বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের সময় আন্দোলনে অংশ নেওয়া মানুষ নিজেদের কোনো নির্দিষ্ট পরিচয়ের প্রতিনিধি হিসেবে নয়, বরং নিপীড়ন, দমন-পীড়ন ও হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী নাগরিক হিসেবে দেখেছিলেন। শিল্পী, শিক্ষক, সংস্কৃতিকর্মী এবং সাধারণ মানুষ পরিচয়ের বিভাজনকে পেছনে রেখে একত্রিত হয়েছিলেন।
তিনি বলেন, জুলাইয়ের গণহত্যার বিরুদ্ধে যেভাবে মানুষ সোচ্চার হয়েছিল, তেমনি অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে যেকোনো অন্যায়, বৈষম্য ও অনিয়মের বিরুদ্ধেও শিল্পী-সংস্কৃতিকর্মীদের একইভাবে প্রতিবাদী ভূমিকা অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। তা না হলে ভবিষ্যতে আবারও স্বৈরাচারী শাসনের পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা থেকেই যাবে।
গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্যের আহ্বায়ক জামসেদ আনোয়ার তপনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বিবর্তন সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান লালটু। এছাড়া বক্তব্য দেন সমাজ চিন্তা ফোরামের আহ্বায়ক কামাল হোসেন বাদল এবং গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সদস্য রাফিকুজ্জামান ফরিদসহ অন্যরা।
সাংস্কৃতিক পর্বে আবৃত্তি করেন শিল্পী সায়ান, হাসান ফখরি, দীপক সুমন, মাহমুদুল হাসান ও কামরুজ্জামান ভূঁইয়া। একক সংগীত পরিবেশন করেন লায়েকা বশীর। মূকাভিনয় পরিবেশন করেন মুন্সি আবু হারুন টিটো। এছাড়া উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, বিবর্তন, কোরাস ও সমগীতের শিল্পীরা দলীয় সংগীত পরিবেশন করেন।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে গণতান্ত্রিক রূপান্তরের প্রত্যাশা সৃষ্টি হয়েছিল, দেশকে সেখান থেকে বিপরীতমুখী পথে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলছে বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। তার ভাষ্য, জনগণের নেতৃত্বে সংঘটিত এই অভ্যুত্থানের অর্জন জনগণের হাতছাড়া করার এক গভীর ও উদ্বেগজনক প্রক্রিয়া এখন দৃশ্যমান।
রবিবার (২৬ জুলাই) বিকালে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক সাংস্কৃতিক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় কারফিউ উপেক্ষা করে বের হওয়া গানের মিছিলের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্য এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে একটি দমনমূলক শাসনের অবসান ঘটলেও যে গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের স্বপ্ন মানুষ দেখেছিল, তা এখনো বাস্তবে প্রতিফলিত হয়নি।
জুলাই আন্দোলনে শিল্পী, লেখক ও সংস্কৃতিকর্মীদের ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, গানের মিছিল ছিল বৃহত্তর গণপ্রতিরোধের এক গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক প্রকাশ। দীর্ঘদিন সংস্কৃতি অঙ্গনের একটি অংশ ক্ষমতাসীনদের প্রভাবের কাছে নতিস্বীকার করলেও অনেক শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মী স্বাধীন অবস্থান ধরে রেখে হত্যাকাণ্ড, দমন-পীড়ন ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে রাজপথে নেমেছিলেন। তাঁদের সক্রিয় অংশগ্রহণ গণ-অভ্যুত্থানকে আরও বিস্তৃত ও শক্তিশালী করেছিল।
তবে অভ্যুত্থানের পর পরিস্থিতি প্রত্যাশিত ধারায় এগোয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর মতে, আন্দোলনের মূল চেতনা ছিল বৈষম্যহীন সমাজ, সবার সমান অধিকার এবং গণতান্ত্রিক রূপান্তর। কিন্তু পরবর্তী সময়ে নারী, আদিবাসী, শিল্পী, লেখক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের ওপর ধারাবাহিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। যে শক্তি সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক বিকাশের পথ সুগম করার কথা ছিল, বাস্তবে তার উল্টো প্রবণতাই এখন চোখে পড়ছে।
আনু মুহাম্মদ আরও বলেন, লিঙ্গ, ধর্ম ও জাতিগত বিভাজনের রাজনীতি করা গোষ্ঠীগুলো ক্রমেই প্রভাব বিস্তার করছে। এতে অনেকের মনে এমন ধারণা তৈরি হয়েছে যে, তারাই যেন গণ-অভ্যুত্থানের একমাত্র মালিক। তাঁর অভিযোগ, জনগণের আন্দোলনকে জনগণের হাতছাড়া করার এই ধারাবাহিক প্রক্রিয়ায় অন্তর্বর্তী সরকার মানুষের প্রত্যাশার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। একই সঙ্গে পরবর্তী নির্বাচিত সরকারও বিভিন্ন ইস্যুতে নীরব অবস্থান নিয়ে সেই প্রবণতাকে প্রশ্রয় দিচ্ছে।
অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ অব্যাহত রাখার আহ্বান
অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সামিনা লুৎফা বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের সময় আন্দোলনে অংশ নেওয়া মানুষ নিজেদের কোনো নির্দিষ্ট পরিচয়ের প্রতিনিধি হিসেবে নয়, বরং নিপীড়ন, দমন-পীড়ন ও হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী নাগরিক হিসেবে দেখেছিলেন। শিল্পী, শিক্ষক, সংস্কৃতিকর্মী এবং সাধারণ মানুষ পরিচয়ের বিভাজনকে পেছনে রেখে একত্রিত হয়েছিলেন।
তিনি বলেন, জুলাইয়ের গণহত্যার বিরুদ্ধে যেভাবে মানুষ সোচ্চার হয়েছিল, তেমনি অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে যেকোনো অন্যায়, বৈষম্য ও অনিয়মের বিরুদ্ধেও শিল্পী-সংস্কৃতিকর্মীদের একইভাবে প্রতিবাদী ভূমিকা অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। তা না হলে ভবিষ্যতে আবারও স্বৈরাচারী শাসনের পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা থেকেই যাবে।
গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্যের আহ্বায়ক জামসেদ আনোয়ার তপনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বিবর্তন সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান লালটু। এছাড়া বক্তব্য দেন সমাজ চিন্তা ফোরামের আহ্বায়ক কামাল হোসেন বাদল এবং গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সদস্য রাফিকুজ্জামান ফরিদসহ অন্যরা।
সাংস্কৃতিক পর্বে আবৃত্তি করেন শিল্পী সায়ান, হাসান ফখরি, দীপক সুমন, মাহমুদুল হাসান ও কামরুজ্জামান ভূঁইয়া। একক সংগীত পরিবেশন করেন লায়েকা বশীর। মূকাভিনয় পরিবেশন করেন মুন্সি আবু হারুন টিটো। এছাড়া উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, বিবর্তন, কোরাস ও সমগীতের শিল্পীরা দলীয় সংগীত পরিবেশন করেন।

জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা থেকে দেশকে সরানোর চেষ্টা চলছে: আনু মুহাম্মদ
সিজেডএন ডেস্ক

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে গণতান্ত্রিক রূপান্তরের প্রত্যাশা সৃষ্টি হয়েছিল, দেশকে সেখান থেকে বিপরীতমুখী পথে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলছে বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। তার ভাষ্য, জনগণের নেতৃত্বে সংঘটিত এই অভ্যুত্থানের অর্জন জনগণের হাতছাড়া করার এক গভীর ও উদ্বেগজনক প্রক্রিয়া এখন দৃশ্যমান।
রবিবার (২৬ জুলাই) বিকালে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক সাংস্কৃতিক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় কারফিউ উপেক্ষা করে বের হওয়া গানের মিছিলের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্য এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে একটি দমনমূলক শাসনের অবসান ঘটলেও যে গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের স্বপ্ন মানুষ দেখেছিল, তা এখনো বাস্তবে প্রতিফলিত হয়নি।
জুলাই আন্দোলনে শিল্পী, লেখক ও সংস্কৃতিকর্মীদের ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, গানের মিছিল ছিল বৃহত্তর গণপ্রতিরোধের এক গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক প্রকাশ। দীর্ঘদিন সংস্কৃতি অঙ্গনের একটি অংশ ক্ষমতাসীনদের প্রভাবের কাছে নতিস্বীকার করলেও অনেক শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মী স্বাধীন অবস্থান ধরে রেখে হত্যাকাণ্ড, দমন-পীড়ন ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে রাজপথে নেমেছিলেন। তাঁদের সক্রিয় অংশগ্রহণ গণ-অভ্যুত্থানকে আরও বিস্তৃত ও শক্তিশালী করেছিল।
তবে অভ্যুত্থানের পর পরিস্থিতি প্রত্যাশিত ধারায় এগোয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর মতে, আন্দোলনের মূল চেতনা ছিল বৈষম্যহীন সমাজ, সবার সমান অধিকার এবং গণতান্ত্রিক রূপান্তর। কিন্তু পরবর্তী সময়ে নারী, আদিবাসী, শিল্পী, লেখক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের ওপর ধারাবাহিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। যে শক্তি সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক বিকাশের পথ সুগম করার কথা ছিল, বাস্তবে তার উল্টো প্রবণতাই এখন চোখে পড়ছে।
আনু মুহাম্মদ আরও বলেন, লিঙ্গ, ধর্ম ও জাতিগত বিভাজনের রাজনীতি করা গোষ্ঠীগুলো ক্রমেই প্রভাব বিস্তার করছে। এতে অনেকের মনে এমন ধারণা তৈরি হয়েছে যে, তারাই যেন গণ-অভ্যুত্থানের একমাত্র মালিক। তাঁর অভিযোগ, জনগণের আন্দোলনকে জনগণের হাতছাড়া করার এই ধারাবাহিক প্রক্রিয়ায় অন্তর্বর্তী সরকার মানুষের প্রত্যাশার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। একই সঙ্গে পরবর্তী নির্বাচিত সরকারও বিভিন্ন ইস্যুতে নীরব অবস্থান নিয়ে সেই প্রবণতাকে প্রশ্রয় দিচ্ছে।
অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ অব্যাহত রাখার আহ্বান
অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সামিনা লুৎফা বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের সময় আন্দোলনে অংশ নেওয়া মানুষ নিজেদের কোনো নির্দিষ্ট পরিচয়ের প্রতিনিধি হিসেবে নয়, বরং নিপীড়ন, দমন-পীড়ন ও হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী নাগরিক হিসেবে দেখেছিলেন। শিল্পী, শিক্ষক, সংস্কৃতিকর্মী এবং সাধারণ মানুষ পরিচয়ের বিভাজনকে পেছনে রেখে একত্রিত হয়েছিলেন।
তিনি বলেন, জুলাইয়ের গণহত্যার বিরুদ্ধে যেভাবে মানুষ সোচ্চার হয়েছিল, তেমনি অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে যেকোনো অন্যায়, বৈষম্য ও অনিয়মের বিরুদ্ধেও শিল্পী-সংস্কৃতিকর্মীদের একইভাবে প্রতিবাদী ভূমিকা অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। তা না হলে ভবিষ্যতে আবারও স্বৈরাচারী শাসনের পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা থেকেই যাবে।
গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্যের আহ্বায়ক জামসেদ আনোয়ার তপনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বিবর্তন সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান লালটু। এছাড়া বক্তব্য দেন সমাজ চিন্তা ফোরামের আহ্বায়ক কামাল হোসেন বাদল এবং গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সদস্য রাফিকুজ্জামান ফরিদসহ অন্যরা।
সাংস্কৃতিক পর্বে আবৃত্তি করেন শিল্পী সায়ান, হাসান ফখরি, দীপক সুমন, মাহমুদুল হাসান ও কামরুজ্জামান ভূঁইয়া। একক সংগীত পরিবেশন করেন লায়েকা বশীর। মূকাভিনয় পরিবেশন করেন মুন্সি আবু হারুন টিটো। এছাড়া উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, বিবর্তন, কোরাস ও সমগীতের শিল্পীরা দলীয় সংগীত পরিবেশন করেন।





