শিরোনাম

খামেনির মৃত্যু ইরানের শাসনব্যবস্থার ‘স্বয়ংক্রিয় পতন’ নয়: ফারাহ পাহলভি

সিটিজেন ডেস্ক
খামেনির মৃত্যু ইরানের শাসনব্যবস্থার ‘স্বয়ংক্রিয় পতন’ নয়: ফারাহ পাহলভি
ইরানের শেষ শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভির স্ত্রী ফারাহ পাহলভী। ছবি: দ্য টাইমস

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যু ‘ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ’ হলেও তা দেশটির বর্তমান শাসনব্যবস্থার ‘স্বয়ংক্রিয় পতন’ ডেকে আনবে না বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের শেষ শাহের স্ত্রী ফারাহ পাহলভি।

টিআরটি ওয়ার্ল্ড জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনি নিহত হওয়ার তিন দিন পর মঙ্গলবার (৩ মার্চ) এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন।

সোমবার (২ মার্চ) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের রাজধানী তেহরানের একটি পুলিশ স্টেশনের কাছে মানুষ দাঁড়িয়ে আছে। আশেপাশের ভবনগুলিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ছবি:রয়টার্স
সোমবার (২ মার্চ) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের রাজধানী তেহরানের একটি পুলিশ স্টেশনের কাছে মানুষ দাঁড়িয়ে আছে। আশেপাশের ভবনগুলিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ছবি:রয়টার্স

৮৭ বছর বয়সী এই সাবেক সম্রাজ্ঞী বলেন, কোনো একজন মানুষের মৃত্যু তিনি ক্ষমতার কাঠামোর যতই কেন্দ্রে থাকুন না কেন, নিজে থেকে একটি ব্যবস্থার অবসান ঘটায় না।

তার ভাষায়, আইনের শাসনের ভিত্তিতে পরিচালিত একটি রাষ্ট্রে শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও সার্বভৌম রূপান্তরের লক্ষ্যে ইরানি জনগণ কতটা ঐক্যবদ্ধ হতে পারে, সেটিই শেষ পর্যন্ত দেশটির ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।

১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামি বিপ্লবে এর সময় ক্ষমতাচ্যুত হয়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন ফারাহর স্বামী মোহাম্মদ রেজা পাহলভি। এরপর থেকেই তিনি ফ্রান্সের প্যারিসে নির্বাসিত জীবন কাটাচ্ছেন।

মঙ্গলবার (৩ মার্চ) তেহরানে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের পাশে একজন মহিলা কান্না করছে। ছবি: রয়টার্স
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) তেহরানে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের পাশে একজন মহিলা কান্না করছে। ছবি: রয়টার্স

ইরানের জনগণ যাতে নিজেদের ভবিষ্যৎ নিজেরা নির্ধারণ করতে পারে, সেই অধিকারকে সম্মান দেখাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ফারাহ পাহলভি। তিনি বলেন, আমি চাই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় স্পষ্টভাবে ইরানিদের মৌলিক অধিকারকে সমর্থন দিক সেটা তাদের নেতা বেছে নেওয়ার অধিকার, মুক্তভাবে মত প্রকাশের অধিকার, মর্যাদা ও সমৃদ্ধির সঙ্গে বেঁচে থাকার অধিকার।

তিনি আরও বলেন, এই সমর্থন হতে হবে জনগণের প্রতি, ভূরাজনৈতিক হিসাব-নিকাশের প্রতি নয়।ইরানি কর্তৃপক্ষের প্রতিও সংযম প্রদর্শন এবং রক্তপাত এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছেন ফারাহ পাহলভি।

জানুয়ারিতে উত্তর ইরানের বন্দর-ই আনজালিতে বিক্ষোভকারীরা। ছবি: টেলিগ্রাম
জানুয়ারিতে উত্তর ইরানের বন্দর-ই আনজালিতে বিক্ষোভকারীরা। ছবি: টেলিগ্রাম

জানুয়ারিতে তেহরানে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার পর কঠোর দমন-পীড়ন চালানো হয়। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) জানিয়েছে, ওই দমন অভিযানে সাত হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই বিক্ষোভকারী। তবে প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।

এদিকে ইরানের ইসলামি সরকারের পতন হলে নিজেকে বিকল্প নেতৃত্ব হিসেবে তুলে ধরছেন ফারাহ পাহলভির ছেলে রেজা পাহলভি। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি ইরানের বিভিন্ন জাতিগত সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর প্রতি জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানান। পাশাপাশি চলমান সংঘাতকে ‘সুযোগ’ হিসেবে ব্যবহার না করার ইঙ্গিত দেন।

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত রেজা পাহলভি ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর থেকে আর ইরানে যাননি।

/এসএ/