শিরোনাম

ইরানের বৃহত্তম ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জসহ ৩ প্রতিষ্ঠানকে নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্রের

সিটিজেন ডেস্ক
ইরানের বৃহত্তম ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জসহ ৩ প্রতিষ্ঠানকে নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্রের
নোবিটেক্সসহ ৩ প্রতিষ্ঠানকে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ছবি: আরব নিউজ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাতের অবসান ঘটাতে ইরানকে চুক্তিতে আসতে বাধ্য করতে নতুন করে বড় ধরনের অর্থনৈতিক ধাক্কা দিল ট্রাম্প প্রশাসন। তেহরানের ওপর চাপ সৃষ্টির অংশ হিসেবে এবার দেশটির বৃহত্তম ডিজিটাল অ্যাসেট এক্সচেঞ্জ নোবিটেক্স-সহ আরও ৩টি প্রতিষ্ঠানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ওয়াশিংটন। একই সঙ্গে নোবিটেক্সের চেয়ারম্যান ও সহ-প্রতিষ্ঠাতা আমির হোসেন রাদকেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে।

মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, নোবিটেক্স গত বছর ইরানের মোট ডিজিটাল অ্যাসেট আয়ের ৫০ শতাংশেরও বেশি লেনদেন করেছে। প্রতিষ্ঠানটি মূলত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ইরানের একটি বিশাল নেটওয়ার্ককে তহবিল স্থানান্তরে সহায়তা করে আসছিল। বিশেষ করে মার্কিন সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে শাসকগোষ্ঠীর সম্পদ রক্ষা ও বিদেশে তহবিল সরিয়ে নিতে প্রতিষ্ঠানটি মূল ভূমিকা পালন করেছে বলে অভিযোগ ওয়াশিংটনের।

এ নিষেধাজ্ঞা এমন এক সময়ে এল যখন ইরানের দুটি আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা দাবি করেছে, যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর বিষয়ে মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছে তেহরান। অবশ্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ দাবি অস্বীকার করে জানিয়েছেন, আলোচনা এখনও চলছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ইরান ব্যাপকভাবে ক্রিপ্টোকারেন্সির ওপর নির্ভরশীল।

এ মাসেই রিগান ন্যাশনাল ইকোনমিক ফোরামে মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট বলেন, আমরা ইতোমধ্যে তাদের প্রায় এক বিলিয়ন ডলারের ক্রিপ্টোকারেন্সি বাজেয়াপ্ত করেছি।

ট্রাম্প প্রশাসনের এ পদক্ষেপ ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সর্বাত্মক অর্থনৈতিক লড়াইয়েরই অংশ। নতুন নিষেধাজ্ঞার ফলে ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকা ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা জাহাজের সঙ্গে লেনদেন করলে মিত্র দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত কিংবা প্রতিযোগী দেশ চীনকেও গৌণ অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হতে হবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ব্যাংকগুলোকে ইরানি অর্থ লেনদেনের বিষয়ে কড়া সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত সপ্তাহে হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণকারী নবগঠিত আরবিয়ান গালফ স্ট্রেইট অথরিটির ওপরও নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্র, যাকে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল থেকে চাঁদাবাজির একটি চক্রান্ত হিসেবে দেখছে মার্কিন ট্রেজারি। উল্লেখ্য, ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। এরপর ১৭ এপ্রিল থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে কঠোর অবরোধ শুরু করে।

সূত্র: আরব নিউজ

/এমএকে/