শিরোনাম

৯৬তম দিনে ইরান যুদ্ধ, পাল্টাপাল্টি হামলা

সিটিজেন ডেস্ক
৯৬তম দিনে ইরান যুদ্ধ, পাল্টাপাল্টি হামলা
মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় তেহরানে একটি পুলিশ স্টেশন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ছবি: রয়টার্স

ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোটের মধ্যকার যুদ্ধ ৯৬তম দিনে পৌঁছেছে। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে এ সংঘাত ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। সম্প্রতি হরমুজ প্রণালির কাছে একটি ইরানি তেল ট্যাঙ্কারে মার্কিন হামলার জেরে নতুন করে এ সংঘাত শুরু হয়। একদিকে মার্কিন ও ইরানি বাহিনী একে অপরের সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে পাল্টাপাল্টি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে, অন্যদিকে এ যুদ্ধ অবসানের কূটনৈতিক প্রচেষ্টাও গভীর অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম আইআরজিসির বরাত দিয়ে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন হামলায় একটি ইরানি তেল ট্যাঙ্কারের ইঞ্জিন রুম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এর জবাবে ইরান একটি মার্কিন-ইসরায়েলি জাহাজকে লক্ষ্য করে নৌ-ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়লে, মার্কিন বাহিনী ইরানের কেশম দ্বীপে আইআরজিসির একটি যোগাযোগ টাওয়ার ও গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশনে পাল্টা আত্মরক্ষামূলক হামলা চালায়। আইআরজিসি দাবি করেছে, তারা বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর, একটি বিমানঘাঁটি এবং আঞ্চলিক মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। তবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এই দাবিকে মিথ্যা আখ্যা দিয়ে নাকচ করেছে এবং কুয়েত অভিমুখে আসা ইরানি ড্রোনের আরেকটি ঢেউ সফলভাবে প্রতিহত করার কথা জানিয়েছে। এই সংঘাতের জেরে কুয়েতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয় এবং বাহরাইনে সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয়।

এ উত্তেজনার মধ্যেও কূটনৈতিক তৎপরতার কিছু তথ্য সামনে এসেছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কংগ্রেসকে জানিয়েছেন, মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর তার স্থলাভিষিক্ত হওয়া পুত্র মোজতবা খামেনি জীবিত আছেন এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন। তবে রুবিও স্পষ্ট করেছেন, কেবল পারমাণবিক ছাড়ের বিনিময়েই ইরানকে নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি দেওয়া হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আলোচনা অব্যাহত থাকার কথা জানালেও এর ফলাফল নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে, ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, লেবাননে ইসরায়েলি হামলা চলতে থাকলে তেহরান আলোচনা বর্জন করে সংঘাতের পথ বেছে নিতে পারে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ সংকট সমাধানে ট্রাম্পের ওপর যেমন পারমাণবিক ছাড় আদায়ের চাপ রয়েছে, তেমনি ইরানেরও জব্দকৃত সম্পদ ফিরে পাওয়া ও অর্থনৈতিক ত্রাণের জরুরি প্রয়োজন। এদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও ট্রাম্প প্রশাসনের যুদ্ধনীতি তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে। ডেমোক্র্যাটিক সিনেটররা একে বেপরোয়া ও জঞ্জালপূর্ণ পরিস্থিতি বলে অভিহিত করেছেন।

সংঘাতের আরেকটি বড় ফ্রন্ট হিসেবে ইসরায়েল ও লেবানন সীমান্তে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু উত্তর ইসরায়েলকে শক্তিশালী করতে এবং লেবানন সীমান্তের ‘ড্রোন সমস্যা’ মোকাবেলায় ২০ বিলিয়ন ডলারের একটি ব্যাপক পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। তবে দেশের অভ্যন্তরেই তিনি সমালোচনার মুখোমুখি হচ্ছেন। বিরোধীদের অভিযোগ, নেতানিয়াহু কৌশলগত লক্ষ্যের চেয়ে নিজের রাজনৈতিক অস্তিত্বকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা বানচাল করতে বৈরুতে সামরিক অভিযান বাড়াতে চেয়েছিলেন। লেবানন সীমান্তেও রক্তক্ষয়ী সংঘাত চলছে, যেখানে ইসরায়েলি বিমান ও কামান হামলায় শিশুসহ অন্তত ৫ জন নিহত ও ৪৫ জন আহত হয়েছেন। এর জবাবে হিজবুল্লাহও ইসরায়েলি সেনা ও সামরিক যান লক্ষ্য করে অন্তত ১৩টি পাল্টা হামলা চালিয়েছে।

সূত্র: আল জাজিরা

/এমএকে/