শিরোনাম

আবারও ইরানে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল

সিটিজেন ডেস্ক
আবারও ইরানে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল

যুদ্ধবিরতির অবসান ঘটিয়ে আগামী সপ্তাহের শুরুতেই ইরানে পুনরায় যৌথ সামরিক অভিযান শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল। দুই দেশের উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তাদের বরাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের এক বিশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

ইতোমধ্যেই তেল আবিবের বেন গুরিওন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মার্কিন বিমান বাহিনীর যুদ্ধবিমানের উপস্থিতি এবং অস্বাভাবিক সামরিক গতিবিধি এ হামলার প্রস্তুতির সপক্ষে জোরালো প্রমাণ দিচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন আইনপ্রণেতাদের আশ্বস্ত করে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, যেকোনো পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার মতো সুনির্দিষ্ট ও সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা ওয়াশিংটনের রয়েছে। প্রয়োজনে সামরিক শক্তি বৃদ্ধি, কৌশলগত পিছু হটা কিংবা যুদ্ধক্ষেত্রের রসদ অন্য স্থানে সরিয়ে নিতে তারা পুরোপুরি সক্ষম। তবে কূটনৈতিক সমাধানের পথ ক্রমান্বয়ে সংকুচিত হয়ে এলেও মার্কিন প্রশাসন এখনই আলোচনার টেবিল থেকে একেবারে সরে দাঁড়াচ্ছে না।

এদিকে ইরানের বর্তমান নেতৃত্বের ওপর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি অভিযোগ করেন, তেহরান অতীতে একাধিকবার চুক্তিতে সম্মত হলেও পরবর্তীতে তা বারবার ভঙ্গ করেছে। প্রতিবার সমঝোতার পরদিনই তারা এমন আচরণ করে যেন এ বিষয়ে কোনো আলোচনাই হয়নি। ট্রাম্প বলেন, পূর্ববর্তী চুক্তিগুলোর একটি অন্যতম প্রধান শর্ত ছিল ইরানকে তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করতে হবে, যা পরবর্তীতে মাটির গভীর থেকে নিষ্কাশন করার কথা ছিল।

অন্যদিকে, ইরানি পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজাই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, নতুন করে হামলা শুরু হলে তারা তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ৯০ শতাংশে উন্নীত করতে পারে। জবাবে ট্রাম্প জানান, ইরানি পরমাণু স্থাপনা ধ্বংস করে ইউরেনিয়াম মাটির নিচে চাপা দেওয়ার চেয়ে সেটি সরাসরি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়াকেই তিনি বেশি পছন্দ করবেন। তেহরানকে শেষ সতর্কবার্তা দিয়ে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সামনে এখন কেবল দুটি পথ খোলা রয়েছে হয় একটি স্থায়ী চুক্তিতে আসা, অন্যথায় সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাওয়া। তিনি আরও মন্তব্য করেন, ইরানের বর্তমান নেতৃত্ব কাণ্ডজ্ঞানহীন আচরণ করছে এবং মার্কিন প্রশাসন তাদের প্রতি আর বেশিদিন ধৈর্য দেখাবে না।

সূত্র: দ্য জেরুজালেম পোস্ট

/এমএকে/