অবৈধ বাঁধেই চট্টগ্রাম-কক্সবাজারে দীর্ঘস্থায়ী বন্যা

অবৈধ বাঁধেই চট্টগ্রাম-কক্সবাজারে দীর্ঘস্থায়ী বন্যা
নিজস্ব প্রতিবেদক

দক্ষিণ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের বিস্তীর্ণ এলাকা এখনো বন্যার পানিতে ডুবে আছে। টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢল পরিস্থিতিকে জটিল করলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার প্রধান কারণ শুধু প্রকৃতির বৈরিতা নয়; বরং মাছ ও লবণের ঘের রক্ষায় স্লুইসগেট বন্ধ রাখা এবং খাল-নদীতে গড়ে ওঠা অবৈধ বাঁধ পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথ ব্যাহত করছে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, উপকূলীয় অঞ্চলে জোয়ারের সময় সমুদ্রের লবণাক্ত পানি যাতে লোকালয়ে ঢুকতে না পারে, সে জন্য স্লুইসগেট নির্মাণ করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী জোয়ারের সময় স্লুইসগেট বন্ধ এবং ভাটার সময় গেট খুলে দেওয়া হয়, যাতে পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টির পানি দ্রুত নদী হয়ে সাগরে নেমে যেতে পারে। কিন্তু বাস্তবে অনেক এলাকায় এই ব্যবস্থা কার্যকর থাকছে না।
চট্টগ্রাম পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী তানজীর সাইফ আহমেদ বলেন, প্রশাসন ও পাউবো সব স্লুইসগেট খুলে দিলেও স্থানীয় কিছু প্রভাবশালীদের শীর্ষ মহলের ইশারায় পরে আবার সেগুলো বন্ধ করে দিচ্ছেন। একই সঙ্গে মাছের ঘের রক্ষায় খালের ওপর অবৈধ বাঁধ নির্মাণ করায় পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে বন্যার পানি দীর্ঘ সময় ধরে লোকালয়ে আটকে থাকছে এবং লাখো মানুষ দুর্ভোগে পড়ছেন।
পাউবো কর্মকর্তাদের মতে, দক্ষিণ চট্টগ্রাম ও বান্দরবানের পাহাড়ি ঢল সাধারণত সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদী হয়ে মহেশখালী চ্যানেল দিয়ে সাগরে চলে যায়। পাশাপাশি অসংখ্য সংযোগ খালও অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে খাল দখল, স্লুইসগেট বন্ধ রাখা এবং অপরিকল্পিত স্থাপনা নির্মাণের কারণে এই প্রাকৃতিক নিষ্কাশন ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সম্প্রতি চকরিয়ার বদরখালীর ডেমশিয়া এলাকায় পাঁচ কপাটবিশিষ্ট একটি স্লুইসগেট পরিদর্শন করে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সাংবাদিক আলাউদ্দিন আলো দেখতে পান, কাঠ দিয়ে প্রায় পুরো স্লুইসগেট বন্ধ করে রাখা হয়েছে। মাত্র চার ফুট জায়গা খোলা রেখে সেখানে মাছ ধরার জাল পাতা ছিল। সেখানে পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিপুল পরিমাণ মাছ ধরা হয়েছে।
পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, উপকূলীয় এলাকায় স্বাভাবিকভাবে দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকার কথা নয়। কিন্তু বেআইনিভাবে স্লুইসগেট বন্ধ রাখার কারণে জলাবদ্ধতা দীর্ঘস্থায়ী হয়েছে। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঠেকাতে প্রশাসন নিয়মিত স্লুইসগেটগুলো পর্যবেক্ষণ করছে।
চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউএনও শাহিন দেলোয়ার বলেন, কোথাও স্লুইসগেট অবৈধভাবে বন্ধ করার খবর পেলেই পুলিশ পাঠানো হচ্ছে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী চলে যাওয়ার পর কিছু এলাকায় আবারও গেট বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় স্বার্থান্বেষী মহলের প্রভাবে কিছু অপারেটর এসব বেআইনি কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করছেন।

দক্ষিণ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের বিস্তীর্ণ এলাকা এখনো বন্যার পানিতে ডুবে আছে। টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢল পরিস্থিতিকে জটিল করলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার প্রধান কারণ শুধু প্রকৃতির বৈরিতা নয়; বরং মাছ ও লবণের ঘের রক্ষায় স্লুইসগেট বন্ধ রাখা এবং খাল-নদীতে গড়ে ওঠা অবৈধ বাঁধ পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথ ব্যাহত করছে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, উপকূলীয় অঞ্চলে জোয়ারের সময় সমুদ্রের লবণাক্ত পানি যাতে লোকালয়ে ঢুকতে না পারে, সে জন্য স্লুইসগেট নির্মাণ করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী জোয়ারের সময় স্লুইসগেট বন্ধ এবং ভাটার সময় গেট খুলে দেওয়া হয়, যাতে পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টির পানি দ্রুত নদী হয়ে সাগরে নেমে যেতে পারে। কিন্তু বাস্তবে অনেক এলাকায় এই ব্যবস্থা কার্যকর থাকছে না।
চট্টগ্রাম পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী তানজীর সাইফ আহমেদ বলেন, প্রশাসন ও পাউবো সব স্লুইসগেট খুলে দিলেও স্থানীয় কিছু প্রভাবশালীদের শীর্ষ মহলের ইশারায় পরে আবার সেগুলো বন্ধ করে দিচ্ছেন। একই সঙ্গে মাছের ঘের রক্ষায় খালের ওপর অবৈধ বাঁধ নির্মাণ করায় পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে বন্যার পানি দীর্ঘ সময় ধরে লোকালয়ে আটকে থাকছে এবং লাখো মানুষ দুর্ভোগে পড়ছেন।
পাউবো কর্মকর্তাদের মতে, দক্ষিণ চট্টগ্রাম ও বান্দরবানের পাহাড়ি ঢল সাধারণত সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদী হয়ে মহেশখালী চ্যানেল দিয়ে সাগরে চলে যায়। পাশাপাশি অসংখ্য সংযোগ খালও অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে খাল দখল, স্লুইসগেট বন্ধ রাখা এবং অপরিকল্পিত স্থাপনা নির্মাণের কারণে এই প্রাকৃতিক নিষ্কাশন ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সম্প্রতি চকরিয়ার বদরখালীর ডেমশিয়া এলাকায় পাঁচ কপাটবিশিষ্ট একটি স্লুইসগেট পরিদর্শন করে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সাংবাদিক আলাউদ্দিন আলো দেখতে পান, কাঠ দিয়ে প্রায় পুরো স্লুইসগেট বন্ধ করে রাখা হয়েছে। মাত্র চার ফুট জায়গা খোলা রেখে সেখানে মাছ ধরার জাল পাতা ছিল। সেখানে পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিপুল পরিমাণ মাছ ধরা হয়েছে।
পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, উপকূলীয় এলাকায় স্বাভাবিকভাবে দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকার কথা নয়। কিন্তু বেআইনিভাবে স্লুইসগেট বন্ধ রাখার কারণে জলাবদ্ধতা দীর্ঘস্থায়ী হয়েছে। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঠেকাতে প্রশাসন নিয়মিত স্লুইসগেটগুলো পর্যবেক্ষণ করছে।
চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউএনও শাহিন দেলোয়ার বলেন, কোথাও স্লুইসগেট অবৈধভাবে বন্ধ করার খবর পেলেই পুলিশ পাঠানো হচ্ছে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী চলে যাওয়ার পর কিছু এলাকায় আবারও গেট বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় স্বার্থান্বেষী মহলের প্রভাবে কিছু অপারেটর এসব বেআইনি কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করছেন।

অবৈধ বাঁধেই চট্টগ্রাম-কক্সবাজারে দীর্ঘস্থায়ী বন্যা
নিজস্ব প্রতিবেদক

দক্ষিণ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের বিস্তীর্ণ এলাকা এখনো বন্যার পানিতে ডুবে আছে। টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢল পরিস্থিতিকে জটিল করলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার প্রধান কারণ শুধু প্রকৃতির বৈরিতা নয়; বরং মাছ ও লবণের ঘের রক্ষায় স্লুইসগেট বন্ধ রাখা এবং খাল-নদীতে গড়ে ওঠা অবৈধ বাঁধ পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথ ব্যাহত করছে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, উপকূলীয় অঞ্চলে জোয়ারের সময় সমুদ্রের লবণাক্ত পানি যাতে লোকালয়ে ঢুকতে না পারে, সে জন্য স্লুইসগেট নির্মাণ করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী জোয়ারের সময় স্লুইসগেট বন্ধ এবং ভাটার সময় গেট খুলে দেওয়া হয়, যাতে পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টির পানি দ্রুত নদী হয়ে সাগরে নেমে যেতে পারে। কিন্তু বাস্তবে অনেক এলাকায় এই ব্যবস্থা কার্যকর থাকছে না।
চট্টগ্রাম পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী তানজীর সাইফ আহমেদ বলেন, প্রশাসন ও পাউবো সব স্লুইসগেট খুলে দিলেও স্থানীয় কিছু প্রভাবশালীদের শীর্ষ মহলের ইশারায় পরে আবার সেগুলো বন্ধ করে দিচ্ছেন। একই সঙ্গে মাছের ঘের রক্ষায় খালের ওপর অবৈধ বাঁধ নির্মাণ করায় পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে বন্যার পানি দীর্ঘ সময় ধরে লোকালয়ে আটকে থাকছে এবং লাখো মানুষ দুর্ভোগে পড়ছেন।
পাউবো কর্মকর্তাদের মতে, দক্ষিণ চট্টগ্রাম ও বান্দরবানের পাহাড়ি ঢল সাধারণত সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদী হয়ে মহেশখালী চ্যানেল দিয়ে সাগরে চলে যায়। পাশাপাশি অসংখ্য সংযোগ খালও অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে খাল দখল, স্লুইসগেট বন্ধ রাখা এবং অপরিকল্পিত স্থাপনা নির্মাণের কারণে এই প্রাকৃতিক নিষ্কাশন ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সম্প্রতি চকরিয়ার বদরখালীর ডেমশিয়া এলাকায় পাঁচ কপাটবিশিষ্ট একটি স্লুইসগেট পরিদর্শন করে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সাংবাদিক আলাউদ্দিন আলো দেখতে পান, কাঠ দিয়ে প্রায় পুরো স্লুইসগেট বন্ধ করে রাখা হয়েছে। মাত্র চার ফুট জায়গা খোলা রেখে সেখানে মাছ ধরার জাল পাতা ছিল। সেখানে পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিপুল পরিমাণ মাছ ধরা হয়েছে।
পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, উপকূলীয় এলাকায় স্বাভাবিকভাবে দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকার কথা নয়। কিন্তু বেআইনিভাবে স্লুইসগেট বন্ধ রাখার কারণে জলাবদ্ধতা দীর্ঘস্থায়ী হয়েছে। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঠেকাতে প্রশাসন নিয়মিত স্লুইসগেটগুলো পর্যবেক্ষণ করছে।
চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউএনও শাহিন দেলোয়ার বলেন, কোথাও স্লুইসগেট অবৈধভাবে বন্ধ করার খবর পেলেই পুলিশ পাঠানো হচ্ছে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী চলে যাওয়ার পর কিছু এলাকায় আবারও গেট বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় স্বার্থান্বেষী মহলের প্রভাবে কিছু অপারেটর এসব বেআইনি কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করছেন।

চট্টগ্রামের অধিকাংশ এলাকা এখনো পানির নিচে


